www.HelloBangla.News – লাইফস্টাইল – ১০ মার্চ, ২০২৪: পরিত্র রমজানে সেহরি ও ইফতারের খাবার কেমন হবে সেটা নিয়ে কথা বলেছেন: রন্ধনশিল্পী- জিনিয়া ইসলাম।
সবাই কে পবিত্র মাহে রামজানের অনেক অনেক শুভেচ্ছা। একটা মাস জুড়ে চলবে মুসলিম উম্মার এই সিয়াম সাধনা। বছরের এই একটা মাস মুসলমানদের সবকিছুই কিছু টা পরিবর্তিত হয় সময়ে, কাজে, খাওয়া দাওয়ায়। তাই এই পরিবর্তিত সময় টার আমরা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে থাকি। রমজানের এই মাসে আমাদের প্রতিটা মুহুর্ত কাটে কাজে এবং ইবাদতে। কারন আল্লাহ্ পাক এবং রাসূলে পাক সাঃ এই মাসকে মুসলিম উম্মার জন্য পরীক্ষার মাস, ক্ষমা চাওয়ার মাস এবং নিজের ভুলত্রুটি শুধরে পবিত্র হবার সুযোগ দিয়ে থাকেন । তাই আমরা যতটা পারি পুরো রমজান মাসকে সকল ভালো কাজ ও ইবাদত কাজে লাগাবো। তবে যেহেতু পরিবর্তিত সময় এই মাস তাই নিজের শরীর স্বাস্থ্য খাওয়া দাওয়া, ওষুধ এবং অন্যান্য শারীরিক বিষয় নিয়ে ও সচেতন হওয়া জরুরি।

যেমন যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হার্টের বা লিভার বা কিডনির সমস্যা আছে তাদের খাওয়া, ওষুধ এবং নিয়মটাও সেভাবেই মেনে চলতে হবে। তবে এমন রুগীর রমজানের আগে একটা পূর্ণ চেকআপ করানো উচিত। তাহলে রমজানে খাবারের তালিকা কি হওয়া উচিত সেটা ঠিক করা যাবে সহজে।
প্রথমেই আসি রমজানের সেহরির খাওয়া কেমন হওয়া উচিত :
সারাদিন রোজা রাখার কারনে ওষুধের সময় টাও বদলে যায় বলে এই ওষুধের সময় টাও ইফতার ও সেহেরি মধ্যে এডজাস্ট করা উচিত।
যারা আমরা সুস্থ আছি আলহামদুলিল্লাহ্ তারা ও কিন্তু সেহরি ও ইফতার নিয়ম করেই খেতে পারি এবং উচিত।
সেহরিতে ভাত খাওয়াটাই ভালো। তবে লাল ভাত সাথে ডাল, শবজী, মাছ খাওয়া ভালো। মাংস পানির চাহিদা বাড়িয়ে দেয় বলে এটা এড়িয়ে চলাটাই উত্তম। তবুও বাচ্চারা মাংস খেতে চায় সেক্ষেত্রে মুরগীর পাতলা ঝোল আলু দিয়ে করা যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস রোগির জন্য রুটি, দুধ, শব্জী, ফল থাকাটা ভালো।
পানি যেহেতু সারাদিন খাওয়া যাবেনা তাই রাতে পানির পরিমান টা বাড়ানো যায় নরমাল পানি খেয়ে, জুস খেয়ে এবং ডাল ও তরকারির ঝোল দিয়ে। সেহেরি খাবার একটু ভারী হওয়া ভালো যেহেতু সারাদিন না খেয়ে থাকতে হয়। হার্টের রুগীর জন্য মাছ খুবই উপকারী। তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে চলাটা খুবই জরুরী। ডায়বেটিসের রুগীর রাতে সামান্য মিষ্টান্ন খাবার খেলে ভালো কারণ সারাদিনে সুগার ইনব্যালেন্স হতে পারে। তাই সুগারের পরিমাণ যেন শরীরে ঠিক মাত্রায় থাকে। তাছাড়া সেররিতে দুধভাত একটু খেতে পারেন।
ইফতারের খাবার:
এবার ইফতারের খাবার কেমন হওয়া উচিত সেটা দেখি। সারাদিন প্রায় ১৩ ঘন্টার মতো সিয়াম সাধনা বা রোজা রেখে শুরুটাই ইফতার যদি স্বাস্থ্যকর পুষ্টিকর না হয় তাহলে শরীরের ক্ষতি হতে পারে। তবে অসুস্থ যারা তাদের ইফতারের ব্যাপারে অবশ্যই সতর্কতা মেন চলা প্রয়োজন। যেমন একটা খেজুর আমরা খেতেই পারি। এতে সারাদিনের শারীরিক ক্লান্তি কিন্তু দূর হয়ে যায়। কারন এতে আছে ফাইবার যা পেট পরিস্কার রাখে। এবং ন্যাচারাল সুগার যা শরীরের শক্তি জোগায়। এছাড়া খেজুরের পরপর সরবত না খেয়ে পানি, বিভিন্ন ফলের জুস, নাবিজ বা খেজুরের সরবত, লাচ্ছি, ও ডাবের পানি খাওয়া খুবই ভালো। খাবার টা হালকা হওয়া জরুরি। চিড়া দৈ, দৈ দিয়ে রুটি বা দৈ ভাত খেলে পেট ঠান্ডা থাকবে এবং এসিডিটি হবেনা। আবার রুটি, ঘন ডাল, শবজি দিয়ে ইফতার করা ভালো। ফল থাকাটা জরুরি। অর্থাৎ প্রোটিন জাতীয় খাবার হতে হবে। ওটস ও খুব ভালো শরীরের জন্য। ইফতার থেকে সেহরি পযর্ন্ত প্রায় দশ গ্লাস পানি খাওয়াটা খুবই জরুরী।
রমজানে অনেকে মনে করেন ব্যায়াম করা ভালো না। এটা একদম ভুল কথা। ব্যায়াম শরীরের প্রতিটি অঙ্গ কে ফিট রাখে এবং রক্ত চলাচল ভালো রাখে। তাই রমজানে ব্যায়াম বন্ধ না রাখাই ভালো।
একটা মাস রামজানে নিজের ও পরিবারের সবার যত্ন নিন। সুস্থ থাকুন। স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার খান।
ধন্যবাদ : জিনিয়া ইসলাম










