কোহলি ও রাহুলের দৃঢ়তাপূর্ণ ব্যাটিং-এ ভারতের জয়

ভারতের জয় - খেলাধুলা - ০৯ অক্টোবর ২০২৩ (ফাইল ছবি)
ভারতের জয় - খেলাধুলা - ০৯ অক্টোবর ২০২৩ (ফাইল ছবি)

www.HelloBangla.News – খেলাধুলা – ০৯ অক্টোবর, ২০২৩: ক্রিকেটে এই ধরণের ঘটনা খুব কম পাওয়া যাবে। মাত্র ২০০ রান তাড়া করতে গিয়ে যখন কোন দলের ২ রানে ৩ উইকেট পড়ে যায় তখন সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর ইতিহাস বিশ্বকাপে খুজে পাওয়া যাবেনা।কিন্তু গতকাল কোহলি ও রাহুল তাই করে দেখিয়েছে।নিশ্চিত হারা ম্যাচ জিতিয়ে দিয়েছে।প্রমাণ করেছে এবার বিশ্বকাপে সবচেয়ে ফেবারিট দল অবশ্যই ভারত। আর নিজ দেশের মাটিতে ভারত সব সব সময় অপ্রতিরোধ্য।

ভারতের মাটিতে সব দল চায় টস জিতে ফিল্ডিং নিতে। কেননা পরে ব্যাটিং করার কয়েকটি সুবিধা পাওয়া যায়। ডে-নাইট ম্যাচে সাধারণত রাতের পর কুয়াশা পড়ে পিচ ব্যাটিং সাহয়ক হয়। বোলাররা পিচ থেকে খুব একটা সহায়তা পায়না। কিন্তু তার পরেও অস্ট্রেলিয়া কেন টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছিলো সেটা কারো বোধগম্য হয়নি।তবে যোগ্য দল হিসেবে জিতেছে ভারত।

অস্ট্রেলিয়াকে দুইশর নিচে বেঁধে অর্ধেক কাজ সেরে রেখেছিলেন বোলাররা। তবে শুরুর ছন্দপতনে ওই ছোট লক্ষ্যেই সবকিছু ভেস্তে যেতে বসেছিল। স্কোরবোর্ডে রান দুই হতেই কিনা উইকেট নেই তিনটি! হারের শঙ্কা প্রবলভাবে জেঁকে বসা খুব স্বাভাবিক। সেই নাজুক অবস্থান থেকে দলকে টেনে তুললেন ভিরাট কোহলি ও লোকেশ রাহুল। দারুণ দৃঢ়তায় দলকে দিলেন অসাধারণ এক জয়ের আনন্দ।

চেন্নাইয়ে এমএ চিদম্বরম স্টেডিয়ামে গতকাল রবিবার অস্ট্রেলিয়াকে ৬ উইকেটে হারিয়ে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করেছে ভারত।

তাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ইনিংসে তিন বল বাকি থাকতে ১৯৯ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। রান তাড়ায় শুরুটা খুব বাজে হলেও শেষ পর্যন্ত অনায়াসে ৫২ বল হাতে রেখে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় রোহিত শর্মার দল।

রান তাড়ায় রাহুল অপরাজিত থাকেন ৯৭ রানে। ১২ রানের জীবন পাওয়া কোহলি খেলেন ৮৫ রানের দারুণ ইনিংস।

আইসিসি টুর্নামেন্টে সাধারণত স্পোর্টিং উইকেটের চর্চা হলেও এদিন চেন্নাইয়ের উইকেট যেন স্পিন স্বর্গ। শুরু থেকেই স্পিনাররা পান বড় বড় টার্ন। মন্থর গতির সঙ্গে ছিল অসম বাউন্স ।

সহায়ক উইকেটে ভারতের সব বোলারই দারুণ বোলিং করেন। মূল কাজটা অবশ্য করেন স্পিনাররাই। বিশেষ করে দুই স্পিনার রবীন্দ্র জাদেজা ও কুলদিপ ইয়াদভ প্রতিপক্ষের টপ ও মিডল অর্ডার গুঁড়িয়ে দেন। জাদেজা ৩টি ও কুলদিপ ২টি উইকেট নেন।

সেই ধাক্কা আর কাটিয়ে উঠতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া।

 

স্বাগতিকদের অনেকেই হয়তো ভেবেছিলেন, ছোট লক্ষ্য তাড়ায় সহজেই উৎড়ে যাবে তাদের দল। কিন্তু তান তাড়ায় শুরুতেই তারা যে ধাক্কা খায়, তা ছিল একেবারেই অভাবনীয়।

ইনিংসের চতুর্থ বলেই মিচেল স্টার্কের অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের ডেলিভারিতে জায়গায় দাঁড়িয়ে ড্রাইভ করার চেষ্টা করেন ইশান কিষান। দিতে হয় তার চড়া মাশুল, প্রথম স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।

এরই সঙ্গে নতুন এক ইতিহাস গড়েন স্টার্ক। বিশ্বকাপে দ্রুততম ৫০ উইকেটের রেকর্ড এখন তার; ১৯ ইনিংসে মাইলফলকটি স্পর্শ করলেন তিনি। তিনি ভেঙে দিলেন লাসিথ মালিঙ্গার রেকর্ড। সাবেক এই শ্রীলঙ্কান পেসারের লেগেছিল ২৫ ইনিংস।

