Tag: বাংলাদেশ

  • অগ্নিকাণ্ড গুলো বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্র কি না, খতিয়ে দেখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    অগ্নিকাণ্ড গুলো বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্র কি না, খতিয়ে দেখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ভুলে যাবেন না বিএনপি-জামায়াতের অগ্নি সন্ত্রাসের কথা, কেউ যেন ভুলে না যায় তাদের অগ্নি সন্ত্রাস ভিন্ন রূপে বিরাজমান কিনা; ভিন্নরূপে তারা এ ধরনের কিছু করছে কিনা, এটা সবাইকে একটু নজরদারিতে রাখতে হবে।

    রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সাথে এসব ঘটনা নাশকতা কি না তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন সরকার প্রধান।

    তিনি বলেন, সেই অগ্নি সন্ত্রাসীরা এখন কি ভিন্ন পথ ধরল কিনা এটাই আমাদের দেখতে হবে। আগে তারা সাধারণ মানুষ পুড়িয়েছে, এখন তারা অর্থনীতিকে পঙ্গু করার পথে পা দিচ্ছে কিনা এর রহস্যটা বের করতে হবে।

    গণভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভা। সভাপতিত্ব করেন দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    সভায় বিভিন্ন মার্কেটে একের পর এক আগুন কেন? এ নিয়ে প্রশ্ন তুলে এগুলেঅ ষড়যন্ত্র বা নাশকতা কিনা তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন।

    দেশব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ মার্কেটগুলোতে নজরদারিতে বাড়ানোও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এসব অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতের অগ্নিসন্ত্রাসের বিষয়টি জড়িত আছে কিনা তাও তদন্ত করে দেখতে বলেন।

    তিনি বলেন, “অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতের অগ্নি-সন্ত্রাসের বিষয়টি জড়িত আছে কি না তাও তদন্ত করে দেখতে হবে। তারা অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটিয়ে ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে।”

    পরপর আগুন লাগা সন্দেহের কারণ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঠিক ছয়টার পর আগুনটা লেগেছে। এটার ওপর নজরদারিটা বাড়াতে হবে, অন্যান্য মার্কেটগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে। যদিও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে প্রত্যেকটা মার্কেটকে বারবার সতর্ক করা হচ্ছে। তাদের মার্কেটের যে অবস্থা সেখানে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু এরপর চারটা দুর্ঘটনাকে যদি আমরা দেখি তাহলে এটা কি আদতেই আসলেই কোনো দুর্ঘটনা! নাকি এর পেছনে কোনো কারসাজি আছে?

    সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আগামীতে কেউ যাতে এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে না পারে, আমি শুধু ঢাকা শহরে না সারা দেশের সবাইকে সতর্ক করছি, সবাই যেন সতর্ক থাকেন।

    মার্কেটগুলোতে পাহারা জোরদার এবং নিজস্ব আগুন নেভানোর ব্যবস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে দোকান মালিকদের প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকটা মার্কেটে যারা দোকান মালিক এবং মালিক সমিতি আছেন, তাদের আমি বলব- একটা সময় আগুন লাগছে। ওই সময়টা তাদের পাহারার ব্যবস্থা করা উচিত। তাদের প্রত্যেকের দোকানে তাদের নিজস্ব লোক রাখা দরকার, তাদের সতর্ক থাকা দরকার। আগুন লাগলে সঙ্গে সঙ্গে আগুন নেভানোর জন্য ফায়ার সার্ভিস যায়, তবে তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনাও থাকতে হবে।

    কোথাও আগুন লাগলে সেখানে অহেতুক ভিড় করে কাজে বাধা সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আগুন লাগলে দেখার জন্য মানুষের ভিড় কমাতে হবে। দাঁড়িয়ে না দেখে সবাই যদি এক বালতি করে পানি নিয়ে আসে তাও তো আগুনটা নেভাতে সাহায্য হয়। সেটা না করে সবাই দেখতে আসে, সেলফি তোলে, ফটো তোলে, এটা কি ধরনের কাজ!

    যারা কাজে বাধা দেয় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে যারা কাজ করবে, কাজে যেন কেউ বাধা দিতে না পারে। আর যারা বাধা দেবে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

    ফায়ার সার্ভিসের কাজে যারা বাধা সৃষ্টি করে তাদের সতর্ক করে শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবাজারের অগ্নিকাণ্ডের পর যারা ফায়ার সার্ভিস ভেঙেছে, বঙ্গবাজারের যারা বাধা দিয়েছে, ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের শনাক্ত করা হচ্ছে, গ্রেফতার করা হচ্ছে, তাদের শাস্তি দেওয়া হবে।

    সবাইকে আরও বেশি সচেতন হওয়ার আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী মার্কেট সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজস্ব উদ্যোগে পাহারার ব্যবস্থা করতে বলেন।

  • ৪০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে উঠল ঢাকার তাপমাত্রা

    ৪০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে উঠল ঢাকার তাপমাত্রা

    ঢাকায় আজ দিনে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

    এবারের বৈশাখের প্রথম দিনটি ঢাকার তাপমাত্রার ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ঘরের ভেতরে যাঁরা শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষে থাকছেন, তাঁরা হয়তো বুঝতে পারবেন না। কিন্তু নানা কাজে বা পয়লা বৈশাখের উৎসবে যোগ দিতে যাঁরা দিনে ঘরের বাইরে বের হয়েছেন, তাঁরা টের পেয়েছেন গরম কাকে বলে। আজ রাজধানীতে গত ৫৮ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি উত্তপ্ত দুটি দিনের একটি ছিল।

    আজ গ্রীষ্মের প্রথম দিনে ঢাকার তাপমাত্রা সর্বোচ্চ রেকর্ড ছুঁয়েছে বেলা দেড়টায়। এ সময় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠেছিল। এর আগে একবার ২০১৪ সালের একই দিনে অর্থাৎ ১৪ এপ্রিল ঢাকার তাপমাত্রার পারদ একই উচ্চতায় উঠেছিল। অর্থাৎ ৪০ দশমিক ২ ডিগ্রি ছুঁয়েছিল। এর আগে এর চেয়ে বেশি তাপমাত্রা উঠেছিল ১৯৬৫ সালে—৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল ১৯৬০ সালে ৪২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আজ সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর এ সময় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ঢাকায় ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

    আজ শুক্রবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, ঢাকার আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। সেই সঙ্গে পশ্চিম অথবা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। এছাড়া ঢাকার আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

    পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, আজ সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকার বাতাসের আদ্রতা ছিল ২৮ শতাংশ। ঢাকায় গত ৬ ঘণ্টায় ঢাকায় কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি। ঢাকায় আগামীকালের সূর্যোদয় ভোর ৫টা ৩৮ মিনিট এবং সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে।

    কয়েক দিন ধরে ঢাকাসহ দেশের বড় অংশজুড়ে প্রচণ্ড গরম অনুভূত হচ্ছে। গতকাল পর্যন্ত দেশের আটটি অঞ্চলের ওপর দিয়ে তীব্র দাবদাহ বয়ে যায়। আজ সে সংখ্যা ১১টিতে পৌঁছেছে। নতুন করে যুক্ত হওয়া তিনটি এলাকার একটি ঢাকা। সাধারণত কোনো এলাকার তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে সেখানে মৃদু দাবদাহ বয়ে যাচ্ছে বলে ধরা হয়। তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে সেখানে মাঝারি দাবদাহ এবং ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠলে তীব্র দাবদাহ চলছে বলে ধরা হয়।

    ঢাকায় গতকাল (১৩ এপ্রিল) সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৯ দমশিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, তার আগের দিন ((১২ এপ্রিল) ৩৮ দশমিক ৯, তার আগের দিন (১১ এপ্রিল) ৩৮ দশমিক ৫ এবং তার আগের দিন (১০ এপ্রিল) ছিল ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ রাজধানীর এই কয়েক দিনে নিয়মিত তাপমাত্রা বেড়ে আজ প্রচণ্ড দাবদাহ শুরু হয়েছে।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, টানা ১০ দিন ধরে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে মেঘমালার দেখা নেই। আর বছরের ওই সময়টা সূর্যকিরণ সবচেয়ে সরাসরি বাংলাদেশের ওপরে পড়ে। টানা ওই গরমে তাপমাত্রা পুঞ্জীভূত হয়ে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করে গেছে।

    আবহাওয়াবিদেরা অবশ্য বলছেন, আগামীকাল ঢাকার তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে। অর্থাৎ একই ধরনের গরম থাকার আশঙ্কা আছে। তবে দেশের উত্তর–পশ্চিম অংশ দিয়ে কিছুটা মেঘ আসা শুরু করেছে। এতে অবশ্য দেশের উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। তবে ঢাকাসহ দেশের বাকি এলাকায় তাপমাত্রা না কমার সম্ভাবনাই বেশি।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, ঢাকায় উত্তাপের পাশাপাশি বাতাসে আর্দ্রতা কমে যাওয়ার সমস্যা এখনো কাটেনি। অর্থাৎ বাতাসে জলীয়বাষ্প বা আর্দ্রতা কম থাকায় মানুষের শরীরে জ্বালাপোড়া করা এবং ঠোঁট-চামড়া ফেটে যাওয়ার সমস্যা আরও বেড়েছে। আজ সকালে ঢাকার সর্বোচ্চ আর্দ্রতা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩২ শতাংশ, যা সাধারণত এই সময়ে ৭২ থেকে ৮২ শতাংশ থাকে।

    আবহাওয়াবিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের তাপমাত্রায় নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা তৈরি করতে পারে। শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিয়ে হঠাৎ করে হিট স্ট্রোক হতে পারে। ডায়রিয়া, উচ্চ রক্তচাপ বেড়ে যাওয়াসহ নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে। ফলে জরুরি কাজ ছাড়া এ সময়ে ঘরের বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা। আর যাঁরা রোজা রেখেছেন, তাঁদের ইফতার ও সাহ্‌রিতে প্রচুর পরিমাণ পানি খেতে হবে। সঙ্গে ফলমূল খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • বর্ণিল উৎসবে নববর্ষ উদযাপন, নতুন বাংলা বর্ষ ১৪৩০

    বর্ণিল উৎসবে নববর্ষ উদযাপন, নতুন বাংলা বর্ষ ১৪৩০

    পহেলা বৈশাখে এবার বর্ণিল উৎসবে মেতেছে দেশ। নতুন বাংলা বর্ষের প্রথম দিনের ভোরের আলো রাঙিয়ে দেয় নতুন স্বপ্ন, প্রত্যাশা আর সম্ভাবনাকে। রাজধানীসহ সারাদেশেই ছিল বর্ষবরণের নানা আয়োজন। বাংলা বর্ষপঞ্জিতে যুক্ত হয়েছে নতুন বাংলা বর্ষ ১৪৩০।

    আনন্দঘন পরিবেশে নব আনন্দে বরণ করে নেয়া হয় নতুন বছরকে। কল্যাণ ও নতুন জীবনের প্রতীক হলো নববর্ষ। অতীতের ভুলত্রুটি ও ব্যর্থতার গ্লানি ভুলে নতুন করে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় উদযাপিত হয় নববর্ষ। জীর্ণ পুরাতন সবকিছু ভেসে যাক, ‘মুছে যাক গ্লানি’ এ আহ্বান জানায় বাঙালি।

    ‘বাংলা নববর্ষ ১৪৩০’ জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে এবার জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। দিনটি সরকারি ছুটির দিন। বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করে। ছায়ানট ভোরে রমনা বটমূলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করেছে। ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠীসহ অন্যান্য সাংস্কৃতিক সংগঠন যথাযোগ্য মর্যাদায় বাংলা নববর্ষ উদযাপন করেছে। বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠান জাতীয় সংগীত ও ‘এসো হে বৈশাখ গান’ পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হয়। বাংলা নববর্ষের তাৎপর্য এবং মঙ্গল শোভাযাত্রার ইতিহাস ও ইউনেস্কো কর্তৃক এটিকে বিশ্ব সংস্কৃতির ঐতিহ্য হিসাবে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি তুলে ধরে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলা একাডেমির উদ্যোগে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে। বাংলা নববর্ষে সকল কারাগার, হাসপাতাল ও শিশু পরিবারে (এতিমখানা) উন্নতমানের ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবার ও ইফতারের আয়োজন করা হয়েছে। এবার দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের নির্দেশনা দিয়েছে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

    সকাল ৯টায় শোভাযাত্রাটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের  (ঢাবি) চারুকলা থেকে শুরু হয়। শোভাযাত্রাটি শাহবাগ মোড় ঘুরে আবারও একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় আবহমান বাংলার ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে সাম্প্রতিক ঘটনা প্রবাহের প্রতীকী উপস্থাপনের নানা বিষয় স্থান পেয়েছে।

    বর্ণিল উৎসবে নববর্ষ উদযাপন, নতুন বাংলা বর্ষ ১৪৩০

    উৎসবপ্রিয় বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা বর্ষবরণের প্রধান অনুষঙ্গ মঙ্গল শোভাযাত্রা। এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান থেকে নেওয়া-‘বরিষ ধরা মাঝে শান্তির বারি।’

    সকালে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান। শোভাযাত্রায় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন স্তরের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছেন। কঠোর নিরাপত্তার চাদরে মোড়ানো ছিল পুরো এলাকা।

    শোভাযাত্রায় এবার স্থান পেয়েছে পাঁচটি মোটিফ। মোটিফ পাঁচটি হলো- টেপা পুতুল, ময়ুর, নীল গাই, হাতি ও বাঘ। এছাড়াও শোভাযাত্রায় অংশ গ্রহণকারীদের হাতে ছিলো বিভিন্ন আকৃতির মুখোশ। চারুকলা থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হওয়ার পর ঢোলের তালে তালে নাচতে শুরু করেন

    অংশগ্রহণকারীরা। অনেকেই রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রা উপভোগ করেন। বিদেশি নাগরিকদেরও শোভাযাত্রায় অংশ নিতে দেখা গেছে। তারাও সেজেছেন বাঙালি সাজে।

    বর্ণিল উৎসবে নববর্ষ উদযাপন, নতুন বাংলা বর্ষ ১৪৩০পরে শোভাযাত্রায় প্রদর্শিত শিল্পবস্তু নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে যাওয়ার পর ঢাকের তালে উচ্ছ্বাসে মাতেন শিক্ষার্থীরা।

    রমনার বটমূলে ভোর সোয়া ৬টায় আহির ভৈরব সুরে শুরু হয় ছায়ানটের অনুষ্ঠান। সবশেষে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটে। এতে ছায়ানটের শিল্পীদের পাশাপাশি অংশ নিয়েছেন অন্য শিল্পীরাও। রবীন্দ্র-নজরুলের গানের সঙ্গে জায়গা করে নিয়েছে লোকজ সুরও।

