www.HelloBangla.News – জাতীয় – ১০ আগস্ট, ২০২৪: সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষা অন্তর্বর্তী সরকার যেন জরুরি কিছু সংস্কার করে যায়, বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, “দুটো জিনিস মাথায় রাখবেন, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রত্যাশা থাকবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নির্বাচন। সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষা থাকবে এই সরকার যেন জরুরি কিছু সংস্কার করে যায়। আমরা দেখেছি পুলিশ, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে জনগণকে নির্যাতনের উইপন (অস্ত্রশস্ত্র) হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে কিছু কিছু ভালো সেবা পেয়েছি, কিছু কিছু ভালো মানুষ আছে। কিন্তু পুরো ব্যবস্থা এমনভাবে দাঁড় করিয়েছিল যে ভিন্নমত পোষণকারী মানুষ, মৌলিক অধিকার চর্চার মানুষের জন্য এই প্রতিষ্ঠানগুলো আতঙ্কে পরিণত হয়েছিল। এই সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা মানুষের আছে। সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা এবং নতুন নির্বাচনের মধ্যে সমন্বয় করে যত দিন থাকার দরকার আমরা তত দিন থাকব। বেশিও না, কমও না।”
আজ শনিবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে অফিস করে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
সাইবার নিরাপত্তা আইন কী থাকবে নাকি না এমন জানতে চাইলে অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, “যেকোনো ধরনের খারাপ আইন, যেটি সংস্কার করা প্রয়োজন বা বাতিল করা প্রয়োজন সেটি আমরা সুচিন্তিতভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করবো। সাইবার নিরাপত্তা আইনে তো আমিও আসামি ছিলাম, কাজেই বুঝতে পারছেন সাইবার নিরাপত্তা আইনকে ভালোবাসার তো কোনো কারণ নেই আমার।”
অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রোলিং এবং সরকারের মেয়াদ নিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, “এটার মেয়াদের ব্যাপারে এখনো কথা হয়নি।”
অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, “ব্যক্তিগতভাবে যদি আমি বলি, আমি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককতার ও উন্মুক্ত ফ্রি জীবন মিস করি। আমার ব্যক্তিগত অভিমত হচ্ছে আমি যত তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করব আমি আমার সেই জীবনে ফিরে যেতে পারব, যেটা আমার ব্যক্তিগতভাবে আমার জন্য অনেক বেশি ইনজয়বেল। কিন্তু দায়িত্বের জায়গা থেকে আমি এবং আমার অন্যান্য উপদেষ্টারা যে দায়িত্বের জন্য জন্য আসছি, আমরা সেই দায়িত্ব পালন করব।”
নির্বাচন কমিশনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ভূমিকা তো আপনারা জানেন। এখানে যদি থ্রোব ওভার হোলিং না করা হয় তাহলে ভবিষ্যতে যে সরকার আসবে তারা তো এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবার সেভাবে ব্যবহার করবে। আমাদের অতীতের অভিজ্ঞতা সুখকর না।”
বর্তমান ইসির পদত্যাগের কথা বলবেন কি না, প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমি স্পেসিফিক্যালি কিছু বলব না। আমি শুধু বলেছি, আপনাদের সব সংস্কার করা হবে।”
Tag: চ্যাম্পিয়ন
-

সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষা অন্তর্বর্তী সরকার যেন জরুরি কিছু সংস্কার করে যায়: আসিফ নজরুল
-

পরিবেশ বান্ধব কাজ করার বিষয়ে আমাদের চেষ্টা থাকবে: আদিলুর রহমান
www.HelloBangla.News – জাতীয় – ১০ আগস্ট, ২০২৪: পরিবেশ বান্ধব কাজ করার বিষয়ে আমাদের চেষ্টা থাকবে, বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের নবনিযুক্ত শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। তিনি বলেন, “অগ্রাধিকার হিসেবে আমাদের গ্যাসের সমস্যা রয়েছে, ক্ষুদ্র শিল্প নিয়ে কিছু পরিকল্পনা আছে। পরিবেশ বান্ধব কাজ করার বিষয়ে আমাদের চেষ্টা থাকবে। যেমন সাভারে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পটাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। জাহাজ শিল্প নিয়েও আলোচনা করেছি। আমরা প্রতি দিনই বসবো কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যা করা দরকার করবো। এখানে একটি চমৎকার টিম রয়েছে তারা খুবই অ্যাক্টিভ। আমরা চেষ্টা করে যাবো আপনারা সব সময় আমাদের সহযোগী হিসেবে পাবেন।”
আজ শনিবার (১০ আগস্ট) সকালে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে তিনি এ কথা জানান।
আদিলুর রহমান খান বলেন, “আজকে আমার প্রথম দিন আমি কৃতজ্ঞ ছুটির দিনেও আমার সহকর্মীরা এসেছেন। আমাদের যেসব খাতে সমস্যা বা চ্যালেঞ্জ আছে সেগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিশেষ করে আমাদের গ্যাসে সংকটের জন্য গত ছয় মাস আমাদের চারটি সারকারখানা বন্ধ ছিল। শুধু ঘোড়াশাল সারকারখানা উৎপাদনে আছে। চামড়া খাতকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। গ্যাসের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা, চামড়া ও সার কারখানাগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তবে সব কাজই চ্যালেঞ্জিং, দেখি কতটুকু করা যায়।”
শিল্প উপদেষ্টা বলেন, “অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে থেকে গণ-আন্দোলনে ছাত্র-জনতার যে ম্যান্ডেট সেটা নিয়েই সাধ্যমতো কাজ করবো। তবে সব কাজই চ্যালেঞ্জিং, দেখি কতটুকু করা যায়।”
লোকসানের বিষয় কী পদক্ষেপ নেবেন, গ্যাস সংকট সমাধানে কি পদক্ষেপ নেবেন জানতে চাইলে আদিলুর রহমান খান বলেন, “আমরা এসব বিষয় জানতে পেরেছি, আলোচনা করেছি, এ ব্যাপারে যতদূর সম্ভব কাজ করবো। সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হবে সার আমদানিতে। যাতে কৃষকদের কোনো সমস্যা না হয়। গ্যাসের জন্য এ সমস্যাটা না হয়। এর ফলে শিল্পের যে লোকসান হয় সেটা কমে যাবে।”
দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেবেন এমন প্রশ্নের জবাবে শিল্প উপদেষ্টা বলেন, “এতো মানুষের রক্তের ওপর দিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা দায়িত্বে এসেছি এখানে দুর্নীতির বিষয়ে আমাদের কঠোর হওয়া ছাড়া উপায় নেই। অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে থেকে গণ-আন্দোলনে ছাত্র-জনতার যে ম্যান্ডেট সেটা নিয়েই সাধ্যমতো কাজ করবো। দুর্নীতির বিষয়তো প্রশ্নই আসে না। আমরা সবাই একটা টিম আপনারাও এর একটা অংশ। সবাই মিলে কাজ করলে আমরা সব কিছু ওভারকাম করতে পারবো।” -

আজ সন্ধ্যার মধ্যেই পদত্যাগ করছেন প্রধান বিচারপতি
www.HelloBangla.News – জাতীয় – ১০ আগস্ট, ২০২৪: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পদত্যাগের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেছেন, আজ সন্ধ্যার মধ্যে পদত্যাগ করব।
আজ শনিবার (১০ আগস্ট) দুপুর ১টা ৫ মিনিটে প্রধান বিচারপতি এ কথা জানিয়েছেন।
পদত্যাগের দাবি উঠেছে, এ অবস্থায় আপনার সিদ্ধান্ত কি? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, “আইন উপদেষ্টার সঙ্গে কথা হয়েছে। আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কিছু আনুষ্ঠানিকতার বিষয় আছে। সেগুলো শেষ হলেই সন্ধ্যার মধ্যে পদত্যাগ করবো।”
সকাল থেকেই প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানসহ আপিল বিভাগের বিচারপতিদের পদত্যাগের দাবিতে হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
এদিকে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন, আপনারা শান্ত থাকুন। হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে অবস্থান করলেও কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু আপনাদের দ্বারা হাইকোর্টের কোনো ক্ষয়ক্ষতি যেন না হয়। -

অলিম্পিক ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন স্পেন
www.HelloBangla.News – খেলাধুলা – ১০ আগস্ট, ২০২৪: ফ্রান্সকে ৫-৩ গোলে হারিয়ে অলিম্পিক ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। পার্ক দ্য প্রিন্সেসে শুরুতেই গোল পেয়েছিল ফ্রান্স। তবে মধ্যাহ্ন বিরতির আগেই সেই গোল শোধ করে উল্টো ২ গোলের ব্যবধানের লিড নেয় স্পেন। দ্বিতীয়ার্ধে সেই ২ গোল শোধ করে আবার ম্যাচে ফেরে স্বাগতিকরা। তাতে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে সের্হিও কামেয়োর জোড়া গোলে ৫-৩ গোলের জয় পেয়েছে স্পেন।
গতকাল শুক্রবার (১০ আগস্ট) পিএসজির ঘরের মাঠে অলিম্পিকের পুরুষ ফুটবলের ফাইনালে ফ্রান্সকে ৫-৩ গোলে হারিয়ে সোনা জিতেছে স্পেন।
ম্যাচের ১১ মিনিটে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন এনজো মিলোত। কিন্তু সেই লিড ধরে রাখার জন্য খুব বেশি সময় পায়নি। উল্টো ১০ মিনিটের ব্যবধানে ৩ গোল দিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে স্পেন। ১৮ মিনিটে গোল শোধ দেওয়ার কাজটা করেন ফেরমিন লোপেস। আলেক্স বায়েনার অ্যাসিস্ট থেকে জাল খুঁজে নেন তিনি। এরপর কাছাকাছি দূরত্ব থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এই ফরোয়ার্ড। ২৮ মিনিটে ফ্রি কিকে দুর্দান্ত এক গোল করেন বায়েনা।
দুই গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যাওয়া ফ্রান্স জেগে ওঠে শেষ মুহূর্তে। ৭৯ মিনিটে ব্যবধান কমান মাগনেস আকলিওচে। এরপর ম্যাচের যোগ করা সময়ে পেনাল্টি পায় স্বাগতিকরা। স্পটকিক থেকে গোল করতে কোনো ভুল করেননি জেন ফিলিপি মাতেতা।
ব্যবধান ৩-৩ হওয়ার ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে ব্যবধান গড়ে দিয়ে স্পেনের নায়ক বনে যান বদলি হিসেবে নামা সের্হিও কামেয়ো। জোড়া গোল করে দলকে সোনা জয়ের স্বাদ এনে দেন তিনি। ১০০ মিনিটে আদ্রিয়ান বের্নাবের থ্রু বল ধরে ডান পায়ের শটে জাল খুঁজে নেন এই ফরোয়ার্ড। ১২০ মিনিট শেষে যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে বক্সের বাইরে দারুণ শটে স্কোরশিটে নাম লেখান দ্বিতীয়বারের মতো।
অলিম্পিক ফুটবলে এটি স্পেনের দ্বিতীয় সোনা। ৩২ বছর আগে ১৯৯২ বার্সেলোনা অলিম্পিকে ঘরের মাঠে পোল্যান্ডকে হারিয়ে স্বর্ণপদক জিতেছিল তারা। -

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন ভারত
www.HelloBangla.News – খেলাধুলা – ৩০ জুন, ২০২৪: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এবার দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত। এই জয়ে ১৭ বছরের আক্ষেপ দূর করলো দেশটি। কপিল দেব ও মহেন্দ্র সিং ধোনির পর ভারতকে বিশ্বকাপ জেতানো তৃতীয় অধিনায়ক এখন রোহিত শর্মা। শেষ ওভারে ভারতকে জিততে ১৬ রান আটকাতে হতো। ঠিক সেই সময় হার্দিক ৮ রানে তুলে নেন দুই উইকেট। শেষ ওভারে প্রোটিয়াদের ৭ রানে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় শিরোপা ঘরে তুললো ভারত। এই জয়ে আনন্দ অশ্রু ঝরেছে ভারতীয় সব ক্রিকেটারদের!
