Author: Hello Bangla News

  • গাজায় বিমান থেকে খাবারের প্যাকেট ফেলল যুক্তরাষ্ট্র

    গাজায় বিমান থেকে খাবারের প্যাকেট ফেলল যুক্তরাষ্ট্র

    www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ৩ মার্চ, ২০২৪: প্রায় পাঁচ মাস ধরে গাজায় চলছে ইসরায়েলি হামলা। এই অবস্থায় গাজায় দেখা দিয়েছে চরম খাদ্য সংকট। এই খাদ্য সংকট মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর পরিবহন বিমান থেকে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার বাসিন্দাদের জন্য খাবার ফেলা হয়েছে। গাজায় প্রবেশমুখগুলো অবরোধ করে রেখেছে ইসরায়েল। সেই সঙ্গে অবরুদ্ধ গাজায় নির্বিচার বোমা হামলার কারণে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর এমন অভিযোগের পর এটাই গাজাবাসীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রথম সহায়তা দেওয়ার ঘটনা। শনিবার তিনটি সামরিক বিমানের মাধ্যমে ৩৮ হাজারেরও বেশি খাবারের প্যাকেট প্যারাসুটের সাহায্যে নিচে ফেলা হয়।

    জর্ডানের বিমান বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত এ অভিযানে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ঘোষণার পর প্রথমবারের মতো এ কার্যক্রম শুরু হলো।

    বৃহস্পতিবার ত্রাণের জন্য অপেক্ষমাণ জনতার ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় কমপক্ষে ১১২ জন নিহত হওয়ার পর বাইডেন সাহায্য বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন।

    মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শনিবার সি-১৩০ পরিবহন বিমানগুলো ভূখণ্ডের উপকূলে ৩৮ হাজারেরও  বেশি খাবারের প্যাকেট ফেলেছে।

    যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, মিশর এবং জর্ডানসহ অন্যান্য দেশগুলো এর আগে গাজায় ত্রাণ পাঠিয়েছে, তবে এটিই প্রথম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

    প্রশাসনিক কর্মকর্তারা বলেছেন বৃহস্পতিবারের মর্মান্তিক মানবিক পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়ায় গাজায় মানবিক সহায়তার প্রবাহ সম্প্রসারণ ও টেকসই করার গুরুত্ব উঠে এসে এসেছে। তবে সাহায্য সংস্থাগুলো বলেছে আকাশ থেকে সাহায্য বিতরণের পদ্ধতি একটি অকার্যকর উপায়। বাস্তুচ্যুত গাজার বাসিন্দা মেধাত তাহের বলেছেন, এ ধরনের পদ্ধতি প্রয়োজনের খুবই অপ্রতুল।

    এদিকে শনিবার বাইডেন প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ইসরায়েল একটি নতুন যুদ্ধবিরতির চুক্তি মোটামুটি মেনে নিয়েছে।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, আজ থেকে গাজায় ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি হবে যদি হামাস দুর্বল জিম্মি (…) অসুস্থ, আহত, বয়স্ক এবং নারী জিম্মিদের মুক্তি দিতে সম্মত হয়।

    কয়েক মাস ধরেই গাজায় আরো সাহায্যের অনুমতি দিতে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু রাফাহ ক্রসিং দিয়ে ত্রাণ সরবরাহকারী ট্রাক চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েল।

  • শিশু- কিশোর ও যুব নাট্য উৎসবের আজ সমাপনী দিন

    শিশু- কিশোর ও যুব নাট্য উৎসবের আজ সমাপনী দিন

    www.HelloBangla.News – বিনোদন – ৩ মার্চ, ২০২৪: বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও পিপলস থিয়েটার এসোসিয়েশন এর যৌথ আয়োজন- জাতীয় শিশু-কিশোর ও যুব নাট্যোৎসবের সমাপনী হচ্ছে আজ। এবারে নাট্যোৎসবে সমাজ সংস্কারের বিভিন্ন ধরণের বার্তা দেওয়া হয়েছ।

    শিল্প সংস্কৃতিঋদ্ধ সৃজনশীল মানবিক বাংলাদেশ’ গড়ার অভিলক্ষ্যে ‘অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় শিল্প নিয়ে পৌঁছে যাবো আমারা উন্নতির শিখরে’ এই প্রতিপাদ্যে শিল্পের সকল শাখার সমন্বয়ে বৈচিত্র্যময় ও সাংস্কৃতিক প্রভাব সৃষ্টিকারী কর্মসূচিগুলো দেশব্যাপী বাস্তবায়ন করছে বাংলাদশে শিল্পকলা একাডেমি। দেশের কাঙ্খিত সামগ্রিক উন্নয়নের টেকসই রূপায়নে সকল শ্রেণী, সম্প্রদায়ের শিশু-কিশোর ও যুবকদের সম্পৃক্ত এবং অনুপ্রাণিত করতে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও পিপ্লস থিয়েটার এসোসিয়েশন যৌথভাবে দেশের শিশু-কিশোর ও যুবকদের ১০০টি নাট্য প্রযোজনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা সমন্বয়ে ‘পঞ্চদশ জাতীয় শিশু-কিশোর ও যুব নাট্যোৎসব ২০২৪’ আয়োজন করে।

    নাটকের সামগ্রীক মূল্যায়নে কিভাবে মানুষের মধ্যে সুস্থতারে দিকে ধাবিত করে তারই প্রকাশ পেয়েছে ‘প্রকৃতির পাঠ’ নাটকে।

    কোন এক রাজার রাজ্যে অন্যসব ঠিক ঠাক চলছিল। একদিন রাজার চোখে পড়লো প্রকৃতির মাঝে শিশুরা পড়ালেখা বাদ দিয়ে হাসি, আনন্দ-উল্লাস নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। রাজা সেটা ভালোভাবে নিলেন না সেটাকে তিনি সময়ের অপচয় হিসাবে নিলেন। রাজা শিক্ষামন্ত্রীর প্ররোচনায় শিক্ষায় হাসি, গান, আনন্দ প্রকৃতি প্রেম সবকিছু রাজ্যে নিষিদ্ধ করলেন। শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক কেউই রাজার এই আদেশ মন থেকে মেনে নিতে পারলেন না। তারা প্রকৃতির কোলে নিজেকে বিলিয়ে দিতে চায় তারা প্রাণখুলে হাসি আনন্দে থাকতে চায় আর শিখতে চায় । বাউলও তাদের সাথে একাত্বতা প্রকাশ করে। তারা পাঠের সময় হাসি, আনন্দ গান নিয়ে বিদ্যাচর্চায় মনোনীবেশ করে। কিন্তু রাজার মন্ত্রী ও সেনাপতি রাজার আইন অমান্য করার দায়ে তাদের বন্দী করে রাজ দরবারে নিয়ে যায়।