    দুই ঘণ্টাব্যাপী এ অনুষ্ঠানে শিল্পী

    দের পরিবেশনায় গানগুলোর মধ্যে ছিল-‘মনমোহন গহন যামিনী’, ‘রাত্রি এসে যেথায় মেশে’, ‘মোরে ডাকি লয়ে যাও’, ‘অন্তরে তুমি আছো চিরদিন’, ‘সংকটের বিহ্বলতা’, ‘আমাদের নানান মতে’, ‘মন মজালে ওরে বাউলা গান’, ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’, ‘এমন মানব সমাজ কোনদিন গো সৃজন হবে’, ‘মানুষ ধরো মানুষ ভজো’, ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম’ ইত্যাদি।

    এবারের আয়োজনে ছায়ানটের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পেশ করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসা। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে তিনি মঞ্চে উঠে সম্প্রীতির বার্তা ও নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান।

    বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সকল জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নে বৈশাখী র‌্যালি আয়োজন করে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজন করে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার। বাংলা একাডেমি এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক)  বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে এবং বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন ফাউন্ডেশন প্রাঙ্গণে নববর্ষ মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করে। সকল সরকারি-বেসরকারি টিভি, বাংলাদেশ বেতার, এফএম ও কমিউনিটি রেডিও বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার এবং বাংলা নববর্ষের ওপর বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও বেসরকারি চ্যানেলসমূহ রমনা বটমূলে ছায়ানট আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করেছে।

    পহেলা বৈশাখ আমাদের সকল সঙ্কীর্ণতা, কুপমুন্ডকতা পরিহার করে উদারনৈতিক জীবন-ব্যবস্থা গড়তে উদ্বুদ্ধ করে। আমাদের মনের ভিতরের সকল ক্লেদ, জীর্ণতা দূর করে আমাদের নতুন উদ্যমে বাঁচার অনুপ্রেরণা দেয়। আমরা যে বাঙালি, বিশ্বের বুকে এক গর্বিত জাতি, পয়লা বৈশাখের বর্ষবরণে আমাদের মধ্যে এই স্বাজাত্যবোধ এবং বাঙালিয়ানা নতুন করে প্রাণ পায়, উজ্জীবিত হয়। অন্য দিকে পহেলা বৈশাখ বাঙালির একটি সার্বজনীন লোকউৎসব। এদিন আনন্দঘন পরিবেশে বরণ করে নেওয়া হয় নতুন বছরকে। কল্যাণ ও নতুন জীবনের প্রতীক হলো নববর্ষ। অতীতের ভুলত্রুটি ও ব্যর্থতার গ্লানি ভুলে নতুন করে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় উদযাপিত হয় নববর্ষ।- বাসস

  • বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠানে র‍্যাবের বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা

    বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠানে র‍্যাবের বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা

    বাংলা নববর্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিবছরের মতো এবারও বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। নববর্ষের অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত সারাদেশে পর্যাপ্তসংখ্যক সদস্যরা মোতায়েন থাকবে।

    আজ বৃহস্পতিবার নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে রাজধানীর রমনা বটমূলে র‍্যাবের মহাপরিচালক এম খুরশীদ হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান। তিনি বলেন, র‍্যাব অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করবে।

    নববর্ষের অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত সারা দেশে র‍্যাবের সব ব্যাটালিয়নসহ নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় পর্যাপ্তসংখ্যক র‍্যাব সদস্যরা মোতায়েন থাকবেন বলে জানান তিনি।

    র‍্যাবের মহাপরিচালক নববর্ষ উপলক্ষে রাজধানীর রমনা বটমূল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, শাহবাগসহ যেসব জায়গায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, সেসব স্থানে র‍্যাবের নিরাপত্তাচৌকি, টহল ও পর্যবেক্ষণসহ পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে র‍্যাবের বোমা উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয় করণদল ডগ স্কোয়াড দিয়ে সুইপিং করা হবে। এ ছাড়া যেকোনো উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় র‍্যাব সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে।

    সারা দেশে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান চলাকালে র‍্যাবের কন্ট্রোল রুম, স্ট্রাইকিং রিজার্ভ ফোর্স, ফুট প্যাট্রল, মোটরসাইকেল  প্যাট্রলিং, বোট প্যাট্রলসহ পর্যাপ্তসংখ্যক র‍্যাব সদস্য তৎপর থাকবেন।

    এম খুরশীদ হোসেন বলেন, বাংলা নববর্ষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সারা দেশে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নববর্ষের অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত সারা দেশের সব ব্যাটালিয়নসহ নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় পর্যাপ্তসংখ্যক র‍্যাব সদস্য মোতায়েন থাকবেন। র‍্যাব অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করবে।

     

    বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠানে র‍্যাবের বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা

    যেকোনো হামলা ও নাশকতায় র‍্যাবের সাদা পোশাকধারীসহ পর্যাপ্তসংখ্যক র‍্যাব সদস্য তৎপর রয়েছেন।

