রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে গাইলেন ৮০ জন শিল্পী

Chhaynat's Anniversary Program - Entertainment - 14th April 2024
Chhaynat's Anniversary Program - Entertainment - 14th April 2024

www.HelloBangla.News – বিনোদন – ১৪ এপ্রিল, ২০২৪: সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্র ছায়ানট ভোরে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের জয়গানের মধ্য দিয়ে বাংলা নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়েছে । প্রতিবারের মতো এবারো রমনার বটমূলে সুরের মাধুরীতে বরণ করে নেওয়া হচ্ছে নতুন বছরকে। ভোরের আলো ফুটতেই আহীর ভৈরব রাগে বাঁশির সুরে শুরু হয় এ আয়োজন।

এবার পুরো অনুষ্ঠান সাজানো হয়েছে নতুন স্নিগ্ধ আলোয় স্নাত প্রকৃতির গান, মানবপ্রেম-দেশপ্রেম আর আত্মবোধন-জাগরণের সুরবাণী দিয়ে। তাতে ছায়ানটের আহ্বানে ভোগবাদ নয়, স্বার্থপরতা নয়, মনুষ্যত্বকে পাওয়ার অভিলাষই থাকছে। প্রায় ১৭০ জন শিল্পী অংশ নিচ্ছেন এবার। বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে এ বছর প্রথমবারের মতো গাইছেন প্রায় ৮০ জন শিল্পী।

এ অনুষ্ঠানে একক গান গাইবেন ১৮ জন শিল্পী। আর থাকবে কিছু একক পাঠ। সব মিলিয়ে ৩০টি পরিবেশনা দিয়ে সাজানো হয়েছে এবারের আয়োজন।

ভোরে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের জয়গানের মধ্য দিয়ে বাংলা নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়েছে সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্র ছায়ানট। প্রতিবারের মতো এবারো রমনার বটমূলে সুরের মাধুরীতে বরণ করে নেওয়া হচ্ছে নতুন বছরকে। ভোরের আলো ফুটতেই আহীর ভৈরব রাগে বাঁশির সুরে শুরু হয় এ আয়োজন।

এবার পুরো অনুষ্ঠান সাজানো হয়েছে নতুন স্নিগ্ধ আলোয় স্নাত প্রকৃতির গান, মানবপ্রেম-দেশপ্রেম আর আত্মবোধন-জাগরণের সুরবাণী দিয়ে।

রমনার বটমূলে ঠিক সোয়া ৬টায় শুরু হয় বর্ষবরণের এই সুরের মাধুরী। একে একে পরিবেশন করা হয় মোট ২৯টি পরিবেশনা। রমনার বটমূলে প্রথম দিনের প্রথম প্রভাতের পরিপূর্ণ আলো পেলেন বাংলা নববর্ষকে বরণ করতে আসা মানুষেরা।

বেলা বাড়তে বাড়তে মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। রমনার সবুজের ভেতর উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে লাল-সাদা রঙের স্রোত। সবাই এসেছে বাংলা ১৪৩১-কে বরণ করে নিতে। নিরাপত্তাবেষ্টনীর জন্য অনেকটা পথ তাঁদের হেঁটে আসতে হয়েছে। তাঁরা গান শুনেছেন, কবিতা শুনেছেন, আপনজনের সঙ্গে ছবি তুলে মুহূর্তটি ধরে রেখেছেন। আর তখন পুরো সময়জুড়ে বেজে চলেছে ছায়ানটের শিল্পীদের পরিবেশনায় রবীন্দ্র, নজরুল, পঞ্চকবির গানসহ বাউল গান। কাজী নজরুল ইসলামের জীবন-বিজ্ঞান থেকে পাঠ করলেন সংস্কৃতিজন রামেন্দু মজুমদার। এর আগে রবীন্দ্রনাথের ত্রাণ ও অপমান থেকে পাঠ করে শোনালেন শিল্পী জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়। চন্দনা মজুমদারের শোনালেন লালনগীতি। মোট ১৩টি একক, ১১টি সম্মেলক সংগীত এবং দুটি পাঠ, কথন ও যন্ত্রসংগীত পরিবেশনা নিয়ে সাজানো হয়েছে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি…’ জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় বর্ষবরণ অনুষ্ঠান।

নববর্ষ কথন শোনান ছায়ানটের নির্বাহী সভাপতি সারওয়ার আলী। এবারের কথনের শেষ অংশে বলা হলো, অমানবিক এই অস্বাভাবিকতা থেকে বেরোতে হবে। নইলে বাঙালির প্রাণপ্রিয় এই নববর্ষ উদ্‌যাপনও হয়ে পড়বে কেবল একটি দিনের জন্য বাঙালি সাজবার উপলক্ষ।

পাকিস্তান শাসনামলে বাঙালি জাতীয়তাবাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয় বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের। আর ষাটের দশকের শেষে তা বিশেষ মাত্রা পায় রমনা বটমূলে ছায়ানটের আয়োজনের মাধ্যমে। এ সময় ঢাকায় নাগরিক পর্যায়ে ছায়ানটের উদ্যোগে সীমিত আকারে বর্ষবরণ শুরু হয়। আমাদের মহান স্বাধীনতার পর ধীরে ধীরে এই উৎসব নাগরিক জীবনে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে।

পহেলা বৈশাখের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বাঙালির অসাম্প্রদায়িক এবং গণতান্ত্রিক চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটতে থাকে। কালক্রমে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান এখন শুধু আনন্দ-উল্লাসের উৎসব নয়, এটি বাঙালি সংস্কৃতির একটি শক্তিশালী ধারক-বাহক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে বের হয় প্রথম মঙ্গল শোভাযাত্রা। যা ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর ইউনেস্কো এ শোভাযাত্রাকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মর্যাদা দেয়।

পূর্ববর্তী আন্তর্জাতিক চাপ ও সোমালিয়া পুলিশের সহযোগিতায় নাবিকরা মুক্ত হয়েছেন: নৌ প্রতিমন্ত্রী
পরবর্তী ‘আমরা তো তিমির বিনাশী’ এই স্লোগানে মঙ্গল শোভাযাত্রায় ১৪৩১ বরণ