গত এক বছরে আইসিসির তিনটি প্রতিযোগিতার ফাইনালে খেললো ভারত। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের পর ঘরের মাঠে ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালেও হেরেছিল ভারত। এবার আরও একটি হারের মুখেই ছিল রোহিতের দল। ক্লাসেন ঝড়ের পর জয়ের সুবাস পাচ্ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু ডেথ ওভারে যশপ্রীত বুমরা ও হার্দিকের বোলিং এবং ডেভিড মিলারের নিশ্চিত ছক্কা সূর্যকুমার যেভাবে ক্যাচে পরিণত করলেন- তাতেই অপরাজিত থেকে ১১ বছরের ট্রফি খরা ঘুচালো ভারত।
শুধু ভারতেরই নয়, দ্রাবিড়ের অনেক আক্ষেপ, অতৃপ্তি ঘুচেছে। দলকে চ্যাম্পিয়ন করেই ভারতের কোচ হিসেবে দ্রাবিড়ের অধ্যায় শেষ হলো।
ভারত তৃতীয়বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ফাইনাল খেলে দ্বিতীয় শিরোপা জিতেছে। অন্যদিকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ফাইনালে খেলে ট্রফি ছোঁয়া হলো না দক্ষিণ আফ্রিকার। শন পোলক, গ্রায়েম স্মিথ, এবি ডি ভিলিয়ার্স, জ্যাক ক্যালিস, হ্যানসি ক্রনিয়ের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার অনেক কিংবদন্তিরা যা পারেননি, সেটাই করে দেখিয়েছিলেন এইডেন মারক্রাম। প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকাকে ফাইনালে তুলে ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে ছিল প্রোটিয়ারা। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে আবার নিজেদের চোকার্স নামটার সার্থকতা বজায় রাখলো দক্ষিণ আফ্রিকা।
গতকাল শনিবার রাতে বারবাডোসের ব্রিজটাউনের কেনসিংটন ওভালে আগে টস জিতে ব্যাটিং করে ভারত। নিজের সেরা ইনিংসটি যেন ফাইনালের জন্যই তুলে রেখেছিলেন কোহলি। সেমিফাইনাল পর্যন্ত ১০.৭১ গড়ে ৭৫ রান করেছিলেন তিনি। বারবাডোসে দলের বিপর্যয়ে ঢাল হয়ে খেলেছেন ৭৬ রানের অসাধারণ এক ইনিংস। দলও পেয়েছে ৭ উইকেটে ১৭৬ রানের ভালো সংগ্রহ। প্রোটিয়াদের জিততে হলে ইতিহাস গড়তে হতো। কেন না টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে এত রান তাড়া করে সফল হওয়ার ইতিহাস নেই।
১৭৭ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে দলীয় ১২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। ভারতের দুই পেসার শুরুতেই ফিরিয়ে দেন ওপেনার রিজা হেন্ডরিকস (৪) ও অধিনায়ক মার্করামকে (৪)। তৃতীয় উইকেটে ট্রিস্টান স্টাবসের (৩১) সঙ্গে ৫৮ রানের জুটি গড়ে দলকে চাপমুক্ত করেন কুইন্টন ডি কক। এরপর প্রোটিয়া ওপেনার ৩৬ রানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন ক্লাসেনের সঙ্গে। এই জুটিতেই জয়ের ভিত তৈরি করেছিল প্রোটিয়ারা। ডি কক ৩৯ রানে আউট হওয়ার পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেন ক্লাসেন। ডেভিড মিলারের সঙ্গে ২২ বলে ৪৫ রানের জুটি গড়ে ম্যাচটা প্রায় বের করে এনেছিলেন ক্লাসেন। অক্ষর প্যাটেলের করা ইনিংসের ১৫তম ওভারে ২ চার ও ২ ছয়ে ২৪ রান নিয়ে সমীকরণ ৩০ বলে ৩০ রানে নামিয়ে এনেছিলেন। সেখান থেকে ম্যাচটা জিততে পারেনি প্রোটিয়ারা। আবার প্রমাণ করলো, এখনও চোক থেকে বের হতে পারেনি তারা। হার্দিকের করা ইনিংসের ১৭তম ওভারের প্রথম বলে ক্লাসেন ফিরে গেলে বিপদে পড়ে যায় প্রোটিয়ারা। ক্লাসেন ২৭ বলে ২ চার ও ৫ ছয়ে খেলেন ৫২ রানের ইনিংস।
শেষ তিন ওভারে ২২ রান প্রয়োজন ছিল প্রোটিয়াদের। কিন্তু বুমরার ১৮তম ওভারে মাত্র ২ রান নিতে পারে তারা, হারায় একটি উইকেটও। এরপর ১৯তম ওভারে আর্শদীপ সিং ৪ রান খরচ করলে ম্যাচ ঝুঁকে যায় ভারতের দিকে। শেষ ওভারে জয়ের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার দরকার ছিল ১৬ রান। হার্দিকের ওভারে প্রথম বলে ছয় মারতে চেয়েছিলেন মিলার। কিন্তু বাউন্ডারিতে দুর্দান্ত এক ক্যাচে তাকে ফেরান সূর্যকুমার। পরে আর সমীকরণ মেলাতে পারেনি তারা।
