Tag: গাজা

  • গাজায় বেশি পরিমাণে মানবিক সাহায্য পাঠাতে হবে: জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী

    গাজায় বেশি পরিমাণে মানবিক সাহায্য পাঠাতে হবে: জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ২৭ মার্চ, ২০২৪: পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে গাজায় চলছে ইসরায়েলি হামলা। এতে প্রায় ৩২ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। সেখানে দেখা দিয়েছে চিকিৎসা ও ত্রাণ সঙ্কট।এমন কি ত্রাণ নিতে আসা মানুষরা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আক্রমণে প্রাণ হরাচ্ছে। এই অবস্থা জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবক জানিয়েছেন, গাজার পরিস্থিতি নারকীয়। সেখানে আরও বেশি মানবিক সহায়তা পাঠানো প্রয়োজন।সেজন্য খুলে দিতে হবে সীমান্ত।

    মধ্যপ্রাচ্য সফরের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার তিনি গিয়েছিলেন ইসরায়েল-গাজা সীমান্ত কেরেম শালোমে। সেখানে তিনি এমনটি বলেন।

    বেয়ারবক সাংবাদিকদের বলেন, “গাজার পরিস্থিতি নারকীয়। দ্রুত সীমান্ত খুলে দিতে হবে এবং আরও অনেক বেশি পরিমাণে মানবিক সাহায্য পাঠাতে হবে সেখানে।”

    তিনি জানান, ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামে জার্মানি বরাদ্দ বাড়িয়েছে। অতিরিক্ত এক কোটি ইউরো দেওয়া হয়েছে গাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য।

    তার বক্তব্য, “কোথায় সমস্যা এখনো জট পাকিয়ে আছে, তা নিয়ে আলোচনা করার সময় আর নেই। রাফা সীমান্ত দিয়ে যেসব ট্রাক গাজায় মানবিক সাহায্য নিয়ে প্রবেশ করে, সেগুলোতে তিনবার তল্লাশি চালানো হয়। সব জিনিস নামিয়ে দেখা হয়। যেভাবেই হোক এ প্রক্রিয়ার গতি বাড়াতে হবে। গাজায় যত দ্রুত মানবিক সহায়তা পৌঁছানো দরকার, তা পৌঁছাচ্ছে না।”

    বেয়ারবকই প্রথম কোনো বিদেশি মন্ত্রী যাকে ইসরায়েল কেরেম শালোম পর্যন্ত যাওয়ার অনুমতি দিল। তাকে দেখানো হয়েছে, কীভাবে প্রতিদিন ১২০টি ট্রাকে মানবিক সাহায্য বোঝাই করে গাজায় পাঠানো হয়।

    ৭ অক্টোবরের ঘটনার আগে গাজায় প্রতিদিন ৫০০ ট্রাক নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে যেত। তার মধ্যে ৩০০ ট্রাক যেত কেরেম শালোমের সীমান্ত দিয়ে। তা কমে এখন ১২০ ট্রাকে এসে দাঁড়িয়েছে।

    ইসরায়েল জানায়, প্রতি ঘণ্টায় ১২টি ট্রাক সীমান্ত পার করে। ইসরায়েল সীমান্তে দুইটি স্ক্যানারে এসব ট্রাক পরীক্ষা করা হয়। দেখা হয়, জিনিসের সঙ্গে বন্দুক, গুলি ইত্যাদি জিনিস পাঠানো হচ্ছে কি না।

    সংবাদসংস্থা ডিপিএ জানিয়েছে, ইসরায়েলের প্রতিনিধিরা তাদের জানান, আরও ট্রাক পারাপার করা সম্ভব। কিন্তু ট্রাক চালানোর জন্য যথেষ্ট ফিলিস্তিনি চালক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

    বেয়ারবক এদিন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। সেখানে দুই-রাষ্ট্র বিষয়ক রাজনৈতিক সমাধান নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়েও দুই মন্ত্রীর আলোচনা হয়েছে।

  • ইসরায়েলি হামলায় গাজায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩১৬৪৫

    ইসরায়েলি হামলায় গাজায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩১৬৪৫

    www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ১৮ মার্চ, ২০২৪: গাজায় সাত মাসেরও বেশি সয় ধরে চলা ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাড়িয়েছে ৩১ হাজার ৬৪৫ জন। এদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু ও নারী। গাজার আল শিফা হাসপাতাল ঘিরে রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। সেখানে একের পর এক গুলি চালানো হচ্ছে। ইসরায়েলের এক সামরিক মুখপাত্র দাবি করেছেন, হামাস যোদ্ধারা ওই হাসপাতালের ভেতরে পুনরায় সংগঠিত হয়েছে।

    যুদ্ধ বন্ধের বদলে রবিবার মিশরের সীমান্তবর্তী শহর রাফায় স্থল অভিযানের হুমকি পুনর্ব্যক্ত করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। কিন্তু দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত ওই শহরে ১০ লাখের বেশি ফিলিস্তিনি আশ্রয় নেওয়ায় সেখানে হামলার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ স্কোলজ। এদিকে ত্রাণবাহী ১৯টি ট্রাক নিরাপদে জাবালিয়ায় পৌঁছেছে। গত চার মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো কোনো ঝামেলা ছাড়াই দক্ষিণ থেকে উত্তর গাজা উপত্যকায় ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করলো।

    গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের সীমান্তে প্রবেশ করে আকস্মিক হামলা চালায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এরপরেই গাজায় পাল্টা আক্রমণ শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৩১ হাজার ৬৪৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছে আরও ৭৩ হাজার ৬৭৬ জন।

    গাজায় হতাহতদের মধ্যে অধিকাংশই নারী এবং শিশু। সেখানে এখন পর্যন্ত গাজায় ১৩ হাজার শিশুকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এছাড়া যেসব শিশুরা বেঁচে আছে তারা গুরুতর অপুষ্টিতে ভুগছে, এমনকি এসব শিশুর কান্না করার মতো শক্তিটুকুও অবশিষ্ট নেই। জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ এ তথ্য জানিয়েছে।

    ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল রবিবার সিবিএস নিউজ নেটওয়ার্ককে বলেন, আরও কয়েক হাজার শিশু আহত হয়েছে অথবা তারা কোথায় আছে সেটাও আমরা নির্ধারণ করতে পারছি না। অনেক শিশু এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে থাকতে পারে… আমরা বিশ্বের অন্য কোনো সংঘাতে এত শিশুর মৃত্যু দেখিনি।

    ইসরায়েলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পদত্যাগের দাবিতে বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে। শনিবার ইসরায়েলের বড় শহরগুলোতে বিক্ষোভে অংশ নেন কয়েক হাজার মানুষ।

    ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান যুদ্ধ নিয়ে সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ অনেক ইসরায়েলি। হামাসের কাছে থাকা ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্ত করে আনতে ব্যর্থতার জন্য সরকারকে দায়ী করছেন তারা। বিক্ষোভকারীরা বলছেন, সব ব্যর্থতার দায়ই নেতানিয়াহুর। তাকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে

    এদিকে ইসরায়েলি হামলায় নিহতদের মধ্যে শিশুর সংখ্যাই ১৩ হাজারের বেশি। এমন তথ্যই জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু নিরাপত্তা ও অধিকার বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। এছাড়া গাজার অন্য শিশুরা গুরুতর অপুষ্টিতে ভুগছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

  • ত্রাণ নিয়ে স্প্যানিশ জাহাজ যাচ্ছে গাজায়

    ত্রাণ নিয়ে স্প্যানিশ জাহাজ যাচ্ছে গাজায়

    www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ১০ মার্চ, ২০২৪: পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে গাজায় চলছে ইসরায়েলি আক্রমণ। গাজায় স্থাপনা ধ্বংস ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। কয়েক মাস ধরে সেখানে দেখা দিয়ে ওষুধ, খাদ্য ও পানির সঙ্কট। ফলে দেশটিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রথম দিকে সড়কপথে খাদ্য সহায়তা দিলেও সেটাও বন্ধ করে দেওয়া হয়। সড়কপথ বন্ধ করে দেওয়ায় এখন অনেক দেশ উড়োজাহাজ থেকে ত্রাণ ফেলছে গাজায়। গত শুক্রবার গাজার আল শাতি শরণার্থী শিবিরের কাছে ত্রাণের বাক্সের নিচে চাপা পড়ে অন্তত পাঁচজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১০ জন।

    এই অবস্থায় স্প্যানিশ একটি এনজিও শনিবার বলেছে, সাইপ্রাস থেকে সমুদ্রপথে যুদ্ধ-বিধ্বস্ত গাজায় দুইশত টন খাদ্য সহায়তা নিয়ে ত্রাণবাহী জাহাজ আজ অথবা কাল যাত্রা শুরু করবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতায় সমুদ্র পথে এটি তাদের প্রথম চালান।

    দাতব্য সংস্থা ওপেন আর্মসের এক মুখপাত্র বলেন, শিপমেন্টের যাবতীয় কাজ শেষ করে শনিবার রাতে জাহাজটি যাত্রা করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। জাহাজটি তিন সপ্তাহ আগে লার্নাকার সাইপ্রিয়ট বন্দরে নোঙর করে।

