বাংলাদেশ থেকে ফল, সবজি ও পাটজাত পণ্য আমদানিতে আগ্রহী চীন

China interested in importing Bangladesh products - Economy - March 28, 2024 (File Photo)
China interested in importing Bangladesh products - Economy - March 28, 2024 (File Photo)

www.HelloBangla.News – অর্থনীতি – ২৮ মার্চ, ২০২৪: আমাদের জাতীয় ফল কাঁঠাল। আম উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ। পাট আমাদের সোনালী আঁশ, আর আলু দেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি সবজি। সেই সঙ্গে চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনেও বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে। এখন এই সব পণ্য বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশ আমদানি করছে।

এই অবস্থায় চীন বাংলাদেশ থেকে আম, কাঁঠাল, আলু, চামড়াজাত পণ্য, পাটজাত পণ্য আমদানি করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারা এ তথ্য জানান।

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো লক্ষ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সই করতে যৌথভাবে খসড়া সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদন বিনিময় নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, “বাংলাদেশে চীনের বড় বিনিয়োগ রয়েছে। এখন চীন বাংলাদেশে দ্বিতীয় বৃহৎ বিনিয়োগকারী দেশ। এফটিএ সই হওয়ার পর বিনিয়োগ আরও বাড়বে। বাংলাদেশ চীনে আম, কাঠাল, আলু, পাটপণ্য, চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করতে পারে।”

এফটিএ কবে সই হতে পারে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বলেন, “এখনো চুক্তি হয়নি। এখন আলোচনা শুরু হবে। আগামী তিন বছরের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন করতে পারলে ভালো। যদি না হয় আমাদের আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে। আলোচনা শেষ না হলে ততদিন যেন আমাদের এলডিসি হিসাবে এই সুবিধাগুলো দেয় তার জন্য বলব।”

চুক্তির ফলে বাংলাদেশ কী ধরনের সুবিধা পাবে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে তপন কান্তি ঘোষ বলেন, “আমাদের প্রধান রপ্তানি পণ্য গার্মেন্টের বাইরে আরও কিছু পণ্য আছে। রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে যখন আলাপ করছিলাম, তিনি জানিয়েছেন আমের অনেক সম্ভাবনা আছে। পাটজাত পণ্যের অনেক সম্ভাবনা আছে। তারপর হস্তশিল্পের বিষয় আছে।”

তিনি বলেন, “এর বাইরে আরও পণ্য আছে। আমরা ইতোমধ্যে চামড়া রপ্তানি করছি। আমরা কোয়ালিটি সম্পন্ন চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করতে পারি। চীনে ১৪০ কোটি মানুষ। সেখানে যদি আমরা বৈচিত্র্য পণ্য নিয়ে যেতে পারি হিউজ বাজার। চুক্তি হয়ে গেলে বিনিয়োগ বাড়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।”

তপন কান্তি ঘোষ বলেন, আমরা প্রধানত তৈরি পোশাক রপ্তানি করি। ২০২২-২৩ অর্থবছরে আমরা চীনে ৬৭৭ মিলিয় ডলার রপ্তানি করেছি। বিপরীতে চীন থেকে ২২ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার আমদানি করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। এ অর্জন বিশ্বে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি সৃষ্টি এবং বিনিয়োগ ও বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টির পাশাপাশি বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও তৈরি করবে।

যার মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে পণ্য রপ্তানির সময় শুল্কমুক্ত কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা ২০২৬ সালের পরে হারানো এবং মূল্য সংযোজনের হার অন্যতম। এর ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যকে ওই সব দেশের বাজারে প্রবেশের সময় সাধারণভাবে আরোপিত শুল্কের সম্মুখীন হতে হবে। এতে ওই সকল দেশে বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার সংকোচনের সম্ভাবনা রয়েছে।

পূর্ববর্তী বার্ডস আইয়ের ঈদের পাঞ্জাবির সমাহার
পরবর্তী জিম্মি নাবিকদের মুক্ত করতে আমাদের তৎপরতা চলছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী