Tag: লিড নিউজ

  • শনিবার ‘বাংলাদেশ বিজনেস সামিট’ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

    শনিবার ‘বাংলাদেশ বিজনেস সামিট’ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

    ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. জসীম উদ্দিন গতকাল বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল সকালে বাংলাদেশ বিজনেস সামিটের উদ্বোধন করবেন।

    দেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগকে সম্প্রসারনের লক্ষ্যে আগামীকাল শনিবার ‘বাংলাদেশ বিজনেস সামিট’-এর উদ্বেধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এফবিসিসিআই রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনের আয়োজন করছে।

    যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, চীন, ভূটান, সংযুক্ত আরব আমীরাতসহ ১২টি আন্তর্জাতিক সংস্থার সিইও এবং ২শ’র বেশি বিদেশী বিনিয়োগকারী, বিশ্বের ১৭টি দেশের ব্যবসায়ী নেতারা সম্মেলনে অংশ নেবেন। বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই) স্বাধীনতার ৫০ বছরে অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অর্জন এবং রপ্তানি ও স্থানীয় ভোক্তা বাজারের পাশাপাশি বিনিয়োগ সক্ষমতা বিদেশিদের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছে।

    সম্মেলনের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানাতে রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআইয়ের নিজস্ব অফিসে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। জসিম উদ্দিন বলেন, ‘দেশে বিনিয়োগ আনার সক্ষমতা ছিল না। এখন সেই সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। ওয়ালমার্ট, জারা’র মত কোম্পানি কলকাতায় চলে এসেছে। এখন তাদের বাংলাদেশে আসার সময় হয়েছে। বাংলাদেশের রপ্তানির সম্ভাবনার পাশাপাশি লোকাল কনজ্যুমার মার্কেটও বড় হচ্ছে।’

    তিনি বলেন, ‘দেশে এখন ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল দৃশ্যমান। আমাদের এসব সক্ষমতা তুলে ধরা দরকার। অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে সরকার বিজনেস ফ্যাসিলিটেশনকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে।’

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সরকারি-বেসরকারি খাতসহ এবারের সম্মেলনে ১৭টি দেশের ২ শতাধিক ব্যবসায়ী নেতারা আসছেন। এর মধ্যে বিশ্বের নামকরা ১২টি কোম্পানির সিইও কিংবা শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা থাকছেন।

    এফবিসিসিআই সভাপতি আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনে ১২টি দেশের মন্ত্রীবর্গ অংশ নেবেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সার্বিকভাবে কিছু সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা কেবল বাংলাদেশে নয়, অন্যান্য দেশেও রয়েছে। আমরা তা এসব সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে পারব।’

    তিনি বলেন, বাংলাদেশকে নিয়ে অনেক সম্ভাবনার খবরও পাওয়া যায়। আগামী ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ১ ট্রিলিয়ন ডলারের ইকোনমি হবে বলে মনে করছে বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপ। আর এইচএসবিসির মনে করছে যে, বাংলাদেশ হবে নবম বৃহত্তম বাজার।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তিন দিনের সামিটে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাত নিয়ে ১৭টি সেমিনার ও তিনটি প্ল্যানারি সেশন অনুষ্ঠিত হবে।

    অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ বিজনেস সামিটের কারিগরি উপদেষ্টা ড. এম মাশরুর রিয়াজ, এফবিসিসিআই’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু, ভাইস প্রেসিডেন্ট এম এ মোমেন, আমিন হেলালি, হাবিব উল্লাহ ডন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

  • শি জিনপিং টানা তৃতীয় মেয়াদে চীনের প্রেসিডেন্ট

    শি জিনপিং টানা তৃতীয় মেয়াদে চীনের প্রেসিডেন্ট

    শি জিনপিং ২০১৮ সালেও সর্বসম্মতিক্রমে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন ।  ওই বছরই তার সরকার কিছু সাংবিধানিক বিধান বাতিল করে। যা তার তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা ছিলো। বিবিসি তাদের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

    বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ ফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে আইনপ্রণেতারা উঠে দাঁড়ান এবং শি’র পক্ষে হাততালি দেন।

    তৃতীয় মেয়াদে চীনের প্রেসিডেন্ট পদে আবারও নির্বাচিত হয়েছেন শি জিনপিং। শুক্রবার চীনা আইনপ্রণেতাদের সর্বসম্মতিক্রমে তিনি নির্বাচত হন। এর মধ্যেদিয়ে আরও পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতায় থাকবেন তিনি।  

    বার্ষিক আইনসভার এ বৈঠকে শি’কে কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে পুনর্নিযুক্ত করা হয়। যার মধ্যদিয়ে তিনি বিশ্বের বৃহত্তম সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান হিসেবে পুনরায় আসীন হলেন। শনিবার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • টি-টোয়েন্টির প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ

    টি-টোয়েন্টির প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ

    টি-টোয়েন্টির সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে অতীতে দুই দলের সাক্ষাৎ হয়েছে মাত্র একবার। সেই সাক্ষাতে আধিপত্য বিস্তার করেই জিতেছে ইংল্যান্ড।