    এদিকে রাজপুত্র অসুস্থ হয়ে পড়লে কবিরাজকে ডেকে পাঠানো হয়। কবিরাজ রোগের অস্তিত্ব খুঁজে না পেয়ে বলেন রোগ তার মনে। রাজা আশাহত আর চিন্তামগ্ন হয়ে পড়েন। শিক্ষার্থীরা আসে রাজদরবারে তাদের শিক্ষাগুরু এবং বাউলকে মুক্ত করতে। তারা গানের মাধ্যমে রাজার ভুলগুলো ধরিয়ে দেয় আর সেই সুরেই আকৃষ্ট হয়ে রাজপুত্র সুস্থ হয়ে উঠে এবং শিক্ষার্থীদের দলে যেতে পিতার অনুমতি প্রার্থনা করে। রাজা অনুমতি দেয় এবং নিজের ভুল বুঝতে পেরে শিক্ষক এবং বাউলকে মুক্ত করে দেয়। সাথে এই ঘোষণা প্রদান করেন এখন থেকে শিশুরা প্রকৃতির মাঝে হাসি, আনন্দ আর নাচ-গানের মাধ্যমেই শিক্ষা লাভ করবে। এভাবেই ‘প্রকৃতির পাঠ’ নাটকে ওঠে আসে সংস্কৃতি সচেতনতনতা, শিশুদের সুস্থতার গল্প।

    কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের ডাকঘর থেকে শুরু করে শরৎচন্দ্র চট্টপাধ্যায়ের মহেশ, একই সাথে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি সম্প্রদায়ের ভাষায় নাট্যরচনা থেকে বর্তমান প্রযুক্তির যুগে বাবা মায়ের সাথে শিশুদের মোবাইল আসক্তি, নানান শিক্ষা সচেতনতামুলক গল্পে অভিনয়ের মাধ্যমে সমাজ সংস্কারের বার্তা দিয়েছে শিশুরা।

    আজ ৩ মার্চ বিকালে সমাপনী দিনে একাডেমির ৩ টি মিলনায়তনে একযোগে নাটক শুরু হবে বিকাল ৫.০০ টা থেকে। ১০০টি নাট্য প্রযোজনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা সমন্বয়ে এই উৎসব শুরু হয় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি।

    ১০ হাজার শিশুর মিলনমেলায় প্রতিদিন বিভিন্ন জেলা থেকে আগত নাট্যদলের বৈচিত্র্যময় পরিবেশনায় জমে ওঠে ‘পঞ্চদশ জাতীয় শিশু- কিশোর ও যুব নাট্যোৎসব ২০২৪’।

  • যে কোন হুমকি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী যোগ্য হয়ে উঠুক: প্রধানমন্ত্রী

    যে কোন হুমকি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী যোগ্য হয়ে উঠুক: প্রধানমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ২ মার্চ, ২০২৪: যে কোন হুমকি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী যোগ্য হয়ে উঠুক, বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “দেশের যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী যোগ্য হয়ে উঠুক, সেটিই আওয়ামী লীগ সরকারের লক্ষ্য।’ এসময় তিনি সংবিধান ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো অভ্যন্তরীণ এবং বাইরের হুমকি মোকাবেলায় সেনাবাহিনীর সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ ও সদা প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।”

    আজ শনিবার (২ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজশাহী সেনানিবাসে বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের তৃতীয় কোর পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একথা বলেন। প্রধান অতিথি হিসেবে সেখানে বক্তব্য দেন তিনি। এর আগে, রাজশাহীর উদ্দেশে সকাল সাড়ে ৯টায় ঢাকা ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সশস্ত্র বাহিনী দেশের যেকোনো প্রয়োজনে কাজ করবে। এই বাহিনীকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।”

    শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশকে এখন আর কেউ অবহেলা করতে পারে না। আজ বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। আমরা সেভাবেই সামনের দিকে এগিয়ে যাবো, এটাই আমাদের লক্ষ্য।”

    তিনি বলেন, “সর্বপ্রথম জাতির পিতা একটি পেশাদার, প্রশিক্ষিত ও শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে প্রয়সী হন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পূর্ণ যুগোপযোগী সামরিক বাহিনী গঠনের লক্ষ্যে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার। ‘ফোর্সেস গোল-২০৩০’ এর মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন অব্যাহত রয়েছে।

    অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সদা প্রস্তুত থাকতে রেজিমেন্টের সকল সদস্যের প্রতি আহ্বান জানান।

    অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, অন্যান্য অফিসার, জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার, অন্যান্য পদবির সেনাসদস্য এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন।

  • বেইলি রোডের বহুতল ভবনে আগুনের ঘটনায় মামলা

    বেইলি রোডের বহুতল ভবনে আগুনের ঘটনায় মামলা

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ২ মার্চ, ২০২৪: রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কজি কটেজ নামের ভবনে আগুনে ৪৬ জনের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা হয়েছে। শুক্রবার রাতে পুলিশ বাদী হয়ে এ মামলা করেছে।

    গতকাল শুক্রবার (১ মার্চ) রাতে রাজধানীর রমনা থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করে। আগুনের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

    ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনের পক্ষ থেকে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

    পুলিশ বেইলি রোডের আগুনের ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা করেছে। যাচাই-বাছাই শেষে আগুনের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।

    শুক্রবার (১ মার্চ) ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ড. খ মহিদ উদ্দিন জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ভবনটিতে থাকা চায়ের চুমুক নামের একটি খাবার দোকানের দুই মালিক আনোয়ারুল হক ও শফিকুর রহমান এবং কাচ্চি ভাই নামের আরেকটি খাবারের দোকানের ব্যবস্থাপক জয়নুদ্দিন জিসানকে আটক করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ নামের ভবনটিতে আগুন লাগে। সর্বশেষ খবর এ ঘটনায় ৪৬ জন মারা গেছেন। ১১ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

    নিহতদের মধ্যে ২০ জন পুরুষ, ১৮ জন নারী ও ৮ জন শিশু। এদের মধ্যে ৪৩ জনের নাম-পরিচয় শনাক্ত করা গেছে এবং সর্বশেষ খবর অনুযায়ী ৪০ জনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ডে আহতদের চিকিৎসায় মেডিকেল বোর্ড গঠন

    বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ডে আহতদের চিকিৎসায় মেডিকেল বোর্ড গঠন

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ১ মার্চ, ২০২৪: গত ২৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বেইলি রোডে গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে লাগা আগুনে ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে প্রায় ১১ জন। তাদের চিকিৎসায় মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এদের চিকিৎসা খরচ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।

    আজ শনিবার (২মার্চ) ১১টার দিকে আহত রোগীদের দেখতে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আসেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “বার্ন ইনস্টিটিউটে ১১ জন ভর্তি ছিলেন। তাদের চিকিৎসার জন্য ১৭ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তবে ১১ জনের মধ্যে থেকে ৬ জন সুস্থ থাকায় তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হবে। ৫ জন থাকবেন, এরা কেউ শঙ্কামুক্ত নন। তাদের কয়েকদিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।”

    তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী গণভবনে আমাকে ডেকে নিয়ে বলেছেন, এদের কেয়ার নেওয়ার কথা, চিকিৎসার খরচ প্রধানমন্ত্রী বহন করবেন। এখানকার চিকিৎসা ফান্ডে প্রধানমন্ত্রী অর্থ সহায়তা দিয়েছেন।”

    এদিকে বেইলি রোডে আগুনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহত ৪৩ জনের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। শনিবার একই পরিবারের ৩ জনের মরদেহ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। জেলা প্রশাসন বলছে, শনাক্ত না হওয়া বাকি ৩ জনের মরদেহ ময়নাতদন্তের পর ডিএনএ নমুনা মিললে তাদের স্বজনদের কাছে হন্তান্তর করা হবে।

    অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনায় আশঙ্কাজনক ৫ জন এখনো শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন। এছাড়া ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি রয়েছেন আরও ২ জন। 

  • নিয়ম মানা না হলে প্রতিষ্ঠান কেন বন্ধ করা হয়নি: হেলাল উদ্দিন

    নিয়ম মানা না হলে প্রতিষ্ঠান কেন বন্ধ করা হয়নি: হেলাল উদ্দিন

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ১ মার্চ, ২০২৪: নিয়ম মানা না হলে প্রতিষ্ঠান কেন বন্ধ করা হয়নি, বলে জানতে চেয়েছেন বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, “যারা রেগুলেটরি বোর্ডে আছে তাদের কোনো শাস্তি হয় না, তারা শুধু নোটিশ দেন। নোটিশ বড় কোনো ব্যবস্থা না, আপনারা কেন সেই প্রতিষ্ঠান বন্ধ করলেন না, সেটা হচ্ছে প্রশ্ন।”

    আজ শনিবার (২ মার্চ) বেইলি রোডে পুড়ে যাওয়া ভবন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এমন প্রশ্ন তোলেন।

    হেলাল উদ্দিন বলেন, “যেসব রেগুলেটরি বোর্ড এ ভবনে ব্যবসার অনুমতি দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে সরকার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিক। এ ধরনের ঘটনা আবার ঘটুক এটা আমরা চাই না। যার ত্রুটি থাকবে তার বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নেবে। সেটা যদি কোনো ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে হয় তবে ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে, আর যদি কোনো সংস্থার বিরুদ্ধে হয় তবে সেটা সংস্থার বিরুদ্ধে।”

    তিনি আরও বলেন, “আপনারা সবকিছু বাণিজ্যিকিকরণ করবেন আর সেটার মাধ্যমে মানুষের জীবন চলে যাবে, এটা হতে পারে না। যে রেগুলেটরি বোর্ডের সমস্যা, সরকার তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।”

    তিনি বলেন, “এখানে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হয়েছে, কাস্টমারদেরও ক্ষতি হয়েছে। তাদের জীবন চলে গেছে। আমাদের শত কোটি টাকা এখানে নষ্ট হয়েছে। আমরা বিডা এবং এফবিসিসিআইয়ের সঙ্গে আলোচনা করে মালিক সমিতিসহ বিভিন্ন স্টেক হোল্ডাররা বিভিন্ন মার্কেটগুলো পরিদর্শন করলাম। সেখানে আমরা দেখলাম কোথাও বিদ্যুতে সমস্যা, কোথাও ফায়ার সেফটির সমস্যা। সমস্যা যেখানে এসে দাঁড়িয়েছে, এখন ফায়ার সেফটিতে যারা কাজ করেন তারা একসময় ফায়ার সার্ভিসে কাজ করতেন। তারা এখন ফার্ম খুলেছে, এখন একেক মার্কেটে গিয়ে বলছেন ৩/৪/৫ কোটি টাকা লাগবে ফায়ার সেফটির জন্য।”

    হেলাল উদ্দিন বলেন, “এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এত বৃহৎ টাকা আমরা কোথায় পাব? সরকার বলেছে ফায়ার সেফটির জন্য বিদেশ থেকে যত মালামাল আসবে সেগুলো ট্যাক্স ফ্রি থাকবে। এটা দেশের মানুষের জন্য করা হচ্ছে। কিন্তু আমরা যখন বিভিন্ন সংস্থার কাছে যাচ্ছি, তখন তারা সেই কাজটি করছে না।”

    গত ২৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কজি কটেজ নামের বহুতল ভবনে আগুনে ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহতরা হাসপাতলে আছেন। মৃত্যুর ঘটনয় পুলিশ মানলা করেছে।

  • ১০টি বিষয় দেখে বুঝে নিন ভবনটি কতটা নিরাপদ

    ১০টি বিষয় দেখে বুঝে নিন ভবনটি কতটা নিরাপদ

    www.HelloBangla.News – লাইফস্টাইল – ১ মার্চ, ২০২৪: ২৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বেইলি রোডের গ্রিন কজি কটেজ নামের বহুতল একটি ভবনে আগুন লেগে প্রায় ৪৬ জনের মৃত্যু হয়। আহত হয় বেশ কয়েকজন। এই ঘটনার পর উক্ত ভবন তৈরি ও ব্যবস্থাপনার অনেক ত্রুটি বেরিয়ে আসে। আলোচনা হয় বেশ কিছুদিন। তারপর তদন্ড কমিটির রিপোর্টে কি থাকে সেটা জনার আগে মানুষ সব কিছু ভুলে যায় । আবার শুরু হয় অনিয়ম। ঘটে অনাকাঙ্খিত কিছু ঘটনার । মৃত্যুসহ মানুষ নতুন ধরণের বিভিষিকার মুখোমুখি হয়।

    গতবছরও ঢাকায় একাধিক বড় বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। উদারহরণস্বরূপ, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে ঈদের আগে আগে রাজধানীর বঙ্গবাজারের সেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, যাতে প্রায় পাঁচ হাজার দোকান নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় এবং অনেক ব্যবসায়ী সর্বশান্ত হয়ে যায়।এই ঘটনার কিছুদিন আগে পুরান ঢাকার সিদ্দিকবাজার এবং বছর শেষে মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল।

    বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে সারা দেশে মোট ২৭ হাজার ৬২৪টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। অর্থাৎ, প্রতিদিন গড়ে দেশে ৭৭টি আগুনের ঘটনা ঘটেছে এবং তাতে কয়েকশত মানুষ আহত ও নিহত হয়েছেন।

    এর আগে রাজধানীতে বড় তিনটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ২০১০ সালের ৩ জুন রাতে পুরান ঢাকার নিমতলীতে রাসায়নিকের গুদাম থেকে ছড়ানো আগুনে ১২৪ জনের মৃত্যু হয়।২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি চকবাজারের চুড়িহাট্টায় রাসায়নিক গুদামে আগুনে প্রাণ হারান ৭১ জন এবং ২০১৯ সালের ২৮ মার্চ রাজধানীর বনানীর এফআর টাওয়ারে আগুনে ২৭ জনের মুত্যু হয়।

    কোনও আবাসিক বা বাণিজ্যিক ভবনে আগুন লাগার পর ঘুরে ফিরে প্রায়ই একটা বিষয় আলোচনায় আসে যে আগুন নেভানোর জন্য সেখানে কোনও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিলো না।

    বেইলি রোডের গ্রিন কজি কটেজে আগুন লাগার পরও এই প্রশ্ন সামনে এসেছে। ফায়ার সার্ভিস থেকে বলা হয়েছে, ভবনটিতে আগুন নেভানোর কোনও ব্যবস্থাই ছিলো না।

    আগুন নেভানোর জন্য ‘পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা’সমূহ কী কী বা, নিজের প্রিয়জনদের নিয়ে কোনও ভবনে প্রবেশের আগে একজন সাধারণ মানুষ কিভাবে বুঝবেন যে ভবনটি তাদের জন্য নিরাপদ কি-না; এই বিষয়গুলো সম্বন্ধে পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন।

    কারণ, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকা শহরের অন্তত ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ভবন ঝুঁকিপূর্ণ এবং আগুন নেভানোর জন্য সেসব ভবনে কোনওপ্রকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই।

    স্থপতিরা জানিয়েছেন তাই, খাওয়া-দাওয়া বা ঘোরাঘুরি, যে কোনও প্রয়োজনেই কোনও ভবনে প্রবেশ করার আগে ঐ ভবনটি কতটা নিরাপদ, সেটা জানা যাবে নিচের বিষয়গুলো যাচাই করার পর।

     

    প্রকাশ্যে ‘সার্টিফিকেট’ প্রদর্শন:

    একটা ভবন কতটা নিরাপদ বা ভবনের ত্রুটিগুলো কোথায়, একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে খালি চোখে সেটা যাচাই-বাছাই করা প্রায় অসম্ভব। কারণ এটি বিশেষজ্ঞদের কাজ। কিন্তু কিছু বিষয় আছে, যা দেখে যেকোনও সাধারণ মানুষ বুঝতে পারবেন যে ভবনটি তার জন্য কতটুকু নিরাপদ। সেসবের মাঝে সবচেয়ে সহজ হলো, ভবনের সামনে নিরাপত্তা সনদ বা সার্টিফিকেট প্রদর্শন করা আছে কি-না, তা দেখে ঐ ভবনে প্রবেশ করা।

    রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), ফায়ার সার্ভিস, সিটি কর্পোরেশন, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের আইন ও বিধিমালা মেনে যে ঐ ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে এবং নির্মাণের পর সেখানকার সমস্ত কাজও যে আইন মেনেই হচ্ছে, সেই মর্মে একটা নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভবন মালিককে একটি সার্টিফিকেট তথা সনদ দিবে।

    সনদ প্রাপ্তির পর ভবন মালিক সেটিকে ফলক বা নোটিশ আকারে ভবনের সামনে টাঙ্গিয়ে রাখবে। যদিও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এমন কোনও উদ্যোগ দেখা যায় না।  তবে শুধু সার্টিফিকেট প্রাপ্তি-ই শেষ কথা না, প্রতিবছর সেটির নবায়ন কররা নিয়ম রয়েছে।

    সেই সার্টিফিকেট বা সনদে এটাও লেখা থাকবে যে ‘এটার সর্বশেষ অনুমোদন কত তারিখ হয়েছে এবং পরবর্তী অনুমোদন কত তারিখের মাঝে নিতে হবে’।

     

    প্রবেশদ্বার তিন মিটারের কম না হওয়া:

    কোনও জনাকীর্ণ ভবনের প্রবেশদ্বার যদি তিন মিটারের কম হয়, তাহলে সেখানে প্রবেশ করার আগে ভাবা উচিৎ। জনাকীর্ণ স্থানসমূহের মাঝে আছে—রেস্টুরেন্ট, মসজিদ, গীর্জা, হাসপাতাল, এমনকি স্কুলও। এই ধরনের স্থানে একসাথে একসাথে অনেক মানুষ প্রবেশ করে এবং বের হয়। এছাড়া, বাণিজ্যিক ভবনে বিভিন্ন অফিস থাকায় সেসব স্থানও সবসময় লোকে লোকারণ্য থাকে। তাই, এগুলোর ‘প্রবেশদ্বার অবশ্যই তিন মিটারের চেয়ে কম হতে পারবে না।

     

    পর্যাপ্ত সিঁড়ি ও অ্যালার্ম সিস্টেম:

    মনে রাখবেন, আগুন লাগার পর একটা মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য ভবনে মূলত দুইটা জিনিস থাকা দরকার। পর্যাপ্ত সিঁড়ি এবং অ্যালার্ম সিস্টেম। আর কিছুর দরকার নাই। কোনও আবাসিক ভবন যদি ছয় তলার চেয়ে বেশি হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী সেখানে চলাচলের জন্য দু’টি সিঁড়ি থাকতে হবে। তবে যেগুলো বাণিজ্যিক ভবন বা কারখানা, সেখানে সিঁড়ি সংখ্যা আরও বেশি হবে।

    কমার্শিয়াল বিল্ডিং বা ফ্যাক্টরি যদি এক তলাও হয়, কিন্তু লোকসংখ্যা যদি দুই-তিনশো থাকে, তাহলে সেখানে ২৩ মিটার পরপর সিঁড়ি দিতে হবে।

    এছাড়া, আগুন লাগার পর ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার উপায় হলো ভবনে ফায়ার এবং স্মোক অ্যালার্ম সিস্টেম বসানো। কারণ অ্যালার্ম সিস্টেম যদি কার্যকর থাকে, তাহলে কোথাও আগুন লাগার সাথে সাথে (ধোঁয়া হলেই) এটি তা চিহ্নিত করতে পারে এবং বিকট শব্দ করে। তখন পুরো ভবনের প্রত্যেক তলার বাসিন্দারাই আগুন সম্পর্কে জানতে পারে এবং দ্রুত ভবন খালি করে নিচে নেমে আসতে পারে। এতে প্রাণহানি অনেকটাই কমিয়ে আনা যায়।

     

    জরুরী বহির্গমন পথ:

    একটি আদর্শ ভবনে দুই ধরনের সিঁড়ি থাকে। একটি দিয়ে সবসময় চলাচল করা হয়। অন্যটি দিয়ে জরুরী অবস্থায় আত্মরক্ষার জন্য বের হওয়া যায়। সেজন্য একে বলা হয় জরুরী বহির্গমন পথ। আগুন লাগলে একে অগ্নি নির্গমন পথও বলা হয়।

    জরুরী বহির্গমনের সিঁড়ির নির্মাণশৈলী সাধারণ সিঁড়ির চাইতে আলাদা হয় এবং এর অবস্থানও সাধারণ সিঁড়ির সাথে না হয়ে ভিন্ন জায়গায় হয় সাধারণত। এই বিশেষায়িত সিঁড়ি বা জরুরী বহির্গমন পথ এমন স্থানে করা হয়, যেন ভবনে আগুন লাগলে সেখানে কোনও আগুন এবং ধোঁয়া প্রবেশ করতে না পারে। এছাড়া ভবনের যে অংশে এই সিঁড়ি থাকে, সেই অংশের দেয়ালের গঠনও অনেকটা ভিন্ন হয়।

    স্থপতিরা জানিয়েছেন আবাসিক ভবন ছাড়া অন্য কিছু হলে সেই ভবনের প্রত্যেক তলায় অগ্নি নির্গমন পথ থাকতে হবে।”

     

    অগ্নি চলাকালে ‘এক্সিট সাইন’ জ্বলা:

    ধরা যাক, কোনও ভবনে আগুন লেগেছে এবং সেই ভবনে পর্যাপ্ত সিঁড়ি এবং আলাদা অগ্নি নির্গমন পথও রয়েছে। কিন্তু সব থাকার পরও আগুনের মাঝে পড়লে সাধারণত মানুষ দিশেহারা হয়ে যায়। তাড়াহুড়োর কারণে ঘটনাস্থল থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজে পায় না।

    সেজন্য ভবনে আগুন লাগলে (বিদ্যুৎ থাকুক বা না থাকুক) জরুরি বহির্গমনের দিকে যাওয়ার পথে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আলো জ্বলে ওঠার ব্যবস্থা থাকতে হবে বলে স্থপতিরা জানিয়েছেন ।

     

    ফায়ার এক্সটিংগুইশার বা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র:

    আগুন নেভানো বা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য যে যন্ত্র ব্যবহার করা হয়, সেটিকে ফায়ার এক্সটিংগুইশার বা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র বলা হয়। অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রগুলোতে উচ্চচাপে রক্ষিত তরল কার্বন ডাই-অক্সাইড থাকে। আগুন লাগলে এই যন্ত্র থেকে স্প্রে আকারে কার্বন ডাই-অক্সাইড বের করে আগুন নেভানো হয়। একটি নিরাপদ ভবনে অন্যান্য অনুষঙ্গের সাথে বাধ্যতামূলকভাবে অগ্নি নির্বাপন সিলিণ্ডার বা ফায়ার এক্সটিংগুইশার থাকবে, সেটাই স্বাভাবিক।

    কারণ কোনও একটি ভবনে আগুন লাগার পর সেটি ছড়িয়ে পড়তে কিছুটা হলেও সময় লাগে। আগুন লাগার পর প্রথম দুই মিনিটকে বলা হয় প্লাটিনাম আওয়ার বা সবচেয়ে মূল্যবান সময়। এই সময়ে মাথা ঠান্ডা রেখে ফায়ার এক্সটিংগুইশার ব্যবহার করলে অনেকক্ষেত্রেই আগুন নিভিয়ে ফেলা যায় এবং আগুনকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। তাই, কোনও ভবনে প্রবেশের আগে সেই ভবনে ফায়ার এক্সটিংগুইশার বা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র আছে কিনা এবং থাকলে সেটি আদৌ কাজ করছে না, সেটি দেখে নিতে বলেন তিনি।

     

    মিশ্র ব্যবহারের ভবনে না যাওয়া:

    একই ভবনকে একাধিক কাজে ব্যবহার করাকে ‘ভবনের মিশ্র ব্যবহার’ বলছেন বিশেষজ্ঞরা। যেমন, একটি ভবনে যদি মানুষের বাসাবাড়ি, অফিস, এমনকি রেস্টুরেন্ট থাকে; তাহলে সেটিকে বহু কাজে ব্যবহৃত ভবন হিসেবে ধরা হয়।

    রাজউক ‘মিশ্র ব্যবহার’ নাম দিয়ে মানুষের সাথে এই অন্যায়টা করছে…এর জন্য রাজউক এককভাবে দায়ী।

    মিশ্র ব্যবহার মানে হলো, অফিস এবং আবাসিক একসাথে থাকতে পারবে। কিন্তু রেস্টুরেন্ট থাকতে পারবে না। কারণ রেস্টুরেন্ট একটা বিশেষায়িত ব্যবহার। রেস্টুরেন্টের কিচেনকে (রান্নাঘর) বাণিজ্যিক কিচেন বলা হয়। এটির ডিজাইন করা অত্যন্ত কঠিন এবং জটিল কাজ। এই যে এত এত রেস্টুরেন্ট বানানো হচ্ছে, সেগুলোর কিচেন নিয়মকানুন মেনে করা হচ্ছে না। কিন্তু সেটা দেখার জন্যও কেউ নাই।

    বাণিজ্যিক রান্নাঘর করতে হলে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, ভেন্টিলেশনসহ সবকিছু বিশেষ যত্নে ডিজাইন করতে হয়।

     

    ডাক্ট লাইন ও ক্যাবল হোল সিল করা:

    উপরের বিষয়গুলো সাদা চোখে দেখে বুঝে নেয়া যায় যে ভবনটি নিরাপদ কি-না। কিন্তু কিছু বিষয় আছে, যা সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতে পড়বে না। কিন্তু ভবনের নিরাপত্তার জন্য সেগুলো গুরুত্বপূর্ণ।

    অগ্নি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও ফায়ার সার্ভিসের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার (অব) আলী আহমেদ খান বলেন, ভবনের ডাক্ট লাইন ও ক্যাবল হোল সিল করা গুরুপূর্ণ।

    আধুনিক বহুতল ভবনগুলিতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, হিটিং, বিদ্যুৎ এবং গ্যাস সংযোগের জন্য যে পাইপগুলো টানা হয়, সেগুলো যায় ডাক্ট লাইন এবং ক্যাবল হোলের ভেতর দিয়ে। এই লাইন ও গর্ত দিয়ে ধোঁয়া এবং আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

    ধোঁয়া এবং আগুন যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, তাই ডাক্ট লাইন ও ক্যাবল হোলগুলো আগুন প্রতিরোধক উপাদান দিয়ে ভাল করে বন্ধ করা প্রয়োজন।

    আমরা সবসময় আগুন লাগার পরে কিভাবে তা নিয়ন্ত্রণ করা হবে, সেটা বলি। কিন্তু আগুন লাগবেই না, আমাদেরকে সে ব্যবস্থা নিতে হবে। সেজন্য ভবন নির্মাণের সময়ই ইলেকট্রিক্যাল লাইনসহ অন্যান্য বিষয়গুলো মানতে হবে।

     

    স্প্রিঙ্কলার সিস্টেম:

    আগুন নেভানোর জন্য একটা প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা হচ্ছে স্প্রিঙ্কলার সিস্টেম। এটি একটি ভবনের পানি সরবরাহ ব্যবস্থার সাথে যুক্ত থাকে। কোনও স্থানের তাপমাত্রা ৫৭ ডিগ্রির বেশি হলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিস্ফোরিত হয়ে পানি ছিটিয়ে দেয়। ফলে আগুন নিভে যায়।

    সাধারণত বড় বড় বাণিজ্যিক বা কারখানা ভবনে সাধারণত এগুলো ব্যবহার করা হয়। তবে বর্তমানে কিছু কিছু আবাসিক ভবনেও এগুলোর ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। ভবনে আগুন লাগার পর মানুষের প্রাণ বাঁচানোর জন্য সেখানে সিঁড়ি এবং অ্যালার্ম সিস্টেম সবচেয়ে জরুরী। কিন্তু সম্পত্তি রক্ষার জন্য সেখানে পানির ব্যবস্থা থাকতে হবে। বা, স্প্রিঙ্কলার সিস্টেম থাকা লাগবে।

     

    ভবনের ডিজাইন ও উদ্দেশে পরিবর্তন:

    বেইলি রোডের যে ভবনে আগুন লাগে, সেটি একটি আবাসিক ভবন ছিলো এই ভবনটা প্রাথমিকভাবে আবাসিক ভবন ছিলো। কিন্তু পরে এর স্ট্রাকচারাল ডিজাইন চেঞ্জ করলে রাজউক, আবাসিক ভবনে রেস্টুরেন্টকে ব্যবসা করার লাইসেন্স দিলে সিটি কর্পোরেশন, সামনের দিকে কাঁচ বসালে সেই ইঞ্জিনিয়ার; এরা এই ঘটনার জন্য দায়বদ্ধ থাকবে।

    যদিও কিছু গণমাধ্যমে রাজউকের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে যে এই ভবনের পাঁচতলা পর্যন্ত বাণিজ্যিক এবং এই ভবনে শুধুমাত্র বাসাবাড়ি ও অফিস করার অনুমোদন ছিলো।

    কোনও ভবনে গ্লাস দিতে হলে সেটার ড্রয়িং এবং ডিজাইন পরিবর্তন করতে হবে…স্মোক এলে যেন তা অটোমেটিক্যালি বের হতে যেতে পারে। এই ভবনের ঐ গ্লাসের জন্য ভেতরের তাপমাত্রা বেড়ে গেছে। ধোঁয়া ভেতরে ঢুকে গেছে, আগুন দ্রুত ছড়িয়েছে। এখানে কোনও ভেন্টিলেশন ছিলো না। ভবন বানানোর পর তার উদ্দেশ্য পরিবর্তন করাটা গর্হিত অপরাধ। কারণ আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনের নকশা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা একদমই আলাদা।

    তাই, কোনও ভবনে প্রবেশের আগে তার শুরুর ইতিহাস এবং উদ্দেশ্য জেনে নেয়া গেলে নিজেকে অনেকাংশে নিরাপদে রাখা সম্ভব।

    তবে ভবন মালিক যদি আইন মেনে চলে ও সচেতন হয় তাহলে এই ধরনের দুর্ঘটনার মুখোমুখি কখনও হতে হবে না।

    সূত্র: বিবিসি বাংলা

  • গণতান্ত্রিক সংস্কার পার্টির আত্মপ্রকাশ

    গণতান্ত্রিক সংস্কার পার্টির আত্মপ্রকাশ

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ১ মার্চ, ২০২৪: শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আত্মপ্রকাশ করেছে নতুন রাজনৈতিদ দল গণতান্ত্রিক সংস্কার পার্টি।

    আজ শনিবার (২ মার্চ) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন এ রাজনৈতিক দলটি আত্মপ্রকাশ করে। দলটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. শাহেদা ওবায়েদ ও মহাসমন্বয়ক মেজর (অব.) আমীন আহমেদ আফসারী। আগামী ৩০ মার্চ গণতান্ত্রিক সংস্কার পার্টির গঠনতন্ত্র প্রকাশ ও পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে

    আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গণতান্ত্রিক সংস্কার পার্টির ঘোষণাপত্র পাঠ করেন দলটির মহাসমন্বয়ক মেজর (অব.) আমীন আহমেদ আফসারী।

    তিনি বলেন, “বর্তমান রাজনৈতিক সমস্যা উত্তরণের নিরিখে, একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক, সংস্কারমুখী, আধুনিক, সময়োপযোগী ও গতানুগতিক রাজনৈতিক চিন্তা-ভাবনা ও প্রথাকে অতিক্রম করে, ভিন্ন মাত্রার একটি রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দিলাম। আমরা অঙ্গীকার করছি যে, যে সব মহান আদর্শ (মুক্তিযুদ্ধের চেতনা) আমাদের বীর জনগণকে জাতীয় মুক্তি সংগ্রামে আত্মনিয়োগ ও বীর শহীদদে প্রাণোৎসর্গ করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল, সেই সব আদর্শ এ দলের মূলনীতি হবে।”

    তিনি আরও বলেন, আমাদের দলের মূল লক্ষ্য হবে- গণতান্ত্রিক সংস্কার পদ্ধতিতে এমন এক শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে সব নাগরিকের জন্য আইনের সেবার নিশ্চয়তা, সম্প্রসারিত মৌলিক চাহিদা (মানবতা, বস্ত্র, খাদ্য, নিরাপত্তা, বাসস্থান, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবেশ, বিনোদন ও যোগাযোগ) মানবাধিকার, ভোটাধিকার, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত করা হবে।”

    আমীন আহমেদ আফসারী বলেন, “আমরা যাতে স্বাধীন সত্তায় সমৃদ্ধি লাভ করতে পারি এবং দেশের জনগণ ও সমগ্র মানবজাতির প্রগতিশীল আশা-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সঙ্গতি রক্ষা করে আন্তর্জাতিক শান্তি ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে পূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারি, সেই লক্ষ্য সামনে রেখে এ দলের গঠনতন্ত্র তৈরি করা হবে এবং এর রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা বিধান করা হবে আমাদের সবার দায়িত্ব ও কর্তব্য।”

    ঘোষণাপত্র পাঠ শেষে দলটির মহাসমন্বয়ক বলেন, “সাধারণত সবাই নির্বাচনের আগে দল গঠন করে, আমরা করছি একটি জাতীয় নির্বাচনের পর। প্রায় সবাই দল তৈরি করে আমন্ত্রণ জানায়, আমরা দল গঠনের আগে গঠন প্রক্রিয়ায় অংশ গ্রহণের জন্য ‘দেশের মালিক’ জনগণকে অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। রেষারেষি, মারামারি, কাটাকাটি ও দোষারোপের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে স্বাধীন দেশের স্বাধীন মুক্ত মেধার রাজনীতি প্রচলনে আমরা সচেষ্ট থাকবো।”

    তিনি বলেন, “শাসন নয় সেবা’ এই মূল মন্ত্রে দলের সব নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মোটিভেট করা এবং প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। দল ও সরকারকে পৃথক সত্তা হিসেবে, পৃথকভাবে বিবেচনা করা হবে। রাজনৈতিক দল লিমিটেড কোম্পানি বা পৈতৃক সম্পত্তি নয়, এ সত্য স্বীকার করে দলকে জনগণের সম্পদে পরিণত করা হবে। দলটিকে ব্যক্তি, পরিবার, গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ মুক্ত রাখা হবে। ‘কারো সঙ্গে শত্রুতা নয়, সবার সাথে বন্ধুত্ব’ এই মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে, সব দল ও ভিন্নমতের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ও আচরণ অব্যাহত রাখতে, এ দল সর্বদা সচেষ্ট থাকবে।”

    গণতান্ত্রিক সংস্কার পার্টির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. শাহেদা ওবায়েদ বলেন, “দেশে একটা রাজনৈতিক শূন্যতা বিরাজ করছে। রাজনৈতিক শূন্যতা হলে সামাজিক এবং অর্থনৈতিক শূন্যতার সৃষ্টি হয়। ফলে মানুষের মধ্যে দুঃখ-কষ্ট নেমে আসে। দেশে বর্তমানে বৈষম্য, ভারসাম্যহীনতার সৃষ্টি হয়েছে। এ ভারসাম্য যদি ঠিক করা না যায় তাহলে দেশে বিরাট সমস্যার সৃষ্টি হবে।”

    তিনি আরও বলেন, “মার্চ মাস থেকে আমরা আমাদের দলের যাত্রা শুরু করার পরিকল্পনা করেছি। আমরা আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং জাতীয় পার্টির কারো সঙ্গে নেই। আমরা দেশপ্রেমিক এবং অবিতর্কিত লোকদের নিয়ে দল গঠন করতে চাই।”

    এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন গণতান্ত্রিক পার্টির কর্মী শিক্ষিকা নাদিয়া চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার জহিরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট আসাদুল হক, কমান্ডার সাব্বির, মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. জয়নাল, মো. জাহাঙ্গীর, মিজান প্রমুখ।

  • স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য ফিলিস্তিনিদের এক হওয়ার আহ্বান ল্যাভরভের

    স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য ফিলিস্তিনিদের এক হওয়ার আহ্বান ল্যাভরভের

    www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ২ মার্চ, ২০২৪: গত ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় চলমান ইসরায়েলি হামলায়  নিহত হয়েছেন ৩০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি এবং আহত হয়েছেন ৭০ হাজারেরও বেশি। এই যুদ্ধ সারা বিশ্বের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে নিজেদের মধ্যকার যাবতীয় বিভেদ ভুলে সব ফিলিস্তিনিকে এক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। শুক্রবার মস্কোতে ফিলিস্তিনের সব দলের একটি রাজনৈতিক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের সময় এ আহ্বান জানান তিনি।

    রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেন, “সন্দেহাতীত ভাবেই এই ঐক্যের প্রধান উদ্দেশ্য হবে গাজায় রক্তপাত বন্ধ করা। বর্তমানে সেখানে যুদ্ধ-সহিংসতা আমরা দেখতে পাচ্ছি, হয়তো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চেষ্টায় কিছুদিনের জন্য তা বন্ধ থাকবে, তারপর আবার ঘটবে এবং বার বার ঘটবে। এই সংঘাত পুরোপুরি বন্ধ হতে পারে কেবলমাত্র স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।’ তিনি বলেন, ‘ কোনো ঘরে যদি একাধিক মতের লোকজন সারাক্ষণ নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বে লিপ্ত থাকে, তাহলে সেই ঘর বা পরিবার কখনও উন্নতি করতে পারে না। দুঃখজনক হলেও সত্য যে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনে সবচেয়ে বড় বাধা এটি।”

    ১৯৪৭ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইস্যুতে আলোচনা শুরু হয়। ১৯৫৩ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর তা আরও জোরালো রূপ নেয়। ১৯৫৭ সালে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্যোগে মধ্যপ্রাচ্যের আল আকসা অঞ্চলে দুই পৃথক রাষ্ট্রের ভৌগলিক সীমানাও নির্দিষ্ট করা হয়। কিন্তু তারপর থেকে এ ইস্যুতে গঠনমূলক আর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।”

    গত কয়েক দশকে ফিলিস্তিনের বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি ও গোষ্ঠীগুলো অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও বৈরীতায় জড়িয়ে পড়ে। সেখানকার একটি পক্ষ দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে এবং অপরপক্ষ ইসরায়েল রাষ্ট্র নির্মূলের পক্ষে অবস্থান নেয়। ফিলিস্তিনে কার্যত দু’টি সরকার ব্যবস্থা ক্রিয়াশীল রয়েছে। পশ্চিম তীরে রয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (ফিলিস্তিনি অথরিটি-পিএ) বা ফাতাহের অধীনে, আর গাজা নিয়ন্ত্রণ করছে হামাস। স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলনরত ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর জোটের নাম প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও) আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জোট।

    শুক্রবারের আলোচনায় ল্যাভরভ বলেন, “ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে একদিকে সেখানকার সাধারণ জনগণের স্বার্থ, লক্ষ্য এমনকি ভাগ্যও অনিশ্চয়তার সুতোয় ঝুলছে। এই দ্বন্দ্বের ফায়দা নিচ্ছে সুযোগ সন্ধানী পক্ষ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যখন স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ব্যাপারটি আলোচনায় নিয়ে আসতে চায়, সে সময় সুযোগ সন্ধানী পক্ষ বলছে যে ফিলিস্তিনের সত্যিকার প্রতিনিধি কেউ নেই।’ তিনি বলেন, ‘স্বাধীন ফিলিস্তিন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে আপনারা যদি পিএলওর ব্যানারে সবাই ঐক্যবদ্ধ হন, তাহলে সুযোগ সন্ধানী পক্ষ আর টালবাহানা করতে পারবে না। আমি আশা করব, আপনারা এ ব্যাপারটিকে গুরুত্ব দেবেন। এক্ষেত্রে আপনাদের সব রকমের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রাশিয়া।”

    এদিকে হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধের অন্যতম মধ্যস্থতাকারী দেশ মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামেহ শুকরি শুক্রবার জানিয়েছে রমজানের আগে গাজায় যুদ্ধবিরতি হতে পারে। এই যুদ্ধের শুরু থেকেই হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে মধ্যস্থতার ভূমিকায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, মিশর ও কাতার।

  • শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু ৪ মার্চ থেকে

    শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু ৪ মার্চ থেকে

    www.HelloBangla.News – খেলাধুলা – ১ মার্চ, ২০২৪: বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু হবে আগামী ৪ মার্চ থেকে। এরপর তিনটি ওয়ানডে ও দুটি টেস্ট। এবার হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ। সদ্য শেষ হওয়া বিপিএলের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজ ভালো করবে এমনটাই আশা করছে দেশের ভক্তরা। দারুন ফর্মে থাকা তামিম অবশ্য এবার এই সিরিজ খেলছেন না। অপর দিকে তিন ফরমেটে দলনেতা শাস্ত ছাড় সবাই ভাল পারফরম্যান্স দেখিয়েছে।

    এই সিরিজের টিকিটের মূল্য ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) । তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টির সবগুলোই হবে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। আজ শনিবার ( ২ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানায়, গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের টিকিট কেনা যাবে ১৫০০ টাকায়।

    সর্বনিম্ন মূল্য গ্রিন ও ওয়েস্টার্ন গ্যালারির, এখানে খেলা দেখতে ২০০ টাকা খরচ করতে হবে। এছাড়া ক্লাব হাউজ ৫০০ ও ইস্টার্ন গ্যালারির জন্য খরচ করতে হবে ৩০০ টাকা। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও রিকাভিবাজারের কাউন্টার থেকে টিকিট কেনা যাবে। সকাল দশটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত খোলা থাকবে বুথ।

    আগামী ৪ মার্চ প্রথম টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা। দ্বিতীয় ম্যাচ ৬ মার্চ, দুটি ম্যাচই হবে সন্ধ্যা ছয়টায়। ৯ মার্চ তৃতীয় টি-টোয়েন্টি শুরু হবে বিকেল তিনটায়। এরপর তিনটি ওয়ানডে ও দুটি টেস্ট খেলবে শ্রীলঙ্কা।