দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধু মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির কথা বলেছিলেন: প্রধানমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধু অর্থনৈতিক মুক্তির কথা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী - জাতীয় - ১০ জানুয়ারি ২০২৪ (ফাইল ছবি)
বঙ্গবন্ধু অর্থনৈতিক মুক্তির কথা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী - জাতীয় - ১০ জানুয়ারি ২০২৪ (ফাইল ছবি)

www.HelloBangla.News – জাতীয় – ১০ জানুয়ারি, ২০২৪: দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধু মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির কথা বলেছিলেন, বলে জানিয়েছেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ বুধবার (১০ জানুয়ারি) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষ্যে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় যোগ দিয়ে শেখ হাসিনা এই মন্তব্য করেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এটাই শেখ হাসিনার প্রথম জনসভা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পাকিস্তানি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ফিরে এসেছিলেন এই বাংলাদেশে। সবার আগে ছুটে এসেছিলেন এই ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। যেখানে তিনি ভাষণ দিয়েছিলেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব তার জীবনটা উৎসর্গ করেছিলেন বাংলাদেশের জনগণের জন্য। এ দেশে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষার কোনো কিছু ছিল না। প্রায় ৮০ থেকে ৯০ ভাগ মানুষই দারিদ্র্য সীমার নিচের বাস করত। একবেলা খাবার পেত না, দিনের পর দিন না খেয়ে তাদের জীবন কাটাতে হয়েছে। সেই মানুষদের মুক্তির জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেতে হয়েছিল তাকে।”

তিনি বলেন, “এ দেশে মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নয়নের জন্য, অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য, কী কী কাজ করা দরকার, একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশকে কীভাবে তিনি গড়ে তুলবেন সেই সব বিষয়ে তিনি ভাষণেই উল্লেখ করেছিলেন। যে ভাষণ তিনি এ জায়গায় দিয়েছিলেন। এই ভাষণ যখন শুনি আমি মাঝে মাঝে অবাক হয়ে যাই। দীর্ঘ ৯ মাস কারাগারে বন্দি ছিলেন। সেখানে তাকে ঠিকমতো খাবারও দেওয়া হতো না। সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নভাবে রাখা হয়েছিল তাকে। এমনকি একটি পত্রিকাও তার জন্য রাখা হয়নি। তার ফাঁসির হুকুম হয়ে গিয়েছিল। সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে লন্ডন হয়ে বাংলাদেশে পৌঁছেছিলেন তিনি। দেশে পা রেখেই ছুটে যান বাংলার জনগণের সামনে। ১০ জানুয়ারি এখানেই তিনি ভাষণ দেন। সেই ভাষণে একটি দেশের ভবিষ্যৎ, উন্নয়ন, সব পরিকল্পনা, দুঃখী মানুষের হাসি ফোটানোর পরিকল্পনা, মহান মুক্তিযুদ্ধের যে আদর্শ, সেটাই তিনি তুলে ধরেছিলেন।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমার অবাক লাগে সামরিক একনায়করা যখন ভোট কারচুরি করে ক্ষমতায় আসে সেই নির্বাচন নিয়ে কেউ কথা বলতো না। যখন নির্বাচন মানে ছিল ১০টা হোন্ডা ২০টা গোণ্ডা নির্বাচন ঠান্ডা। আমরা যখন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছি, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছি তখনই আমাদের নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন।”

শেখ হাসিনা বলেন, “আজকের বাংলাদেশ বদলে যাওয়া বাংলাদেশ অনেকের অনেকরকম স্বপ্ন ছিল। অনেকে নির্বাচন ব্যর্থ করতে চেয়েছিল, কিন্তু তাদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। মানুষ যেন ভোট দিতে না পারে সেই চেষ্টা করা হয়েছিল।”

জনসভায় ওবায়দুল কাদের বলেন, “এখন খেলা হবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে, লুটপাটের বিরুদ্ধে। খেলা হবে অগ্নিসন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। আজ ঐতিহাসিক ১০ জানুয়ারি। যত দিন লাল সবুজের পতাকা উড়বে, যত দিন বাংলার পাখিরা গান গাইবে তত দিন বঙ্গবন্ধু তুমিও থাকবে।”

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “বঙ্গবন্ধুকন্যাকে পঞ্চমবারের মতো আওয়ামী লীগের পার্লামেন্টারি পার্টি লিডার অব দ্য হাউস করেছে। আগামীকাল তিনি শপথ নেবেন। তিনি আমাদের সাহসের সোনালি ঠিকানা।”

এর আগে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যানার, প্ল্যাকার্ড নিয়ে আসেন জনসভায়। ঢাকার বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিটের নেতারাও ব্যানার-প্ল্যাকার্ড ও পতাকা নিয়ে যোগ দেন।

ছবির হাটের গেট, টিএসসি সংলগ্ন গেট, রমনা কালিমন্দিরের গেট, তিন নেতার মাজার গেট দিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ করছেন নেতাকর্মীরা। রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের গেট দিয়ে ভিআইপিরা প্রবেশ করবেন জনসভায়।

ঢাকা ও তার আশপাশের জেলা থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আসেন দুপুর দেড়টার দিকে।

পূর্ববর্তী শপথ নিয়েছেন দ্বাদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত এমপিরা
পরবর্তী বিদায়ী মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েছেন ২৮ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী