www.HelloBangla.News – জাতীয় – ৭ মার্চ, ২০২৪: স্বাধীনতা দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে এসেছে, বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “জাতির পিতা ধাপে ধাপে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। তারই একটি পদক্ষেপ ৭ মার্চ। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্ত হয়ে, ৭০ এর নির্বাচনেই আগে লন্ডনে বসেই ভেবেছিলেন কিভাবে গেরিলা যুদ্ধ হবে, স্বাধীনতা আসবে। স্বাধীনতা হঠাৎ আসেনি, দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে এসেছে।”
আজ বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) দুপুরে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সংগ্রামের পথ বেয়ে অনেক রক্তের অক্ষরে লেখা আছে আমাদের মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার ও স্বাধীনতার অধিকার। ৭ মার্চের ভাষণে কাউকে আনতে হয়নি। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগ দেয়। এই ভাষণের আগে অনেক জ্ঞানী-গুণী, একেকজন একেকরকম পরামর্শ দেয়ার চেষ্টা করে। মা জাতির পিতাকে বললেন- তোমার কারো কথা শোনার দরকার নেই। তুমি সারাজীবন দেশের মানুষের জন্য সংগ্রাম করেছো। কাজেই তোমার মনে যে কথা আসবে সেটাই বলবে।”
তিনি বলেন, “জাতির পিতা মানুষকে আশার বাণী শোনানো আবার শত্রুপক্ষকে বিরত রাখা সবই করেছেন। যে কথা বলার সবই বলেছেন ৭ মার্চে। আজকে এই ভাষণ শুধু আমাদের ভাষণ নয়, আন্তর্জাতিক মর্যাদাও পেয়েছে। পাকিস্তানিদের ভাবতে ভাবতেই দিন গেছে- এই ভাষণে বঙ্গবন্ধু কি বলে গেলেন। তারা দেখলো ভাষণের পর গেরিলা যুদ্ধও শুরু হয়ে গেলো। এই ভাষণ শুধু গেরিলা যুদ্ধের প্রস্তুতিই নয় মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ও এনে দিয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নির্বাচনের আগে ৬৯ সালের অক্টোবর মাসে আমার বাবার লন্ডনে গিয়েছিল। তিনি (বঙ্গবন্ধু) মুক্তি পাওয়ার পর পর আমি আমার স্বামীর সঙ্গে ইতালিতে চলে যাই। ইতালি থেকে আমার স্বামী আবার লন্ডনে চাকরি পেয়েছিল, সেখানে চলে যাই। সেখানে বসে তিনি তার যে পরিকল্পনা ছিল, নির্বাচন হবে, নির্বাচনের রেজাল্ট আসবে, ওরা ক্ষমতা দেবে না, আমাদের যুদ্ধ করতে হবে। যুদ্ধের প্রস্তুতিটা আমি একজন সাক্ষী এখনো আছি, তিনি পরিকল্পনা করেন। ভারতের দুজন প্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনা করেন। আমাদের গেরিলা যুদ্ধ হবে, সেখানে শরণার্থী গেলে কীভাবে আশ্রয় হবে, প্রবাসী বাঙালিরা কি কি কাজ করবে, সমস্ত পরিকল্পনা তিনি করে আসেন।”
শেখ হাসিনা বলেন, “মার্শাল ল এর মধ্যেও নির্বাচন দেওয়ার ওয়াদা করেছিল ইয়াহিয়া খান। ওয়াদার মধ্যেও কিছু শর্ত ছিল। আমাদের দেশের অনেক রাজনৈতিক দল, রাজনৈতিক ব্যক্তি এ নির্বাচনে বিরোধিতা করেছিল। সেই শর্ত মেনেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তার (বঙ্গবন্ধু) কথা ছিল, কে এদেশের নেতৃত্ব দেবে এটা আগে জনগণ ঠিক করুক।”
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নাহিদ ইজহার খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব খলিল আহমদ।