    অন্যদিকে বাংলাদেশ বৃহস্পতিবারের আগ পর্যন্ত ১৪৪টি টি-টোয়েন্টি খেলেছে। যার মধ্যে ম্যাচ জিতেছে ৪৯টি, হেরেছে ৯২টিতে। ৩টিতে ফল হয়নি। ১৪৪ ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটি ম্যাচ খেলেছে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। ওই একটি ম্যাচে আবার বিন্দুমাত্র প্রতিরোধও গড়তে পারেনি। ম্যাচটি বাংলাদেশ ভুলে যেতেই চাইবে। ২০২১ বিশ্বকাপে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে বাংলাদেশ আগে ব্যাট করে মাত্র ১২৪ রান করেছিল। সহজ সেই লক্ষ্য ৩৫ বল হাতে রেখে মাত্র ২ উইকেট হারিয়েই ইংল্যান্ড ছুঁয়ে ফেলেছিল।

    আজ বেলা ৩টায় চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম খেলায় মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড।

    গত বছরের নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে পাকিস্তানকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে নেয় ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপ জয়ের চার মাসের ব্যবধানে এই প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে নামছেন ইংলিশরা।

    সমীকরণে বাংলাদেশের তুলনায় যোজন যোজন ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ইংল্যান্ড। ইংলিশরা টি-টোয়েন্টিতে এ পর্যন্ত ১৭০ ম্যাচে অংশ নিয়ে জয় পেয়েছে ৯২টিতে, হেরেছে ৭২টিতে।

    তবে গোল বলের খেলা ক্রিকেটে অনেক সময় সমীকরণ কাজে দেয় না। নির্দিষ্ট দিনে যারা ভালো খেলে তারই জয়ের হাসি নিয়ে মাঠ ছাড়ে। তা ছাড়া বাংলাদেশ নিজেদের ‘লাকি মাঠ’খ্যাত চট্টগ্রামের ভেন্যুতে খেলবে। ঘরের মাঠে খেলা হওয়ায় আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামবে সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বাধীন দলটি।

    এ কারণে স্কোয়াডেও চমক থাকবে। তামিম, মাহমুদউল্লাহ, মুশফিক কেউ খেলবেন না। তাদের জায়গায় তরুণ খেলোয়াড়রাই সাকিবের ভরসা। বিপিএলে যারা ভলো করেছে তাদের আজ সুযোগ দেওয়া হতে পারে।

    বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ: নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন কুমার দাস, আফিফ হোসেন, সাকিব আল হাসান, শামিম হোসেন, মেহেদি হাসান, নুরুল হাসান সোহান, তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ ও নাসুম আহমেদ।

    ইংল্যান্ড: জস বাটলার, ফিল সল্ট, ডেভিড মালান, উইল জ্যাকস, মঈন আলী, স্যাম করান, ক্রিস ওকস, রিহান আহমেদ, মার্ক উড ও জোফরা আর্চার।

  • নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইনে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল ইউক্রেনপন্থীরাই

    নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইনে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল ইউক্রেনপন্থীরাই

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলার মধ্যেই গত বছর সেপ্টেম্বরে একটি গ্যাস পাইপলাইনে বিস্ফোরণ ঘটেছিল – কিন্তু কে বা কারা এ ঘটনা ঘটায় তা এক রহস্য হয়েই ছিল এতদিন। এখন মার্কিন দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস এক রিপোর্টে বলছে – সম্ভবত ইউক্রেন-সমর্থক একটি গ্রুপ ওই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল।

    বাল্টিক সাগরের তলদেশ দিয়ে রাশিয়া থেকে জার্মানিতে গ্যাস নিয়ে যাবার পাইপলাইন নর্ড স্ট্রিম -ওয়ানের ওপর চালানো হয়েছিল ওই আক্রমণটি। সে সময় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল এ ঘটনা। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলার মধ্যেই গত বছর সেপ্টেম্বরে একটি গ্যাস পাইপলাইনে বিস্ফোরণ ঘটেছিল। কিন্তু কে বা কারা এ ঘটনা ঘটায় তা এক রহস্য হয়েই ছিল এতদিন।

    রাশিয়া, ইউক্রেন আর ইউরোপসহ পশ্চিমা বিশ্বের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের তোড়ের মধ্যেই ঠিক কারা এ আক্রমণ চালিয়ে থাকতে পারে, তা নিয়ে শুরু হয়েছিল ব্যাপক জল্পনা। সে সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন একে ‘সাবোটাজ’ বলে অভিহিত করেছিলেন। রাশিয়া এজন্য পশ্চিমা বিশ্বকে – বিশেষ করে ব্রিটেনকে – দোষারোপ করেছিল, তবে ব্রিটেন এ অভিযোগ অস্বীকার করে।

    পোল্যান্ড ও ইউক্রেন সরাসরি রাশিয়াকে ওই বিস্ফোরণের জন্য দায়ী করেছিল, যদিও তারা কোন প্রমাণ দেয়নি। অন্যদিকে নেটো ও পশ্চিমা নেতারা এর নিন্দা করলেও সরাসরি রাশিয়ার বিরুদ্ধে তাদের নিজেদের পাইপলাইনে আক্রমণের অভিযোগ করেন নি।

    এখন মার্কিন নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে এক রিপোর্টে মার্কিন দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, এই নাশকতামূলক আক্রমণ চালিয়েছিল একটি ইউক্রেন-পন্থী গোষ্ঠী। এ রিপোর্ট বেরুনোর পর ইউরোপ ও মার্কিন মিডিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির উপদেষ্টা এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ওই ঘটনার সাথে ইউক্রেনের কোন সম্পর্ক ছিল না।

    অন্যদিকে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এই রিপোর্টটিকে তার ভাষায় “ভুয়া-খবর ছড়ানোর একটি সমন্বিত প্রয়াস” বলে আখ্যায়িত করে বলেন, যারা এই পাইপলাইনে আক্রমণ চালিয়েছে তারা স্পষ্টতঃই দৃষ্টি অন্যদিকে সরাতে চাইছে।

  • প্রধানমন্ত্রী হাসিনার নেতৃত্বে পৃথিবীকে চমকে দিয়ে বাংলাদেশের নারী সমাজ: তথ্যমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী হাসিনার নেতৃত্বে পৃথিবীকে চমকে দিয়ে বাংলাদেশের নারী সমাজ: তথ্যমন্ত্রী

    তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত সারাদেশে নাশকতার ছক এঁকেছে। তাদের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

    বুধবার (৮ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবন চত্বরে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগ আয়োজিত ‘আঁধার ভাঙার শপথে আলোক প্রজ্জ্বলন’ কর্মসূচিতে তিনি এ কথা বলেন।  তথ্য মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    দেশে নারী উন্নয়ন নিয়ে সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পৃথিবীকে চমকে দিয়ে বাংলাদেশের নারী সমাজ উন্নতি লাভ করেছে। নারী সমাজ সর্বক্ষেত্রে তাদের মেধা, যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখছে। বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশের নারীরা রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের দিক দিয়ে বিশ্বে পঞ্চম, এশিয়া ওশেনিয়া অঞ্চলে  দ্বিতীয় আর উপমহাদেশে প্রথম। শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের কারণে এটি হয়েছে। আমাদের নারী পৃথিবীকে পথ দেখাচ্ছে। আমাদের নারীরা এভারেস্ট জয় করেছে, আমাদের নারীরা হিমালয় শৃঙ্গে উঠেছে, মহাসাগর পাড়ি দিচ্ছে।’

    দেশ ও নারী দিবসকে সামনে রেখে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মা-বোনসহ সবাইকে সতর্ক দৃষ্টি রাখার অনুরোধ জানাই, বিএনপি-জামায়াত সারাদেশে নাশকতা সৃষ্টি করার ছক এঁকেছে। তার আলামত শুরু হয়ে গেছে। তাদের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। নারীদের বলবো, আপনারা এগিয়ে যান, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যান। আপনাদের হাত ধরে দেশ এগিয়ে যাবে। আমাদের দেশ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছাবে।’

    তিনি বলেন, আজকে বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী নারী, বিরোধীদলীয় নেত্রী নারী, সংসদ নেতা নারী, সংসদ উপনেতা নারী, শিক্ষামন্ত্রী নারী। এভাবে নারীর যে ক্ষমতায়ন বাংলাদেশে হয়েছে, পৃথিবীর আর কোনও দেশে গত এক দশকে এভাবে হয়নি।

    ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজকে নারীরা সেনাবাহিনীতে শুধু অফিসার পদে নয়,  সেনা সদস্য হিসেবেও কাজ করছে, তারা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, ডিসি, এসপি যা ১৪ বছর আগে কেউ ভাবেনি’, বর্ণনা করেন তিনি।

    আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘নারী ফুটবল দল পাকিস্তানকে ১২ গোল দিয়েছে, সার্ক শিরোপা জয় করেছে। আমাদের নারী ক্রিকেট দল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, কিন্তু পুরুষ ক্রিকেট দল পারেনি। সাম্প্রতিক সময়ে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় নারীদের ফল ভালো। প্রধানমন্ত্রীর নারীবান্ধব নীতি প্রণয়ন ও নানামুখী কর্মসূচির কারণে এটি সম্ভব হয়েছে।’

    যুব মহিলা লীগ সভাপতি ডেইজি সারওয়ারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শারমিন সুলতানা লিলির সঞ্চালনায় সংগঠনের সদস্যরা মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের আগে দেশে নারী উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন।

     

  • গুলিস্তানে ভবন বিস্ফোরণ: উদ্ধার অভিযানের তৃতীয় দিন

    গুলিস্তানে ভবন বিস্ফোরণ: উদ্ধার অভিযানের তৃতীয় দিন

    রাজধানীর গুলিস্তানের সিদ্দিক বাজারে বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে তৃতীয় দিনের উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সা‌র্ভিসের ঢাকা জো‌নের উপপ‌রিচালক দিনম‌নি শর্মা।

    দিনমনি শর্মা বলেন, ‘সকাল আটটা থেকে আমাদের তৃতীয় দিনের উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। ভবনটা অ‌ত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকায় সতর্কতার সা‌থে আমরা উদ্ধারকাজ চা‌লি‌য়ে যা‌চ্ছি, যা‌তে আমা‌দের কর্মীদের কোনো বিপ‌দে পড়তে না হয়।’

