জি-২০ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি দেশের জনগণকে গর্বিত করেছে: সেতুমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি দেশের জনগণকে গর্বিত - জাতীয় - ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ (ফাইল ছবি)
প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি দেশের জনগণকে গর্বিত - জাতীয় - ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ (ফাইল ছবি)

www.HelloBangla.News – জাতীয় – ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩: আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গৌরবোজ্জ্বল উপস্থিতি দেশের আপামর জনগণকে গর্বিত করেছে ।

তিনি বলেন, ‘জি-২০ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর গৌরবোজ্জ্বল উপস্থিতি দেশের আপামর জনগণকে অনন্য মর্যাদায় অভিষিক্ত ও গর্বিত করেছে। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের তোলা সেলফি নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম যে বক্তব্য প্রদান করেছেন, তা শুভবোধসম্পন্ন কোনো রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছ থেকে জাতি প্রত্যাশা করে না।’

ওবায়দুল কাদের আজ সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ সব কথা বলেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শিষ্টাচারবিহীন ও অমার্জিত বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাতেই এই বিবৃতি দেয়া হয়।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বাংলাদেশ সদস্য না হওয়া সত্ত্বেও বিশ্বের শক্তিধর রাষ্ট্রসমূহের সমন্বয়ে গঠিত জি-২০ সম্মেলনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার উপস্থিতি বিশ্বনেতৃবৃন্দের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। সুদক্ষ নেতৃত্ব, অসাধারণ ব্যক্তিত্ব এবং কর্মকুশলতার উজ্জ্বল প্রভায় বিশ্বনেতৃবৃন্দের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন শেখ হাসিনা। রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর মেধা, মনন, সততা ও সাফল্যে এক সময়ের দরিদ্রপীড়িত অনিশ্চিত অর্থনীতির বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে উন্নীত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী পদক্ষেপ ও গৃহীত নীতির কারণে গত দেড় দশকে বাংলাদেশ যে সফলতা অর্জন করেছে তা নজিরবিহীন। যার মধ্য দিয়ে বিশ্বনেতৃবৃন্দ শেখ হাসিনার সুদক্ষ নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁসহ বিশ্বনেতৃবৃন্দ শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বিশ্বাস করে ক্ষমতার উৎস দেশের জনগণ। জনগণই একটি রাজনৈতিক সংগঠনের প্রধান শক্তি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের তোলা সেলফি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা আনবে এমনটা নয়, তবে তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্কের ইঙ্গিত বহন করে।’

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের কোনো বন্ধু নেই বলে বিএনপি নেতারা এতো দিন ধরে যে অপপ্রচার চালিয়ে আসছে, তার যথার্থ জবাব শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টই নয়, অন্যান্য বিশ্বনেতারাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উষ্ণ মনোভাব নিয়ে কুশল বিনিময় করেছেন যার ছবি ও সংবাদ ইতোমধ্যে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি বলেন, বিএনপি নেতৃবৃন্দ লাগাতারভাবে তাদের বিদেশি প্রভুদের দ্বারে দ্বারে ধর্ণা দিচ্ছে। একইসাথে তারা বিদেশি প্রতিনিধি এবং সংস্থাসমূহের নিকট বাংলাদেশ সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে। তাদের সরবরাহকৃত বানোয়াট ও মিথ্যা তথ্যে বিভ্রান্ত হয়ে কেউ কেউ বিরূপ মন্তব্য করলে বিএনপি পুলকিত বোধ করে এবং বিষয়টিকে রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে দাঁড় করানোর চক্রান্ত করে। আবার যখন সত্য উন্মোচিত হয় তখন তারা নতুন ষড়যন্ত্রের জাল বুনে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতি নিয়ে কথা বলেছেন! এই ভিসানীতিকে সরকারের পক্ষ থেকেও সাধুবাদ জানানো হয়েছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা প্রতিনিয়ত সাফল্য ও অগ্রগতির নতুন নতুন মাইলফলক অতিক্রম করছেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা জাতির সামনে যে অঙ্গীকার করেছেন তিনি তা সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করে চলেছেন। এক সময় বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মঙ্গা-খরা পীড়িত এবং খাদ্য ঘাটতিতে জর্জরিত ভঙ্গুর অর্থনীতির দেশ ছিল। বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে সে সংকট জয় করে বাংলাদেশ আজ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির অভিযাত্রায় এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, দারিদ্র্যের হার ৪১ শতাংশ থেকে ১৮.৭ শতাংশে এবং অতি দারিদ্র্যের হার ২৫ শতাংশ থেকে ৫.৬ শতাংশে নেমে এসেছে। দেশের শতকরা ২৯ ভাগ মানুষ বিভিন্ন ভাতার আওতায় এসেছে। সারাদেশে ১৩ লাখের বেশি ভূমিহীন/গৃহহীন পরিবারকে বিনামূল্যে গৃহ দেয়া হয়েছে।

সেতুমন্ত্রী বলেন, পদ্মাসেতু, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ একের পর এক মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সুদক্ষ নেতৃত্বে ধারাবাহিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির মধ্য দিয়ে বিশ্বসভায় বাংলাদেশ আজ একটি আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি ভারতে অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনে সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার সরব উপস্থিতি তারই প্রমাণ।

সূত্র: বাসস

পূর্ববর্তী দেশে বকেয়া আমদানি শুল্কের পরিমাণ ৭৬০ কোটি ৩০ লাখ টাকা: অর্থমন্ত্রী
পরবর্তী বাংলাদেশের সঙ্গে ফ্রান্সের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে: প্রধানমন্ত্রী