পরের ওভারে জোড়া আঘাত হানেন জশ হেইজেলউড। ওভারের তৃতীয় বলে ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউ হন রোহিত শর্মা। আর শেষ বলে আলগা শটে শর্ট কাভারে ধরা পড়েন শ্রেয়াস আইয়ার।

ভাগ্যকে পাশে পেয়ে হাল ধরেন কোহলি, রাহুলের সঙ্গে গড়েন জুটি। দেখে-বুঝে একটু একটু করে দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন তারা। ২৬তম ওভারে ভারতের রান একশ পার হয়।

পঞ্চাশ ছুঁতে কোহলি খেলেন ৭৫ বল। এই পর্যন্ত মাত্র তিনটি বাউন্ডারি মারেন তিনি। আর রাহুল ফিফটি স্পর্শ করেন ৭২ বলে।

অবশ্য এরপরও তেমন মারমুখী হননি তারা। ঠাণ্ডা মাথায় দলকে এগিয়ে নেন জয়ের পথে। হেইজেলউডের বলে মিডউইকেটে ক্যাচ দিয়ে কোহলি যখন বিদায় নেন, তখন জয়ের সুবাস পাচ্ছে ভারত।

রাহুলের সঙ্গে ১৬৫ রানের জুটি উপহার দেওয়া কোহলি ১১৬ বলে ৬টি চারের সাহায্যে করেন ৮৫ রান।

রাহুল অবশ্য কোনো ভুল করেননি। হার্দিক পান্ডিয়াকে সঙ্গে নিয়ে বাকিটা পথ পাড়ি দেন তিনি। চার রান বাকি থাকতে কামিন্সের বলে ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি।

১১৫ বলের ইনিংসে ৮টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে ৯৭ রান করেন রাহুল। সেঞ্চুরি না পেলেও ম্যাচ সেরার স্বীকৃতি ঠিকই পান তিনি।

এর আগে ইনিংসের শুরুতে অস্ট্রেলিয়া মিচেল মার্শকে হারালেও দ্বিতীয় উইকেটে বেশ শক্ত ভিত পায়। ৬৯ রানের জুটি গড়েন ডেভিড ওয়ার্নার ও স্টিভেন স্মিথ।

কিন্তু দলীয় স্কোর ৭৪ রানের মাথায় কুলদিপের ফিরতি ক্যাচে ওয়ার্নার ফিরে যান। ৫২ বলে ৬টি চারের সাহায্যে ৪১ রান করেন তিনি। এর মাঝেই বিশ্বকাপে দ্রুততম হাজার রানের (১৯ ইনিংসে) রেকর্ড গড়েন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। ভেঙে দেন ভারতীয় কিংবদন্তি সাচিন টেন্ডুলকার ও দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্সের ২০ ইনিংসের রেকর্ড।

ওয়ার্নার ফেরার পর মার্নাস লাবুশেনের সঙ্গে বড় জুটি গড়ার চেষ্টা্ করেন স্মিথ। তবে জাদেজার আঘাতে তা আর হয়ে ওঠেনি। বলা যায়, তাদের তা করতে দেননি জাদেজা।

পরের ওভারে মার্নাস লাবুশেন ও অ্যালেক্স কেয়ারিকে ফেরান জাদেজা। ১০ বলের মধ্যে ৩ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মিডল-অর্ডার নাড়িয়ে দেন বাঁহাতি স্পিনার। কুলদিপের বড় টার্নে পুরোপুরি পরাস্ত হন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল।

শেষ দিকে মিচেল স্টার্কের ২৮ রানের ইনিংসের সৌজন্যে ১৯৯ রান করে অস্ট্রেলিয়া।

 

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

অস্ট্রেলিয়া: ৪৯.৩ ওভারে ১৯৯ (ওয়ার্নার ৪১, মার্শ ০, স্মিথ ৪৬, লাবুশেন ২৭, ম্যাক্সওয়েল ১৫, কেয়ারি ০, গ্রিন ৮, কামিন্স ১৫, স্টার্ক ২৮, জ্যাম্পা ৬, হেইজেলউড ১*; বুমরাহ ১০-০-৩৫-২, সিরাজ ৬.৩-১-২৬-১, পান্ডিয়া ৩-০-২৮-১, অশ্বিন ১০-১-৩৪-১, কুলদিপ ১০-০-৪২-২, জাদেজা ১০-২-২৮-৩)

ভারত: ৪১.২ ওভারে ২০১/৪ (রোহিত ০, কিষান ০, কোহলি ৮৫, শ্রেয়াস ০, রাহুল ৯৭*, পান্ডিয়া ১১*; স্টার্ক ৮-০-৩১-১, হেইজেলউড ৯-১-৩৮-৩, কামিন্স ৬.২-০-৩৩-০, ম্যাক্সওয়েল ৮-০-৩৩-০, গ্রিন ২-০-১১-০, জ্যাম্পা ৮-০-৫৩-০)

ম্যান অব দা ম্যাচ: লোকেশ রাহুল

পূর্ববর্তী অধিকাংশ সদস্য হামাসের হামলার নিন্দা জানালেও ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি
পরবর্তী গাজা উপত্যকায় ‘সর্বাত্মক’ অবরোধ ঘোষণা ইসরায়েলের