Tag: বাংলাদেশ

  • কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে: নসরুল হামিদ

    কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে: নসরুল হামিদ

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক:  চলমান লোডশেডিং-এর কারণে সারা দেশের মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উৎপাদন ব্যবস্থায়। এই প্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ প্রতিমন্ত্রী তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বলেছেন, ‘চলমান তাপদাহ ও লোডশেডিংয়ের কারণে দেশের মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে, যা কাংঙ্খিত নয়, তবে খুব শিগগিরই জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছি… আশা করছি, কয়েক সপ্তাহের  মধ্যে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হবে।’ নসরুল বলেন, ‘লোডশেডিংয়ের পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে, যা সবার জানা উচিত। কোভিড-১৯ মহামারীর প্রভাব এবং পরবর্তীতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ভয়াবহ অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে, তা আপনারা সবাই জানেন।’ নসরুল হামিদ বলেন, গ্যাস, কয়লা, ফার্নেস অয়েলসহ সব ধরনের জ্বালানির দাম আন্তর্জাতিক বাজারে আকাশচুম্বী হয়েছে, এমনকি বাজারে এর  প্রাপ্যতাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অন্যদিকে, ডলারের বিনিময় হার লাগামহীনভাবে বেড়েছে। এটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গ্যাস, কয়লা এবং ফার্নেস অয়েলের মতো জ্বালানি আমদানিতে প্রভাব ফেলেছে, যার ফলে চলমান লোডশেডিং হচ্ছে।’

    তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে সরকার তার আন্তরিক প্রচেষ্টায় দেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এনেছে। দেশের বিদ্যুতের আগের পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে নসরুল হামিদ বলেন, ২০০৮ সালে মাত্র ৪৪ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ পেতো, যা এখন শতভাগ। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ‘তখন দেশবাসী দিনে কমপক্ষে ১৬-১৮ ঘন্টা লোডশেডিং ভোগ করেছে।’ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যুতের চাহিদার কথা মাথায় রেখে আমরা গত এক যুগে বিদ্যুতের উৎপাদন ৫ গুণেরও বেশি বাড়িয়েছি। বর্তমানে আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ২৭ হাজার ৩৬১ মেগাওয়াট (ক্যাপটিভ সহ)।’ উৎপাদন ক্ষমতার দিক থেকে বিদ্যুৎ বিভাগে কোনো অভাব নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তবে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজারের ব্যাপক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার কারণে আমরা অপ্রত্যাশিত লোডশেডিংয়ের সম্মুখীন হচ্ছি।’

    নসরুল হামিদ বলেন, ‘আমি আপনাদের দুর্ভোগের জন্য দুঃখিত। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, চলমান পরিস্থিতি সাময়িক। আমরা খুব কম সময়ের মধ্যে একটি ভালো অবস্থানে ফিরে আসতে পারবো।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে, বাংলাদেশ বিভিন্ন স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক উন্নয়ন করেছে। এই দুর্ভোগ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব লাঘব করতে সক্ষম হব।’

    সূত্র : বাসস

  • আগামীকাল ৭ জুন ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস

    আগামীকাল ৭ জুন ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক:  ১৯৬৬ সালের ৬ দফা দাবি এক দফা দাবিতে পরিণত করে বাংলার স্বাধীনতার আন্দোলনের ডাক দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেই ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি সূচনা হয় ৭ জুন। বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ হিসেবে গণ্য করে এই দিনটিকে বলা হয় ছয় দাফা দিবস। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে আওয়ামীলীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন। এই দিনে দেশব্যাপী তীব্র গণআন্দোলনের সূচনা হয়।

    আগামীকাল ৭ জুন ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস। ১৯৬৬ সালের এই দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ৬ দফা দাবির পক্ষে দেশব্যাপী তীব্র গণআন্দোলনের সূচনা হয়।

    এই দিনে আওয়ামী লীগের ডাকা হরতালে টঙ্গি, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে তৎকালীন পুলিশ ও ইপিআর-এর গুলিতে মনু মিয়া, শফিক ও শামসুল হকসহ ১১ জন বাঙালি শহীদ হন। এরপর থেকেই বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আপোসহীন সংগ্রামের ধারায় ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের দিকে এগিয়ে যায় বাঙালি জাতি।

    প্রতিবছরের মত এবারও যথাযোগ্য মর্যাদায় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হবে। ঐতিহাসিক এই দিনটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহন করেছে।

    আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আগামীকাল সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু ভবন, কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও দেশব্যাপী আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন।  সকাল ৭ টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হবে। এছাড়াও  এদিন  বিকাল সাড়ে তিনটায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করবেন।

    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তাসখন্দ চুক্তিকে কেন্দ্র করে লাহোরে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের সাবজেক্ট কমিটিতে ৬-দফা উত্থাপন করেন এবং পরের দিন সম্মেলনের আলোচ্য সূচিতে যাতে এটি স্থান পায় সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেন। কিন্তু, এই সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর এ দাবির প্রতি আয়োজক পক্ষ গুরুত্ব প্রদান করেনি। তারা এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে। প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু সম্মেলনে যোগ না দিয়ে লাহোরে অবস্থানকালেই ৬-দফা উত্থাপন করেন। এ নিয়ে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের বিভিন্ন খবরের কাগজে বঙ্গবন্ধুকে বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা বলে চিহ্নিত করা হয়। পরে ঢাকায় ফিরে বঙ্গবন্ধু ১৩ মার্চ ৬-দফা এবং এ ব্যাপারে দলের অন্যান্য বিস্তারিত কর্মসূচি আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদে অনুমোদন করিয়ে নেন।

    ৬-দফার মূল বক্তব্য ছিল, প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র বিষয় ছাড়া সকল ক্ষমতা প্রাদেশিক সরকারের হাতে থাকবে। পূর্ববাংলা ও পশ্চিম পাকিস্তানে দু’টি পৃথক ও সহজ বিনিময়যোগ্য মুদ্রা থাকবে। সরকারের কর, শুল্ক ধার্য ও আদায় করার দায়িত্ব প্রাদেশিক সরকারের হাতে থাকাসহ দুই অঞ্চলের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার আলাদা হিসাব থাকবে এবং পূর্ববাংলার প্রতিরক্ষা ঝুঁকি কমানোর জন্য এখানে আধা-সামরিক বাহিনী গঠন ও নৌবাহিনীর সদর দফতর স্থাপন করতে হবে।

    এদিকে, ৬-দফা কর্মসূচি জনগণের মাঝে পৌঁছে দেয়ার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সমগ্র পূর্ববাংলা সফর করেন এবং ৬ দফাকে বাঙালির বাঁচার দাবি হিসেবে অভিহিত করেন। তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খান বিচলিত হয়ে পড়েন। তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, ৬-দফা নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে অস্ত্রের ভাষায় উত্তর দেয়া হবে। যশোর, ময়মনসিংহ ও সিলেটসহ অন্যান্য কয়েকটি স্থানে ৬ দফার পক্ষে প্রচারকালে বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হন।

    পরবর্তী সময়ে ঐতিহাসিক ৬ দফাভিত্তিক নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনই ধাপে ধাপে বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামে পরিণত হয়। এ দাবির সপক্ষে বাঙালি জাতির সর্বাত্মক রায় ঘোষিত হয় ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচনের মধ্যদিয়ে। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বাঙালিরা বিজয়ী করে।

    অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধুর দলকে জনগণ বিজয়ী করলেও স্বৈরাচারী পাকিস্তানের শাসকরা বিজয়ী দলকে সরকার গঠন করতে না দিলে আবারো বঙ্গবন্ধু জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলন শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের।

    সূত্র : বাসস

  • জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে দেশকে রক্ষা করা আমাদের কর্তব্য: প্রধানমন্ত্রী

    জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে দেশকে রক্ষা করা আমাদের কর্তব্য: প্রধানমন্ত্রী

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক: আজ ২০২৩ বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণকালে বলেন, ‘আমি বাংলাদেশের পরিবেশ রক্ষায় সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে দেশকে রক্ষা করা আমাদের কর্তব্য।’