    র‍্যাব সদর দপ্তরের কন্ট্রোলরুমের হটলাইন নম্বর ০১৭৭৭৭২০০২৯–এর মাধ্যমে ঢাকাসহ সারা দেশে যোগাযোগ করে সারা দেশে নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হবে। সাইবার মনিটরিংসহ অন্যান্য তথ্যসহ বিশ্লেষণপূর্বক নববর্ষে কেন্দ্র করে জঙ্গি হামলার ব্যাপারে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

    নববর্ষ কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের গুজব ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে কেউ অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য র‍্যাব সাইবার মনিটরিং টিম অনলাইনে সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে। নববর্ষ উদ্‌যাপনে আসা নারীদের ইভটিজিং ও যৌন হয়রানি রোধকল্পে র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এ ছাড়া কেউ হেনস্তার শিকার হলে তা র‌্যাব সদস্যদের জানালে র‍্যাব কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

    সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপরেশনস) কর্নেল কামরুল হাসান, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) ইমতিয়াজ আহমেদ, র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন প্রমুখ।

     

  • মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি

    মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি

    ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট বিভাগসহ নীলফামারী  জেলার উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। গত ১০ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া তাপ প্রবাহ আরো পাঁচদিন অব্যাহত থাকবে।

    সারাদেশে টানা মৃদু থেকে মাঝারী তাপ প্রবাহে বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি। রোজায় দীর্ঘ সময় পানি না খাওয়া অবস্থায় প্রচুর ঘাম হলে শরীরে পানি শূন্যতা তৈরি হতে পারে। হতে পারে হিট স্ট্রোক। এ অবস্থায় জরুরী প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞগণ।

    আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘন্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট বিভাগসহ নীলফামারী  জেলার উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। গত ১০ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া তাপ প্রবাহ আরো পাঁচদিন অব্যাহত থাকবে।

    বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে বলা হয়েছে, আগামী ৭২ ঘন্টায় মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের এই তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। এসময়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই।

  • জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছেঃ প্রধানমন্ত্রী

    জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছেঃ প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তাঁর দলের নেতাদের আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে দলকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি যে কোনো ধরনের দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে বলেছেন।

    তিনি বলেন, ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে। অনেকেই এমন গতিতে একটি দেশের অগ্রগতি চায় না-তাই, তারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কাজ করছে।’ আওয়ামী লীগের সারা দেশের জেলা শাখার নেতা-কর্মীরা আজ গণভবনে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

    এ সময় সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা কওে দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, তাঁর সরকার ২০০৯ সাল থেকে টানা তিন মেয়াদে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের কঠোর পরিশ্রমের কারণে দারিদ্র্যের হার ২০০৬ সালের ৪১ শতাংশ থেকে ২০২৩ সালে ১৮ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে এসেছে এবং অতি-দরিদ্রের হার ২৫ শতাংশ থেকে ৫ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে এসেছে।

    তিনি বলেন, তাঁর সরকার দ্রুততম সময়ে দারিদ্র্যের হার আরও দুই বা তিন শতাংশ কমিয়ে আনার প্রচেষ্টাকে আরও গতিশীল করবে।

    শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশে কোন অতি-দারিদ্রতা থাকবে না।’ তিনি আরো বলেন, তাঁর সরকার বিনা খরচে বাড়ি প্রদান, স্বাস্থ্যসেবা পরিষেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া এবং দেশবাসীর অবস্থার পরিবর্তনের জন্য শিক্ষার হার বৃদ্ধিসহ সবকিছুই করছে।

    আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, তাঁর দল ক্ষমতায় এলে জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়।
    জাতীয় নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ছে উল্লেখ করে তিনি আওয়ামী লীগকে আরও শক্তিশালী করে জনগণের কল্যাণে আরও সম্মিলিতভাবে কাজ করার জন্য দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।
    তিনি বলেন, আমরা চাই আওয়ামী লীগের সংগঠন আরও শক্তিশালী হোক।

    জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশ স্বাধীন করেছেন-উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাই আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি।

    আওয়ামী লীগ সভাপতি দলীয় নেতা কর্মীদের স্মরণ করিয়ে দেন যে- দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিজেদের উৎসর্গ করতে হবে। কারণ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির মতো রাজনৈতিক দলগুলো সামরিক স্বৈরশাসকের পকেট থেকে গঠিত হয়েছিল।

    শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির মতো দল মাটি ও মানুষের দল নয়।

    গত ১৪ বছওে দেশের সার্বিক উন্নয়নের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও বাসস্থানের মতো প্রতিটি খাতে বাংলাদেশ ব্যাপক উন্নয়ন প্রত্যক্ষ করেছে।
    পদ্মা সেতুর সুফল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ পেলেও বাংলাদেশের ব্যাপক উন্নয়ন   দেখতে পাচ্ছেন না বলে প্রধানমন্ত্রী বিএনপি নেতা ও তাদের সমমনাদের কঠোর সমালোচনা করেন।
    তিনি আরো বলেন, ‘তারা কোনো উন্নয়ন দেখছে না। তারা প্রতিদিনই এমন কি রমজানের দিনেও উচ্চকণ্ঠে মিথ্যা কথা বলছে। কেন তারা এমন করছে- আমি তা বুঝতে পারছি না’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।
    আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, তাঁর সরকার জনগণের জন্য কাজ করেছে আর এ কারণেই জনগণ তাঁর দলকে ভোট দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য কোনো ভোট কারচুপির প্রয়োজন নেই কারণ তারা সবসময় জনগণের  সেবা করে তাদের আস্থা অর্জন করে ক্ষমতায় আসে। আওয়ামী লীগ কখনোই ভোট ছাড়া ক্ষমতায় আসে না।’

    তিনি বলেন, যারা নির্বাচনের কথা বলছে, তারা বন্দুকের মুখে ক্ষমতায় এসেছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাই, জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে।’

    তিনি ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচন নিয়ে কেউ প্রশ্ন তোলেনি, এ নির্বাচনে বিএনপি পেয়েছিল ২৯ আসন।

    শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘বিএনপি এখনও তাদের আগের অবস্থানে অটলরয়েছে। অথচ দেশ ও জনগণের উন্নয়নে কাজ করে আওয়ামী লীগ তার অবস্থানকে আরও এগিয়ে নিয়ে গেছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ভয়াল রাতে বাবা-মা, ভাইসহ সর্বস্ব হারানোর পর তিনি দেশবাসীকে নিজের কাছের মানুষ ভেবে তাদের জন্য কাজ করছেন।

    তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণই আমার পরিবার। আমি যা কিছু করেছি-তা মানুষের জন্য করেছি।’
    সবকিছু হারিয়ে দেশে ফিওে আসার পর আশ্রয় দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী দেশবাসী ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ধন্যবাদ জানান।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা (দলের লোকজন) আমার পাশে থাকলে আমি জনগণের জন্য কাজ করতে পারবো।’

    সূত্রঃ বাসস

  • হিন্দিসহ বিদেশি চলচ্চিত্র আমদানিতে অনুমোদন

    হিন্দিসহ বিদেশি চলচ্চিত্র আমদানিতে অনুমোদন

    সম্মিলিত চলচ্চিত্র পরিষদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শর্তসাপেক্ষে হিন্দিসহ উপমহাদেশীয় ভাষায় নির্মিত চলচ্চিত্র আমদানির বিষয়ে অনুমোদন দিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।

    মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়। এতে সই করেছেন চলচ্চিত্র শাখার উপসচিব সাইফুল ইসলাম।

    আদেশে বলা হয়, উপমহাদেশীয় ভাষায় নির্মিত চলচ্চিত্র আমদানি সংক্রান্ত সম্মিলিত চলচ্চিত্র পরিষদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়া হয়। সেখান থেকে ইতিবাচক মতামত পাওয়ার পর শর্তসাপেক্ষে বাংলাদেশি চলচ্চিত্র রপ্তানির বিপরীতে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (সাফটা) দেশগুলো থেকে উপমহাদেশীয় ভাষায় নির্মিত চলচ্চিত্র আমদানি করার জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    সেখান থেকে ইতিবাচক মতামত পাওয়ার পর আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪ এর ২৫ (৩৬) (গ) উপ-অনুচ্ছেদের শর্ত প্রতিপালনপূর্বক বাংলাদেশি চলচ্চিত্র রপ্তানির বিপরীতে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক মুক্তবাণিজ্য চুক্তির (সাফটা) দেশগুলো থেকে উপমহাদেশীয় ভাষায় নির্মিত চলচ্চিত্র আমদানি করার জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    তবে আমদানির ক্ষেত্রে পাঁচটি শর্তারোপ করা হয়েছে। শর্তগুলো হলো- শুধু বাংলাদেশের বৈধ চলচ্চিত্র প্রযোজক, পরিবেশকরা উপমহাদেশীয় ভাষায় নির্মিত চলচ্চিত্র আমদানি করার সুযোগ পাবেন।

    উপমহাদেশীয় ভাষায় নির্মিত চলচ্চিত্র সাব-টাইটেলসহ পরীক্ষামূলক শুধু দুই বছরের জন্য রপ্তানির বিপরীতে আমদানি করার সুযোগ থাকবে। প্রথম বছর ১০টি চলচ্চিত্র রপ্তানির বিপরীতে আমদানি করতে পারবে।

    আমদানিকৃত উপমহাদেশীয় ভাষার চলচ্চিত্র প্রদর্শনের আগে অবশ্যই বাংলাদেশ ফিল্ম সেন্সর বোর্ডের সনদ গ্রহণ করতে হবে। বাংলাদেশে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর ও ঈদ-উল আজহা, দূর্গা পূজার সপ্তাহে উপমহাদেশীয় ভাষার কোনো চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা যাবে না।

    এরআগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, কিছু শর্ত জুড়ে দিয়ে দেশে ভারতীয় ছবি আমদানিতে সম্মত হয়েছে সম্মিলিত চলচ্চিত্র পরিষদ।

