সুন্দরবনে বর্তমানে বাঘের সংখ্যা কত তা জানা যাবে আগস্টে

www.HelloBangla.News – মতামত – ২৯ জুলাই, ২০২৪: সুন্দরবনে গিয়ে বাঘ দেখার সৌভাগ্য সবার হয় না। তবে আমরা মিরপুর চিড়িয়াখানায় বাঘ দেখে থাকি। বাঘ দেখতে খুব নিরিহ প্রাণী মনে হলেও তারা বাস্তবে অনেক হিংস্র। তবে বাংলাদেশের বাঘ অনেক সুন্দর ও আকারে অনেক ছোট।

আজ সোমবার (২৯ জুলাই) বিশ্ব বাঘ দিবস। বাঘের প্রাকৃতিক আবাস রক্ষা করা এবং বাঘ সংরক্ষণের জন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রতি বছরের ২৯ জুলাই বিশ্ব বাঘ দিবস পালন করা হয়।

বাঘ আমাদের জতীয় পশু। তবে বাংলাদেশে বছরে বাঘের সংখ্যা বাড়ার হার খুব হতাশাজনক। সুন্দরবনে প্রথম বাঘ জরিপের কাজ শুরু হয় ২০১৩-১৪ সালে। সেই জরিপে ১০৬টি বাঘ সুন্দরবনে আছে বলে জানা যায়। ২০১৮ সালে সর্বশেষ জরিপে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিল ১১৪টি। অর্থাৎ চার বছরে সুন্দরবনে বাঘ বেড়েছে ৮টি।

বর্তমানে বাঘ জরিপের কাজ চলছে। জানা গেছে আগস্টের মাঝামাঝি জানা যাবে বর্তমানে সুন্দবনে কয়টি বাঘ আছে।

বাঘের বসবাস কিন্তু এশিয়ার মাত্র কয়েকটি দেশের বন-জঙ্গলে। বাংলাদেশ ও ভারতের কোল ঘেঁষা সুন্দরবনেও আছে বাঘের আনাগোনা।

প্রাণিবিদরা এই বাঘকে বিড়াল জাতীয় বা ক্যাট গ্রুপের প্রাণী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এর আভিধানিক নাম ‘প্যান্থেরা টাইগ্রিস’। একসময় পৃথিবীতে বাঘের নয়টি উপ-প্রজাতি ছিল। কিন্তু আজ থেকে প্রায় দেড়শো বা দুইশো বছর আগে তিনটি প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং পৃথিবীতে এখন টিকে রয়েছে মাত্র ছয়টি উপ-প্রজাতির বাঘ।

তবে আকৃতি এবং সৌন্দর্যে যেসব বাঘ খ্যাতিমান, তার মধ্যে নিঃসন্দেহে সুন্দরবনের বাঘ, অর্থাৎ বেঙ্গল টাইগার অন্যতম। এই বাঘের বৈজ্ঞানিক নাম ‘প্যান্থেরা টাইগ্রিস টাইগ্রিস’।

সুন্দরবনের এই বেঙ্গল টাইগারকে যা দিয়ে চেনেন সকলে, সেই ডোরাকাটা বাঘের আরও জ্ঞাতিভাই রয়েছে।

চলুন, জেনে নেয়া যাক যে সুন্দরবনের বেঙ্গল টাইগার পৃথিবীর অন্যসব ডোরাকাটা বাঘের থেকে কোথায় আলাদা, আর কীসব বৈশিষ্ট্য দিয়েই-বা তাকে আলাদা করে চেনা যাবে।

প্রাণিবিদদের মতে, সুন্দরবনের বাঘ চেনার অন্যতম প্রধান নিয়ামক হলো এদের দেহের আকার। বলা হয়ে থাকে, সুন্দরবনের বাঘ বিবর্তনের মাধ্যমে নিজেদের দেহের আকৃতি ছোট করে ম্যানগ্রোভ বনে টিকে থাকার মতো শারীরিক যোগ্যতা অর্জন করেছে। জানা গেছে সারা পৃথিবীতে বাঘের যত উপ-প্রজাতি রয়েছে, সবগুলোর চাইতে সুন্দরবনের বাঘ ছোট। সুন্দরবন ছাড়াও ভারত, ভূটান, নেপাল এবং মিয়ানমারেও বেঙ্গল টাইগার পাওয়া যায়। সেগুলোর সাথে সুন্দরবনের বাঘের একমাত্র পার্থক্য হলো দেহের আকার। এই আকার ছাড়া সুন্দরবনের বেঙ্গল টাইগার ও পৃথিবীর অন্য জায়গার বেঙ্গল টাইগারের মাঝে আর তেমন কোনও পার্থক্য নেই বলে জানান প্রাণিবিদরা।

 

সুন্দরবনের বাঘের দেহের আকার যেমন ছোট, তেমনি এই বনের বাঘের ওজনও কম। জানা গেছে সুমাত্রান মেয়ে বাঘের ওজন সাধারণত গড়ে ৮৫ থেকে ৯০ কিলোগ্রাম হয়। কিন্তু সুন্দরবনের মেয়ে বাঘের গড় ওজন ৭৫ থেকে ৮০ কিলোগ্রাম। সুন্দরবন ছাড়া পৃথিবীর অন্যান্য দেশে যেসব বেঙ্গল টাইগার পাওয়া যায়, সেখানকার মেয়ে বাঘের ওজন গড়ে ১৩৫ থেকে ১৪০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে।

বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে বিস্তৃত দশ হাজার বর্গ কিলোমিটার জুড়ে গড়ে ওঠা সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের আয়তন ছয় হাজার ১৭ বর্গ কিলোমিটার। অর্থাৎ, এর ৬০ শতাংশ রয়েছে বাংলাদেশে। সুন্দরবন জুড়ে খাল-বিল, নদী, শ্বাসমূল থাকায় বাঘের চলাচলের জন্য তা কিছুটা অসুবিধাজনক। সেইসাথে, এখানে খাবারের স্বল্পতা রয়েছে। এইসব কারণে সেখানে একেকটি বেঙ্গল টাইগারের বিচরণভূমি ১৫ থেকে ২০ বর্গ কিলোমিটার। কোনও কোনও ক্ষেত্রে আবার এটি ৩০ থেকে ৪০ বর্গ কিলোমিটারও হতে দেখা যায়।

কিন্তু সুন্দরবন বাদে অন্যান্য অঞ্চলের বেঙ্গল টাইগারকে সাধারণত ৬০ থেকে ১০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিচরণ করতে দেখা যায়।

বেঙ্গল টাইগারের বাইরে যেসব বাঘ, তাদের একেকটির বিচরণভূমি একেকরকম। যেমন, সাইবেরিয়ান বাঘের বিচরণভূমি বেশি, কারণ সাইবেরিয়াতে জায়গার অভাব নেই। সেখানকার একটা বাঘের বিচরণভূমি ৫০০ থেকে ১০০০ বর্গ কিলোমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে।

২০২৩ সালের ৫ নভেম্বর দুপুরে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের হাড়বাড়িয়া ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রে বাঘ গণনার জরিপ কাজের উদ্বোধন করেন সাবেক পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার। আগস্ট মাসের মাঝামাঝি বাঘ জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হবে। জানা গেছে এই বাঘ জরিপ ‘ক্যামেরা ট্র্যাপিং’ পদ্ধতিতে করা হয়েছে। ১২১৬ টি ক্যামেরা নিয়ে প্রায় ৪৫ জনের একটি গবেষণা টিম বাঘ গণনার কাজ করেছেন।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

পূর্ববর্তী হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানো হয়নি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
পরবর্তী নিরাপরাধ শিক্ষার্থীদের হয়রানি না করার আহ্বান ঢাবি প্রশাসনের