    মঙ্গলবার বিকালের দিকে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ভবনের নিচতলায় একটি স্যানিটারি সামগ্রীর দোকান, অন্য তলায় ব্র্যাক ব্যাংকের অফিস এবং সংলগ্ন একটি সাততলা ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো ভবন ধসে পড়েনি।

    এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরীকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের উপ-অতিরিক্ত পরিচালক শাহজাহান শিকদার জানান, কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

    উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের ২০ সদস্যের একটি দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে বলে জানান তিনি।

    গুলিস্তানে মঙ্গলবার বিকেলের বিস্ফোরণে বুধবার পর্যন্ত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    উদ্ধার অভিযানের দ্বিতীয় দিনে ভবনটি থেকে আরও দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।

  • অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    সোমবার (৬ মার্চ) সন্ধ্যায় কাতারে আঞ্চলিক দূত সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার পাশাপাশি আপনাদের (কূটনীতিকদের) অর্থনৈতিক কূটনীতিকে শক্তিশালী করতে সক্রিয় হতে হবে।’ সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অবস্থানরত বাংলাদেশি কূটনীতিকরা যোগ দেন।

    অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদারে বাংলাদেশি কূটনীতিকদের আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাণিজ্য ও রফতানি বৃদ্ধির মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে দেশের স্নাতক বজায় রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

    শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্নাতক অর্জন করতে যাচ্ছে। এজন্য সেসব দেশের প্রতি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন, যেখানে বাংলাদেশ ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে এবং উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে লাভবান হতে পারে।

    তিনি বলেন, ‘আপনাদের চোখ খোলা রেখে সব দেশের সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতা করতে হবে। তাহলে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমরা টিকে থাকতে পারবো, আরও এগিয়ে যেতে এবং অবশেষে উন্নত দেশে উন্নীত হতে পারবো।’

    শেখ হাসিনা বলেন, একসময় কূটনীতি একটি রাজনৈতিক বিষয় ছিল। কিন্তু এখন এটি অর্থনৈতিক বিষয়, মানে অর্থনৈতিক কূটনীতি। তাই যারা বিভিন্ন দেশে কাজ করছেন তাদের সেই দেশগুলোকে চিহ্নিত করতে হবে, যেখানে আমরা বাণিজ্য ও ব্যবসা করতে পারি। একইসঙ্গে যেসব দেশে আমাদের পণ্য রফতানির সুযোগ রয়েছে এবং যে দেশগুলো থেকে আমরা কম এবং ন্যায্য দামে পণ্য আমদানি করতে পারি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ব্যবসা ও বাণিজ্য আরও বাড়াতে হবে, এটি অত্যন্ত  প্রয়োজনীয়।

    তিনি বলেন, যেসব দেশে আমাদের পণ্যের চাহিদা আছে এবং যেখানে বিপণনের সুযোগ আছে সেসব দেশকে চিহ্নিত করুন। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে বাংলাদেশের নীতির উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হচ্ছে ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’। অন্তত আমি দাবি করতে পারি, বাংলাদেশ সঠিকভাবে এই নীতি অনুসরণ করছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখবে। কিন্তু যখন কোনও অন্যায় দেখা যাবে, তখন বাংলাদেশ অবশ্যই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার কথা বলবে, যা মিয়ানমারকে বলা হচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, ‘যখন মিয়ানমারে (রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুত করা) ঘটনাটি ঘটেছিল, তখন আমরা মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছিলাম। কিন্তু আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে সংঘাতে জড়াইনি। রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।’

    সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সি উপস্থিত ছিলেন।

    জাতিসংঘের পঞ্চম স্বল্পোন্নত দেশগুলোর সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী এখন কাতার সফরে রয়েছেন। কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের আমন্ত্রণে তিনি গত শনিবার কাতারে পৌঁছান। বুধবার (৮ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। সূত্র: বাসস।

  • গুলিস্তানে বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ১৪, আহত ৭০

    গুলিস্তানে বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ১৪, আহত ৭০

    রাজধানীর গুলিস্তান বিআরটিসি বাস স্ট্যান্ড কাউন্টারের পাশে আলু বাজারে একটি ভবনে বিস্ফোরণের ঘটনায় ১৪ জন নিহত হয়েছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে তাদের মরদেহ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৭৭ জন। নিহতদের মধ্যে কয়েকজন নারীও রয়েছেন বলে জানা গেছে।

    ঘটনাস্থলে আছেন ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপা. ও মেইনট্যান্স) লে. কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে দুর্ঘটনার সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ৪টা ৫৭ মিনিটে। ফায়ার সার্ভিসের ৭ ইউনিট কাজ করছে।

    মঙ্গলবার বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এরপর হতাহতদের দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে নেয়া আহতদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।

    গুলিস্তানে বিস্ফোরণের ঘটনায় সদরঘাট থেকে সাভারগামী একটি বাস চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে গেছে। ঘটনাস্থলে থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শী এ তথ্য জানিয়েছেন।

    তিনি বলেন, বাসটি সদরঘাট থেকে সাভার যাচ্ছিল। এটি বিস্ফোরণের সময় ওই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল। বাসটির নাম সাভার পরিবহন। এর নম্বর ঢাকা মেট্রো গ ১৫-৪৩২৮। বাসটিতে ৪০-৫০ জন যাত্রী ছিলেন। ভেতরে প্রায় সবাই আহত হয়েছেন।

