সাঁতারের মাধ্যমে সংগ্রামের পথ বেছে নিয়েছেন অভিবাসী ইয়ুসরা

www.HelloBangla.News – খেলাধুলা – ২৮ জুলাই, ২০২৪: গত শুক্রবার রাতে উদ্বোধন হয়েছে প্যারিস অলিম্পিকের। যেখানে অভিবাসী দলের হয়ে অলিম্পিক ফ্লেম হাতে নিয়েছেন ইয়ুসরা। তবে তিনি আর সেই দলের অ্যাথলেট নন, বর্তমানে একজন সাংবাদিকের ভূমিকায় দুইবারের এই অলিম্পিয়ান সাঁতারু। এবারের অলিম্পিকে পা রাখতেই তাকে শরণার্থী শিবিরের অ্যাথলেট ও স্টাফরা উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। ২০২০ টোকিও অলিম্পিক শেষেই তিনি সাঁতার থেকে অবসর নেন।

ইয়ুসরা মারদিনি সিরিয়ার নাগরিক। কিন্তু সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রাণ বাঁচাতে ২০১৫ সালের অগস্টে সে দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হন তিনি। ইয়ুসরা যখন দেশ ছাড়েন, তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৬।

বাড়ি ছাড়ার সময় ইয়ুসারার সঙ্গী ছিলেন তার বোন সারা মারদিনি। সফর ছিল কঠিন। প্রথমে কয়েক দিন শরণার্থী শিবিরে কাটিয়ে বিমানে চড়ে সিরিয়া ছাড়েন ইয়ুসরা মারদিনি। দুই বোন লেবানন চলে যান। সেখান থেকে পৌঁছন তুরস্কে। তুরস্ক থেকে নৌকায় চড়ে গ্রিসের উদ্দেশে রওনা দেন। কিন্তু তখনই ঘটে বিপদ। জলপথে ১০ কিলোমিটারের রাস্তা নৌকায় করে ৪৫ মিনিটে পার হওয়ার কথা ছিল ইয়ুসরাদের। কিন্তু, যাত্রীদের সংখ্যা বহনক্ষমতার বেশি হওয়ায় নৌকাটি যাত্রা শুরুর ২০ মিনিটের মধ্যে ডুবতে শুরু করে।  এই অবস্থায় ইয়ুসরা, তার বোন এবং অন্য দুই যাত্রী নৌকা ছেড়ে জলে নামতে বাধ্য হন। সাঁতরে নৌকাটিকে তীরের দিকে ঠেলে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব পড়ে তাঁদের উপর। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে সাঁতার কেটে নৌকাটি পারে নিয়ে যেতে সক্ষম হন ইয়ুসরা তার বোনসহ অপর দুইজন। তবে গ্রিসে পৌঁছেও সংগ্রাম শেষ হয়নি ইয়ুসরাদের। বোনকে নিয়ে গ্রিস থেকে জার্মানি চলে যাওয়ার তোড়জোড় শুরু করেন তিনি। দীর্ঘ সেই পথের অনেকটাই পায়ে হেঁটে অতিক্রম করতে হয়েছিল য়ুসরাদের। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে সাহায্য নিতে হয়েছিল চোরাকারবারীদেরও।

২০১৬ সালে অভিবাসীদের নিয়ে আলাদা দল গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় অলিম্পিক্স কমিটি। ভাল সাঁতারু হওয়ার সুবাদে রিও ডি জেনেইরোতে বসা সেই অলিম্পিক্সের অভিবাসী দলে জায়গা হয় ইয়ুসরার। সাঁতারের ১০০ মিটার বাটারফ্লাই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন ইয়ুসরা । যদিও তাঁর র‌্যাঙ্ক ছিল নীচের দিকে। তবে তত দিনে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছিল ইয়ুসরার সংগ্রাম নিয়ে।

২০১৬ সালে অলিম্পিকের পতাকা হাতে নিয়ে তিনি জানিয়েছিলেন, তিনি শুধু অলিম্পিক্সের পতাকা বহন করেননি, বরং তার মতো অনেক অভিবাসীর আশা এবং স্বপ্ন বহন করেছেন। ২০১৬-র পর ২০২০ সালের অলিম্পিক্সেও অংশ নিয়েছিলেন ইয়ুসরা মারদিনি । তবে অভিবাসী অধিকারের পক্ষে কথা বলে তত দিনে বিশ্বের দরবারে পরিচিত নাম হয়ে উঠেছেন তিনি। জাতিসংঘের সর্বকনিষ্ঠ মানবাধিকার শুভেচ্ছাদূত হিসাবেও মনোনীত হন ইয়ুসরা মারদিনি।

২০২২ সালে ইয়ুসরা মারদিনির জীবন নিয়ে তৈরি ছবি ‘দ্য সুইমারস’ মুক্তি পেয়েছে। ২০২৩ সালে বিশ্বের সেরা ১০০ প্রভাবশালী মানুষের তালিকায় ইয়ুসরা মারদিনি অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

২০১৬ সালে অলিম্পিকের উদ্বাস্তু দলের অংশ হিসাবে যোগ দিয়েছিলেন মাত্র ১০ জন ক্রীড়াবিদ। চলতি প্যারিস অলিম্পিকে সেই সংখ্যা ৩৭। এর এটা সম্ভব হয়েছে ইয়ুসরা মারদিনির অনুপ্রেরণায়। আর এই বিশ্ববাসী কারনে স্যালুট জানয় ইয়ুসরা মারদিনিকে।

পূর্ববর্তী মেট্রোরেল সংস্কারে জাপানের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্পেনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