বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার ফাইনাল নিয়ে কিছু কথা

বিশ্বকাপ ক্রিকেট ফাইনাল নিয়ে কিছু কথা - খেলাধুলা - ১৮ নভেম্বর ২০২৩ (ফাইল ছবি)
বিশ্বকাপ ক্রিকেট ফাইনাল নিয়ে কিছু কথা - খেলাধুলা - ১৮ নভেম্বর ২০২৩ (ফাইল ছবি)

www.HelloBangla.News – খেলাধুলা – ১৮ নভেম্বর, ২০২৩: আগামীকাল রবিবার (১৯ নভেম্বর) বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া মধ্যকার ফাইনাল খেলা শুরা হবে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে। ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০২৩ এর সেরা দুটি দল হিসেবে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। দুটি দলই গোটা টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত ক্রিকেটীয় নৈপুণ্য ও মানসিক শক্তির প্রদর্শনী দেখিয়েছে। বিশেষ ভাবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে পরাজয়ের মুখ থেকে প্রায় হেরে যাওয়া ম্যাচ জিতে অস্ট্রেলিয়া প্রমাণ করেছে তারা চাপের মুখেও ভালো খেলতে পারে। সেদিন এবারের বিশ্বকাপের প্রথম দুইশত রান করেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। আহত থাকার পর ম্যাচ একাই ম্যাচ জিতিয়েছেন এই অলরাউন্ডার।

অপর দিকে ভারত এখনও বিশ্বকাপে অপরাজিত আছে। তাই তাদের কঠিন পরিক্ষার মুখোমুখি হতে হয়নি। প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানের পাশাপাশি বোলার হিসেবে শামি অসাধরণ নৈপুণ্য দেখিয়েছে। তবে ফাইনাল খেলায় চাপ থাকবে। দেখার বিষয়ে কে সব ধরনের চাপ উপেক্ষা করে ফাইনোলে জয় ছিনিয়ে আনতে পারে।

তাই আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের ম্যাচ নিয়ে আশাবাদী ক্রিকেট অনুরাগীদের অনেকেই।

অনেকে মনে করছেন এটাই বিশ্বকাপের সবচেয়ে ভালো ফাইনাল লাইনআপ। কারণ ভারতের এই দলটাকে যদি কেউ চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে তবে সেটা অস্ট্রেলিয়াই হতে চলেছে। ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভন এমনটাই মনে করছেন। তার মতে দারুণ একটা ফাইনাল অপেক্ষা করছে ক্রিকেট ভক্তদের জন্য।

ভারতে চলমান ক্রিকেট বিশ্বকাপটি ওয়ানডে ফরম্যাটের ১৩তম বিশ্ব আসর, এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া আটবার ফাইনালে উঠেছে, পাঁচবার শিরোপা জিতেছে।  অস্ট্রেলিয়া জানে কীভাবে জিততে হয়্।  ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার মতো সফল ও তুখোড় দল আর দ্বিতীয়টি নেই।

ভারত এবার একটা নিখুঁত দল নিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে এসেছে। ভারতের সাবেক কোচ জন রাইট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, “ভারতের শীর্ষ ব্যাটার সবার গড় ৫০ এর ওপরে, বোলাররা গড়ে ১৭টি করে উইকেট পেয়েছেন এই বিশ্বকাপে। দলটার দুর্বলতা আসলে কোথায়?”

বিশ্বকাপে মাঠে নামার পর থেকে ফাইনাল পর্যন্ত খেলা দশটি ম্যাচের দশটিতেই নিরাপদ একটা ব্যবধানে ম্যাচ জিতেছে ভারত।

তবে হ্যাঁ, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচের শুরুতে, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে রান তাড়া করার সময়ে এবং সেমিফাইনালে আবারও নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিংয়ের সময় মনে হয়েছে যে ভারত হারতেও পারে কিন্তু শেষ পর্যন্ত হারেনি।

ব্যাটিংয়ে রোহিত শর্মা উড়ন্ত শুরু এনে দেন, কোহলি ধরে খেলেন, শ্রেয়াস আইয়ার ও লোকেশ রাহুল নিজেদের কাজটা যথাযথভাবে করেন। আর বোলারদের মধ্যে জসপ্রিত বুমরাহ উইকেট না পেলে সিরাজ পাচ্ছেন, সিরাজ-বুমরাহ দুজনই উইকেট পেতে ব্যর্থ হলে শামি পাচ্ছেন।

নতুবা রাভিন্দ্র জাদেজা ও কুলদীপ ইয়াদাভ মাঠে ব্যাটারদের স্পিনে কাবু করছেন। অর্থাৎ একটা দলে কোনও ক্রিকেটারই অফ ফর্মে নেই।

তবে এতো কিছুর মধ্যেও অস্ট্রেলিয়ার ফাস্ট বোলার জশ হ্যাজলউড বলেছেন ভারতের কিছু ঘাটতি অস্ট্রেলিয়ার জানা আছে। হ্যাজলউডের কথা একেবারে ফেলে দেয়ার মতো নয়, চলতি বিশ্বকাপেই লিগ পর্বের ম্যাচে ২ রানে ভারতের ৩ উইকেট ফেলে দিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ফাস্ট বোলাররা।

লোকেশ রাহুলের ৯৭ ও ভিরাট কোহলির ৮৫ রানের ইনিংস ভারতকে সেদিন ম্যাচ জিতিয়েছিল।

হ্যাজলউড বলেছেন, “যা যা দরকার সবই আছে ভারতের। ভালো পেস বোলার, ভালো স্পিনার, ভালো ব্যাটার। সব জায়গায়ই ভারতের টিক চিহ্ন দেয়া রয়েছে”।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ওয়েবসাইটে ফাইনালের উইকেট নিয়ে রহস্যের কথা বলা হয়েছে, যে ঠিক কী ধরনের উইকেট হবে তারা নিশ্চিত না।

যেমন অস্ট্রেলিয়া বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে ফাস্ট বোলাররা শুরুতে সুবিধা পেয়েছেন পরে স্পিনাররা।

হ্যাজলউডের মতে এটা গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষত নকআউট ম্যাচগুলোতে প্রথম আঘাতটা করতে পারা, প্রতিপক্ষকে একটু ধাক্কা দিতে পারা যেটা তারা দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে করেছে। দক্ষিণ আফ্রিকা ২৪ রানের মাথায় চার উইকেট হারিয়ে ম্যাচের শুরুতেই কোণঠাসা হয়ে গিয়েছিল।

এই একই পরিকল্পনা অস্ট্রেলিয়া ফাইনালের জন্যও করবে বলছেন হ্যাজলউড, “যদি আমরা আগে বোলিং করি তাহলে চেষ্টা থাকবে শুরুতেই আঘাত করার।”

অস্ট্রেলিয়ার জন্য এবারের বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠাটা সহজ ছিল না, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হার দিয়ে শুরু করেছিল তারা। এরপর টানা সাত ম্যাচ জিতে নক আউট পর্বে খেলা নিশ্চিত করেছে প্যাট কামিন্সের দল।

এবারের অস্ট্রেলিয়া স্কোয়াড নিয়ে তুমুল সমালোচনা হয়েছিল, অ্যাডাম জাম্পা ছাড়া কোনও স্পেশালিস্ট স্পিনার ছিল না। তবে দ্বিতীয় স্পিনারের কাজটা ভালোভাবেই করেছেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ট্রাভিস হেডও দুটি উইকেট নিয়ে ম্যাচের গতিপথ অস্ট্রেলিয়ার দিকে নিয়ে গেছেন।

দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের সদস্যরা বলেছেন, “আমরা অস্ট্রেলিয়ার ব্রিলিয়ান্ট ক্রিকেটের কাছে হেরেছি। চাপের মুখে নয়”।

তবে অজিদের এখনো বেশ দুর্বল দল বলেই মনে হচ্ছে সাবেক ভারতীয় ব্যাটার গৌতম গম্ভীরের।

সৌরভ গাঙ্গুলী বলেন,  ‘বিশ্বকাপ শিরোপা এবং ভারতের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে অস্ট্রেলিয়া। ভারত যেভাবে খেলছে তাতে তাদের থামানো কঠিন। তবে ম্যাচটা দারুণ হবে, কারণ অস্ট্রেলিয়াও বেশ ভালো দল। ‘

অন্যদিকে মাইকেল বেভানও মনে করেন, ভারতকে হারানোর সামর্থ্য আছে অস্ট্রেলিয়ার। তবে ফাইনালে রোহিত-কোহলিদের ফেভারিট মানছেন তিনি। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই’-কে বেভান বলেন, ‘ভারত পরিষ্কার ফেভারিট, তবে শিরোপা জেতার সামর্থ্য আছে অস্ট্রেলিয়ারও। দলটিতে অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে যারা যেকোনো সময় ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। তবে আমার মতে, অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে আরও উন্নতি করা দরকার। ‘

ভারতের সাবেক প্রধান কোচ ও ধারাভাষ্যকার রবি শাস্ত্রীর  অভিমত, বিপুল সংখ্যক দর্শক সেদিন মাঠে ভারতকে সমর্থন দিতে উপস্থিত থাকবেন। তবে এত দর্শক যেমন ভারতের জন্য আশির্বাদ, আবার চাপেরও। কারণ ম্যাচের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে বিশ্বকাপ জেতা। তবে প্রত্যাশার এই চাপ ঠিকমতো সামলাতে পারলেই বিশ্বকাপ জিতে যাবে ভারত।

ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে। সেই ম্যাচে যেরকম উইকেটই ব্যবহার হোক না কেন অজি পেসাররা বল করতে সর্বদা প্রস্তুত থাকবে বলে জানালেন জশ হ্যাজেলউড।

এদিকে শিরোপা লড়াইয়ের আগে আজ সংবাদ সম্মেলনে কামিন্স বলেন, ‘দর্শক সমর্থন অবশ্যই একতরফা থাকবে তবে খেলাধুলায় বিশাল দর্শককে চুপ করিয়ে দেওয়ার মতো তৃপ্তি আর কোনো কিছুতে নেই। কাল এটাই আমাদের লক্ষ্য। ‘

‘ফাইনালের প্রতিটি অংশকেই সাদরে মেনে নিতে হবে। জানি যে, দর্শক গলা ফাটাবে ও আগ্রহ দেখাবে। সেসবে আমাদের মনোযোগ দিলে চলবে না। আমরা জানি যে, গ্যালারি পরিপূর্ণ থাকবে। ১ লাখ ৩০ হাজার দর্শক ভারতকেই সমর্থন করবেন। ব্যাপারটা দারুণ। তারা এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ খেলছে, এখনও অপরাজিত। তবে আমরা জানি, নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে আমরা ওদেরকে ভালোই নাড়িয়ে দিতে পারব। ‘

 

বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ী দলগুলো তালিকা :

১৯৭৫ : ওয়েস্ট ইন্ডিজ

১৯৭৯ : ওয়েস্ট ইন্ডিজ

১৯৮৩ : ভারত

১৯৮৭ : অস্ট্রেলিয়া

১৯৯২ : পাকিস্তান

১৯৯৬ : শ্রীলংকা

১৯৯৯ : অস্ট্রেলিয়া

২০০৩ : অস্ট্রেলিয়া

২০০৭ : অস্ট্রেলিয়া

২০১১ : ভারত

২০১৫ : অস্ট্রেলিয়া

২০১৯ : ইংল্যান্ড

পূর্ববর্তী বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ
পরবর্তী শাহরুখের বাড়ি দেখে মুগ্ধ বেকহ্যাম