Tag: নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র

  • নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের অংশ গাজীপুরের ট্রেন দুর্ঘটনা: সেতুমন্ত্রী

    নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের অংশ গাজীপুরের ট্রেন দুর্ঘটনা: সেতুমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৩: নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের অংশ গাজীপুরের ট্রেন দুর্ঘটনা, বলে উল্লেখ করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বলেন, ‘এটা নির্বাচনবিরোধী ষড়যন্ত্র, এই নাশকতার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে দেশের ৭ জানুয়ারির নির্বাচন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নাশকতার মাধ্যমে এই নির্বাচনকে বানচাল করা। ’

    আজ বুধবার (ডিসেম্বর ১৩) সকালে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে, জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ রেললাইনে ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি এ কথা বলেন।

    সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে তারা (বিএনপি-জামাত) গভীর ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। কিছু প্ল্যানও আছে তাদের। তারা চায় গুপ্ত হত্যা, গুপ্ত হামলা, আজকে বাসে ট্রেনে আগুন দিয়ে নাশকতা সৃষ্টি করা। এই সব অপকর্ম বিএনপি ও তাদের দোসররা করতে চায়।’

    তিনি বলেন, ‘আমরা সতর্ক পাহারা আরও জোরদার করছি। এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্ব আছে, তারা তাদের দায়িত্ব পালন করবে। ’

    ওবায়দুল কাদের আশা প্রকাশ করেন বলেন, ‘৭ জানুয়ারি বাংলাদেশে ব্যাপক ভোটারের উপস্থিতিতে একটা ভালো নির্বাচন হবে। আমরা ক্রমেই গণতন্ত্রকে ত্রুটি মুক্ত করার পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি। এই নির্বাচনে গণতন্ত্র আরও পারফেক্ট হবে। ’

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ‘নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা দেশে তারা যতই নাশকতা করুক মানুষ কিন্তু নির্বাচনমুখী হয়েছে। মানুষ এখন নির্বাচনমুখী, মানুষ ভোট দিতে উন্মুখ। ভোটাররা আজকে গ্রামে-গঞ্জে একটা উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ’

    তিনি বলেন, এই নির্বাচন আমাদের সফল করতে হবে। এই নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে হবে এবং ব্যাপক ভোটারের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। সেই লক্ষ্যে আমরা আমাদের পার্টি, আমাদের সমমনা দলগুলো সবাই আলাপ-আলোচনা করে যাচ্ছি।’

    এসময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, আফজাল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    প্রসঙ্গত, গাজীপুরের বনখড়িয়া এলাকায় রেললাইন কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। এতে বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) ভোরে জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ রেল লাইনে রাজেন্দ্রপুর স্টেশন থেকে ছেড়ে আসে ঢাকা অভিমুখী মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনসহ সাতটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এ ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১০ জন।

  • বিএনপি-জামায়াত নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে: প্রধানমন্ত্রী

    বিএনপি-জামায়াত নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে: প্রধানমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় –  ৩ নভেম্বর, ২০২৩: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের প্রত্যেকটি নেতা-কর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং মানুষের ভোটের অধিকার যা অনেক সংগ্রামের মধ্যদিয়ে অর্জিত সেই অধিকার যাতে নিশ্চিত থাকে, মানুষ যেন তার ভোট শান্তিপূর্ণভাবে দিতে পারে- সেই পরিবেশ রাখতে হবে।”

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জেলহত্যা দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্মরণসভায় সভাপতির ভাষণে এসব কথা বলেন।

    বিএনপি-জামায়াত নির্বাচন বানচাল করার জন্য ষড়যন্ত্র করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচন বানচাল করার ষড়যন্ত্রের পিছনে অনেকের হাত রয়েছে এবং তারা অনেক উপায়ে চেষ্টা করবে। তিনি বলেন, আমাদের শক্তি হচ্ছে বাংলাদেশের জনগণ।

    নির্বাচনে আসলে ক্ষমতায় যেতে পারবেনা ভেবে নেতৃত্ববিহীন দল বিএনপি সারাদেশে সন্ত্রাস-নৈরাজ্য-জ্বালাও-পোড়াও করতে মেতে উঠেছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান আগুন সন্ত্রাসী ও নৈরাজ্য সৃষ্টিকারিদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা যে আদর্শ নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছেন, জাতীয় চারনেতা জীবন দিয়েছেন, স্ইে আদর্শ নিয়েই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। ঐ সমস্ত দুস্কৃতিকারি কয়েকজনের লাফালাফি এদেশে কোনদিনও নির্বাচন বানচাল করতে পারবেনা। এই দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবেনা।

    তিনি বলেন, ওরা জানে (বিএনপি) যে নির্বাচন করলে ক্ষমতায় আসতে পারবেনা। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তারা ৩শ’ সিটের মধ্যে  মাত্র ৩০টি সিট পেয়েছিল। আর ওদের অপকর্মের জন্য মানুষতো আরো ওদের প্রতি বিমুখ।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি আসলে সিট পাবেনা দেখে নির্বাচন করবে কিনা সন্দেহ। আর নির্বাচনে আসলেও আসবে ঐ নমিনেশন বাণিজ্য করার জন্য।

    শেখ হাসিনা বলেন, তারা নির্বাচন কাকে নিয়ে করবে?  নির্বাচন করলে ওদের নেতা কে? কাকে প্রধানমন্ত্রী করবে? কাকে দিয়ে মন্ত্রিসভা করবে? বিএনপির চেয়ারপার্সন (খালেদা জিয়া) এতিমের অর্থআত্মসাতের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার সাজাপ্রাপ্ত, মানি লন্ডারিংয়ের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এবং ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলার দায়ে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী। সে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আর রাজনীতি করবেনা বলে মুচলেখা দিয়ে দেশ থেকে পালিয়ে যায়। শোনা যায়, লন্ডনে বসে জুয়া খেলে নাকি কোটি কোটি পাউন্ড কামাই করে। এটাই তার সোর্স অব ইনকাম। আর সেখানে বসে তাঁর করে দেওয়া ডিজিটাল বাংলাদেশের সুযোগ নিয়ে জ¦ালাও পোড়াওয়ের নির্দেশ দেয়।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে বিএনপি’র অগ্নিসন্ত্রাসে তাদের বীভৎস চেহারা রেরিয়ে এসেছে। তারা পিটিয়ে পিটিয়ে পুলিশ হত্যা করে। একজন নিরীহ পুলিশ সে চাকরি করছে, তার কি অপরাধ ছিল যে তাকে ঐ অমানবিকভাবে হত্যা করলো? এটা শুধু একবারই নয়, ২০১৩ সালে, ২০১৪ সালে নির্বাচন বানচালের জন্য এবং ২০১৫ সালেও একই ঘটনা তারা ঘটিয়েছে। কিন্তু তারপরেও নির্বাচন থামাতে পারে নাই।

    সরকার প্রধান বলেন, হাজার হাজার মানুষ হত্যা, মানুষকে আগুনে পোড়ানো, যানবাহন,স্কুল-অফিস-আদালত, রেল, লঞ্চ, গাছ ধ্বংস, রাস্তা কেটে একটা ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল। এই বাংলাদেশের জনগণ যখন প্রতিরোধ করেছে তখনই তারা থেমেছে। তিনি বলেন, আজকেও আমি বলবো এখন সময় এসে গেছে এই অগ্নি সন্ত্রাসী যে যেখনেই থাকুক, যারাই এভাবে আগুন দেবে, জনগণের ওপর অত্যাচার করবে এবং গাড়ি-বাস-ট্রাক সহ যানবাহনে আগুন দেবে, সাথে সাথে তাদের প্রতিরোধ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, এখানে কারো ওপর নির্ভর করলে হবেনা। জনগণকেই এগিয়ে আসতে হবে। অগ্নিসন্ত্রাস যারা করে, তাদের ধরে যে হাতে আগুন দেয় ওই হাত পুড়িয়ে দিতে হবে। যেমন কুকুর তেমন মুগুর। তা না হলে তাদের শিক্ষা হবে না।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু এই ঢাকা শহর নয়, প্রত্যেক এলাকায় এই প্রতিরোধ গড়তে হবে। যেখানেই তারা অগ্নিসন্ত্রাস করবে সেই এলাকায় কত বিএনপি বা জামায়াত আছে খুঁজে বের করতে হবে। সন্ত্রাসীদের ধরিয়ে দিতে হবে। আর মানুষের জানমালের যেন ক্ষতি করতে না পারে তাদেরকে সুরক্ষা দিতে হবে, এটাই আওয়ামী লীগের দায়িত্ব। কারণ আমাদের আর কিছু নাই, আমাদের কোন মুরুব্বি নাই। আমাদের আছে বাংলাদেশের জনগণ। সেই জনগণ নিয়েই আমাদের চলতে হবে।

    দ্রব্যমূল্য নিয়ে নানাভাবে চক্রান্ত হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব কিছুর উৎপাদন বেড়েছে তাহলে কীসের অভাব হবে। এগুলির পেছনে কারা আছে? মজুদ করে রেখে  দেবে কিন্তু বাজারে আনবে না। না এনে দাম বাড়িয়ে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলবে। মালপত্র থাকা সত্ত্বেও বাজারে না এনে যারা জনগণের পকেট কাটার চেষ্টা করে এদের খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। উৎপাদন এতটুকু কমেনি। সবকিছুর উৎপাদন বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অতিরিক্ত দাম দিয়ে আমরা কিনে নিয়ে আসছি। কিন্তু সেটা মানুষের কাছে পৌঁছাবে না কেন?

    ফিলিস্তিন ইস্যুতে বিএনপির অবস্থানের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ফিলিস্তিনে আজ কী হচ্ছে? হাসপাতালে বোমা মেরেছে। আর এখানে কী দেখলাম এই বিএনপি জামায়াত পুলিশ হাসপাতালে আগুন দেয়, অ্যাম্বুলেন্স পোড়ায়। ভাংচুর করে। এরা কোথা থেকে কী শিক্ষা পাচ্ছে? সেটাই আমাদের প্রশ্ন। ফিলিস্তিনে জনগণের ওপর যখন অত্যাচার আমরা তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। কিন্তু এদের (বিএনপি) মুখে একটাও কথা নেই। তারা কী একটা প্রতিবাদ করেছে? করেনি। তাহলে কাদের তাবেদারী তারা করে? কাদের পদলেহন করে লাফালাফি করে সেটাই প্রশ্ন?

    ৩রা নভেম্বরের শহীদ জাতীয় চারনেতার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে শেখ হাসিনা বলেন, আসুন আজকের দিনে সকলে মিলে এই প্রতিজ্ঞা করি যে রক্ত দিয়ে লাখো শহীদ আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন সেই লাখো শহীদ এবং আমাদের লাখো নির্যাতিতা মা-বোন, ৭৫ এ জাতির পিতা ও বঙ্গমাতা সহ সকল শহীদ, দেশের সকল গণ আন্দোলনের শহীদ এবং অগ্নিসন্ত্রাসে নিহত ও নির্যাতিতদের কথা স্মরণে রেখে শপথ নিয়ে জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করে সুষ্ঠু নির্বাচন করে দেশে গণতান্ত্রিক ধারাটা অব্যাহত রাখার প্রচেষ্টা গ্রহণ করি। যাতে এই দেশের অগ্রযাত্রা আর কেউ ব্যাহত করতে না পারে।

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, দলের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য শাজাহান খান, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম ও তাজউদ্দিন আহমেদের কন্যা সিমিন হোসেন রিমি, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, দলের কার্যনির্বাহী সদস্য এবং হবিগঞ্চ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. মুশফিক হোসেন চৌধুরী, সৈয়দ নজরুল ইসলাম কন্যা ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ মান্নাফী ও উত্তর সভাপতি শেখ বজলুর রহমান অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

    দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ এবং উপপ্রচার সম্পাদক সৈয়দ আব্দুল আউয়াল শামীম স্মরণসভাটি সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে শহীদদের স্মরণে সকলে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করেন।

    সূত্র: বাসস