    লরা লানুজা এএফপি’কে বলেন, কর্তৃপক্ষের যাবতীয় অনুমোদন পেলে ‘আজ বা কাল’ জাহাজটি বন্দর ছেড়ে যেতে পারে।

    লানুজা বলেন, সাইপ্রিয়টের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। তারা ইতোমধ্যে ২০০ টন মৌলিক খাদ্যসামগ্রীর এ চালান পরিদর্শন করতে শুরু করেছে।

    এখনে উল্লেখ্য যে, গাজায় অস্থায়ী বন্দর নির্মাণের লক্ষ্যে রওনা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক জাহাজ। সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সমুদ্রপথে গাজায় ত্রাণসহায়তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ঘোষণার দেওয়ার ৩৬ ঘণ্টার কম সময়ের মধ্যে দেশটি সামরিক জাহাজ পাঠানোর তথ্য পওয়া গেল। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, গতকাল শনিবার মার্কিন সামরিক বাহিনীর জাহাজ জেনারেল ফ্রাঙ্ক এস ব্যাসন গাজা উপকূলের উদ্দেশে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রওনা হয়।

  • অপুষ্টি ও পানিশূন্যতায় গাজায় ২০ জনের মৃত্যু

    অপুষ্টি ও পানিশূন্যতায় গাজায় ২০ জনের মৃত্যু

    www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ৭ মার্চ, ২০২৪: পাঁচ মাসের সময় ধরে চলছে গাজায় ইসরায়েলি হামলা। হামরাস ও ইসরায়েলের যুদ্ধে প্রায় তিশ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু। এদিকে গাজায় দেখা দিয়ে ত্রাণ সংকট। এর ফলে গাজায় অপুষ্টি আর পানিশূন্যতায় এখন পর্যন্ত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। সেখানে খাবার এবং পানির তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। অবিলম্বে গাজায় আরও ত্রাণ সরবরাহ করা না হলে আরও বহু মানুষ প্রাণ হারাবে।

    গাজায় ত্রাণবহরও ঢুকতে দিচ্ছে না ইসরায়েল। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানিয়েছে, উত্তর গাজায় একটি ত্রাণবহরকে প্রবেশ করতে দেয়নি ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। সংস্থাটি জানিয়েছে, দুর্ভিক্ষ এড়াতে গাজার উত্তরে ত্রাণবহরের প্রবেশাধিকার দিতে হবে।

    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল-কুদরা এক বিবৃতিতে বলেন, অনাহারে কয়েক ডজন মানুষ নীরবে মারা যাচ্ছে। এদের মধ্যে অনেকেই হাসপাতালেও আসতে পারছে না।

    এদিকে গাজায় পূর্ণমাত্রার দুর্ভিক্ষ এড়াতে আরও বেশি উদ্যোগী হতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সাউথ আফ্রিকা এছাড়া দ্রুত যুদ্ধবিরতি কার্যকরের আহ্বানও জানান তারা।

    জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক পলা গাভিরিয়া বেটানকুর বলেছেন, গাজার মোট জনসংখ্যার পাঁচ শতাংশ ইসরায়েলি হামলায় নিহত এবং আহত হয়েছে, বাস্তুচ্যুত হয়েছে ৭৫ শতাংশেরও বেশি; এটি বিস্ময়কর।

    তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নিপীড়িতদের মানবতা মনে রাখার জন্য আহ্বান জানিয়ে বলেন, সামরিক অভিযানে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন মেনে চলবে বিশ্বকে এমন ‘কল্পকাহিনী’ ওপর বিশ্বাস পরিত্যাগ করতে হবে।

    গাজায় ফিলিস্তিনিদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত করার পাশাপাশি নৃশংসতার বিরুদ্ধে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে অবিলম্বে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কর্যকর করাই হবে মানবতার স্বার্থে এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ।

  • গাজায় ওষুধ ও মানবিক সহায়তা পৌঁছেছে

    গাজায় ওষুধ ও মানবিক সহায়তা পৌঁছেছে

    www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ১৮ জানুয়ারি, ২০২৪: হামাস এবং ইসরায়েলের মধ্যকার চুক্তির অংশ হিসেবে গাজায় মানবিক সহায়তা এবং ওষুধ পৌঁছেছে। এর আগে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি হয়।

    কাতার সরকার এ বিষয়ে একটি চুক্তিতে মধ্যস্থতা করে। যা ফরাসি সরকারের সমর্থন ছিলো। ফলে গাজার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বেসামরিক নাগরিকদের কাছে ওষুধ এবং অন্যান্য মানবিক ত্রাণ সরবরাহের অনুমতি মিলেছে।

    অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ৪৫ ইসরায়েলি বন্দিকে ওষুধ সরবরাহের বিনিময়ে এই চুক্তির ব্যাপারে একমত হয়েছে ইসরায়েল। কাতারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গতকাল বুধবার (১৭ জানুয়ারি) ওষুধ এবং মানবিক সহায়তা দোহা থেকে মিশরে গেছে। পরে সেখান থেকে ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এগুলো গাজায় পৌঁছে দিয়েছে।

    বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কাতার ও ফ্রান্সের মধ্যস্থতায় মঙ্গলবার দুপক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে চুক্তি সই হয়েছে। নতুন এই চুক্তি অনুযায়ী, নিজেদের হাতে আটক ইসরায়েলি জিম্মিদের শারীরিক ও স্বাস্থ্যগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে হামাস। তার বিনিময়ে গাজা উপত্যকায় আরও বেশি ত্রাণ সামগ্রী ঢুকতে দেবে ইসরায়েল।

    কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি এক বিবৃতিতে জানান, এ চুক্তি অনুযায়ী গাজায় বন্দি ইসরায়েলি জিম্মিদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সুরক্ষা দেবে হামাস। আর গাজার সবচেয়ে বিধ্বস্ত এলাকায় মানবিক সহায়তার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ বেসামরিকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

    চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, গাজার ফিলিস্তিনিদের জন্য ত্রাণসামগ্রী ও হামাসের হাতে থাকা জিম্মিদের জন্য ওষুধের প্রথম চালানটি বুধবার কাতারের রাজধানী দোহা থেকে মিশরের উদ্দেশে পাঠানো হবে। তারপর সেখান থেকে ত্রাণ ও জিম্মিদের জন্য ওষুধ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস যাবে গাজায়।

  • ইসরায়েলি হামলায় গাজায় নিহতের সংখ্যা ২৪ হাজার ছাড়াল

    ইসরায়েলি হামলায় গাজায় নিহতের সংখ্যা ২৪ হাজার ছাড়াল

    www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ১৬ জানুয়ারি, ২০২৪: তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে গাজায় চলছে ইসরায়েলি হামলা। বিশ্বের প্রায় সব দেশের যুদ্ধবিরতির অনুরোধ উপেক্ষা করে ইসরায়েল হামলা অব্যাহত রেখেছে। এই হামলায় এখন পর্যন্ত গাজায়  গাজায় নিহতের সংখ্যা ২৪ হাজার ছাড়ালো। এছাড়া হামলায় আহত হয়েছেন আরও প্রায় ৬১ হাজার ফিলিস্তিনি। নিহতদের অধিকংশই নারী ও শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় নিহত হয়েছেন ১৩২ ফিলিস্তিনি।

    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ২৪ হাজার ১০০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও ৬০ হাজার ৮৩৪ জন আহত হয়েছেন। নিহত ফিলিস্তিনিদের প্রায় সাড়ে ১০ হাজারই শিশু।

    মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইসরায়েলি দখলদার (বাহিনী) গাজা উপত্যকায় পরিবারগুলোর ওপর ১২টি গণহত্যা চালিযেছে, যার ফলে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩২ জন নিহত এবং আরও ২৫২ জন আহত হয়েছেন।’

    জাতিসংঘের মতে, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং ওষুধের তীব্র সংকটের মধ্যে গাজার মোট জনসংখ্যার ৮৫ শতাংশ মানুষ ইতোমধ্যেই অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আর ইসরায়েলের বর্বর হামলায় ভূখণ্ডটির ৬০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।

    এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুস গত রবিবার বলেছেন, ‘গাজার লোকেরা নরকে বাস করছেন’ এবং সেখানে ‘কোনও স্থানই নিরাপদ নয়।’

    উল্লেখ্য, গত বছরের ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন আন্তঃসীমান্ত হামলার পর থেকে ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় অবিরাম বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলি এই হামলায় হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জাসহ হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।

    মাঝে হামাসের সাথে এক সপ্তাহব্যাপী মানবিক বিরতির পর গত ডিসেম্বরের শুরু থেকে গাজা উপত্যকায় পুনরায় বিমান ও স্থল হামলা শুরু করে ইসরায়েল। বিরতির পর শুরু হওয়া এই অভিযানে গাজায় হামলা আরও তীব্র করে দখলদার সেনারা। ইসরায়েলি সেনারা লাগাতার এই আক্রমণ গাজাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে।