Tag: ফিলিস্তিন

  • আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে ও স্পেন ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে

    আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে ও স্পেন ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে

    www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ১৩ এপ্রিল, ২০২৪: স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ আগেই জানিয়েছিলেন ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা । এবার স্পেনের সঙ্গে একই মত ব্যক্ত করেছেন আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সিমোন হ্যারিস এবং নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোর।

    নরওয়ের রাজধানী অসলোতে শুক্রবার অনু্ষ্ঠিত এক বৈঠকে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই তিন ইউরোপীয় দেশের নেতারা।

    বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে স্পেন ও নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জানান, মাদ্রিদ ও অসলো ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে আগ্রহী প্রস্তুত। আমরা আজকের বৈঠকে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছেছি এবং এ বিষয়ে এক সঙ্গে এগোনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে নরওয়ের সম্পৃক্ততা আরও আগের। ১৯৯০ সালে নরওয়ে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি আলোচনার আয়োজন করেছিল যা পরবর্তীতে আসলো অ্যাকর্ডে রূপ নেয়। খবর আল জাজিরা অপর দিকে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সিমোন হ্যারিস বলেন, ফিলিস্তিনের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের জন্য একটি রাষ্ট্র এবং সার্বভৌমত্বের দাবি জানিয়ে আসছেন। বিশ্বের প্রতিটি স্বাধীন জাতি যে সম্মান-মর্যাদা ভোগ করছে, ফিলিস্তিনের জনগণের জন্যও তা প্রাপ্য। ডাবলিন ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়ে চায় এবং সেই সঙ্গে আশা করে, ইউরোপের অন্যান্য রাষ্ট্রগুলোও এই পথ অনুসরণ করবে।

    গত মাসে স্পেন এবং আয়ারল্যান্ড, মাল্টা ও স্লোভেনিয়াকে সঙ্গে নিয়ে ঘোষণা দিয়েছিল তারা ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার ব্যাপারে এক সঙ্গে কাজ করতে চায়। তারা জানিয়েছিল এই স্বীকৃতি দেওয়ার ব্যাপারে তারা প্রস্তুত তবে কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করেননি পরিস্থিতি অনুকূলে আসলেই তা করা হবে।

    বিদত ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে গাজায় চলছে ইসরায়েলি হামলা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এর যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে আসছে। এখন ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে প্রস্তত এই তিন দেশ।

  • মোহাম্মদ মুস্তফা ফিলিস্তিনের নতুন প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন

    মোহাম্মদ মুস্তফা ফিলিস্তিনের নতুন প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন

    www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ১৫ মার্চ, ২০২৪: ফিলিস্তিনের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মোহাম্মদ মুস্তফা। তিনি এর আগে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মার্কিন চাপের মুখে নতুন এ প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হলো।

    মুস্তফা যুক্তরাষ্ট্র থেকে পড়াশোনা করা একজন অর্থনীতিবিদ এবং স্বাধীন রাজনীতিবিদ। তার সামনে এখন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের জন্য নতুন সরকার গঠনের কাজ। ইসরায়েল-অধিকৃত পশ্চিম তীরের কিছু অংশে এ কর্তৃপক্ষের সীমিত ক্ষমতা রয়েছে।

    বৃহস্পতিবার নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের ঘোষণা দিয়ে এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট আব্বাস অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজায় প্রশাসন পুনরায় একত্রিত করার পাশাপাশি সরকার, নিরাপত্তা পরিষেবা এবং অর্থনীতিতে সংস্কারের নেতৃত্ব দিতে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করার পরিকল্পনা করতে বলেন মুস্তফাকে।

    মুস্তফার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ এশতায়েহর স্থলাভিষিক্ত হলেন। এশতায়েহর সরকার গেল ফেব্রুয়ারিতে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে সহিংসতা বেড়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে ক্ষমতা ছাড়ে।

    আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষে রয়েছে ফাতাহ পার্টির আধিপত্য। অধিকৃত পশ্চিম তীরে তাদের ক্ষমতা সীমিত। ২০০৭ সালে ফাতাহ পার্টি হামাসের কাছে গাজার নিয়ন্ত্রণ হারায়।

    ৬৯ বছর বয়সী মুস্তফা বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ পদে রয়েছেন। এর  আগে তিনি উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালে আব্বাস তাকে প্যালেস্টাইন ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (পিআইএফ) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেন।

    মুস্তফা এমন এক সময় নিয়োগ পেলেন যখন গাজায় চলছে ইসরায়েলি আগ্রাসন।

  • স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য ফিলিস্তিনিদের এক হওয়ার আহ্বান ল্যাভরভের

    স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য ফিলিস্তিনিদের এক হওয়ার আহ্বান ল্যাভরভের

    www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ২ মার্চ, ২০২৪: গত ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় চলমান ইসরায়েলি হামলায়  নিহত হয়েছেন ৩০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি এবং আহত হয়েছেন ৭০ হাজারেরও বেশি। এই যুদ্ধ সারা বিশ্বের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে নিজেদের মধ্যকার যাবতীয় বিভেদ ভুলে সব ফিলিস্তিনিকে এক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। শুক্রবার মস্কোতে ফিলিস্তিনের সব দলের একটি রাজনৈতিক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের সময় এ আহ্বান জানান তিনি।

    রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেন, “সন্দেহাতীত ভাবেই এই ঐক্যের প্রধান উদ্দেশ্য হবে গাজায় রক্তপাত বন্ধ করা। বর্তমানে সেখানে যুদ্ধ-সহিংসতা আমরা দেখতে পাচ্ছি, হয়তো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চেষ্টায় কিছুদিনের জন্য তা বন্ধ থাকবে, তারপর আবার ঘটবে এবং বার বার ঘটবে। এই সংঘাত পুরোপুরি বন্ধ হতে পারে কেবলমাত্র স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।’ তিনি বলেন, ‘ কোনো ঘরে যদি একাধিক মতের লোকজন সারাক্ষণ নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বে লিপ্ত থাকে, তাহলে সেই ঘর বা পরিবার কখনও উন্নতি করতে পারে না। দুঃখজনক হলেও সত্য যে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনে সবচেয়ে বড় বাধা এটি।”

    ১৯৪৭ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইস্যুতে আলোচনা শুরু হয়। ১৯৫৩ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর তা আরও জোরালো রূপ নেয়। ১৯৫৭ সালে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্যোগে মধ্যপ্রাচ্যের আল আকসা অঞ্চলে দুই পৃথক রাষ্ট্রের ভৌগলিক সীমানাও নির্দিষ্ট করা হয়। কিন্তু তারপর থেকে এ ইস্যুতে গঠনমূলক আর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।”

    গত কয়েক দশকে ফিলিস্তিনের বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি ও গোষ্ঠীগুলো অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও বৈরীতায় জড়িয়ে পড়ে। সেখানকার একটি পক্ষ দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে এবং অপরপক্ষ ইসরায়েল রাষ্ট্র নির্মূলের পক্ষে অবস্থান নেয়। ফিলিস্তিনে কার্যত দু’টি সরকার ব্যবস্থা ক্রিয়াশীল রয়েছে। পশ্চিম তীরে রয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (ফিলিস্তিনি অথরিটি-পিএ) বা ফাতাহের অধীনে, আর গাজা নিয়ন্ত্রণ করছে হামাস। স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলনরত ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর জোটের নাম প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও) আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জোট।

    শুক্রবারের আলোচনায় ল্যাভরভ বলেন, “ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে একদিকে সেখানকার সাধারণ জনগণের স্বার্থ, লক্ষ্য এমনকি ভাগ্যও অনিশ্চয়তার সুতোয় ঝুলছে। এই দ্বন্দ্বের ফায়দা নিচ্ছে সুযোগ সন্ধানী পক্ষ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যখন স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ব্যাপারটি আলোচনায় নিয়ে আসতে চায়, সে সময় সুযোগ সন্ধানী পক্ষ বলছে যে ফিলিস্তিনের সত্যিকার প্রতিনিধি কেউ নেই।’ তিনি বলেন, ‘স্বাধীন ফিলিস্তিন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে আপনারা যদি পিএলওর ব্যানারে সবাই ঐক্যবদ্ধ হন, তাহলে সুযোগ সন্ধানী পক্ষ আর টালবাহানা করতে পারবে না। আমি আশা করব, আপনারা এ ব্যাপারটিকে গুরুত্ব দেবেন। এক্ষেত্রে আপনাদের সব রকমের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রাশিয়া।”

    এদিকে হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধের অন্যতম মধ্যস্থতাকারী দেশ মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামেহ শুকরি শুক্রবার জানিয়েছে রমজানের আগে গাজায় যুদ্ধবিরতি হতে পারে। এই যুদ্ধের শুরু থেকেই হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে মধ্যস্থতার ভূমিকায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, মিশর ও কাতার।

  • ফিলিস্তিনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রধান বাধা ইসরায়েলের দখলদারিত্ব

    ফিলিস্তিনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রধান বাধা ইসরায়েলের দখলদারিত্ব

    www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারি নিয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) ছয় দিনের শুনানি শেষ হয়েছে।  শুনানিতে অংশ নিয়ে তুরস্ক ও কয়েকটি সংগঠন জানিয়েছে, ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব ওই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হয়ে রয়েছে। এই দখলদারিত্বকে অবৈধ ঘোষণা করতে হবে। স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য দুই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার নীতিতে এগিয়ে নিতে হবে। আর গাজায় ইসরায়েল যে আগ্রাসন চালাচ্ছে, তা আরেকটি মহাবিপর্যয় সৃষ্টির লজ্জাজনক অপচেষ্টা।

    গতকাল সোমবার ছিল এই শুনানির ষষ্ঠ ও শেষ দিন। এরপর এ বিষয়ে আইসিজে তার মতামত ও নির্দেশনা দেওয়ার কথা। এ জন্য ছয় মাসের মতো সময় লাগতে পারে। তুরস্ক ছাড়াও সোমবার শুনানিতে অংশ নেন ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি), আরব লিগ, আফ্রিকান ইউনিয়ন (এইউ), জাম্বিয়া, মালদ্বীপ, স্পেন ও ফিজির প্রতিনিধিরা। তিন সংস্থার প্রতিনিধিরা আদালতকে বলেন, ইসরায়েলের এ দখলদারিত্বকে অবৈধ ঘোষণা এবং ইসরায়েলের দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ছেড়ে যাওয়ার বিষয়ে আইসিজের রুল জারি করা উচিত।

    নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে অবস্থিত আইসিজেতে তুরস্কের প্রতিনিধি উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমত ইলদিজ বিচারকদের উদ্দেশে বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মূল কারণ ইসরায়েলের এই দখলদারিত্ব। তিনি বলেন, ইসরায়েলি দখলদারির অবসান না হওয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আসবে না। এই দখলদারিত্ব অবৈধ ঘোষণা করতে বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।”

    ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল করে রেখে ইসরায়েল কীভাবে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে, তার আইনি দিকগুলো তুলে ধরেন ওআইসি, আরব লিগ ও আফ্রিকান ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে ইসরায়েলি দখলদারি কেন অবৈধ ও এতে ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার কীভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে, সে বিষয়ে যুক্তি দেন তারা। তিন সংস্থার প্রতিনিধিরা আদালতকে বলেন, ইসরায়েলের এ দখলদারিত্বকে অবৈধ ঘোষণা এবং ইসরায়েলের দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ছেড়ে যাওয়ার বিষয়ে আইসিজের রুল জারি করা উচিত। শুনানিতে আরব দেশগুলোর জোট আরব লিগের মহাসচিব আহমদ আবৌল ঘেইতির বিবৃতি আদালতকে পড়ে শোনান সংস্থাটির একজন প্রতিনিধি। বিবৃতিতে আরব লিগের মহাসচিব ইসরায়েলের দখলদারি আন্তর্জাতিক বিচারের প্রতি অবমাননা বলে বর্ণনা করেন। ইসরায়েলি দখলদারিকে অবৈধ ঘোষণা ও এর আইনি পরিণতি সম্পর্কে দ্ব্যর্থহীনভাবে রুল জারি করতে আদালতের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

    ওআইসির মহাসচিব হিসেন ব্রাহিম তাহা দখলদার ইসরায়েলকে অস্ত্র দেওয়া বন্ধে সব দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এসব অস্ত্রই ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী ও অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা।”

    গাজায় চলমান ইসরায়েলি হত্যাযজ্ঞেরও নিন্দা জানান ওআইসির মহাসচিব। আইসিজের ছয় দিনের শুনানিতে বেশির ভাগ দেশ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারিত্বের অবসানের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই যে ফিলিস্তিনিদের দুর্দশা লাঘবের অন্যতম উপায়, সে বিষয়ে যুক্তি তুলে ধরেছেন দেশগুলোর প্রতিনিধিরা।

    শুনানিতে আফ্রিকান ইউনিয়নের প্রতিনিধি মোহামেদ হেলাল বলেন, “অতীতের মতো আবারও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারির অবসান চায় আফ্রিকান ইউনিয়ন।”

    একই সঙ্গে আইসিজের প্রতি ইসরায়েলি দখলদারিকে অবৈধ ঘোষণা করার দাবি জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, “এই শুনানির পর শেষ পর্যন্ত আদালত কী নির্দেশনা দেন, তা ইতিহাসে থেকে যাবে।”

    আফ্রিকান ইউনিয়নের আরেক প্রতিনিধি হাজের গুলেদিচ বলেন, “ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের নির্বিচার হামলা আরেকটি ‘নাকবা’ (মহাবিপর্যয়) সৃষ্টির লজ্জাজনক অপচেষ্টা। ফিলিস্তিনিদের ওপর যেভাবে জুলুম ও অত্যাচার চলছে, কোনো কিছু দিয়েই তার বৈধতা দেওয়া যায় না।”

    আইসিজের ছয় দিনের শুনানিতে বেশির ভাগ দেশ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারিত্বের অবসানের দাবি জানিয়েছে।

    তবে গত সপ্তাহে শুনানিতে অংশ নিয়ে কেবল যুক্তরাষ্ট্র নেতিবাচক কথা বলেছে, ইসরায়েল নিরাপত্তার নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ছেড়ে যেতে দেশটিকে বাধ্য করা যাবে না বলে মন্তব্য  করে ওয়াশিংটন।

  • স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে যুক্তরাজ্য

    স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে যুক্তরাজ্য

    www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪: ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের ইতিহাস যেমন দীর্ঘ, তেমনই জটিল ধরণের। কিন্তু সেই সংঘাতের অবসানের লক্ষে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় মধ্যপ্রাচ্যের আরব অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র।

    জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে গাজা উপত্যকায় ৬ সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির জন্য কাজ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও আরব রাষ্ট্রগুলো। এই যুদ্ধবিরতির সময় উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাসের কব্জায় থাকা জিম্মি এবং ইসরায়েলের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের মুক্তি দেওয়া হবে।

    এর পাশাপাশি ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিনের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী শান্তির জন্য স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন বিষয়ক আলোচনা-তৎপরতাও গতিশীল হয়েছে বলে জানা গেছে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত চার মাসেরও বেশি সময় ধরে হামাস-ইসরায়েলের মধ্যে যে যুদ্ধ চলছে, তার শেষ হবে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মধ্যে দিয়ে— এমনটাই চাইছে যুক্তরাষ্ট্র ও আরব বিশ্ব।

    ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি আনুমানিক সময়সীমা সামনের সপ্তাহগুলোতে প্রকাশ করা হবে এবং মার্কিন প্রশাসন স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট।

    গত ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাসের যোদ্ধারা গাজার উত্তরাঞ্চলীয় ইরেজ সীমান্তে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ১ হাজার ২০০ জন মানুষকে হত্যার পাশাপাশি ২৪০ জন ইসরায়েলি ও বিদেশি নাগরিককে ধরে নিয়ে যায়। অভূতপূর্ব সেই হামলার পর সেদিন থেকেই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী

    চার মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান সেই অভিযানের শুরু থেকে এ পর্যন্ত গাজায় নিহতের সংখ্যা পৌঁছেছে ২৮ হাজার ৭০০ জনে, আহত হয়েছেন ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষ। এছাড়া ইসরায়েলি বাহিনীর গোলায় বাড়িঘর হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন আরও লাখ লাখ ফিলিস্তিনি।

    যুক্তরাষ্ট্র, কাতার, ও মিসরের নিরলস চেষ্টায় গত ২৫ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৭ দিনের অস্থায়ী বিরতি চুক্তি হয়েছিল হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে। সেই ৭ দিনে নিজেদের কব্জায় থাকায় জিম্মিদের মধ্যে ১০৮ জনকে মুক্তি দিয়েছিল হামাস। পাল্টায় ইসরায়েলের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের মধ্যে দেড়শর বেশি মানুষকে মুক্তি দিয়েছিল ইসরায়েলও।