২০১৩ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয়ের পর ঘুচলো ভারতের শিরোপা খরা। আর ২০০৭ সালে প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতার পর হাতে এলো আরেকটি শিরোপা। আর ২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর বিশ্বমঞ্চে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ পেলো।
টসে জিতে ভারতের অধিনায়ক রোহিত ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। কেন ব্যাটিং নিলেন সেটি প্রমাণ করতেই যেন ফাইনাল ম্যাচে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এলেন কোহলি। মার্কো ইয়ানসনের প্রথম ওভারে তিন চারে ঝলক শুরু করেন কোহলি। পরের ওভারে কেশব মহারাজকে প্রথম দুই বলে চার মেরে রোহিত আক্রমণাত্মক শুরু করেন। ১.২ ওভারেই ভারত তোলে ২৩ রান। এরপরই খেই হারান ব্যাটাররা।
মহারাজ তার চতুর্থ ও ষষ্ঠ বলে একে একে ফেরান রোহিত ও রিশাভ পান্তকে। ৫ বলে রোহিত ৯ রান করলেও পান্ত রানের খাতা খুলতে পারেননি। প্রোটিয়া স্পিনারকে সুইপ করতে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে ক্লাসেনের দারুণ ক্যাচ হন ভারতের অধিনায়ক। পান্তও সুইপ করতে গিয়ে আকাশে বল তুলে দিয়ে বিদায় নেন ডি ককের তালুবন্দি হয়ে। এরপর ক্রিজে নামেন চলতি টুর্নামেন্টে ভারতের সবচেয়ে সফল ব্যাটার সূর্যকুমার যাদব। কিন্তু তিনিও ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্যর্থ হয়েছেন। ফাইন লেগে উড়িয়ে খেলতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দিয়েছেন। সেখানেও ক্যাচটি নেন ক্লাসেন। ১১ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারিয়ে ভীষণ চাপে পড়ে ভারত।
সেই চাপ থেকে দলকে উদ্ধার করার গুরু দায়িত্ব পড়ে পুরো টুর্নামেন্টে ব্যাট হাতে ব্যর্থ হওয়া কোহলির ওপর। সেই দায়িত্বটা খুব ভালো করেই সামাল দিয়েছেন তিনি। ম্যাচআপের অংশ হিসেবে অক্ষর প্যাটেলকে নামানো হয় চার নম্বরে। ঠিক যে কারণে অক্ষরকে নামানো হয়েছে, সেই দায়িত্বটা ঠিকঠাকভাবেই করেছেন স্পিনিং এই অলরাউন্ডার। চতুর্থ উইকেটে ৫৪ বলে ৭২ রানের জুটি গড়েন এই দুজন।
১৪তম ওভারে অক্ষর রানআউট হলে ভাঙে এই জুটি। রাবাদার বলে ফ্লিক করতে যান কোহলি। কিন্তু ঠিকঠাক টাইমিং হয়নি, বল থাকে উইকেটরক্ষকের কাছাকাছি। এর মধ্যে রান নেওয়ার চেষ্টা করেন অক্ষর, কিন্তু কোহলি ফিরিয়ে দেন তাকে। ফেরার জন্য যথেষ্ট সময় পেলেও দ্রুততা ছিল না অক্ষরের। উইকেটরক্ষকের জায়গা থেকে সরাসরি থ্রোতে নন স্ট্রাইক প্রান্তে স্টাম্প ভাঙেন ডি কক। ৩১ বলে ১টি চার ও চারটি ছক্কায় ৪৭ রান করে সাজঘরে ফেরত যান অক্ষর।
তার বিদায়ের পর হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন কোহলি। এই টুর্নামেন্টে প্রথমবার এই মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। আগের সাত ইনিংসে স্রেফ ৭৫ রান করেছিলেন, দুবার আউট হয়েছিলেন শূন্য রানে। ফাইনালে ৪৮ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন কোহলি।
ফিফটি পাওয়ার পর কিছুটা চালিয়ে খেলার চেষ্টা করেন কোহলি। হাফ সেঞ্চুরি পাওয়ার পরের ১১ বলে ১৬ রান আসে তার ব্যাট থেকে। মার্কো ইয়ানসেনের আগের বলে ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন। পরেরটি একটু স্লো করেন তিনি, এবার পুল করতে গিয়ে ক্যাচ দেন রাবাদার হাতে।
কোহলির সঙ্গে পরে পঞ্চাশ পেরোনো জুটি হয়েছিল দুবেরও। ইনিংসের দুই বল বাকি থাকতে আউট হন দুবে। ১৬ বলে ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ২৭ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। শেষ বলে জাদেজাও আউট হন। তবে ততক্ষণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রান করে ফেলেছে ভারত। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে করা অস্ট্রেলিয়ার ১৭৩ রান টপকে তারা করে ১৭৬ রান।
পুরো টুর্নামেন্টে রানের জন্য ছটফট করেছিলেন কোহলি। সবকিছুই যেন তুলে রেখেছিলেন ফাইনালের জন্য। নেমেই এক ওভারে তিন চারে দারুণ কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন। তবে দ্রুত তিন উইকেট হারানোর পর দলের পরিকল্পনাতেই হোক কিংবা প্রোটিয়া বোলারদের তোপেই হোক, একটু যেন খোলসবন্দি হয়ে যান। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই আগ্রাসী ব্যাটিং করতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত অবশ্য টিকতে পারেননি তিনি, ১৯তম ওভারে ইয়ানসেনের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন। তার আগে ৫৯ বলে ৭৬ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলে কিং কোহলি খ্যাত ভারতীয় এই ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত ভারত পায় ৭ উইকেটে ১৭৬ রানের বড় স্কোর।
প্রোটিয়া বোলারদের মধ্যে আনরিখ নর্কিয়া ২৬ রান দিয়ে ২টি উইকেট শিকার করেছেন। এছাড়া মহারাজ ২৩ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। ইয়ানসেন ও কাগিসো রাবাদা একটি করে উইকেট নেন।
বিরাট কোহলি ম্যাচসেরা পুরস্কার নিতে এসেই ঘোষণা দেন, ‘এটাই ছিল ভারতের হয়ে আমার শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ।’ সংবাদ সম্মেলনে এলো আরেক তারকার অবসরের ঘোষণা। ভারতকে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতিয়ে এই ফরম্যাট থেকে বিদায়ের ঘোষণা দিলেন অধিনায়ক রোহিত শর্মা।
-

প্রিমিয়ার লিগে চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটি
www.HelloBangla.News – খেলাধুলা – ২০ মে, ২০২৪: টানা চারবার প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। । মৌসুমে নিজেদের শেষ লিগ ম্যাচে আজ সিটিজেনরা ৩-১ গোলে হারিয়েছে ওয়েস্টহ্যামকে। জোড়া গোল করেছেন ফিল ফোডেন ও রদ্রি। সফরকারীদের হয়ে একটি গোল শোধ করেছেন মোহাম্মেদ কুদুস। প্রিমিয়ার লিগে শিরোপার আরেক দাবিদার ছিল আর্সেনাল। একই রাতে জয় পেয়েও স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে গানারদের।
সিটি ৩৮ ম্যাচে সংগ্রহ ৯১ পয়েন্ট। তাদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী আর্সেনালও নিজেদের কাজটা ঠিকঠাকই করেছে। এভারটনকে ২-১ গোলে হারিয়েছে মিকেল আর্তেতার শিষ্যরা। কিন্তু সিটি জিতে যাওয়ায় পয়েন্টের ব্যবধান আর কমাতে পারেনি তারা।
এ নিয়ে প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের অষ্টম এবং টানা চতুর্থ শিরোপা ঘরে তুললো ম্যানসিটি। শেষ কীর্তিটি লিগের ইতিহাসেই আর কারও নেই।
ঘরের মাঠ ইতিহাদ স্টেডিয়ামে আজ শিরোপা জেতার মিশন নিয়েই মাঠে নামে সিটি। জয় ভিন্ন অন্যকিছু ভাবার সুযোগ ছিল না তাদের সামনে। এমনকি ড্র করলেও হতে পারতো বিপদ। কারণ তাতে আর্সেনালের সমান পয়েন্ট হতো তাদের।
গ্যালারিভর্তি নিজেদের দর্শকদের সামনে আজ শুরুটা দারুণ হয় সিটির। দ্বিতীয় মিনিটেই গোলের দেখা পায় তারা। ডি ব্রুইনার কাছ থেকে বল পেয়ে বার্নান্দো সিলভা পেনাল্টি এরিয়ার কাছে থাকা ফিল ফোডেনকে খুঁজে নেন। ইংলিশ মিডফিল্ডারের একদম কাছ থেকে শটে বল জালে জড়ানোর আগে গোলরক্ষক আরেওলার গ্লাভস ছুঁয়ে যায়।
১৮তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে সিটি। এবারও গোলদাতা সেই ফোডেন। এবার ডকুর স্কয়ার পাসে বল যায় আগেই পেনাল্টি এরিয়ায় পৌঁছে যাওয়া ফোডেনের কাছে। সেখানে থাকা প্রতিপক্ষের তিন ডিফেন্ডার মিলেও তাকে আটকাতে ব্যর্থ হন। প্রথম ছোঁয়াতেই বল জালের ঠিকানায় পাঠিয়ে দেন ফোডেন।
দুই গোলে এগিয়ে থাকা সিটির স্বস্তি কেড়ে নেন ওয়েস্টহ্যামের স্ট্রাইকার কুদুস। সতীর্থের কর্নার-কিকে বল পেয়ে দারুণ ফ্লিকে সিটি গোলরক্ষক ওর্তেগার মাথার ওপর দিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন
-

আটালান্টাকে হারিয়ে কোপা ইতালিয়া চ্যাম্পিয়ন হয়েছে জুভেন্টাস
www.HelloBangla.News – খেলাধুলা – ১৬ মে, ২০২৪: কোপা ইতিলিয়া শিরোপার লড়াইয়ে আটালান্টার মুখোমুখি হয় জুভেন্টাস। ছয় দশক পর প্রথমবার ট্রফি জেতার সুযোগ থাকলেও জুভেন্টাসের সঙ্গে পেরে উঠলো না দলটি। বুধবার (১৫ মে) রাতে স্টেডিও অলিম্পিকোতে আটালান্টাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে কোপা ইতালিয়ার শিরোপা ঘরে তুলেছে মাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রির শিষ্যরা।
এ নিয়ে রেকর্ড ১৫তম বারের মতো ইতালিয়ান কাপে চ্যাম্পিয়ন হলো জুভেন্টাস। তারা রেকর্ড ২২ বার এই টুর্নামেন্টে ফাইনালও খেলেছে। ২০২০-২১ মৌসুমের পর আর কোনো ট্রফি জেতেনি জুভরা। অর্থাৎ তিন বছর পর অবশেষে শিরোপার দেখা পেলো দলটি।
ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে দুসান ভ্লাহোভিচের গোলটিই শেষ পর্যন্ত জয় এনে দিয়েছে জুভেন্টাসকে। অ্যালেগ্রি প্রথম কোচ হিসেবে কোপা ইতালিয়া পাঁচবার জেতার রেকর্ড গড়েছেন।
ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমি ছেলেদের নিয়ে খুব খুশি। তারা ক্লাব, সমর্থক এবং আমার জন্য আনন্দ বয়ে নিয়ে এসেছে। জয় কখনই সহজ নয়, তবে এটা আমাদের ডিএনএতে আছে।’
অ্যালেগ্রি নিজের বিদায়ের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ‘যদি আমি আগামী মৌসুমে জুভেন্টাসের কোচ না থাকি, তবে শক্ত একটি দল রেখে যাব। ক্লাবটি তার গৌরব ধরে রাখবে।’
-

ভারতকে হারিয়ে অনূর্ধ্ব–১৬ সাফের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের মেয়েরা
www.HelloBangla.News – খেলাধুলা – ১০ মার্চ, ২০২৪: সাফ অনূর্ধ্ব-১৬ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হয় ১-১ সমতায়। এরপর টাইব্রেকারে ভারতকে ৩–২ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশের মেয়েরা।
ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই আনুশকা কুমারীর গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ভারত। শুরুতেই গোল খেয়ে হতাশায় পড়ে বাংলাদেশ। তাই গোল পরিশোধ করতে খানিকাটা বেশি সময়ই নিয়ে ফেলে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–১৬ দলের মেয়েরা। ফাইনাল খেলার চাপেই কিনা, স্বাভাবিক খেলাটা একেবারেই খেলতে পারছিল না বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয়ার্ধে বল পায়ে রেখে খেলার পুরস্কারটা বাংলাদেশ আদায় করে নিয়েছে ম্যাচের ৭১ মিনিটে। মোমিতার সুযোগ সন্ধানী এক গোলে ১–১ সমতায় ফিরে মেয়েদের সাফ অনূর্ধ্ব–১৬ ফুটবলের ফাইনাল টাইব্রেকারে যায় বাংলাদেশ।
টাইব্রেকারে বাংলাদেশের গোলকিপার ইয়ারজান বেগম ভারতের আলিনা, বনিফিলিয়া ও দেবযানীর শট ঠেকিয়ে দেয়। ৩-২ গোলে জিতে শিরোপা-উৎসবে মাতে বাংলাদেশের মেয়েরা।
-

বিপিএলে নতুন চ্যাম্পিয়ন ফরচুন বরিশাল
www.HelloBangla.News – খেলাধুলা – ১ মার্চ, ২০২৪: বিপিএলের এবার যোগ্য দুই দল ফরচুন বরিশাল ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ফাইনালে উঠে। দেশি ও বিদেশি তারকা খেলোয়াড়দের নিয়ে দুই দল গঠন করলেও ফাইনালে ভালো খেলে জয় প্রথমবারের মত জয় পেয়েছে বরিশাল। এর আগে ২০২২ সালের ফাইনালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে এক রানে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করেছিল ফরচুন বরিশাল। শেষের নাটকীয়তায় ভাগ্যের কাছেই হার মানতে হয়েছিল তাদের! কাছাকাছি গিয়েও স্বপ্ন ছুঁতে না পারার যন্ত্রণা বছর দুয়েক ধরেই বয়ে বেড়াচ্ছে বরিশাল। অবশেষে আরও একবার ফাইনালে কুমিল্লাকে পেয়ে সেই ক্ষতে প্রলেপ দেওয়ার সুযোগ আসে। এবার ভাগ্য সঙ্গেই ছিল ফরচুনদের। কুমিল্লাকে ৬ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বরিশাল। দলের মতোই অধিনায়ক হিসেবে প্রথমবার শিরোপা জয়ের স্বাদ পেলেন তামিম ইকবালও।বলতে গেলে এবার ফাইনালে খুব একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়নি।
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে পুরো ২০ ওভার খেললেও ১৫৪ রানের বেশি করতে পারেনি কুমিল্লা। পরে ওই রান তাড়া করতে ৬ উইকেটে জয় পায় বরিশাল। চারবার ফাইনাল খেলে কখনো না হারা কুমিল্লাকে এবার রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে।
প্রথমে অবশ্য বরিশালের খেলোয়াড়দের মনে ভয়ই ধরার কথা ছিল। ইনিংসের কেবল তৃতীয় বলেই সুনীল নারিনের ক্যাচ ছেড়ে দেন ওবেদ ম্যাককয়। থার্ডম্যানে দাঁড়িয়ে বলটা কোথায় পড়বে, সেটিই ঠিকঠাক বুঝতে পারেননি। এক বল পরই প্রায়শ্চিত্য করেন অবিশ্বাস্য এক ক্যাচ নিয়ে।
স্কয়ার লেগে দাঁড়িয়ে নিজের বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে এক হাতে অবিশ্বাস্য এক ক্যাচ নেন ম্যাককয়। কাইল মেয়ার্সের করা প্রথম ওভারেই ফিরতে হয় ৪ বলে ৫ রান করা নারিনকে। ওই ক্যাচ ছাড়ার মাশুলও খুব বেশি দিতে হয়নি বরিশালকে। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের করা পরের ওভারে তিন বাউন্ডারিতে উইকেট হারানোর বেদনা ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করে কুমিল্লা।
কিন্তু তাদের উইকেট হারাতেও খুব বেশি সময় লাগেনি। ১০ বলে ১৫ রান করে থার্ডম্যানে দাঁড়ানো মাহমুদউল্লাহর হাতে ক্যাচ দেন হৃদয়।
পাওয়ার প্লের ভেতরেই আরও একটি উইকেট হারায় বরিশাল। ১২ বলে ১৬ রান করে জেমস ফুলারের বলে এবার ওই মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের হাতেই ক্যাচ দেন লিটন দাস। পাওয়ার প্লের ছয় ওভারে ৪৯ রানে ৩ উইকেট ছিল না বরিশালের।
এরপরও অনেকটা নিয়মিতই উইকেট হারিয়েছে বরিশাল। বিধ্বংসী হওয়ার আগে জনাথন চার্লসকে ফিরিয়ে দেন ওবেদ ম্যাককয়, ১৭ বলে তিনি করেন ১৫ রান। মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন লম্বা সময় উইকেটে থেকেও বড় কিছু করতে পারেননি।
১৭তম ওভারে গিয়ে আউট হওয়ার আগে ২ চার ও সমান ছক্কায় ৩৫ বলে ৩৮ রান করেন অঙ্কন। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের শেষ আশা হয়ে ছিলেন আন্দ্রে রাসেল। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কুমিল্লার জন্য প্রায়ই উদ্ধারকারী হয়েছেন তিনি। ওই আশা আরও একবার দেখিয়েছিলেন ১৯তম ওভারে গিয়ে।
ফুলারের করা ওই ওভারে ২১ রান নেন তিনি। শেষ ওভারে বরিশাল আস্থা রাখে সাইফউদ্দিনের ওপর। প্রতিদানও দিয়েছেন খুব ভালোভাবে। নো করেছেন, ওয়াইড দিয়েছেন কিন্তু পথ হারাননি কখনোই। পুরো ওভারে একটি বাউন্ডারিও হাঁকানো যায়নি তাকে।
১০ বলের ওই ওভারের প্রায় সবগুলো বলই ইয়র্কার করেন সাইফউদ্দিন। এর মধ্যে জাকের আলিকে স্ট্রাইক না দিয়ে নিজে মারার চেষ্টা করেননি রাসেল। পরে স্ট্রাইক পেয়েও তেমন কিছু করতে পারেননি জাকের। ১৪ বলে তবুও ২৭ রানে অপরাজিত থাকেন রাসেল, ২৩ বল খেলে জাকেরের রান ছিল ২০।
দেড়শর কাছাকাছি রান তাড়ায় নেমে প্রথম তিন বলের দুটিতেই রিভার্স সুইপ খেলেন তামিম ইকবাল। কোনোটিই অবশ্য ব্যাটে লাগেনি। রহনাতউদ্দৌল্লা বর্ষণের করা পরের ওভারেই দুই চার ও ১ ছক্কায় ১৫ রান নেন তামিম ইকবাল ও মেহেদী হাসান মিরাজ।
প্রথম ওভারে তানভীর ইসলামকে ঠিকঠাক ‘কানেক্ট’ করতে পারছিলেন না তামিম। এই স্পিনারের পরের ওভারের শেষ দুই বলে দুই ছক্কা হাঁকান তামিম। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও তখনই বরিশালের কাছে চলে আসে। পাওয়ার প্লের ছয় ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে তাদের রান ছিল ৫৯।
মঈন আলি কুমিল্লাকে প্রথম উইকেট এনে দেন। আগের চার বলে তাকে একটি ছক্কা ও দুটি চার হাঁকিয়েছিলেন তিনি। ওভারের শেষ বলে এগিয়ে এসে খেলতে যান, কিন্তু বলের কাছাকাছিও ছিলেন না তামিম। ৩টি চার ও ৩টি ছক্কার ইনিংসে ২৬ বলে ৩৯ রান করেন তিনি। নিজের কাজটা অবশ্য ততক্ষণে ঠিকই করে দিয়ে গেছেন তামিম।
তার উদ্বোধনী সঙ্গী মেহেদী হাসান মিরাজও তাই। ২৬ বলে ২৯ রান করা এই ব্যাটারকে ফেরান মঈন। বরিশালের লম্বা ব্যাটিং লাইন আপ, আর লক্ষ্য অল্প থাকায় জয় নিয়ে কখনোই অনিশ্চয়তা ছিল না তাদের। সেটি আরও কাছাকাছি নিয়ে আসেন পুরো আসরজুড়ে বরিশালের বড় ভরসা হওয়া মেয়ার্স।
মোস্তাফিজুর রহমানের বলে পুল করতে যান তিনি। কিন্তু ব্যাটে ঠিকঠাক না লাগায় মিড অনে দাঁড়ানো মঈন একটু পিছিয়ে গিয়ে ক্যাচ নেন তার। ওই ওভারেই মুশফিকুর রহিমকেও ফেরান মোস্তাফিজ। নিজের প্রথম বিপিএল শিরোপার উদযাপন তাই মাঠে বসে করতে পারেননি মুশফিক। ফাইনালে ১৮ বলে করেন ১৩ রান।
এক ওভারে দুই উইকেট পেলেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। দুই দলের পথও বদলে গেছে অনেকটাই। বিপিএলকে নিজেদের সাম্রাজ্য বানিয়ে ফেলা কুমিল্লা থমকে গেছে এবার। বিপিএল শিরোপা পথ ধরেছে বরিশালের। মুশফিক না পারলেও জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছেড়েছেন জাতীয় দলে তার দীর্ঘদিনের সতীর্থ মাহমুউল্লাহ রিয়াদ ও দক্ষিণ আফ্রিকার ডেভিড মিলার।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট দশম আসরে শীর্ষ পাঁচ ব্যাটারের সবাই স্বদেশী।
এবারের আসরে সর্বোচ্চ রান করেছেন চ্যাম্পিয়ন ফরচুন বরিশালের অধিনায়ক তামিম ইকবাল। ১৫ ম্যাচের ১৫ ইনিংসে ৩টি হাফ-সেঞ্চুরিতে ৪৯২ রান করেন তিনি।
১৪ ম্যাচের ১৪ ইনিংসে ১টি সেঞ্চুরি ও ২টি হাফ-সেঞ্চুরিতে ৪৬২ রান নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে আছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের তাওহিদ হৃদয়।
তৃতীয় সর্বোচ্চ ৩৯১ রান করেছেন কুমিল্লার অধিনায়ক লিটন দাস।
এরপর চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের তানজিদ হাসান ৩৮৪ ও বরিশালের মুশফিকুর রহিম ৩৮০ রান করেন।
-

এশিয়া কাপে জর্ডানকে হারিয়ে কাতার আবারও চ্যাম্পিয়ন
www.HelloBangla.News – খেলাধুলা – ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: গতবারের এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলো কাতার। মাঝখানে বিশ্বকাপ খেলে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে তাতে আবারও এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখাটা কাতারের জন্য স্বাভাবিক ছিল । ঘরের মাঠে জর্ডানকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে এশিয়ান কাপে দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হলো তারা।
লুসাইল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে কাতারের পক্ষে তিনটি গোল করে আকরাম আফিফ। তার আগে কেউই এশিয়ান কাপের ফাইনালে হ্যাটট্রিকের নজির গড়তে পারেনি। ম্যাচের ২২তম মিনিটে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন তিনি। ডি বক্সের মধ্যে তাকে ফাউল করে বসেন জর্ডান ডিফেন্ডার আব্দাল্লাহ নাসিব। রেফারিও পেনাল্টির বাঁশি বাজান সঙ্গে সঙ্গে। বল হাওয়ায় না ভাসিয়ে কোনাকুনি শটে জালের দেখা পান আফিফ।
প্রথমবারের মতো আসরের ফাইনালে খেলা জর্ডান সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে। কাতারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লড়াই করে তারা। পিছিয়ে থেকে বিরতিতে গেলেও দ্বিতীয়ার্ধে সমতা আনে খেলায়। ম্যাচের ৬৭তম মিনিটে ইহসান হাদ্দাদের পাস থেকে গোলটি করেন ইয়াজান আল নাইমাত।
সমতায় ফিরে অবশ্য খুব একটা লাভ হয়নি জর্ডানের। কেননা ছয় মিনিটের ব্যবধানে ফের কাতারকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয় তারা। বক্সের মধ্যে ইসমাইলকে বাধা দেন আল মারদি। কাতার পেনাল্টির আবেদন করলে ভিএআর চেকের পর রেফারি ঠিকই সেই সিদ্ধান্ত নেন। এবারও গোল করতে কোনো ভুল করেননি আফিফ। ম্যাচের যোগ করা সময়ে জর্ডানের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকেন তিনি। বক্সের মধ্যে তাকে ফেলে দেন জর্ডান গোলরক্ষক। নিয়তি আবারও সেই পেনাল্টি। ৮ গোল নিয়ে আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতা তো বটেই সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারটিও বাগিয়ে নেন আফিফ।