Category: লিড নিউজ

  • রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ছবি তুললেন পদ্মা সেতুতে দাঁড়িয়ে

    রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ছবি তুললেন পদ্মা সেতুতে দাঁড়িয়ে

    বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সপরিবারে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য টুঙ্গিপাড়ায় যাবার সময় এ ছবি তোলেন তিনি।

    দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে গেলেন মো. সাহাবুদ্দিন।

    বুধবার সকাল সোয়া দশটায় বঙ্গভবন থেকে রাষ্ট্রপতির গাড়িবহর যাত্রা শুরু করে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে টুঙ্গীপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে পৌঁছে। পদ্মা সেতু হয়ে সড়কপথে টুঙ্গিপাড়ায় যান রাষ্ট্রপ্রধান।

    টুঙ্গীপাড়া যাওয়ার পথে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পদ্মা সেতুতে নামেন রাষ্ট্রপতি। এ সময় পদ্মা সেতুর মাঝখানে কয়েক মিনিট যাত্রাবিরতি করেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ছবি তোলেন।

    রাষ্ট্রপতির সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন তার সহধর্মিণী ড. রেবেকা সুলতানা ও ছেলে মোহাম্মদ আরশাদ আদনান রনিসহ পরিবারের সদস্য, নিকটাত্মীয়, রাষ্ট্রপতির সচিবরা এবং বেসামরিক ও সামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

  • বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক ‘কৌশলগত অংশীদারিত্বে’ পৌঁছেছে : প্রধানমন্ত্রী

    বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক ‘কৌশলগত অংশীদারিত্বে’ পৌঁছেছে : প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ-জাপান বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ‘ব্যাপক অংশীদারিত্ব’ থেকে সফলভাবে ‘কৌশলগত অংশীদারিত্বে’ পৌঁছেছে।

    তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কিসিদা এবং আমি আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের আদ্যপান্ত আলোচনা করেছি। আমরা খুব খুশী যে, আমরা বাংলাদেশ-জাপান বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পকর্কে ‘ব্যাপক অংশীদারিত্ব’ থেকে ‘কৌশলগত অংশীদারিত্বে পৌঁছাতে পেরেছি।’

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিসিদার কার্যালয়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর বিনিময় প্রত্যক্ষ করার পর যৌথ বিবৃতি প্রদানের পর এই মন্তব্য করেন।

    তিনি আরো বলেন, ‘আজ, প্রধানমন্ত্রী কিসিদা এবং আমি ‘কৌশলগত অংশীদারিত্বের’ ওপর যৌথ বিবৃতি প্রদান করেছি। আমি বিশ্বাস করি যে, আমাদের দ’ুদেশের জনগণ ও সরকারের মধ্যে বিদ্যমান চমৎকার বোঝাপড়া, বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা সামনের দিনগুলোতে আরো জোরদার হবে।’

    শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের দুই পক্ষ কৃষি, শুল্ক সংক্রান্ত, প্রতিরক্ষা, তথ্য-প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, শিল্পোন্নোয়ন, মেধা সম্পদ, জাহাজ রিসাইক্লিং, এবং মেট্রোরেল বিষয়ে যেসব চুক্তি এবং সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে,ভবিষ্যত সহযোগিতার ক্ষেত্রে তা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করবে।’

    দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে উভয় পক্ষ রোহিঙ্গা ইস্যুর পাশাপাশি মহেশখালি-মাতারবাড়ি সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগ (এমআইডিআই) এবং বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট (বিগ-বি) অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।

    শেখ হাসিনা বলেন, তাঁরা অতিরিক্ত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির কারণে স্থানীয় জনগণের জীবন ও জীবিকার মারাত্বকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন।

    তিনি বলেন, ‘আমরা রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান খুঁজে বের করতে তাদের যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনার জন্য জাপানকে অনুরোধ জানিয়েছি।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরেই ঢাকা-নারিতা সরাসরি বিমান চলাচল শুরু হতে যাচ্ছে।
    তিনি বলেন, ‘চলতি বছরের মধ্যে ঢাকা-নারিতা সরাসরি বিমান চলাচলের ঘোষণা করতে পেরে আমরা খুশী।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁরা বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে এমআইডিআই ও বিগ-বি উদ্যোগ গ্রহণ এবং বঙ্গোপসাগর ও পাশ্ববর্তী অঞ্চলগুলোর যোগাযোগ স্থাপনের বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন।
    শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের বৃহত্তম উন্নয়ন অংশীদার হওয়ায় আমরা জাপান সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা জাপানের সঙ্গে আগামী দিনগুলোতে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি সম্পন্ন করার অপেক্ষায় আছি।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার হৃদয় ঘনিষ্ঠ জাপানের মতো একটি সুন্দর দেশে অবস্থান আমার জন্য সব সময় আনন্দের বিষয়।’

    তিনি বলেন, ‘আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ৫০ বছর সম্পন্ন হওয়ায় পর টোকিওতে সরকারি সফর শুরু করতে পেরে আমি বিশেষভাবে আনন্দিত।’

    শেখ হাসিনা বলেন, প্রধানমন্ত্রী কিসিদা এবং জাপান সরকারের আতিথেয়তায় আমি এবং আমার প্রতিনিধিদলের সদস্যরা গভীরভাবে মুগ্ধ।

    তিনি বলেন, জাপান বাংলাদেশের জনগণের হৃদয়ে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। যে কয়েকটি দেশ ১৯৭২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশকে দ্রুত স্বীকৃতি দিয়েছিল জাপান তাদের মধ্যে একটি।

    তিনি বলেন, ১৯৭৩ সালের অক্টোবরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক জাপান সফরের মাধ্যমে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপন করেছেন।

    মহামারি কোভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়ার আগে ২০১৯ সালে সর্বশেষ সফরের পরে তিন বছর পর শেখ হাসিনা জাপান সফর করছেন।

    এরআগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে ১৫ দিনের সরকারি সফরে ২৫ এপ্রিল সকালে ঢাকা ত্যাগ করেন এবং একই দিন স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে টোকিও’র হানেদা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জাপান বিমানবন্দরে লাল গালিচা সংবর্ধনা দিয়ে স্বাগত জানায় এবং গার্ড অব অনার প্রদান করে।

    সূত্র : বাসস

  • শেখ হাসিনাকে জাপানে লাল গালিচা সংবর্ধনা

    শেখ হাসিনাকে জাপানে লাল গালিচা সংবর্ধনা

    জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার আমন্ত্রণে চারদিনের সফরে আজ বিকেলে টোকিও পৌঁছলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয়।

    প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভিভিআইপি চাটার্ড ফ্লাইট (বিজি১৪০৩) আজ জাপানের স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে টোকিও’র হানেদা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরন করে। বিমানবন্দরে জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ইয়ামাদা কেনজি ও জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাহাবুদ্দিন আহমেদ প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

    এর আগে জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে ১৫ দিনের সরকারি সফরের প্রথম পর্যায়ে টোকিও’র উদ্দেশে আজ সকাল ৭টা ৫৬ মিনিটে বিমানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে।

    টোকিও’র বিমানবন্দর থেকে আনুষ্ঠানিক মোটর শোভাযাত্রা সহকারে তাঁকে আকাসাকা প্রাসাদে নিয়ে যাওয়া হয়। জাপান সফরকালে প্রধানমন্ত্রী টোকিও’র এই প্রাসাদেই অবস্থান করবেন।
    সফরকালে টোকিওর সাথে আটটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলে ঢাকা আশা করছে।

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.এ কে আব্দুল মোমেন গতকাল সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্রিফিংকালে বলেন, ‘দুই প্রধানমন্ত্রীর (বাংলাদেশ ও জাপান) উপস্থিতিতে উভয় দেশের মধ্যে আটটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে।’

    তিনি আরো বলেন, জাপান সফরকালে কৃষি, মেট্রোরেল, শিল্প উন্নয়ন, জাহাজ রিসাইক্লিং, শুল্ক সংক্রান্ত বিষয়, মেধাস্বত্ব, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, আইসিটি ও সাইবার নিরাপত্তা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।

     

    শেখ হাসিনাকে জাপানে লাল গালিচা সংবর্ধনামোমেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৬ এপ্রিল জাপানের সম্রাট নারুহিতোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

    একই দিন চুক্তি স্বাক্ষরের পর শেখ হাসিনা জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে নৈশভোজের মাধ্যমে বৈঠকটি শেষ হবে।
    জাপান সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি বিনিয়োগ সম্মেলন এবং প্রবাসী বাংলাদেশীদের আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও যোগ দেবেন।

    মোমেন বলেন, একই দিন প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য চার জাপানি নাগরিককে ‘ফ্রেন্ড অব লিবারেশন ওয়ার অনার’ প্রদান করবেন।

    ২৭এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টোকিওতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি এবং জেট্রোর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বাংলাদেশ বিজনেস সামিটে প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দিবেন।

    সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী জাপানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি ও কমিউনিটি আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। টোকিও সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োশিমাসা হায়াশির সঙ্গে বৈঠক করবেন। এছাড়াও তিনি জাইকা, জেইটিআরও, জেইইআইসি, জেবিপিএফএল, জেবিসিসিইসি’র নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠকসহ আরও কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে যোগ দেবেন।

    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জাপানের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সহধর্মিনী আকি আবে ও জাপানি স্থপতি তাদাও আন্দোর সঙ্গেও দেখা করবেন।

    এছাড়া,জাপানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল ‘এনএইচকে’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি সাক্ষাৎকার সম্প্রচার করবে।

    প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরকালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ সংশ্লিষ্ট উচ্চ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন।

    প্রধানমন্ত্রী টোকিও থেকে ওয়াশিংটন ডিসিতে পৌঁছে ১ মে বিশ্ব ব্যাংকের সদর দফতরে বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে ৫০ বছরের অংশীদারিত্ব উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

    মোমেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৪ মে যুক্তরাজ্য এবং অন্যান্য কমনওয়েলথ দেশের রাজা ও রাণী তৃতীয় চার্লস এবং তার পরবর্তীতে ক্যামিলার রাজ্যাভিষেকে যোগদানের জন্য লন্ডনের উদ্দেশে ওয়াশিংটন ত্যাগ করবেন।

    প্রধানমন্ত্রী আগামী ৯ মে লন্ডন থেকে ঢাকা পৌঁছবেন।

    সূত্র : বাসস

  • বঙ্গভবনের বাসিন্দা হলেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

    বঙ্গভবনের বাসিন্দা হলেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

    বঙ্গভবনের বাসিন্দা হলেন সদ্য শপথ নেয়া রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি আজ এখানে অফিস করেছেন এবং কয়েকটি ফাইলেও স্বাক্ষর করেছেন। মুক্তিযোদ্ধা সাহাবুদ্দিন বাংলাদেশের ইতিহাসে ২২তম রাষ্ট্রপতি। সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন তিনি।

    আজ সকালে বঙ্গভবনের দরবার হলে শপথ গ্রহণের পরে রাষ্ট্রপতি তাঁর গুলশানের বাসভবনে যান। এদিকে বেলা পৌনে দুটোয় বিদায় সংবর্ধনার পরে আবদুল হামিদও তাঁর নিকুঞ্জ বাসভবনে চলে যান।

    পরে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন সহধর্মিণী ড. রেবেকা সুলতানা এবং পুত্র আরশাদ আদনান রনিসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে গুলশানের বাসা থেকে মটরগাড়ি শোভাযাত্রা সহকারে আজ রাত ৮টা ৫০ মিনিটে বঙ্গভবনে আসেন।

    রাষ্ট্রপ্রধান বঙ্গভবনে পৌঁছুলে পুলিশের সুসজ্জিত একটি অশ্বারোহী দল বঙ্গভবনের বাইরের মেইন গেটে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানিয়ে মূল ফটকে নিয়ে আসেন। মূল ফটকে পৌঁছলে বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

    রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়–য়া, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এসএম সালাহউদ্দিন ইসলাম, প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন এবং সচিব (সংযুক্ত) মো. ওয়াহিদুল ইসলাম খানসহ উচ্চতম সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

    রাষ্ট্রপতিকে আগামীকাল সকাল সাড়ে দশটায় পিজিআর কর্তৃক  গার্ড অনার প্রদান করা হবে।
    সকাল ১১টা ৩৮ মিনিটে রাষ্ট্রপতি জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তপক অর্পণ করবেন। তিনি সেখানে একটি পরিদর্শক বইয়েও স্বাক্ষর করবেন।

    এরপরে রাষ্ট্রপতি সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ থেকে মোটরশোভাযাত্রা সহযোগে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন এবং ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে এবং দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

    সূত্র : বাসস

  • প্রধানমন্ত্রী কাল ত্রিদেশীয় সফরে যাচ্ছেন, ৮টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে

    প্রধানমন্ত্রী কাল ত্রিদেশীয় সফরে যাচ্ছেন, ৮টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল ১৫ দিনের সরকারি সফরে জাপান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে যাচ্ছেন। জাপন সফরকালে টোকিওর সাথে আটটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলে আশা করছে ঢাকা।

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এখানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্রিফিংকালে বলেন, ‘দুই প্রধানমন্ত্রীর (বাংলাদেশ ও জাপান) উপস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে আটটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হতে পারে।’ তিনি আরো বলেন, জাপান সফরকালে কৃষি, মেট্রোরেল, শিল্প উন্নয়ন, জাহাজ রিসাইক্লিং, শুল্ক সংক্রান্ত বিষয়, মেধা স্বত্ব, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, আইসিটি ও সাইবার নিরাপত্তা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই সফর দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারিত্বে’ উন্নীত করার বিষয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করবে।

    ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমও বক্তব্য রাখেন। জাপান সফর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করবেন এবং একই দিন বিকেল ৫টায় (স্থানীয় সময়) টোকিও পৌঁছাবেন।

    মোমেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৬ এপ্রিল জাপানের সম্রাট নারুহিতোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। একই দিনে তিনি চুক্তি স্বাক্ষরের পর তার জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন।

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে নৈশভোজের মাধ্যমে বৈঠকটি শেষ হবে। ২৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টোকিওতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (বিডা) এবং জেট্রোর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বাংলাদেশ বিজনেস সামিটে প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন।

    একই দিনে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য চার জাপানি নাগরিককে ‘ফ্রেন্ড অব লিবারেশন ওয়ার অনার’ তুলে দেবেন।

    সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী জাপানে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসী ও কমিউনিটি আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। টোকিও সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োশিমাসা হায়াশির সঙ্গে বৈঠক করবেন। এছাড়াও তিনি জাইকা, জেইটিআরও, জেইইআইসি, জেবিপিএফএল, জেবিসিসিইসি-এর নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠকসহ আরও কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে যোগ দেবেন।

    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জাপানের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সহধর্মিণী আকি আবে ও একজন জাপানি স্থপতি তাদাও আন্দোর সঙ্গেও দেখা করবেন।

    এছাড়া, জাপানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল এনএইচকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি সাক্ষাৎকার সম্প্রচার করবে।

    জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ সংশ্লিষ্ট উচ্চ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা তাঁর সঙ্গে থাকবেন।

    এটি হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ষষ্ঠ জাপান সফর। এর আগে প্রধানমন্ত্রী ১৯৯৭, ২০১০, ২০১৪, ২০১৬ ও ২০১৯ সালে জাপান সফর করেন।

    যুক্তরাষ্ট্র সফর ওয়াশিংটন ডিসিতে পৌঁছে আগামী ১ মে প্রধানমন্ত্রী বৈশ্বিক এই ব্যাংকের সদর দফতরে বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে ৫০ বছরের অংশীদারিত্ব উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

    বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন বিষয়ক সেমিনারে এক অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা “বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংকের ৫০ বছরের অংশীদারিত্বের প্রতিফলন” শীর্ষক একটি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করবেন। ওই অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টও বক্তৃতা করবেন।

    একই দিন শেখ হাসিনা বিশ্বব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে এক একান্ত বৈঠকে যোগ দেবেন। সেমিনারে বাংলাদেশের উন্নয়নের জয় যাত্রা ও বিগত পাঁচ দশকে দেশে বিশ্বব্যাংকের কার্যক্রম তুলে ধরা হবে।

    এছাড়া, বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও শিল্পকর্ম তুলে ধরতে “বাংলাদেশ-বিশ্বব্যাংকের ৫০ বছরের অংশীদারিত্ব” শীর্ষক মাল্টিমিডিয়া প্রদর্শণীর আয়োজন করা হবে।

    এর আগে ২৯ এপ্রিল বিকেলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে।

    আগামী ২ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ‘ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল’-এর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা একান্ত বৈঠকে যোগ দেবেন। পরে ইউএস চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুজান পি ক্লার্ক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

    একই দিনে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট নিশা বিসওয়ালের আমন্ত্রণে মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সাথে একটি ‘উচ্চ পর্যায়ের নির্বাহী’ রাউন্ড টেবিলে মূল বক্তা হিসেবে যোগ দেবেন।

    এছাড়া বিশ্বব্যাংকের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গের সঙ্গেও বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। যুক্তরাজ্য সফর ৪ মে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাজ্য এবং অন্যান্য কমনওয়েলথ দেশের রাজা ও রাণী হিসাবে তৃতীয় চার্লস এবং তার ক্যামিলার রাজ্যাভিষেকে যোগদানের জন্য লন্ডনের উদ্দেশ্যে ওয়াশিংটন ত্যাগ করবেন। প্রায় ১৩০ জন রাষ্ট্র বা সরকার প্রধান ব্রিটিশ রাজার আসন্ন রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন- যা ৭০ বছর পর হতে চলেছে।

    সফরকালে কমনওয়েলথ মহাসচিব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাত করবেন এবং বেশ কয়েকজন ব্রিটিশ মন্ত্রীও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়োজনে এক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। আগামী ৮ মে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকার উদ্দেশে লন্ডন ত্যাগ করার কথা রয়েছে।

    সূত্র : বাসস

  • বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে আগামীকাল শপথ নেবেন মোঃ সাহাবুদ্দিন

    বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে আগামীকাল শপথ নেবেন মোঃ সাহাবুদ্দিন

    মোঃ সাহাবুদ্দিন আগামীকাল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। সকাল ১১টার দিকে বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক দরবার হলে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হবে। জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী তাঁকে (সাহাবুদ্দিন) রাষ্ট্রপতির পদে শপথ পাঠ করাবেন।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মন্ত্রিপরিষদ সদস্যসহ কয়েকশ বিশিষ্ট অতিথি এ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোঃ মাহবুব হোসেন। এরপর নতুন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন শপথ নথিতে স্বাক্ষর করবেন।

    রাষ্ট্রপতির সচিব মোঃ জয়নাল আবেদীন বাসসকে জানান, শপথ গ্রহণের পরপরই নতুন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন এবং রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়ার বদল করবেন।

    মুক্তিযোদ্ধা ও মাঠপর্যায়ের রাজনীতিবিদ মোঃ সাহাবুদ্দিন ২১তম রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদের স্থলাভিষিক্ত হবেন। রাষ্ট্রপতি হামিদ সাবেক রাষ্ট্রপতি মোঃ জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসাবে ৪১ দিনসহ টানা দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপতি হিসাবে ১০ বছর ৪১ দিন অতিবাহিত করার পরে অবসরে যাচ্ছেন।

    নতুন রাষ্ট্রপতির স্ত্রী ড. রেবেকা সুলতানা ও ছেলে আরশাদ আদনান রনিসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।

    প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, সংসদ সদস্য, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, কূটনীতিক, সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং পদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানটি প্রত্যক্ষ করবেন।

    এর আগে ৭৩ বছর বয়সী এই  রাজনীতিবিদ ২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়াারি বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

    মো. সাহাবুদ্দিন ১৯৪৯ সালের ১০ ডিসেম্বর পাবনা শহরের শিবরামপুরের জুবিলী ট্যাংক পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর ডাক নাম চুপ্পু। পিতা শরফুদ্দিন আনছারী, মাতা খায়রুন্নেসা।
    তিনি ১৯৭৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরে এলএলবি ও বিসিএস (বিচার) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

    তিনি পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, পাবনা জেলা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। জেলা বাকশালের যুগ্ম-সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

    সাহাবুদ্দিন ছেষট্টির ৬ দফা আন্দোলন, উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

    তিনি পাবনা জেলার আন্দোলন-সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের পর তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করেন। ওই সময় সামরিক স্বৈরশাসকদের রোষানলে তিন বছর জেল খাটেন এবং অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হন।

    মো. সাহাবুদ্দিন দৈনিক বাংলার বাণীতে সাংবাদিকতাও করেছেন। তাঁর অনেক কলাম বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে ছাপা হয়েছে।

    কর্মজীবনে তিনি জেলা ও দায়রা জজ এবং দুদকের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক এবং বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে নিযুক্ত সমন্বয়কারী হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন।

    সাহাবুদ্দিন পরপর দুবার বিসিএস (বিচার) এ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব নির্বাচিত হন। চাকরি থেকে অবসরের পর হাইকোর্টে আইন পেশায় নিযুক্ত হন।

    পরবর্তীকালে ২০০১ সালের নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা তদন্তে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দুদক কমিশনার হিসেবে সাহাবুদ্দিন পদ্মা সেতু প্রকল্পের বিরুদ্ধে উঠা তথাকথিত দুর্নীতির ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় দৃঢ়তার পরিচয় দেন।

    সাবেক এই ছাত্রনেতা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

    সূত্র : বাসস

  • ঈদে দেশের অব্যাহত অগ্রযাত্রা ও বিশ্ব মুসলিমের কল্যাণ কামনা তথ্যমন্ত্রীর

    ঈদে দেশের অব্যাহত অগ্রযাত্রা ও বিশ্ব মুসলিমের কল্যাণ কামনা তথ্যমন্ত্রীর

    পবিত্র ঈদ উল ফিতরে দেশের অব্যাহত অগ্রযাত্রা ও বিশ্বের মুসলমানদের কল্যাণ কামনা করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

    আজ শনিবার সকালে চট্টগ্রামে নিজ নির্বাচনী এলাকা রাঙ্গুনিয়ায় নিজগ্রাম সুখবিলাসের জামে মসজিদে ঈদের জামাতে উপস্থিত হয়ে তিনি এ প্রার্থনা করেন। নামাজ শেষে হাছান মাহমুদ এলাকাবাসীর সাথে কোলাকুলি ও কুশল বিনিময় করেন।

    ঈদ উল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সরকারের নানাবিধ ব্যবস্থার কারণে মজুতদার ও অসাধু ব্যবসায়ীরা প্রতি বছর রমজান মাসে ঈদ উপলক্ষে যেভাবে দ্রব্যমূল্য বাড়ানোর চেষ্টা করে এবার সেভাবে বাড়াতে পারেনি। এবারের ঈদযাত্রাও অনেক স্বস্তিদায়ক হয়েছে। মানুষ অনেক শান্তিপূর্ণভাবে স্বস্তির সাথে ঈদযাত্রা করতে পেরেছে।’

    চট্টগ্রাম ৭ আসনের সংসদ সদস্য হাছান মাহমুদ বলেন, ‘পবিত্র ঈদের এই দিনে মহান ¯্রষ্টার কাছে ফরিয়াদ হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের দেশ আজ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, এই অগ্রযাত্রা যেন অব্যাহত থাকে।

    সেইসাথে দেশ থেকে ষড়যন্ত্র, সংঘর্ষ, হিংসা ও ঘৃণার রাজনীতি যেন চিরতরে দূরীভূত হয় এবং আমরা সবাই মিলে যেন দেশের স্বার্থকে সবার ওপরে তুলে ধরতে পারি সেই প্রার্থনা করি।’

    তিনি বলেন, ‘বিশ্বের যেসব জায়গায় মুসলমানরা অসহায় নির্যাতনের শিকার, যেমন ফিলিস্তিনে যেন তাদের দাবি প্রতিষ্ঠিত হয়, মায়ানমার থেকে বিতাড়িত মুসলিমদের মায়ানমার সরকার যেন ফেরত নিয়ে যায়, সেজন্য মহান আল্লাহতা’লার কাছে প্রার্থনা করি।’

  • যথাযোগ্য মর্যাদা ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্যদিয়ে সারাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত

    যথাযোগ্য মর্যাদা ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্যদিয়ে সারাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত

    যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্যদিয়ে আজ রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে।

    দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ঈদের নামাজ আদায়ের মধ্যদিয়ে পালন করছেন তাদের অন্যতম প্রধান এই ধর্মীয় উৎসব। আল্লাহ’র সন্তুষ্টি লাভের আশায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ধর্মপ্রাণ লাখো-কোটি মানুষ আজ সকালে ভারী বর্ষণকে উপেক্ষা করে ঈদগাহ, মসজিদ ও খোলা মাঠে সামিয়ানার নিচে আজ ঈদের নামাজ আদায় করেছেন।

    সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানী ঢাকায় প্রধান ঈদ জামায়াত হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়।

    রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান, সংসদ সদস্য, সুপ্রিমকোর্ট ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, সিনিয়র রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন মুসলিম দেশের কূটনীতিকসহ সর্বস্তরের লাখো মানুষ উৎসব আমেজে সেখানে নামাজ আদায় করেন।

    নামাজ শেষে রাষ্ট্রপতি উপস্থিত সবার সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামায়াতের ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মাওলানা মুফতি রুহুল আমিন। বিকল্প ইমাম হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামেয়া আরাবিয়া মিরপুর, ঢাকার মাওলানা সৈয়দ ওয়াহিদুজ্জামান। নামাজ শেষে সমগ্র মুসলিম উম্মাহসহ দেশ ও জাতির কল্যাণ, সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

    ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন জাতীয় ঈদগাহের এ জামায়াতের আয়োজন করে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ঈদগাহে পৌঁছলে সিটি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস তাঁকে স্বাগত জানান। এই প্রধান জামায়াতে মহিলা ও বিদেশী কূটনীতিকদের নামাজ আদায়ের বিশেষ ব্যবস্থা ছিল। মুসুল্লিদের জন্য ওযু, খাবার পানি ও মোবাইল টয়লেটেরও ব্যবস্থা ছিল।

    জাতীয় ঈদগাহে সুষ্ঠুভাবে ঈদ জামায়াত অনুষ্ঠানে নেয়া হয় তিন স্তরের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ঈদগাহে সকল প্রবেশ পথ এবং ভিভিআইপি ও ভিআইপিদের নামাজের স্থানসহ ঈদগাহ মাঠের গোটা প্যান্ডেলে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়।

    মুসল্লিদের ঈদগাহে  প্রবেশের  আগে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশীর পর আর্চওয়ে দিয়ে প্যান্ডেলে প্রবেশ করতে হয়। প্রধান এই জামায়াতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাদা পোশাকে র‌্যাব এবং পুলিশ সদস্যরা ঈদগাহ ময়দানে সার্বক্ষণিক তৎপর ছিলেন।

    রাজধানীতে দ্বিতীয় বৃহত্তম জামায়াত অনুষ্ঠিত হয় বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে। এখানে এবারও ৫টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

    জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদুল ফিতরের জামায়াতের আয়োজন করা হয়েছে। এখানে মন্ত্রী পরিষদের সদস্যবর্গ, জাতীয় সংসদের হুইপবৃন্দ, সংসদ সদস্য ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ এলাকার মুসল্লিগণ জামায়াতে অংশ নেন।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামি’আয় ঈদের দু’টি জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল মেইন গেইট সংলগ্ন মাঠে সাড়ে ৮টায় ও ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হল লনে সকাল ৮টায় পৃথক দু’টি ঈদ জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া রাজধানীর মীরবাগ জামে মসজিদে সকাল ৮টায় ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। পল্লবীর বায়তুল আমান জামে মসজিদে দুটি জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। মিরপুর-১২ নম্বরে হারুন মোল্লা ঈদগাহ্ মাঠে ঈদের প্রধান জামায়াত অনুষ্টিত হয়।

    বন্দর নগরী চট্রগ্রামে ঈদের প্রধান জামায়াত অনুষ্ঠিত হয় দামপাড়া জমিয়তুল ফালাহ মসজিদে। বাসস’র কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় দেশের সর্ববৃহৎ ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ১০টায়। জামায়াতে ইমামতি করেন বাংলাদেশ ইসলাহুল মুসলেমিন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ। জামায়াতের পর বিশ্বশান্তি ও দেশের সমৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাত করা হয়। এটি ছিল ঈদুল ফিতরের ১৯৬ তম ঈদ জামায়াত।

    বাসস’র দিনাজপুর সংবাদদাতা জানান, এশিয়ার সর্ববৃহৎ ঈদগাহ দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ ময়দানে ঈদুল ফিতরের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রখর রোদ আর তাপপ্রবাহেও ময়দানে মুসল্লিদের ঢল নামে। এবারও একসঙ্গে ৬ লাখ মুসল্লি নামাজ আদায় করেছেন বলে আয়োজকরা জানান। ৯টায় শুরু হওয়া এই জামায়াতে ইমামতি করেন মাওলানা শামসুল আলম কাশেমী। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহ’র অব্যাহত শান্তি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ূ ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

    মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান এই ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে পৃথক বাণী দিয়েছেন।

    মুসলিমদের ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দও দেশবাসীকে ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ঈদ উপলক্ষে বুধবার থেকে রোববার পর্যন্ত ৫ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

    নগরীর লাখ লাখ বাসিন্দা গ্রামের বাড়িতে আপনজন ও আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে ঈদের খুশি ভাগাভাগি করতে ইতোমধ্যে রাজধানী ছেড়ে গেছেন।

    পবিত্র দিনটিতে উৎসবের আমেজ দিতে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সড়ক দ্বীপসমূহে জাতীয় ও ঈদ মোবারক খচিত পতাকা দিয়ে সুসজ্জিত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি সকল সরকারি-বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা ও ঈদ মোবারক খচিত পতাকা উত্তোলন করা হয়। এছাড়াও নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলো আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়।

    ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কারাগারসহ দেশের সকল কারাগার, সরকারি হাসপাতাল, ভবঘুরে কল্যাণ কেন্দ্র, বৃদ্ধাশ্রম, শিশুসদন, ছোটমনি নিবাস, সামাজিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্র, সরকারি আশ্রয় কেন্দ্র, সেফ হোম্স, দুস্থ কল্যাণ কেন্দ্র এবং শিশু ও মাতৃসদনে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়।

    পবিত্র ঈদ উৎসব উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিও বিনোদনমূলক বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করছে।

    যথাযোগ্য মর্যাদা ও আনন্দ উৎসবের মধ্যদিয়ে ঈদ উদযাপনের লক্ষে জাতীয় পর্যায়ের সঙ্গে সমন্বয় রেখে স্থানীয় পর্যায়ে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাগুলো দেশব্যাপী ঈদ উদযাপন করে।
    বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসসমূহে সরকারি কর্মসূচির আলোকে ঈদুল ফিতর উদযাপনের ব্যবস্থা নেয়া হয়।

    সূত্র : বাসস

  • ঈদ জামাতের জন্য প্রস্তুত জাতীয় ঈদগাহ, থাকছে চারস্তরের নিরাপত্তা

    ঈদ জামাতের জন্য প্রস্তুত জাতীয় ঈদগাহ, থাকছে চারস্তরের নিরাপত্তা

    ঈদ জামাতের জন্য প্রস্তুত জাতীয় ঈদগাহ ময়দান। সকাল সাড়ে আটটায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্টিত হবে জাতীয় ঈদগাহে। রাষ্ট্রপতিসহ রাষ্ট্র ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা নামাজ আদায় করবেন সেখানে। যাবেন সর্বস্তরের মুসুল্লিরাও। নির্বিঘ্নে নামাজ আদায়ে সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।

    একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারবেন ৩৫ হাজার মুসুল্লি। নাশকতার কোনো আশঙ্কা না থাকলেও চারস্তরের নিরাপত্তা বলয় থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও র‌্যাব। বিশেষ করে ভিভিআইপি, ভিআইপি এবং রাষ্ট্র ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য থাকছে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা।

    দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদ। শুক্রবার সকালে ঈদগাহ ময়দানে আসেন ডিএমপি কমিশনারসহ পুলিশের ঊর্ধতন কর্মকর্তারা। মাঠের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন তারা। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি রোধে কাজ করছে ডগ স্কোয়ার্ড, বোম ডিসপোজাল ইউনিট, সোয়াত টিমসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, জায়নামাজ ব্যতিত অন্য কোনো ব্যাগ বা অন্য কোনো দ্রব্যাদি আনা যাবে না।

    ডিএমপি কমিশনার জানান, কোনো নাশকতার তথ্য নেই। তারপরও সব ধরনের প্রস্তুতি আছে। খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, সুনির্দিষ্ট কোনো হুমকি নেই যেহেতু এটা সর্ববৃহৎ জামাত সেজন্য সব ধরনের নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। অতীতে শোলাকিয়াহ মাঠে একটা দুর্ঘটনা ঘটেছিল তাই অতীতের ঘটনাকে প্রাধান্য দিয়ে এই নিরাপত্তা।

    এরপর আসেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাবের মহাপরিচালকসহ সিনিয়র কর্মকর্তারা। মাঠের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন তারাও।

    র‌্যাব মহাপরিচালক জানান, শুধু জাতীয় ঈদগাহ নয়, দেশের সব জায়গায়ই সক্রিয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত তারা।

    র‌্যাব পরিচালিক এম খুরশীদ হোসেন বলেন, “যে কোনো নাশকতা-হামলা মোকাবেলায় র‌্যাব কমান্ডো টিমকে সার্বক্ষনিকভাবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া পর্যাপ্ত টহল ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করার মাধ্যমে নাশকতাসহ যে কোনো ধরনের পরিস্থিতি কঠোরভাবে মোকাবেলা করা হবে।”

    নির্ধারিত সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে বিকল্প ব্যবস্থায় সকাল নয়টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে হবে ঈদের প্রধান জামাত।

  • আগামীকাল ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন রাষ্ট্রপতি

    আগামীকাল ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন রাষ্ট্রপতি

    মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ আগামীকাল বঙ্গভবনে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

    রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন বাসস’কে জানান, ‘রাষ্ট্রপতি সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানীর হাইকোর্টের সামনে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করবেন। পরে তিনি সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত বঙ্গভবনে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।’

    তিনি আরো জানান, ‘রাষ্ট্রপতি এ উপলক্ষে একটি সংক্ষিপ্ত ভাষণও দিবেন।’ রাষ্ট্র প্রধান সিনিয়র রাজনীতিবিদ, বিচারক, কবি, সাহিত্যিক, লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী এবং বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

    সূত্র : বাসস