  • আজ ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ

    আজ ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ

    ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ এসেছিল এক ধারাবাহিক রাজনৈতিক আন্দোলনের পটভূমিতে। বঙ্গবন্ধু বজ্রকণ্ঠে সেদিন বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ প্রায় ১৮ মিনিটের এ ভাষণ নিরস্ত্র বাঙালি জাতিকে মুক্তির মহান মন্ত্রে উজ্জীবিত করেছিল। বঙ্গবন্ধুর ডাকে বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রাম জনযুদ্ধে রূপ নেয়।  তিনি উক্ত ভাষণ বিকেল ২টা ৪৫ মিনিটে শুরু করে বিকেল ৩টা ৩ মিনিটে শেষ করেন। উক্ত ভাষণ ১৮ মিনিট স্থায়ী হয়। এই ভাষণে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমানে বাংলাদেশ) বাঙালিদেরকে স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান। এই ভাষণের একটি লিখিত ভাষ্য অচিরেই বিতরণ করা হয়েছিল।

    এক ধারাবাহিক রাজনৈতিক আন্দোলনের একপর্যায়ে মার্চের প্রথম দিন থেকেই উত্তাল হয়ে উঠেছিল ঢাকার রাজপথ। এর মধ্যে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা উড়ানো হয়েছে। পাঠ করা হয়েছে স্বাধীনতার ইশতেহার এবং নির্বাচন করা হয়েছে জাতীয় সঙ্গীত। কিন্তু স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার প্রশ্নে বা আন্দোলনের ব্যাপারে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত কবে দেবেন, সেজন্যই ছিল মানুষের অধীর অপেক্ষা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক এ ভাষণ বাঙালির স্বাধীনতা-মুক্তি ও জাতীয়তাবোধ জাগরণের মহাকাব্য, বাঙালি তথা বিশ্বের সকল লাঞ্ছিত-বঞ্চিত ও নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের মুক্তির সনদ। এ ভাষণ বাঙালির পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার চূড়ান্ত প্রেরণা। এটি বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণিক দলিল এবং বিশ্বে সর্বাধিকবার প্রচারিত ও শ্রবণকৃত অলিখিত ভাষণ।

    আওয়ামী লীগের প্র্রেসিডিয়াম সদস্য তোফায়েল আহমেদ শেখ মুজিবের ঘনিষ্ট ছিলেন। বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মি. আহমেদ বলছিলেন, আন্দোলন এবং মানুষের আকাঙ্খা বিবেচনায় নিয়েই শেখ মুজিব ৩রা মার্চ পল্টনে ছাত্র সমাবেশে ৭ই মার্চ ভাষণ দেয়ার ঘোষণা করেছিলেন। একদিকে আন্দোলনের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়ার ব্যাপারে চাপ ছিল। সরাসরি স্বাধীনতার ঘোষণার দাবিতে ছাত্র নেতাদের একটা অংশ চাপ তৈরি করছিল। অন্যদিকে আলোচনার পথ খোলা রাখা হয়েছিল। ফলে শেখ মুজিব ছাত্র নেতা থেকে শুরু করে জাতীয় নেতা পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলেন। ৬ই মার্চ রাতে সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং তাজউদ্দিন আহমেদসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ কয়েকজন নেতার সাথে আলোচনা করেছিলেন।

    সারাদেশ একটা প্রতিবাদমুখর অবস্থায় চলে গেল। বঙ্গবন্ধু বাঙালির জাতির অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে বাঙালি চরম বিপদের মুহূর্তে ত্রাণ কর্তার ভ‚মিকায় অবতীর্ণ হলেন। তিনি অসহযোগ-এর ডাক দিলেন। পাকিস্তানি সামরিক জান্তা আন্দোলন মোকাবিলায় বল প্রয়োগ শুরু করেন। তারা নিরীহ বাঙালির ওপর অমানবিক ও নিষ্ঠুর অত্যাচার চালায়।

    তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, “সামরিক শাসন তুলে নেয়া এবং সৈন্যদের ব্যারাকে ফেরত নেয়াসহ পশ্চিম পাকিস্তানের প্রতি চারটি শর্তের ব্যাপারেই শুধু বঙ্গবন্ধু তাঁর সহকর্মীদের সাথে আলোচনা করেছিলেন। “ভাষণ দিতে বাসা থেকে বেরোনোর সময় শেখ মুজিবকে তাঁর স্ত্রী শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব বলেছিলেন – তুমি যা বিশ্বাস করো, তাই বলবে। ৭ই মার্চের সেই ভাষণ তিনি নিজের চিন্তা থেকেই দিয়েছিলেন। ভাষণটি লিখিত ছিলো না।”

    ৭ই মার্চ সকাল থেকেই ঢাকায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে ছিল আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা এবং ছাত্র নেতাদের ভিড়। দুপুর দু‌’টার দিকে আব্দুর রাজ্জাক এবং তোফায়েল আহমেদসহ তরুণ নেতাকমীদের সাথে নিয়ে শেখ মুজিব তাঁর বাড়ি থেকে রওনা হয়েছিলেন জনসভার উদ্দেশ্যে। এদিকে সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকা পরিণত হয়েছিল মিছিলের নগরীতে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সে সময় রেসকোর্স ময়দান নামে পরিচিত ছিল। সেই রেসকোর্স ময়দানে লাখ লাখ মানুষের অপেক্ষার পালা শেষ করে সাদা পায়জামা পাঞ্জাবী এবং হাতাকাটা কালো কোট পড়ে শেখ মুজিব উপস্থিত হয়েছিলেন।