    আপনারা সবাই একমত হয়ে নির্দিষ্ট কিছু শর্তসাপেক্ষে ভারতীয় হিন্দি ছবি আমদানির ব্যাপারে একমত হয়েছেন। অতীতে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে আমার কাছে দাবি করা হয়েছিল ভারতীয় হিন্দি ছবি আমদানি করার জন্য৷ এটা আমি বারবার বলে এসেছি যে, সব সমিতি যদি একমত হয় (তাহলে বাস্তবায়ন সম্ভব), না হলে সেক্ষেত্রে আমরা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারব না।’

    ‘কারণ অতীতে দেখা গেছে এরকম উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল; পরে শিল্পী সমিতি আপত্তি জানিয়েছিল। অনেক শিল্পীও আপত্তি জানিয়েছিল। সবাই একমত হলে পরে আমরা কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারব বলে সেটি বলেছিলাম। আপনারা একমত হয়েছেন, সবাই স্বাক্ষর করেছেন। একমত হওয়ার জন্য আপনাদেরকে ধন্যবাদ জানাই’, যোগ করেন তিনি।

    “প্রকৃতপক্ষে আমাদের দেশে সিনেমা ভালো হচ্ছে আগের তুলনায় এবং অনেক সিনেমা বক্স অফিস হিট করছে; কিন্তু এখনো প্রতি সপ্তাহে ভালোভাবে চালানোর মতো সিনেমা সব সময় হচ্ছে না, এটি বাস্তবতা।”

    মন্ত্রী বলেন, আপনারা ভেবেচিন্তে একটি প্রস্তাব দিয়েছেন যে নির্দিষ্ট সংখ্যক ভারতীয় হিন্দি ছবি যদি আমদানি হয় তাহলে অনেকে আবার হলমুখী হবে এবং বাংলা ছবি বা আমাদের ছবিও দেখতে যাবে।

  • ঈদের ছুটি ছয় দিন ৩০ রোজা হলে

    ঈদের ছুটি ছয় দিন ৩০ রোজা হলে

    ঈদুল ফিতর ও শবে কদরের মধ্যে একদিন (বৃহস্পতিবার) অফিস খোলা।  এবার ঈদের ছুটির সঙ্গে ওইদিন (২০ এপ্রিল) বাড়তি একদিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে মঙ্গলবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকার আগামী ২০ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করল।

    এই দিন ছুটির কারণে এবার ঈদে টানা পাঁচ বা ছয় দিনের ছুটি পাচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।  রোজা ২৯টি হলে পাঁচ দিন এবং ৩০ রমজান পূর্ণ হলে ছয় দিনের ছুটি পাবেন সরকারি-কর্মকর্তারা।  শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করছে ছয় দিনের ছুটি।

    প্রজ্ঞাপনে আরও জানানো হয়েছে, ঈদপরবর্তী সময়ে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অফিস রোববার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে।  শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে।

    এর আগে সোমবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেছিলেন, ‘এবার ২০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সরকারি ছুটি হিসেবে থাকবে। ১৯ এপ্রিল হলো শবে কদরের ছুটি, সেক্ষেত্রে ২০ এপ্রিল একদিন খোলা থাকে। সেক্ষেত্রে মানুষের যাতায়াত যাতে নির্বিঘ্ন হয়, মানুষের ভ্রমণটা যাতে স্মুথ হয় সেজন্য ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।’

    এবার রমজান মাস ২৯ দিন ধরে ২২ এপ্রিল (শনিবার) ঈদুল ফিতরের তারিখ নির্ধারণ করে ছুটির তালিকা করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ২১ থেকে ২৩ এপ্রিল (শুক্র, শনি ও রোববার) ঈদের ছুটি থাকবে। এর আগে ১৯ এপ্রিল (বুধবার) শবে কদরের ছুটি। তবে ঈদের ছুটি শুরুর আগে ২০ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) অফিস খোলা। এখন ২০ এপ্রিল ছুটি ঘোষণা হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ১৯ থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাবেন। এর মধ্যে ২১ ও ২২ এপ্রিল পড়েছে সাপ্তাহিক ছুটি শুক্র ও শনিবার।

    তবে রমজান মাস ৩০ দিন হলে ঈদুল ফিতর হবে ২৩ এপ্রিল (রোববার)। সেক্ষেত্রে ছুটি একদিন বাড়বে। ২৪ এপ্রিলও (সোমবার) ছুটি থাকবে। ২০ এপ্রিল ছুটি হওয়ায় ১৯ থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ছয় দিনের ছুটি পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

  • ‘সোনার হরিণের’ জন্য লড়াই, সার্ভারে এক ঘণ্টায় ৫৫ লাখ রেকর্ড ক্লিক

    ‘সোনার হরিণের’ জন্য লড়াই, সার্ভারে এক ঘণ্টায় ৫৫ লাখ রেকর্ড ক্লিক

    ট্রেনের আগাম টিকিট নামক ‘সোনার হরিণের’ জন্য রীতিমতো করতে হচ্ছে লড়াই। ২৭ হাজার টিকিটের জন্য সকাল ৮টা থেকে এক ঘণ্টায় সার্ভারে ক্লিক পড়েছে ৫৫ লাখ। ঈদ উপলক্ষে এবার প্রথমবারের মতো ট্রেনের শতভাগ টিকিট বিক্রি হচ্ছে অনলাইনে। যে কারণে রেলস্টেশনের পরিবর্তে চাপ পরেছে অনলাইনে।

    কমলাপুর রেলস্টেশন সূত্র জানিয়েছে, সকাল ৮টায় রেলসেবার সার্ভার অন করার সঙ্গে সঙ্গে প্রায় ১১ লাখ ক্লিক পড়েছে সার্ভারে। এরমধ্যে প্রথম পাঁচ মিনিটের মধ্যে সেটা প্রায় ১৫ লাখ হয়ে যায়। আর এক ঘণ্টার মধ্যে ক্লিক সংখ্যা ৫৫ লাখ ছাড়িয়ে যায়।

    আজ সোমবার (১০ এপ্রিল) বিক্রি হচ্ছে ২০শে এপ্রিলের আগাম টিকিট। ওই দিনের টিকিটের চাহিদা বেশি হওয়ায় আজ সকালেই রেকর্ড সংখ্যক ক্লিক পড়েছে সার্ভারে। টিকিট বিক্রি শুরুর প্রথম ঘণ্টায় ‘রেলসেবা’ অ্যাপসের সার্ভারে ৫৫ লাখ টিকিট প্রত্যাশী ঢুকেন। অথচ ২০শে এপ্রিলের টিকিট বিক্রি হবে মাত্র ২৭ হাজার। অনলাইনে শতভাগ টিকিট বিক্রির কারণে কমলাপুর কাউন্টারে তেমন ভিড় নেই। তাই টিকিট কেনার জন্য সবাই অনলাইনে চেষ্টা করছেন। নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৮টায় শুরু হয় টিকিট বিক্রি। উত্তরাঞ্চল, ময়মনসিংহসহ যেসব এলাকার ট্রেনের চাহিদা বেশি সেসব ট্রেনের টিকিট এক মিনিটে শেষ হয়ে যায়।

    জানা গেছে, গত ৭ এপ্রিল ১৮ হাজার ৫০০, ৮ এপ্রিল ২৫ হাজার ২০০ এবং ৯ এপ্রিল ২৪ হাজার ৫০০ টিকিট অনলাইনে বিক্রি হয়েছে। সোমবার ২৭ হাজারের কিছু বেশি টিকিট বিক্রি হবে। মঙ্গলবার শেষ হবে এবারের ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রি।

    নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৮টায় শুরু হয় টিকিট বিক্রি। উত্তরবঙ্গ, ময়মনসিংহসহ যেযব অঞ্চলের ট্রেনের চাহিদা বেশি সেসব ট্রেনের টিকিট এক মিনিটে শেষ হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

    রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঠিক ৮টায় সার্ভার অন করার সাথে সাথে একসঙ্গে প্রায় ১১ লাখ ক্লিক পড়েছে সার্ভারে। এরমধ্যে প্রথম পাঁচ মিনিটের মধ্যে সেটা প্রায় ১৫ লাখ হয়ে যায়। আর এক ঘণ্টার মধ্যে ক্লিক সংখ্যা ৫৫ লাখ ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে বেশি দূরত্বের গন্তব্যের টিকিটের চাপ বেশি।

    কমলাপুর রেলস্টেশন ম্যানেজার মাসুদ সারওয়ার বলেন, অনলাইনে সক্ষমতার চেয়ে শতগুণেরও বেশি হিট পড়ছে। কারও ভাগ্যে টিকিট জুটছে, কারও ভাগ্যে জুটছে না। তবে আমরা শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে টিকিট বিক্রি করছি।

  • বৃষ্টি না হলে কমবে তাপপ্রবাহ, জানাল আবহাওয়া অফিস

    বৃষ্টি না হলে কমবে তাপপ্রবাহ, জানাল আবহাওয়া অফিস

    আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, বৃষ্টি না হলে কমবে না তাপমাত্রা। তবে আপাতত বৃষ্টি কিংবা কালবৈশাখীর কোনো আশঙ্কা নেই। ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বয়ে চলেছে ৩৭ .৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

    এদিকে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং রংপুরের কিছু এলাকা ছাড়া দেশের বাকি অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বিরাজ করছে। আবহাওয়ার এমন চিত্র আরও চার থেকে পাঁচ দিন থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

    আবহাওয়াবিদরা বলছেন, আগামী এক সপ্তাহ মৃদু, মাঝারি ও তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে দেশের বিভিন্ন জায়গাতে। আগামী ১৮ এপ্রিলের পর বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, সোমবার অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

    রোববার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল চুয়াডাঙ্গায় ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন দেশের ৩০টি জেলার ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। এর মধ্যে ১৯টি জেলা ও অঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা এর বেশি ছিল।

    এদিকে রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং মৌলভীবাজার জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আগামী ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকতে পারে বলে রোববার জানিয়েছে অধিদফতর।

    আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ জানিয়েছেন, আগামী ১৪ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত খুলনা, রাজশাহী, ফরিদপুর ও মাদারীপুরের ওপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এছাড়া রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, পাবনা, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ ও যশোর জেলার তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। এ সময় দেশের অন্যান্য জেলায় তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে।