Tag: বাংলাদেশ

  • শেখ হাসিনাকে অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক

    শেখ হাসিনাকে অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক

    যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একজন সফল অর্থনৈতিক নেতা হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, ‘আপনি আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা।’

    সুনাক বলেন, ‘আমি আপনাকে অনেক বছর ধরে অনুসরণ করছি। আপনি একজন সফল অর্থনৈতিক নেতা।’

    স্থানীয় সময় শুক্রবার (৫ মে) কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েটের দ্বিপাক্ষিক সভা কক্ষে তাদের প্রথম দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে সুনাককে উদ্ধৃত করে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম এ কথা বলেন।

    তাসনিম বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তার দুই মেয়ে ও স্ত্রী তার (শেখ হাসিনা) বড় ভক্ত। তিনি গত অক্টোবরে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তার মেয়েরা শেখ হাসিনার মতো মহান নেতা হবেন এই কামনা করেছেন।’

    সুনাক বলেন, ‘আপনি আমার দুই মেয়ের জন্য মহান অনুপ্রেরণা।’

    ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সমৃদ্ধির জন্য শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের আশ্রয়, ভূমিহীন ও গৃহহীন বাংলাদেশের জনগণকে সরকারি খরচে বাড়ি দেওয়া, জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে তার গৌরবময় ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

    কভিড-১৯ মহামারি পরবর্তী সময়ে ছয় শতাংশের বেশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার কথা উল্লেখ করে সুনাক বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য।’ তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে উন্নয়নের ‘রোল মডেল’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

    ৩৫ মিনিট স্থায়ী বৈঠকে দুই নেতা উভয় দেশের পারস্পরিক সুবিধা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

    ‘৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমাদের চমৎকার সম্পক বিদ্যমান’ উল্লেখ করে সুনাক বলেন, ‘যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে মূল্য দেয়।’

    বৈঠকের শুরুতে শেখ হাসিনা যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় ঋষি সুনাককে অভিনন্দন জানান। শেখ হাসিনা বলেন, ‘এশীয় ঐতিহ্য থেকে আপনি এত অল্প বয়সে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। এমন তরুণ নেতৃত্ব দেখে আমার ভালো লাগছে।’

    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তার সরকার ইতোমধ্যে সাত লাখ পরিবারকে বাড়ি দিয়েছে।’ শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ব্রিটিশ কোম্পানিগুলোর কাছে আরও বড় বিনিয়োগ চেয়েছেন।

    ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দুই দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক উন্নত করেছি।’ তিনি ঢাকা ও লন্ডনের মধ্যে একটি যৌথ ইস্তেহার সই করায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। দুই নেতা রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়েও কথা বলেন।

    সুনাক বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেন। সুনাক বলেন, ‘যুক্তরাজ্য বুঝতে পেরেছে, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জন্য বড় বোঝা।’

    শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশকে সমর্থন দেওয়ায় যুক্তরাজ্যকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গারা আমাদের জন্য বড় বোঝা এবং বড় নিরাপত্তা হুমকি।’

    রোহিঙ্গাদের দুর্দশা দেখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানালে সুনাক ইতিবাচক সাড়া দেন।

    লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে রাজা তৃতীয় চার্লসের রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ১৩০টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা লন্ডনে পৌঁছেছেন।

    দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বাংলাদেশের হাইকমিশনার বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীসহ তাদের মধ্যে মাত্র সাত জনের সঙ্গে সুনকের বৈঠক হয়েছে, যা প্রমাণ করে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে।’

    রাষ্ট্রদূত মুনা তানিম বলেন, ‘অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক সম্পর্কের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধন কৌশলগত পর্যায়ে পৌঁছেছে।’

    ব্রিফিংয়ের সময় প্রধানমন্ত্রীর স্পিচরাইটার এম নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

    সূত্র: বাসস

  • প্রধানমন্ত্রী আজ বিকেলে রাজা তৃতীয় চার্লস এর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন

    প্রধানমন্ত্রী আজ বিকেলে রাজা তৃতীয় চার্লস এর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাজ্যের রাজা ও রানীর রাজ্যাভিষেকের আগে সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান বা বিদেশী প্রতিনিধিদের জন্য রাজা তৃতীয় চার্লস এর সংবর্ধনায় যোগ দেবেন।

    বিকাল ৫.১৫ মিনিটে বাকিংহাম প্যালেসে অনুষ্ঠানটি শুরু হবে।

    জাপানে দ্বিপাক্ষিক সফর ও যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি নগরীতে বাংলাদেশের সাথে বিশ্বব্যাংকের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠানে যোগদানের পর প্রধানমন্ত্রী তার সফরের তৃতীয় ধাপে ৬ মে অনুষ্ঠিতব্য রাজা তৃতীয় চার্লসের রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ৪ মে রাত ১১টা ৪৯ মিনিটে লন্ডনে পৌঁছান।

    সংবর্ধনার আগে, প্রধানমন্ত্রী আজ বিকেলে কমনওয়েলথ দেশগুলোর সরকারের নেতাদের দ্বিবার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের বৈঠকে যোগ দেবেন।

    লন্ডনে কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট মার্লবোরো হাউসে এই শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

    কমনওয়েলথের প্রধান রাজা তৃতীয় চার্লস কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের সাথে ১৪টা থেকে ১৪.৪৫ পর্যন্ত কুশল বিনিময় করবেন।

    কমনওয়েলথ নেতৃবৃন্দ প্রধান সম্মেলন কক্ষে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করবেন। বিকাল ৩টা থেকে ৪.৩০ মিনিট পর্যন্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট পল কাগামে।

    অনুষ্ঠানে কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের ছবি ধারণ করা হবে।

    তৃতীয় চার্লস (৭৪), তার মা রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুর পর গত ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২-এ গ্রেট ব্রিটেন এবং উত্তর আয়ারল্যান্ড যুক্তরাজ্যের রাজা হন।

    রাজকীয় ঐতিহ্য অনুসারে, জাতীয় শোক পালন ও ব্যাপক প্রস্তুতির কয়েক মাস পরে ব্রিটিশ রাজার রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠিত হয়।

    আগামী ৬ মে লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে রাজা তৃতীয় চার্লসের রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠিত হবে।

    অনুষ্ঠানে আয়ারল্যান্ড, ফ্রান্স, স্পেন, বেলজিয়াম, জাপান, হাঙ্গেরি এবং অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বছর লন্ডনে রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে দেখা করেছিলেন এবং রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছিলেন।

    সূত্র : বাসস

  • রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে ভূমিকম্প

    রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে ভূমিকম্প

    রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।  আজ ভোর ৫টা ৫৭ মিনিটে রাজধানী ঢাকা থেকে ৪২ কিলোমিটার দূরে দোহারে ৪ দশমিক ৩ মাত্রার এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক আবহাওয়াবিদ মো. আজিজুর রহমান বাসস’কে জানান, ভোরে অনুভূত হওয়া ভূমিকম্পের উৎপত্তি স্থল ছিল আগারগাঁও ভূমিকম্প পরিমাপক স্টেশন থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে পূর্ব-দক্ষিণ- পূর্ব দোহারে।

    তিনি জানান, হালকা মাত্রার এই ভূমিকম্পের রিখটার স্কেলে মাত্রা ৪ দশমিক ৩ ছিল।

    তবে প্রাথমিকভাবে হতাহত অথবা ক্ষয়ক্ষতির কোন খবর পাওয়া যায়নি। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

    সূত্র : বাসস

  • অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের ভাড়া নির্ধারণ হবে টাকায়, ডলারে নয়!

    অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের ভাড়া নির্ধারণ হবে টাকায়, ডলারে নয়!

    ডলারের বিপরীতে টাকার দাম সম্প্রতি আরো কমে যাওয়ায় যে যাত্রীদের তুলনামূলক বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছিল, তাদের জন্য এই উদ্যোগ কিছুটা স্বস্তি নিয়ে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    আগামী ১ জুলাই থেকে বাংলাদেশে চলাচলকারী সব এয়ারলাইনসকে ডলারের পরিবর্তে টাকায় ফ্লাইটের ভাড়া নির্ধারণ করতে হবে। এমন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। টাকায় ফ্লাইটের ভাড়া নির্ধারণ করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি (বায়রা), অ্যাসোসিয়েশন অব ট্র্যাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব) ও হজ এজেন্সি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)। তারা মনে করছে, এই সিদ্ধান্ত অভিবাসী শ্রমিকদের উপকৃত করবে।

    জানা গেছে, ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়ার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন এয়ারলাইনস বা ট্র্যাভেল এজেন্ট অন্যায়ভাবে ফ্লাইটের টিকিটের জন্য বেশি ভাড়া নিচ্ছে। আর এ জন্যই মূলত ফ্লাইটের টিকিট ডলারের পরিবর্তে টাকায় নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সম্প্রতি উপসচিব রোকসিন্দা ফারহানার সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশি এয়ারলাইনসগুলো যে দেশে ব্যবসা পরিচালনা করছে, সে দেশের মুদ্রায় টিকিট বিক্রি করবে। একইভাবে দেশি-বিদেশি সব ফ্লাইটে ভাড়া নির্ধারণ করা হবে বাংলাদেশি টাকায়।

    বিশ্বের মাত্র চারটি দেশ—বাংলাদেশ, দক্ষিণ কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও তাইওয়ান— মার্কিন ডলারে ফ্লাইট টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করে। বাকি দেশগুলো এ ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব মুদ্রা ব্যবহার করে।

    এ বিষয়ে আটাব সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম আরেফ গণমাধ্যমকে বলেন, ডলারের বিপরীতে টাকার দাম কমে যাওয়ায় গত বছরের তুলনায় এখন ফ্লাইটের টিকিটের দাম ৩৫ শতাংশ বেশি।

    হাব সভাপতি এম শাহাদাত হোসেন তসলিম গণমাধ্যমকে বলেন, ডলারে ফ্লাইটের ভাড়া নির্ধারণ করা হলে তা প্রায়শই বিভ্রান্তির কারণ হয়, বিশেষ করে অভিবাসী শ্রমিকদের কাছে।

    নতুন এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বিভিন্ন বেসরকারি এয়ারলাইনসও। তারা মনে করছে, টাকায় ভাড়া নির্ধারণ হলে তা যাত্রীদের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে।

  • সেপ্টেম্বরের মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধন হবে, বাতিল নয়: আইনমন্ত্রী

    সেপ্টেম্বরের মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধন হবে, বাতিল নয়: আইনমন্ত্রী

    বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি নাকচ করে দিলেও জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কমিশনের ‘টেকনিক্যাল নোটের’ ভিত্তিতে আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে বহুল বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ‘প্রয়োজনীয় সংশোধনী’ আনা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক।

    আনিসুল হক বলছেন, সাংবাদিকের স্বাধীনতা ‘হরণে’ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন তৈরি হয়নি। শুরুতে এ আইনের ‘কিছু অপব্যবহার হলেও’ বর্তামানে তা কমেছে।

    বুধবার (৩ মে) বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) আলোচনা সভায় আইন নিয়ে সরকারের এই অবস্থানের কথা জানান তিনি।

    ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে শুক্রবার জাতীয় জাদুঘরের সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে শিক্ষার্থীরা।

    বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন যে বাতিল হবে না, সে কথা আবারও জানালেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

    সভায় সংবাদকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল হবে না, তবে যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে তেমন কিছু সংশোধন আনা হবে।’

    সাংবাদিকের স্বাধীনতা ‘হরণে’ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন তৈরি হয়নি দাবি করে আনিসুল হক বলছেন, শুরুতে এ আইনের কিছু অপব্যবহার হলেও বর্তামানে তা কমেছে। আর সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ‘পক্ষেই আছে’।

    আইনমন্ত্রী তিনি বলেন, “প্রযুক্তির বিকাশের সাথে সাথে যখন দেশে ডিজিটাল মাধ্যমের প্রচার বেড়েছে তখন সাইবার অপরাধ রোধে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও আইনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। সাইবার অপরাধ রোধেই তখন ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন করা হয়েছে। “

    এ আইন করার আগে ‘সব পক্ষের সাথে’ আলোচনা হয়েছে দাবি করে মন্ত্রী বলেন, “এই আইন যখন নতুন নতুন হয়েছে, তখন এর কিছু অপব্যবহার হয়েছে, তা আমি স্বীকার করি, সরকারও করে। কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপের কারণে তা কমে এসেছে।”

    দেশের সাংবাদিক, আইনজীবী, বুদ্ধিজীবীদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আপত্তি ও উদ্বেগের মধ্যে ২০১৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে পাস হয় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন।

    তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ব্যাপক সমালোচিত ৫৭সহ কয়েকটি ধারা বাতিল করে নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করা হলেও পুরনো আইনের বাতিল হওয়া ধারাগুলো নতুন আইনে রেখে দেওয়ায় এর অপপ্রয়োগের শঙ্কা ছিল উদ্বেগের কেন্দ্রে।

    ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার লেখক মুশতাক আহমেদ ২০২১ সালে কারাগারে মারা যাওয়ার পর ওই আইন বাতিলের দাবিতে ক্ষোভ-বিক্ষোভ চলছিল।

    এরপর আইনের ‘অপব্যবহার’ বন্ধে আইনমন্ত্রীর আশ্বাসের মধ্যেও সংবাদকর্মীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার থেমে থাকেনি।

    সর্বশেষ মার্চের শেষে এক প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে প্রথম আলোর একজন সাংবাদিককে ভোররাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে পরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর ঘটনায় ওই আইন বিলোপের দাবি নতুন করে আলোচনায় আসে।

    প্যারিসভিত্তিক রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যে কোনো সমালোচনার জন্য ‘গণমাধ্যমের উপর খড়গ চালানো’ বাংলাদেশের সরকারকে বন্ধ করতে হবে।

    আর জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার ফোলকার টুর্ক বলেন, “এ আইনের ব্যবহার অবিলম্বে স্থগিত করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের শর্তের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সংস্কারের জন্য আমি আবারও বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”

    মুদ্রিত পত্রিকার সম্পাদকদের একটি সংগঠন সম্পাদক পরিষদ গত মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের এক সভায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি জানায়। সেখানে বলা হয়, যদি আইন বাতিলে সরকারের কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকে, তাহলে এমন একটি ধারা যুক্ত করতে হবে, যেখানে বলা থাকবে, এই আইন গণমাধ্যম, স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য প্রযোজ্য নয়।

    বুধবার টিআইবির অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, সরকার এখন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন আরও ‘স্বচ্ছ’ করার উদ্যোগ নিয়েছে।

    “জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কমিশনের পক্ষ থেকে আমাদের একটা টেকনিক্যাল (কারিগরি) নোট পাঠানো হয়েছে। আমরা সেটা নিয়ে কাজ করছি, তাদের কিছু ধারা বাদ দেওয়া এবং সংশোধনের বিষয়ে পরামর্শ ছিল।

    “যদিও আমাদের মতভেদ রয়েছে। আমরা বর্তমান সরকারের মেয়াদের মধ্যেই, অক্টোবরের পরে নয়, আমরা সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংশোধনীটা করব।”

    ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাংবাদিকদের অযথা গ্রেপ্তার না করার নির্দেশনা আছে জানিয়ে আনিসুল হক বলেন, “এখন মামলা হলেই তা গ্রহণ করা হয় না। এটা একটি বিশেষ সেলে পাঠানো হয়, এরপর যাচাই-বাছাই শেষে আদালতে মামলা দাখিল করা হয়। সেলকে বলা হয়েছে অযথা সাংবাদিকদের যেন গ্রেপ্তার করা না হয়।”

    বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে বাংলাদেশের নিম্নগামী অবস্থানের বিষয়ে আইনমন্ত্রীর কাছে তার বক্তব্য জানতে চান সাংবাদিকরা।

    মন্ত্রী বলেন, “গণমাধ্যমের স্বাধীনতার লিস্টে বাংলাদেশ যদি আফগানিস্তানের নিচে থাকে, তবে সেটা আসলেই প্রশ্নের সৃষ্টি করে।”

    গণমাধ্যমের লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের ‘উদারতা’ এবং তথ্য অধিকার আইন প্রণয়নের কথা তুলে ধরে আনিসুল হক বলেন, “সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে আছে।“

    এর আগে আলোচনা পর্বে ঢাকা বিশবিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন বলেন, “বেশি গণমাধ্যম থাকলেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে না, সেটা আমরা দেখছি। সবচেয়ে জরুরি মুক্তভাবে কাজ করতে পারা।”

    অনুষ্ঠানে সুইডেনের রাষ্ট্রদূত আলেকজান্দ্রা বার্গ ফন লিন্ডে তার দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের উদাহরণ টানেন।

    তিনি বলেন, “গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কোনো একক ব্যাপার নয়, এর জন্য একটি বাস্ততন্ত্রের প্রয়োজন পড়ে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার হাতে হাত রেখে চলে। একটা গণতান্ত্রিক দেশের জন্য এই দুটি বিষয়ই খুব গুরুত্বপূর্ণ।

    “যখন গণমাধ্যম স্বাধীন হয়, তখন সে তার সরকারকে প্রশ্ন করতে পারে, সমাজে কোনো বৈষম্য থাকলে সেটিকেও চ্যালেঞ্জ করতে পারে। গণমাধ্যম স্বাধীন হলেই কেবল সমাজকে পরিবর্তন সম্ভব।”

    ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, “ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগ করতে হয় না, এর প্রয়োগ করেই অনেকক্ষেত্রে মানুষের বাক স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে।”

    বিভিন্ন উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “এসব ঘটনার ক্ষেত্রে দেখা যায়, আমাদের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো নানাভাবে আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন বিষয়কে লঙ্ঘন করে আসছে।”

    ‘শেপিং আ ফিউচার অব রাইটস’ শীর্ষক ওই আলোচনা অনুষ্ঠানে ইউনেস্কোর ঢাকা অফিসের অফিসার-ইন-চার্জ সুজান ভাইজ এবং বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি গুইন লুইসও বক্তব্য দেন।

    তারা জাতিসংঘের আর্টিকেল-১৯ এ গণমাধ্যম ও বাকস্বাধীনতার স্বীকৃতির প্রসঙ্গ তুলে বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে এসডিজি লক্ষ্য বাস্তবায়নের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতে আরও কাজ করার আহ্বান জানান।

    গুইন লুইস বলেন, “স্বাধীন গণমাধ্যম দারিদ্র দূরীকরণ থেকে শুরু করে,  সকল উন্নয়নের যাত্রায় সরকারকে জনগণের জবাবদিহিতায় উৎসাহিত করে।”

    আর বলার স্বাধীনতা নিশ্চিত হলে অন্য সবকিছুর স্বাধীনতা আসবে বলে মন্তব্য করেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আহমেদ।

    অনুষ্ঠান শেষে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “এটা (ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন) বাতিল না হলে সেটা বাক স্বাধীনতার জন্য ভালো কিছু হবে না।“

  • প্রধানমন্ত্রীর আলোচনার আহ্বানে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বিএনপি-জামায়াত সমর্থকরা

    প্রধানমন্ত্রীর আলোচনার আহ্বানে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বিএনপি-জামায়াত সমর্থকরা

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার (ওয়াশিংটন ডিসি) তাঁর বিরুদ্ধে রিটজ কার্লটন হোটেলের বাইরে বিক্ষোভরত একদল বিএনপি-জামায়াত সমর্থককে আলোচনার জন্য আহ্বান জানালে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চলে যায়।

    এখানে রিটজ কার্লটন হোটেলের হলরুমে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী প্রবাসীদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে নাগরিক সংবর্ধনা দেয়া হয়।

    পরে প্রধানমন্ত্রীর স্পিচরাইটার এম নজরুল ইসলাম এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত সমর্থকদের সমস্যা নিয়ে তাদের সাথে কথা বলার জন্য প্রধানমন্ত্রী আগ্রহ প্রকাশ করার পরই তারা হোটেলের বাইরে তাদের অবস্থান ত্যাগ করে।’

    বাংলাদেশ-ডব্লিউবি অংশীদারিত্বের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশ্বব্যাংকের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ২৮ এপ্রিল শেখ হাসিনা ওয়াশিংটন ডিসি পৌঁছান।

    মুখপাত্র বলেন, নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসার সময় প্রধানমন্ত্রী হোটেলের বাইরে প্রচন্ড ঠান্ডা ও বৃষ্টির মধ্যে বিএনপি-জামায়াতের একটি গ্রুপকে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে দেখতে পেয়ে তিনি তাদের প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

    প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা বলেছেন, তারা যা বলতে চায়, এখানে এসে তাদের তা বলতে দাও।’

    বিক্ষোভকারীদের হোটেলে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয় অনুমতি পাওয়ার পরে প্রধানমন্ত্রীর পিএস-২ এবং সেখানকার বাংলাদেশ মিশনের আরও একজন কর্মকর্তা তাদের হোটেলে আমন্ত্রণ জানাতে যান।

    সূত্র : বাসস

  • প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের মসৃণ উত্তরণের জন্য বিশ্বব্যাংকের সহায়তা চেয়েছেন

    প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের মসৃণ উত্তরণের জন্য বিশ্বব্যাংকের সহায়তা চেয়েছেন

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ উন্নয়নশীল দেশ হয়ে ওঠার পথে বাংলাদেশের মসৃণ উত্তরণ, পরবর্তীতে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে উত্তরণ লাভ এবং এর ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ বাস্তবায়নের জন্য বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা বৃদ্ধি করার আহ্বান জানিয়েছেন।

    তিনি বলেছেন, “বাংলাদেশ ২০২৬ সালে জাতিসংঘের এলডিসি মর্যাদা থেকে মসৃণ ও টেকসই উত্তরণ লাভের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমি বিশ্বব্যাংককে আমাদের মানব পুঁজি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচিগুলিকে একটি মসৃণ উত্তরণের জন্য সহায়তা দেয়ার জন্য অনুরোধ করছি। সে লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ আইডিএ উইন্ডোটি সংরক্ষণ ও অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।”

    এখানে বিশ্বব্যাংক সদর দপ্তরের প্রিস্টন অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত “বিশ্বব্যাংক-বাংলাদেশ অংশীদারিত্বের ৫০ বছরের প্রতিফলন” শীর্ষক পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী বিশ্বব্যাংকের সামনে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট পরামর্শ রেখেছেন যা বিশ্বব্যাংক ঋণদাতাদের বিবেচনায় নেয়া উচিত।

    অনুষ্ঠানে পাঁচটি প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন (আড়াই বিলিয়ন) ডলারের একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

    এ সময় প্রধানমন্ত্রী বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের কাছে পদ্মা বহুমুখী সেতুর একটি ছবি তুলে দেন।
    তিনি বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে উচ্চ আয়ের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ অবকাঠামো ও লজিস্টিকসে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি আশা করব বিশ্বব্যাংক আগামী বছরগুলোতে আমাদের ভৌত ও সামাজিক উভয় খাতে মেগা-প্রকল্পগুলোতে সম্পৃক্ত হবে।”

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার জাতীয় আকাঙ্খার সঙ্গে জাতিসংঘের এসডিজির সমন্বয় করেছে।

    শেখ হাসিনা বলেন, “এসডিজি বাস্তবায়নের জন্য বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের বর্ধিত, ছাড় দেয়া এবং উদ্ভাবনী অর্থায়নের জরুরি প্রত্যাশা রয়েছে।”

    প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন যে, মহামারী, সশস্ত্র সংঘাত এবং জলবায়ু জরুরি অবস্থার কারণে চলমান বৈশ্বিক একাধিক সংকট বেশিরভাগ উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোকে  গুরুতর চাপের মধ্যে ফেলেছে।

    তিনি বলেন, মহামারী ও সশস্ত্র সংঘাত থেকে উদ্ভূত একাধিক সংকট সত্ত্বেও, কিছু উন্নয়ন অংশীদার তাদের ঋণের খরচ এবং সুদের হার বাড়িয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য উন্নয়ন অংশীদারদেরকে কার্যকর বিকল্প খুঁজে বের করার আহ্বান জানাচ্ছি যাতে আমাদের অর্থনীতিগুলো উদ্ভুত চ্যালেঞ্জগুলি আরও ভালভাবে মোকাবেলা করতে পারে।”

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ আশা করে যে, জলবায়ু সংক্রান্ত কর্মকা-ে বিশ্বব্যাংকের বর্ধিত সম্পৃক্ততা প্যারিস চুক্তির অধীনে অর্থায়নের ঘাটতি পূরণে সহায়তা করবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “আমরা জলবায়ু প্রশমন ও অভিযোজনের মধ্যে অর্থায়নের সমান বণ্টনের ওপর জোর দেব।”

    শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও প্রস্তুতিতে বিশ্বব্যাপী রোল-মডেল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এবং আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা, দুর্যোগ-সহিষ্ণু অবকাঠামো এবং সম্প্রদায় ভিত্তিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে প্রচুর বিনিয়োগ করেছে।

    তিনি বাংলাদেশকে জলবায়ু অভিযোজনের একটি জীবন্ত গবেষণাগার হিসেবে বর্ণনা করেন যেখানে বেশ কিছু প্রকৃতি-ভিত্তিক ও কৌশলগত সমাধান রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ এর অধীনে প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নে আমাদের সাথে যোগ দেয়ার জন্য বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের আমন্ত্রণ জানান।”

    রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে তারা জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে, কিন্তু আজ পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাও ফিরে যায়নি।

    তিনি বলেন, “বিস্তৃত অঞ্চলের জন্য ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তার প্রভাবের পাশাপাশি পরিস্থিতি আমাদের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। আমি বিশ্বব্যাংককে আমাদের মানবিক প্রচেষ্টায় যোগদানের জন্য এবং রোহিঙ্গা ও তাদের সম্প্রদায়ের জন্য ৫৯০ মিলিয়ন ডলার অনুদানের জন্য ধন্যবাদ জানাই।”

    শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ গত চার দশকে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে এবং ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে ব্যাপক নৃশংসতার পর থেকে তাদের সংখ্যা ১.২ মিলিয়নে পৌঁছেছে।

    শেখ হাসিনা বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণ নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছিলো।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজের ভাগ্য গড়তে নয়, দুঃস্থ মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য তিনি ক্ষমতা গ্রহণ করেছেন।

    ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাবা-মা এবং তিন ভাইসহ সবকিছু হারিয়ে দেশবাসীকে পাশে পেয়ে তিনি দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, তাঁকে তাঁর জীবনের অনেক ঝুঁকির মুখোমুখি হতে হয়েছে, তবে তিনি কখনই মাথা নত করেননি।

    তিনি বলেন, ‘আমি কখনো মাথা নিচু করে দেশবাসীকে অসম্মান করতে চাই না।’
    প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, বাঙালি একটি বিজয়ী জাতি, আমরা বিজয়ী জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে এগিয়ে যেতে চাই।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের অব্যাহত ও অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়েছে, কারণ তার আশেপাশে থাকা লোকদের কঠোর পরিশ্রম, আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করার কারণে এবং সে সাথে রয়েছে দেশের জনগণের অটুট সমর্থন।

    প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব আহমেদ ওয়াজেদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এবং প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস এবং এর প্রাক্তন প্রধান অর্থনীতিবিদ কৌসিক বসু অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন এবং বৈশ্বিক ঋণদাতা ভিপি মার্টিন সমাপনী বক্তব্য রাখেন।

    শেখ হাসিনা বলেন, তিনি বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারিত্বের ৫০ বছর উপলক্ষ্যে সবার সাথে যোগ দিতে পেরে আনন্দিত।

    তিনি বলেন, “আমি প্রেসিডেন্ট মালপাসকে তার আমন্ত্রণ ও আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ জানাই। বিশ্বব্যাংকে অনেক বাংলাদেশীকে নিয়োজিত দেখে আমি আনন্দিত।” তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ নির্বিঘে এগিয়ে যেতে থাকবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংক একটি নেতৃস্থানীয় উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশকে ধারাবাহিকভাবে সহায়তা করে আসছে। বিশ্বব্যাংক চলমান আইডিএ কর্মসূচির অধীনে বাংলাদেশের জন্য বর্তমান বৈদেশিক সহায়তার প্রায় ৩২ শতাংশ অবদান রাখে।

    তিনি আরো বলেন, “এছাড়া, আইএফসি এবং এমআইজিএ আমাদের বেসরকারী খাতকেও সহায়তা করছে।”

    শেখ হাসিনা বলেন, “এখানে (বিশ্বব্যাংক) আমার উপস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে, আমরা বিশ্বব্যাংকের প্রতি আমাদের আস্থা বজায় রেখেছি। আগামী দুই দশকে আমাদের সাফল্য নির্ভর করবে আমাদের সম্মিলিত সক্ষমতা এবং ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই উপায়ে উদীয়মান চ্যালেঞ্জগুলি অতিক্রম করার প্রচেষ্টার উপর”।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার পিতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

    তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতাকে আমাদের সংবিধানে মৌলিক রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। তার নৃশংস হত্যাকা-ের পর, জাতিকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে আমাদের দীর্ঘ ২১ বছরের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম করতে হয়েছে।

    তিনি বলেন,  ২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহন তার সরকার ২০২১ সালের মধ্যে একটি ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকার করে।

    তিনি বলেন, “টানা তিন মেয়াদে জনগণ ও দেশের সেবা করার সুযোগ লাভের জন্য আমি আমাদের জনগণের কাছে কৃতজ্ঞ। গত দেড় দশকে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সুষ্ঠু সামষ্টিক অর্থনৈতিক মৌলিক বিষয়গুলির জন্য বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে।”

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৫ সালে, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করেছে এবং ২০২১ সালে, জাতিসংঘ এটিকে দ্বিতীয়বারের মতো এলডিসি মর্যাদা থেকে উত্তরণ লাভের যোগ্য ঘোষণা করেছে।

    শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ২৬.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের অর্থনৈতিক উদ্দীপনা প্যাকেজ এবং বিনামূল্যের গণ টিকাদানের মাধ্যমে সফলভাবে কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবেলা করেছে।

    তিনি বলেন, “আমাদের নিজস্ব সম্পদে পদ্মা বহুমুখী সেতুর সমাপ্তি এবং গত বছর এর উদ্বোধন সম্ভবত আমাদের সহনশীলতা ও সাফল্য অর্জনের সেরা উদাহরণ।”

    শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ আজ বিশ্বের ৩৫তম বৃহত্তম অর্থনীতি হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে, যার জিডিপি ৪৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

    তিনি বলেন, “আমাদের অর্থনীতি গত এক দশকে গড়ে ৬ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। মহামারীর ঠিক আগে এটি ৮.১৫ শতাংশে পৌঁছেছে। এর ফলে ২০২২ সালে মাথাপিছু আয় ২,৮২৪ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২২ সালে সার্বিক দারিদ্র্যের হার ১৮.৭ শতাংশে নেমে এসেছে যা ২০০৬ সালে ছিল ৪১.৫ শতাংশ।

    তিনি বলেন, তার সরকার সামাজিক সুরক্ষার জন্য জাতীয় বাজেট বরাদ্দ ৪০ গুণ বাড়িয়েছে, যা জিডিপির ২.৫ শতাংশ।

    শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার এক বছর আগে সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার বিনা খরচে সকল গৃহহীন ও ভূমিহীন মানুষকে আবাসন প্রকল্পের আওতায় আনার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

    শেখ হাসিনা বলেন, “আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধীনে, আমরা প্রায় ৫০ লাখ মানুষকে বিনা খরচে বাড়ি দিয়েছি এবং আয়সংস্থানমূলক দক্ষতা ও সহায়তা দিয়েছি।” প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তার সরকার প্রতিটি বাড়ির দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা এবং বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের শ্রমশক্তিতে নারীদের অংশগ্রহণের হার আমাদের আঞ্চলিক দেশগুলোর তুলনায় বেশি।

    শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের সরকার সম্প্রতি আমাদের জাতীয় জিডিপিতে নারীদের গৃহস্থালির কাজ প্রতিফলিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক সংযোগ, বিমান ও লজিস্টিক হাব হিসেবে গয়ে তোলার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়।

    তিনি বলেন, “আমরা ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি, যা ২০৩০ সালের মধ্যে আনুমানিক দশ মিলিয়ন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলে একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বিশ্বের শতাধিক সেরা সবুজ কারখানার অর্ধেকেরও বেশি এখন বাংলাদেশে রয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে একটি ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার জন্য তার পরবর্তী রূপকল্প চালু করেছে যার লক্ষ্য ডিজিটালভাবে নাগরিকদের ক্ষমতায়িত করা; চেহারাহীন সরকারি সেবা প্রদান; একটি জ্ঞান-ভিত্তিক নগদ অর্থ লেনদেনহীন অর্থনীতি; এবং একটি অধিকার-ভিত্তিক ন্যায়সঙ্গত এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ।

    সূত্র : বাসস

  • রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ভারতকে অধিকতর কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

    রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ভারতকে অধিকতর কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

    রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন জোরপূর্বক বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গাদের তাদের দেশ মায়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবাসনে ভারতকে অধিকতর কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

    আজ দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সাথে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মার সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহবান জানান ।

    রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিলেও তাদের অবস্থান শুধু বাংলাদেশেই নয়, পুরো অঞ্চলের জন্য সমস্যা তৈরী করছে। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মোঃ জয়নাল আবেদীন বাসসকে একথা জানান।

    বাংলাদেশ ভারতকে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী বিবেচনা করে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি এই সম্পর্ককে “দৃঢ় ও অনন্য” বলে অভিহিত করেন ।

    রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের জনগণ ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন।

    বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাবুদ্দিন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারতে অবস্থাকালীন প্রশিক্ষণ গ্রহণ ও মুক্তিযুদ্ধের অংশগ্রহণের কথাও তুলে ধরেন।

    বাংলাদেশে ভারতের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সফর এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এরফলে দু’দেশের সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।

    বাংলাদেশ ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করে উল্লেখ করে, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, “চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের জন্য যে চুক্তি হয়েছে তাতে দু’ দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধির পাশাপাশি আর্থ-সামাজিক উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে।”

    গত ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করে নিজ দেশে পণ্য পরিবহণের বাণিজ্যিক অনুমতি পেয়েছে ভারত।

    এর আগে ২০১৮ সালে ভারতে এসিএমপি (চট্টগ্রাম এবং মংলা পোর্ট) চুক্তি স্বাক্ষর করে ঢাকা ও দিল্লি। এর আওতায় ভারতকে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করে নিজ দেশে পণ্য পরিবহণের অনুমতি দেয় বাংলাদেশ।

    পানি বন্টন চুক্তিসহ দু’দেশের অমীমাংসিত ইস্যুগুলো পারস্পরিক সহযোগিতা ও আলোচনার মাধ্যমে অচিরেই সমাধান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রপতি।

    ভারতের হাইকমিশনার বলেন, তার দেশ বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়।  গত দেড় দশকে দু’দেশের মধ্যে কানেক্টিভিটি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। উভয় দেশের জনগণ তার সুফল ভোগ করছে।

    সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের “জিরো টলারেন্স নীতির প্রশংসা করে তিনি বলেন, এর ফলে এ অঞ্চলে স্থিতিশীলতা এসেছে যা দুদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক অবদান রাখছে।

    সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিবগণ এবং ডেপুটি হাইকমিশনার বিনয় জর্জও উপস্থিত ছিলেন।

    সূত্র : বাসস

  • ৫০ বছরের অংশীদারিত্ব অনুষ্ঠানে যোগ দিবেন প্রধানমন্ত্রী

    ৫০ বছরের অংশীদারিত্ব অনুষ্ঠানে যোগ দিবেন প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে ৫০ বছরের অংশীদারিত্ব উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আজ সকালে যোগ দিবেন। তিনি ডব্লিউবি’র প্রিস্টন অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠেয় ‘বিশ্বব্যাংক-বাংলাদেশ অংশীদারিত্বের ৫০ বছরের প্রতিফলন’ বিষয়ক পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে ভাষণ দিবেন।

    এ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এবং প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান উপস্থিত থাকবেন।

    বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস এবং প্রতিষ্ঠানটির সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ কৌসিক বসু অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিবেন এবং সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন বৈশ্বিক ঋণদাতা ভিপি মার্টিন।

    পরে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বব্যাংকের ইস্ট ডাইনিং রুমে বিশ্ব ব্যাংক প্রেসিডেন্ট, এমডি এবং ভিপিদের সাথে পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন শেষে একটি উচ্চ পর্যায়ের ব্যবসায়িক মধ্যাহ্নভোজ সভায় যোগ দিবেন।

    তিনি বিশ্ব ব্যাংকের সদরদপ্তরে শিহাতা সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব ব্যাংকের বোর্ড সদস্যদের সাথে একটি বৈঠকে ভাষণ দিবেন।

    ওয়াশিংটন ডিসিতে ডব্লিউবি সদরদপ্তরে পৌঁছালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশ্ব ব্যাংকের বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদুলায়ে সেক এবং এর এসএআর ভিপি মার্টিন রাইজার ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানাবেন।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের সাথে প্রধানমন্ত্রী যৌথভাবে একটি চিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধন করবেন এবং প্রদর্শনীর কিছু মূল চিত্র ঘুরে দেখবেন।

    পরে শেখ হাসিনা একটি নৃত্য পরিবেশন প্রত্যক্ষ করবেন।

    অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশ-বিশ্বব্যাংকের ৫০ বছরের অংশীদারিত্ব’ বিষয়ক একটি ভিডিও প্রদর্শন করা হবে।

    সূত্র: বাসস

  • মহান মে দিবস

    মহান মে দিবস

    বাংলাদেশে এবারের মে দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘শ্রমিক-মালিক ঐক্য গড়ি, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলি’।

    শ্রম ছাড়া উৎপাদন সম্ভব নয়, শ্রমের মর্যাদা ছাড়া গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়, শ্রমিকের জীবনের নিরাপত্তা ছাড়া উৎপাদনশীল মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। শ্রম ও মেধা দিয়ে যে উৎপাদন, তা থেকেই সমাজ বিকশিত হয়, পুঁজি বিকশিত হয়। কিন্তু মানুষ যখন কৃষি থেকে বিচ্যুত হয়ে শিল্পে এসেছে, তখন থেকে পুঁজিপতিরা ক্ষুদ্র থেকে দ্রুতই বড় হতে শুরু করে এবং যে মানুষ কৃষক থেকে শ্রমিকে রূপান্তরিত হয়েছে, তারা সত্যিকার অর্থে সর্বহারা শ্রেণি হিসেবে আরো কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তির পথ দেখিয়েছে মে দিবস।

    মহান মে দিবস আজ। বিশ্বব্যাপী শ্রমজীবী মানুষের আন্দোলন-সংগ্রামের স্বীকৃতির দিন। শ্রমিকদের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রতিবছর ১ মে সারা বিশ্বে দিবসটি পালন করা হয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও গুরুত্বের সঙ্গে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। এ উপলক্ষ্যে আজ সরকারি ছুটি। এবারের মে দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘শ্রমিক-মালিক ঐক্য গড়ি, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলি।’ মহান মে দিবস উপলক্ষ্যে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর উদ্যোগে ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সদস্যপদ লাভ করে এবং আইএলওর ছয়টি কোর কনভেনশনসহ ২৯টি কনভেনশন অনুসমর্থন করে। এটি একটি বিরল ঘটনা এবং শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও তাদের অধিকার রক্ষায় এক অনন্য স্বীকৃতি।

    মে দিবসে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব শ্রমজীবী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিশ্বব্যাপী শ্রমজীবী মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিল্প ও শ্রমবান্ধব বর্তমান সরকার শ্রমিকের সার্বিক কল্যাণসাধন ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে উন্নত কর্মপরিবেশ, শ্রমিক-মালিক সুসম্পর্ক, শ্রমিকের পেশাগত নিরাপত্তা ও সুস্থতাসহ সার্বিক অধিকার নিশ্চিতকরণের কোনো বিকল্প নেই।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণীতে বলেছেন, মালিক-শ্রমিকের মধ্যে সৌহার্দ ও সুসম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে নিরাপদ কর্মপরিবেশ, সামাজিক নিরাপত্তা ও শ্রমিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ শ্রম আইন যুগোপযোগী ও আধুনিকায়ন করে ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন-২০১৮’ প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন খাতে কর্মরত শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন গঠন করা হয়েছে। আমরা রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস শিল্পে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের সার্বিক কল্যাণে আর্থিক সহায়তা প্রদানে একটি কেন্দ্রীয় তহবিল গঠন করেছি এবং সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছি। সব সেক্টরে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বাড়ানো হয়েছে।’

    ১৮৮৬ সালের এই দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটের শ্রমিকরা ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। ওই দিন তাদের আÍত্যাগের মধ্যদিয়ে বিশ্বে শ্রমিক শ্রেণির অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। শিকাগোর হে মার্কেটে দিনে ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করতে গিয়ে কয়েকজন শ্রমিককে জীবন দিতে হয়। এরপর থেকে সারা বিশ্বে দিনটি ‘মে দিবস’ হিসাবে পালিত হয়ে আসছে।

    এ উপলক্ষ্যে জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদেরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং শ্রমিক সংগঠনগুলো মে দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। এসব বিবৃতিতে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করা এবং অধিকার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

    দিনের তাৎপর্য তুলে ধরে জাতীয় পত্রিকায় বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলো বিশেষ অনুষ্ঠান ও টকশো সম্প্রচার করছে।

    শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আজ বেলা ১১টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজন করা হয়েছে মে দিবসের মূল অনুষ্ঠান।

    আজ বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাসসংলগ্ন স্বোপার্জিত স্বাধীনতা মঞ্চে মহান মে দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ গণসংগীত সমন্বয় পরিষদ আয়োজন করেছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী মিজানুর রহমান, স্বাগত বক্তব্য দেবেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী সুইট। আলোচনায় অংশ নেবেনÑনাট্যজন মামুনুর রশিদ, লেখক ও গবেষক গোলাম কুদ্দুছ, কবি ড. মুহাম্মদ সামাদ।

    অনুষ্ঠানে গণসংগীত পরিবেশন করবে ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, বহ্নিশিখা।