    সে ভাষণে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাঙালি জাতি ছিনিয়ে এনেছিল বহু আকাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। পরাধীন জাতিকে মুক্তির পথ দেখিয়েছে সেই জ্বালাময়ী বক্তৃতা। বঙ্গবন্ধুর মতো এমন আবেদনময় ও সুনিপুণ দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। সব বয়সী মানুষকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করেছিল ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ।

    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণকে ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেস্কো। এ ভাষণকে স্বীকৃতি দিয়ে ‘মেমরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে’ (এমওডাব্লিউ) তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এমওডব্লিউ-তে এটাই প্রথম কোনো বাংলাদেশি দলিল, যা আনুষ্ঠানিক ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত হবে। যা ১২টি ভাষায় ভাষণটি অনুবাদ করা হয়। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রমনায় অবস্থিত রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) দেওয়া বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক ভাষণটি কালের কণ্ঠের পাঠকদের জন্য হুবহু প্রকাশ করা হলো :

    ভাইয়েরা আমার; আজ দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আপনারা সবই জানেন এবং বুঝেন। আমরা আমাদের জীবন দিয়ে চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আজ ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুরে আমার ভাইয়ের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে।

    আজ বাংলার মানুষ মুক্তি চায়, বাংলার মানুষ বাঁচতে চায়, বাংলার মানুষ তার অধিকার চায়। কি অন্যায় করেছিলাম, নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ সম্পূর্ণভাবে আমাকে আওয়ামী লীগকে ভোট দেন। আমাদের ন্যাশনাল এসেম্বলী বসবে, আমরা সেখানে শাসনতন্ত্র তৈয়ার করবো এবং এই দেশকে আমরা গড়ে তুলবো, এদেশের মানুষ অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তি পাবে।

    কিন্তু দুঃখের বিষয়, আজ দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, তেইশ বৎসরের করুণ ইতিহাস বাংলার অত্যাচারের, বাংলার মানুষের রক্তের ইতিহাস। তেইশ বৎসরের ইতিহাস মুমূর্ষু নরনারীর আর্তনাদের ইতিহাস; বাঙলার ইতিহাস এদেশের মানুষের রক্ত দিয়ে রাজপথ রঞ্জিত করার ইতিহাস। ১৯৫২ সালে রক্ত দিয়েছি। ১৯৫৪ সালে নির্বাচনে জয়লাভ করেও আমরা গদিতে বসতে পারি নাই। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান মার্শাল ল’ জারি করে দশ বৎসর পর্যন্ত আমাদের গোলাম করে রেখেছে। ১৯৬৬ সালে ছয়দফা আন্দোলনে ৭ই জুনে আমার ছেলেদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ১৯৬৯-এর আন্দোলনে আইয়ুব খানের পতন হওয়ার পর যখন ইয়াহিয়া খান সাহেব সরকার নিলেন, তিনি বললেন, দেশে শাসনতন্ত্র দেবেন, গণতন্ত্র দেবেন। আমরা মেনে নিলাম।

    তারপরে অনেক ইতিহাস হয়ে গেল, নির্বাচন হলো। আমি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান সাহেবের সঙ্গে দেখা করেছি। আমি, শুধু বাংলার নয়, পাকিস্তানের মেজরিটি পার্টির নেতা হিসাবে তাকে অনুরোধ করলাম, ১৫ই ফেব্রুয়ারি তারিখে আপনি জাতীয় পরিষদের অধিবেশন দেন। তিনি আমার কথা রাখলেন না, তিনি রাখলেন ভুট্টো সাহেবের কথা। তিনি বললেন, প্রথম সপ্তাহে মার্চ মাসে হবে। আমরা বললাম, ঠিক আছে, আমরা এসেম্বলীতে বসবো। আমি বললাম, এসেম্বলীর মধ্যে আলোচনা করবো; এমনকি আমি এ পর্যন্ত বললাম, যদি কেউ ন্যায্য কথা বলে, আমরা সংখ্যায় বেশি হলেও, একজনও যদি সে হয়, তার ন্যায্য কথা আমরা মেনে নেব।

    জনাব ভুট্টো সাহেব এখানে এসেছিলেন, আলোচনা করলেন। বলে গেলেন যে, আলোচনার দরজা বন্ধ না, আরও আলোচনা হবে। তারপর অন্যান্য নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপ করলাম, আপনারা আসুন বসুন, আমরা আলাপ করে শাসনতন্ত্র তৈয়ার করি। তিনি বললেন, পশ্চিম পাকিস্তানের মেম্বাররা যদি এখানে আসেন, তাহলে কসাইখানা হবে এসেম্বলী। তিনি বললেন, যে যাবে তাকে মেরে ফেলে দেওয়া হবে। যদি কেউ এসেম্বলীতে আসে তাহলে পেশোয়ার থেকে করাচী পর্যন্ত দোকান জোর করে বন্ধ করা হবে। আমি বললাম, এসেম্বলী চলবে। তারপর হঠাৎ ১ তারিখে এসেম্বলী বন্ধ করে দেওয়া হলো।

    ইয়াহিয়া খান সাহেব প্রেসিডেন্ট হিসাবে এসেম্বলী ডেকেছিলেন। আমি বললাম যে, আমি যাবো। ভুট্টো সাহেব বললেন, তিনি যাবেন না। ৩৫ জন সদস্য পশ্চিম পাকিস্তান থেকে এখানে আসলেন। তারপরে হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হলো। দোষ দেওয়া হলো বাংলার মানুষকে, দোষ দেওয়া হলো আমাকে। বন্দুকের মুখে মানুষ প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠল।

    আমি বললাম, শান্তিপূর্ণভাবে আপনারা হরতাল পালন করেন। আমি বললাম, আপনারা কলকারখানা সব কিছু বন্ধ করে দেন। জনগণ সাড়া দিল। আপন ইচ্ছায় জনগণ রাস্তায় বেরিয়ে পড়ল। তারা শান্তিপূর্ণভাবে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলো।

    কি পেলাম আমরা? যে আমার পয়সা দিয়ে অস্ত্র কিনেছি বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য, আজ সেই অস্ত্র ব্যবহার হচ্ছে আমার দেশের গরীব-দুঃখী আর্ত মানুষের বিরুদ্ধে, তার বুকের উপর হচ্ছে গুলী। আমরা পাকিস্তানের সংখ্যাগুরু। আমরা বাঙালিরা যখনই ক্ষমতায় যাবার চেষ্টা করেছি, তখনই তারা আমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। টেলিফোনে আমার সঙ্গে তার কথা হয়। তাকে আমি বলেছিলাম, জনাব ইয়াহিয়া খান সাহেব, আপনি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট, দেখে যান কিভাবে আমার গরীবের উপরে, আমার বাংলার মানুষের উপরে গুলী করা হয়েছে, কি করে আমার মায়ের কোল খালি করা হয়েছে। আপনি আসুন, দেখুন, বিচার করুন। তিনি বললেন, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি ১০ই তারিখে রাউন্ড টেবিল কনফারেন্স ডাকব।

    আমি বলেছি, কিসের বৈঠক বসবে, কার সঙ্গে বসবো? যারা আমার মানুষের বুকের রক্ত নিয়েছে তাদের সঙ্গে বসবো? হঠাৎ আমার সঙ্গে পরামর্শ না করে পাঁচ ঘণ্টা গোপনে বৈঠক করে যে বক্তৃতা তিনি করেছেন, সমস্ত দোষ তিনি আমার উপরে দিয়েছেন, বাংলার মানুষের উপর দিয়েছেন।

    ভাইয়েরা আমার, ২৫ তারিখে এসেম্বলী কল করেছে। রক্তের দাগ শুকায় নাই। আমি ১০ তারিখে বলে দিয়েছি যে, ওই শহীদের রক্তের উপর পা দিয়ে কিছুতেই মুজিবুর রহমান যোগদান করতে পারে না। এসেম্বলী কল করেছে। আমার দাবি মানতে হবে: প্রথম, সামরিক আইন মার্শাল ল’ উইথ্ড্র করতে হবে, সমস্ত সামরিক বাহিনীর লোকদের ব্যারাকে ফেরত নিতে হবে, যেভাবে হত্যা করা হয়েছে তার তদন্ত করতে হবে, আর জনগণের প্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। তারপর বিবেচনা করে দেখবো, আমরা এসেম্বলীতে বসতে পারবো কি পারবো না। এর পূর্বে এসেম্বলীতে বসতে আমরা পারি না।

    আমি, আমি প্রধানমন্ত্রিত্ব চাই না। আমরা এদেশের মানুষের অধিকার চাই। আমি পরিষ্কার অক্ষরে বলে দিবার চাই যে, আজ থেকে এই বাংলাদেশে কোর্ট-কাচারি, আদালত-ফৌজদারি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। গরীবের যাতে কষ্ট না হয়, যাতে আমার মানুষ কষ্ট না করে, সে জন্য সমস্ত অন্যান্য জিনিসগুলো আছে সেগুলির হরতাল কাল থেকে চলবে না। রিকশা, গরুর গাড়ি চলবে, রেল চলবে, লঞ্চ চলবে; শুধু সেক্রেটারিয়েট, সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট, জজকোর্ট, সেমিগভর্ণমেণ্ট দপ্তরগুলো, ওয়াপদা কোন কিছু চলবে না।

    ২৮ তারিখে কর্মচারীরা বেতন নিয়ে আসবেন। এর পরে যদি বেতন দেওয়া না হয়, আর যদি একটা গুলি চলে, আর যদি আমার লোকদের হত্যা করা হয়, তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ রইল,- প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে, এবং জীবনের তরে রাস্তাঘাট যা যা আছে সব কিছু, আমি যদি হুকুম দিবার নাও পারি, তোমরা বন্ধ করে দেবে। আমরা ভাতে মারবো, আমরা পানিতে মারবো। তোমরা আমার ভাই, তোমরা ব্যারাকে থাকো, কেউ তোমাদের কিছু বলবে না। কিন্তু আর আমার বুকের উপর গুলী চালাবার চেষ্টা করো না। সাত কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না। আমরা যখন মরতে শিখেছি, তখন কেউ আমাদের দমাতে পারবে না।

    আর যে সমস্ত লোক শহীদ হয়েছে, আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে, আমরা আওয়ামী লীগের থেকে যদ্দুর পারি তাদের সাহায্য করতে চেষ্টা করবো। যারা পারেন আমার রিলিফ কমিটিতে সামান্য টাকা পয়সা পৌঁছিয়ে দেবেন। আর এই সাতদিন হরতালে যে সমস্ত শ্রমিক ভাইরা যোগদান করেছেন, প্রত্যেকটা শিল্পের মালিক তাদের বেতন পৌঁছায়ে দেবেন। সরকারি কর্মচারীদের বলি, আমি যা বলি তা মানতে হবে। যে পর্যন্ত আমার এই দেশের মুক্তি না হবে খাজনা-ট্যাক্স বন্ধ করে দেওয়া হলো, কেউ দেবে না।

    মনে রাখবেন, শত্রুবাহিনী ঢুকেছে, নিজেদের মধ্যে আত্মকলহ সৃষ্টি করবে, লুটপাট করবে। এই বাংলায় হিন্দু মুসলমান বাঙালি অবাঙালি যারা আছে তারা আমাদের ভাই। তাদের রক্ষার দায়িত্ব আপনাদের উপরে। আমাদের যেন বদনাম না হয়। মনে রাখবেন রেডিও টেলিভিশনের কর্মচারীরা, যদি রেডিওতে আমাদের কথা না শোনেন, তাহলে কোন বাঙালি রেডিও স্টেশনে যাবেন না। যদি টেলিভিশন আমাদের নিউজ না দেয়, কোন বাঙালি টেলিভিশনে যাবেন না। দুই ঘণ্টা ব্যাংক খোলা থাকবে যাতে মানুষ তাদের মায়নাপত্র নিবার পারে।

    কিন্তু পূর্ববাংলা থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে এক পয়সাও চালান হতে পারবে না। টেলিফোন টেলিগ্রাম আমাদের এই পূর্ববাংলায় চলবে এবং বিদেশের সঙ্গে নিউজ পাঠাতে চালাবেন। কিন্তু যদি এদেশের মানুষকে খতম করার চেষ্টা করা হয়, বাঙালিরা বুঝে শুনে কাজ করবেন। প্রত্যেক গ্রামে, প্রত্যেক মহল্লায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোল এবং তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্ত্তত থাকো। মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দিব। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ্। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা। জয় বাংলা।

     

  • বিচ্ছিন্ন ঘটনা নিয়ে বিএনপি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা খোজে: তথ্যমন্ত্রী

    বিচ্ছিন্ন ঘটনা নিয়ে বিএনপি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা খোজে: তথ্যমন্ত্রী

    তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘বিএনপি এবং তাদের মিত্ররা পুরো দেশে নানাভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরির পাঁয়তারার মধ্যে আছে। সাম্প্রদায়িক যে উগ্র গোষ্ঠীকে নিয়ে বিএনপি রাজনীতি করে, তারা নানা ধরণের ঘটনা ঘটানো চেষ্টা করে। পঞ্চগড়ের ঘটনাও বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়।’

    সচিবালয়ে সাংবাদিকদের দুপুরে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, ‘দেশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে তো বিএনপি। পঞ্চগড়ে যে ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে তাদের বেশির ভাগই ছিল বিএনপির সমর্থক। সেখানে যারা কাদিয়ানিদের জলসাতে হামলা চালিয়েছে তারা কারা সেটা তো পুলিশের খাতায় আছে। তারাই সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে, হামলা চালিয়েছে এবং সে হামলায় দু’জন মৃত্যুবরণ করেছে। মির্জা ফখরুল সাহেব নিজেদের দায়টা এড়ানোর জন্য দুইদিন পরে রোববার বক্তব্য রেখেছেন। আসলে এ ঘটনার জন্য বিএনপি-জামাতের সমর্থকরাই মূলত দায়ী।’

    সীতাকুন্ড, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গোলযোগ, ঢাকার সায়েন্সল্যাবে বিস্ফোরণের ঘটনায় বিএনপি মহাসচিব সরকারকে দায়ী করেছেন। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে আমাদের সরকার। তাদের চিকিৎসা, খাদ্য, শিক্ষা সবকিছুই আমাদের সরকার ব্যবস্থা করছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ঘটনাটি তদন্তাধিন, এটি নাশকতা কি না এবং এটি সার্বিকভাবে দেশের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টার অংশ কি না সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    তিনি বলেন, ‘সায়েন্সল্যাব এবং সীতাকুন্ডের ঘটনাগুলো দুর্ঘটনা। মির্জা ফখরুল সাহেবের বক্তব্যে মনে হচ্ছে- কারো চুলায় আগুন লাগল আর ক’দিন পরে বলল যে এ জন্য সরকার দায়ি। বিষয়টা তো তা নয়, এটা দুর্ঘটনা। তবে এই দুর্ঘটনা অবশ্যই অনভিপ্রেত, দু:খজনক। এই দুর্ঘটনার জন্য যারা দায়ি তাদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বদ্ধপরিকর।’