    পরিবেশ মেলা-২০২৩, জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৩-এর উদ্বোধনের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তিনটি চারা রোপণ করেন।

    এ সময় শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবসে আমি গাছ লাগিয়েছি। আমি আশা করি- বাংলাদেশের সবাই (জনগণ) এটি (গাছ লাগাতে) অনুসরণ করবেন।’

    সরকার প্রধান বলেন, বাংলাদেশ যাতে আরও সুন্দর, সবুজ ও উন্নত হয় সেজন্য তারা ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন।

    তিনি আরও বলেন, ‘আমি চাই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ  যেন কোনো ক্ষতির সম্মুখীন না হয়। তাই সবাইকে গাছ লাগাতে বলছি।’

    বিশ্বব্যাপী দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রেক্ষিতে ফলমূল, শাকসবজি ও অন্যান্য ফসল উৎপাদনের জন্য প্রতিটি স্থানে গাছ লাগাতে এবং প্রতিটি এলাকাকে উৎপাদনের আওতায় আনতে প্রধানমন্ত্রী জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

    বিশ্বব্যাপী উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে অনেক উন্নত দেশও হিমশিম খাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের জনগণকে সংকট থেকে রক্ষা করতে সরকারের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা থাকবে।

    শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি দেশের প্রতিটি তিনটি গাছ লাগাতে অনুরোধ করতে চাই এবং যদি তা সম্ভব নাও হয়- তবে অন্তত একটি গাছ লাগান।’

    তিনি শিক্ষার্থীদের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে গাছ লাগাতে বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ- ১৯৮৫ সালে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করে, ১৯৮৪ সালে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং বাংলাদেশ কৃষক লীগকে কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেয়া হয়।

    তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অন্তত তিনটি বনজ, ফলদ ও ভেষজ চারা রোপণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, তাঁর দল বিগত বছরের মতো এবারও আষাঢ় মাসের প্রথম দিনে বৃক্ষরোপণ অভিযান শুরু করবে।

    এ সময় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, পরিবেশমন্ত্রী মোঃ শাহাব উদ্দিন, পরিবেশ উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন ও পরিবেশ সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

    সূত্র : বাসস

  • বিদ্যুতের ঘাটতি বিশ্বের প্রতিটি মানুষের জীবনকে অসহনীয় করে তুলেছে: শেখ হাসিনা

    বিদ্যুতের ঘাটতি বিশ্বের প্রতিটি মানুষের জীবনকে অসহনীয় করে তুলেছে: শেখ হাসিনা

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক:  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে বলেন, খাদ্য সংকট, মূল্যস্ফীতি, পরিচালনা ও পরিবহন ব্যয়, বিদ্যুতের ঘাটতি বিশ্বের প্রতিটি মানুষের জীবনকে অসহনীয় করে তুলেছে।

    গতকাল সংসদে ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য আফছারুল আমীনের মৃত্যুতে আনীত শোক প্রস্তাবে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

    তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে।  আমাদের চেষ্টা করতে হবে। পৃথিবীতে এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি কতদিন চলবে তা কেউ বলতে পারে না। হয়তো বিশ্ব পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।  তবে, আমরা আমাদের দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সবকিছু করছি।

    বর্তমান অস্থির বিশ্ব পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা।

    তিনি আরও বলেন, কোভিড-১৯ মহামারীর ফলে সারা বিশ্বে খাদ্য সংকট, মূল্যস্ফীতি, পরিচালনা ও পরিবহন ব্যয়, বিদ্যুতের ঘাটতি এবং তার ওপর ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ প্রতিটি মানুষের জীবনকে অসহনীয় করে তুলেছে।

    সরকার প্রধান বলেন, সরকার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শতভাগ মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছে।

    বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেল, কয়লা বা গ্যাসের সংকট চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন জ্বালানি কেনা খুবই কঠিন। অনেকটা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তারপরও আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

    সরকার কাতার ও ওমানের সাথে জ্বালানি ক্রয়ের চুক্তি করেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইতিমধ্যে কয়লা কেনার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যাতে আমরা বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো পুনরায় চালু করতে পারি।

    তিনি আরও বলেন, সরকার জলবিদ্যুৎ আমদানির ব্যবস্থাও নিয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ আর্থ-সামাজিকভাবে এগিয়ে যাওয়ায় স্বাধীনতার সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে।

    তিনি উল্লেখ করেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা, পাল্টা নিষেধাজ্ঞা, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি তেল সংকটের কারণে শুধু বাংলাদেশ নয়, উন্নত দেশগুলোও হিমশিম খাচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে জ্বালানি ঘাটতি রয়েছে। আছে লোডশেডিং বা বিদ্যুতের সীমিত ব্যবহার। খাবার থেকে শুরু করে সব কিছুর দাম বেড়েছে। এমনকি উন্নত দেশগুলোতেও অনেক লোক তাদের চাকরি হারাচ্ছে।

    বিশ্বব্যাপী একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ কওর তিনি বলেন, “আমি জানি না আগে কখনো এমন হয়েছে কিনা। হতে পারে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দুর্ভিক্ষ হয়েছিল।”

    আফসারুল আমিনের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

    “তিনি (আফসারুল আমিন) প্রতিটি সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন। তিনি একজন নিবেদিত প্রাণ মানুষ ছিলেন। তার দলের প্রতি তার নিষ্ঠা ও সততা অতুলনীয় ছিল। তিনি মন্ত্রী হিসেবেও দারুণ সাফল্য  দেখিয়েছেন।”

    আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী, ওয়াসেকা আয়শা খান, মোতাহার হোসেন ও নুরুল ইসলাম নাহিদসহ জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু ও মসিউর রহমান রাঙ্গা বক্তব্য রাখেন।

    আফসারুল আমিনের মৃত্যুতে সংসদে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়।

    পরে এক মিনিট নীরবতা পালন ও মোনাজাত করা হয়।

    সূত্র : বাসস

  • শেখ হাসিনা চিলাহাটি এক্সপ্রেস ট্রেনের উদ্বোধন করেছেন

    শেখ হাসিনা চিলাহাটি এক্সপ্রেস ট্রেনের উদ্বোধন করেছেন

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ ভার্চুয়ালি নতুন যাত্রীবাহী চিলাহাটি এক্সপ্রেস  ট্রেন- উদ্বোধন করেছেন। ট্রেনটি চিলাহাটি-ঢাকা-চিলাহাটি রুটে চলাচল করবে।

    প্রধানমন্ত্রী নীলফামারীর চিলাহাটি রেলওয়ে স্টেশনে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যোগদানের মাধ্যমে হুইসেল বাজিয়ে ও পতাকা নেড়ে ট্রেনের উদ্বোধন করেন।

    আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সহ ৮০০ জন যাত্রী বহনের ক্ষমতা সম্পন্ন নতুন চিলাহাটি এক্সপ্রেস সপ্তাহে ছয় দিন চিলাহাটি-ঢাকা-চিলাহাটিতে চলাচল করবে।

    শেখ হাসিনা চিলাহাটি এক্সপ্রেস ট্রেনের উদ্বোধন করেছেনহলদিবাড়ী-চিলাহাটি রুটে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রেল যোগাযোগ পুনরায় চালু করায় চিলাহাটি রেলওয়ে স্টেশন নীলফামারী জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল হয়ে উঠেছে। পণ্য বোঝাই ওয়াগনের পাশাপাশি এই রুটে আন্তঃদেশীয় মিতালী এক্সপ্রেস চলাচল করছে।

    প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এম তোফাজ্জেল হোসেন মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রেলওয়ে সচিব ড. মোঃ হুমায়ুন কবির। অনুষ্ঠানে রেলমন্ত্রী মোঃ নুরুল ইসলাম সুজন, এমপি বক্তব্য রাখেন।

    ২০০৯ সাল থেকে ক্ষমতায় আসার পর থেকে আওয়ামী লীগ সরকার গত ১৪ বছরে মোট ৭৪০ কিলোমিটার নতুন রেলপথ স্থাপন করেছে, ২৮০ কিলোমিটার রেলপথকে ডুয়েলগেজে রূপান্তর করেছে এবং ১৩০৮ কিলোমিটার রেলপথ পুনর্বাসন করেছে।

    এই সময়কালে, বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য মোট ১১৪টি লোকোমোটিভ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং নতুন ৬২৩টি যাত্রীবাহী বগি এবং ৫১৬টি পণ্যবাহী ওয়াগন সংগ্রহ করা হয়েছে।

    এছাড়াও, ১৩০টি রেলস্টেশনের সিগন্যালিং সিস্টেম আধুনিকীকরণ করা হয়েছে।

    বর্তমানে দেশে যাত্রীদের চলাচলের জন্য ১৪২টি নতুন ট্রেন চলাচল করছে।

    অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ রেলওয়ের (বিআর) ওপর একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।

    সূত্র : বাসস

  • বাংলাদেশ থেকে ৪৭ হাজার ৩শ’৭৪ জন হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন

    বাংলাদেশ থেকে ৪৭ হাজার ৩শ’৭৪ জন হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক: পবিত্র হজ পালনের জন্য ৩ জুন বুধবার পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪৭ হাজার ৩শ’৭৪ জন হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন। এরমধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্স ২২ হাজার ৬৫০ জন ও সৌদি এয়ার লাইন্স ১৫ হাজার ৫৪১ জন হজ যাত্রী পরিবহন করেছে। এছাড়া  ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ৮ হাজার ৫৪১ জন হজ যাত্রী পরিবহন করেছে।

    ঢাকায় হজ অফিসের এক বুলেটিনে জানানো হয়, সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৮ হাজার ৬৭৫জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩৮ হাজার ৬৯৯ জন হজ যাত্রী বিভিন্ন হজ ফ্লাইটে সৌদি আরব পৌঁছেছেন। এবার ৬০৩টি হজ এজেন্সী বাংলাদেশ বিমান এয়ার লাইন্স ও সৌদি এয়ার লাইন্সের এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ যাত্রী পরিবহণ করবে। এবার মোট ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজযাত্রী সৌদি আরব যাওয়ার অনুমতি পেয়েছে।

    চাঁদ দেখা সাপেক্ষে চলতি বছরের ২৭ জুন পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে।

    আগামী ২২ জুন বিমানের হজ ফ্লাইট শেষ হবে। গত ২১ মে থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হয়। এরমধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও সৌদি এয়ারলাইন্স এসব হজযাত্রী পরিবহন করবে।

    আগামী ২ জুলাই হজযাত্রীদের ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে। শেষ ফিরতি ফ্লাইট হবে ২ আগস্ট।

    সূত্র : বাসস

  • বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করতে আমরা একটি উপযুক্ত বাজেট ঘোষণা করেছি: প্রধানমন্ত্রী

    বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করতে আমরা একটি উপযুক্ত বাজেট ঘোষণা করেছি: প্রধানমন্ত্রী

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ ভবন (ঢাকা জেলা ও ঢাকা উত্তর আওয়ামী লীগের কার্যালয়) উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির ভাষণে বলেন, কে কি বলছে তা নিয়ে আমাদের মাথা ঘামানোর দরকার নেই। আমরা একটি উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করার জন্য আমরা একটি উপযুক্ত বাজেট ঘোষণা করেছি।’

    ঢাকা জেলা ও ঢাকা মহানগরের হাজার হাজার উৎসাহী আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

    আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশের মানুষ আমাদের পক্ষে আছে। তাই, আমরা বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারব, ইনশাআল্লাহ।

    প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘প্রতি বছর বাজেট পাশের আগে কেউ কেউ বলেন, আমরা বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারব না। কিন্তু, আমরা প্রতিটি মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি।

    প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন অনুযায়ী ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ক্ষুধা  ও দারিদ্র্যমুক্ত একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশে রূপান্তরের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান এমপি, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, এমপি, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এমপি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ড. মো. এনামুর রহমান, এমপি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

    ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজীর আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুণের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সংসদ উপনেতা বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম।

    সূত্র : বাসস

  • ভারতে ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণহানিতে শেখ হাসিনার শোক প্রকাশ

    ভারতে ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণহানিতে শেখ হাসিনার শোক প্রকাশ

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ ভারতের ওড়িশ্যায় ট্রেন দুর্ঘটনায় দুই শতাধিক মানুষের প্রাণহানিতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

    শনিবার (৩ জুন) প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এ বি এম সরওয়ার-ই-আলম সরকার এ তথ্য জানিয়েছেন।

    শুক্রবার তিনটি ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট এই দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ২৮০ জন নিহত এবং ৯০০ জনের বেশি আহত হয়েছে।

    চেন্নাইগামী শালিমার-চেন্নাই সেন্ট্রাল করোমন্ডল এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হলে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। এটির সংলগ্ন ট্র্যাকের একটি পণ্যবাহী ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়, যার ফলে করোমন্ডেল এক্সপ্রেসের পিছনের বগি তৃতীয় ট্র্যাকে চলে যায়।

    তৃতীয় ট্র্যাকে বিপরীত দিক থেকে আসা বেঙ্গালুরু-হাওড়া সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত কোচগুলোর সাথে ধাক্কা খায়।

    সূত্র: বাসস

  • বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ১৬.১৮ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে: হাছান মাহমুদ

    বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ১৬.১৮ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে: হাছান মাহমুদ

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক: আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট সম্পর্কে বলেন, বিশ্বময় মন্দা, ইউক্রেন যুদ্ধ, ডলার সংকটের কারণে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে শৈথিল্য আসায় বাজেট প্রণয়ন বড় চ্যালেঞ্জ ছিলো তারপরও এবারের বাজেট গত বছরের তুলনায় প্রায় ১ লাখ হাজার কোটি টাকা বেশি।  সামাজিক নিরাপত্তা খাতে মোট বাজেটের ১৬.১৮ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আরো মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ে আনার এবং এ খাতে বিভিন্ন ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

    শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বাজেট সম্পর্কে এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

    তথ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বাজেটের সমালোচকদের সমালোচনা বরাবরের মতোই গৎবাঁধা ও গতানুগতিক। অনেকে বাজেট ভালোভাবে না দেখেই তাড়াহুড়া করে সমালোচনায় ব্যস্ত।’

    ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ১৫তম বাজেট এবং প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০তম এই বাজেট ২০০৮-৯ সালের তুলনায় প্রায় ৯ গুণ বড় এবং পিপিপিতে (পারচেজিং পাওয়ার প্যারিটি) ২০০৯ সালের ১০০ বিলিয়ন ডলার জিডিপির তুলনায় এখনকার জিডিপি এক ট্রিলিয়ন  প্লাস ডলার, অর্থাৎ প্রায় ১০ গুণ বড়, যা নি:সন্দেহে দেশের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পরিচায়ক।

    স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এই বাজেটের সবচেয়ে বড় উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে, এই অর্থ বছরেই প্রথম সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে, যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চিন্তাপ্রসূত। কোনো রাজনৈতিক দল এ ধরণের সার্বজনীন পেনশন চালুর প্রস্তাব দেয়নি। আপনারা বিএনপির দাবি-দাওয়া জানেন। খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য, তার ও তারেক জিয়ার শাস্তি-মুক্তির বাইরে জনমানুষ নিয়ে তাদের কোনো দাবি থাকে না।’

    ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সের যে কেউ ১০ বছরের জন্যে চাঁদা দিয়ে পেনশন ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারবে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, পঞ্চাশের বেশি বয়স হলেও ১০ বছর চাঁদা দিয়ে পেনশনের সুযোগ রয়েছে।

    আয়কর সম্পর্কিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশের কর ও জিডিপি’র অনুপাত দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্ন। গত ১৪ বছরে দেশের জিডিপি প্রায় ১০ গুণ, বাজেট প্রায় ৯ গুণ বৃদ্ধি পেলেও আয়কর দেয়ার হার বেড়েছে মাত্র ৩ গুণ। ২০০৯ সালে ১১ লাখ মানুষ আয়কর দিতো, গত বছর ২৯ লাখ মানুষ আয়কর দিয়েছে। অথচ দেশে অন্তত ২ কোটি মানুষ আয়কর দিতে সক্ষম। কিন্তু মানুষ কর দেয় না। তাই করের আওতা বাড়ানো অযৌক্তিক নয়।

    ‘আইএমএফের প্রেসক্রিপশনে এ বাজেট লুটপাটের’- বিএনপির এমন সমালোচনার জবাবে সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, বিএনপি’র অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান আইএমএফের প্রেসক্রিপশনে বাজেট দিতে প্রতিবার বাজেটের আগে প্যারিস কনসোর্টিয়ামে ছুটে যেতেন সাহায্যের জন্যে। বর্তমানে বাংলাদেশের বাজেট কোনভাবেই বিদেশি সাহায্য নির্ভর নয়। এ বাজেটে ১ লাখ কোটি টাকার কিছু বেশি বৈদেশিক ঋণ নেয়া হবে। বিএনপি লুটপাটে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, তারা পরপর পাঁচবার দেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছিল। তাদের মুখে লুটপাটের অভিযোগ শুনলে হাসি পায়।

    বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বাজেটকে বাস্তব বিবর্জিত বলেছে, এ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, গত ১৪ বছরে সিপিডি বাজেটের প্রশংসা করতে পারেনি। এবছর তো বাজেট প্রস্তাব অধিবেশন চলমান থাকা অবস্থায়ই তারা বলেছে, এই বাজেট উচ্চাভিলাষী, বাজেট বাস্তবায়ন হবে না। অথচ বাংলাদেশের বাজেট বাস্তবায়নের গড় হার ৯৭ শতাংশ। ডলারের মূল্য না বাড়লে আমাদের মাথাপিছু আয় ৩ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যেতো। এ সময় দেশের জিডিপি বেড়েছে, দারিদ্র্য ৪১ শতাংশ থেকে কমে ১৮ শতাংশে নেমে এসেছে। এগুলো তাদের চোখে পড়ে না। আসলে সিপিডিকে তাদের পান্ডিত্য দেখাতে হয় এবং ভুল ধরাটাই তাদের পেশা।

    ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের চলতি বাজেট নিয়ে সমালোচনার প্রেক্ষিতে মন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা থাকবে, ইতিবাচক সমালোচনাকে আমরা সবসময় স্বাগত জানাই।

    সূত্র : বাসস

  • দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চান হাসিনা ও এরদোয়ান

    দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চান হাসিনা ও এরদোয়ান

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তুরস্কের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরদোয়ান বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চান । প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুন:নির্বাচিত হওয়ার পর গতকাল বুধবার রাত ১১টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টেলিফোন করে একথা বলেন এরদোয়ান।

    প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘রিসেপ তায়িপ এরদোয়ান বুধবার রাত ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে টেলিনফোনে কথা বলেন। এ সময় দুই নেতা শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং প্রায় ১০ মিনিট একে অপরের সাথে কথা বলেন।’

    টেলিফোনে কথা বলার সময় শেখ হাসিনা দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে বিজয় অর্জন করে পুন:নির্বাচিত হওয়ায় তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে অভিনন্দন জানান। এ নির্বাচনে ৮৬ শতাংশেরও বেশি ভোট পড়ে।

    তিনি তুরস্কের জনগণ সঠিক নির্বাচন করায় আনন্দ প্রকাশ করেন। যা দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের পর প্রমাণিত হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, বাংলাদেশের জনগণ ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারির ভূমিকম্পের মতো যেকোন প্রয়োজনে তুরস্কের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের পাশে দাঁড়াতে অবিচল থাকবে।

    দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে তার বিজয়ে বাংলাদেশের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণ মানসিকভাবে তুরস্কের উল্লসিত জনগণের সাথে যোগ দেওয়ায় প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

    এ লক্ষে তিনি বাংলাদেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানান এবং দু’দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরো জোরদার করার ইচ্ছে ব্যক্ত করেন।

    পরিশেষে, শেখ হাসিনা প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ও তার পরিবারের সদস্যদের শুভেচ্ছা জানান এবং তার মাধ্যমে তুরস্কের জনগণের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

    সূত্র : বাসস