আমাদের দেশের অর্থনীতি এখন যথেষ্ট শক্তিশালী: প্রধানমন্ত্রী

www.HelloBangla.News – অর্থনীতি – ১৪ জুলাই, ২০২৪: আমাদের দেশের অর্থনীতি এখন যথেষ্ট শক্তিশালী, বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা বলেন, আমরা প্রেক্ষিত পরিকল্পনা নিচ্ছি এবং পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা নিচ্ছি। ২০১০ সাল থেকে ২১ সাল পর্যন্ত যে প্রেক্ষিত পরিকল্পনা করেছিলাম, যে লক্ষ্য স্থির করেছিলাম, এটা আমরা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা স্বল্পোন্নত দেশ রেখে গিয়েছিলেন। এরপর দীর্ঘ সময় এদেশের মানুষের জীবনে কোনো উন্নতি হয়নি, পরিবর্তন ছিল না। আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর আমরা দেশকে এগিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের দেশের অর্থনীতি এখন যথেষ্ট শক্তিশালী করতে পেরেছি।“

আজ রবিবার (১৪ জুলাই) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় রপ্তানি ট্রফি ২০২১-২২ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন,  “আমরা কেন গার্মেন্ট সেক্টরের ওপর নির্ভর থাকব? আমরা পণ্য যখন উৎপাদন করব যখন ডিজাইন, রং এবং এক একটা সময় এক একটা জিনিসের চল আসে, সেটার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমাদের ফ্যাশন ডিজাইন পরিবর্তন করতে হবে। আমরা কোন দেশের কোন বাজারে ঢুকতে পারব, সেটা সরকার থেকে করে দেব। তবে ব্যবসায়ীদেরও নিজেদের পার্টনার নিজেদের খুঁজে নিতে হবে। সেদিকে আপনাদের নিজেদের দৃষ্টি দিতে হবে। নিজেদের উৎপাদক যেমন বাড়াবো, রপ্তানি বাড়াবো। আবার নিজের দেশের ক্রয়ক্ষমতা বাড়িয়ে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী অবস্থান আমরা রেখে যাব। শুধু সীমিত কয়েকটা পণ্যের ওপর আমরা আর নির্ভরশীল থাকতে চাই না।“

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বেসরকারি খাতকে উন্মুক্ত করা হয়েছে। পণ্য শুধু বিদেশে রপ্তানি নয়, পণ্য দেশের বাজারেও বাজারজাত করতে হবে ব্যবসায়ীদের।“

তিনি বলেন, “চতুর্থ শিল্প বিপ্লব যখন আসবে তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের জনশক্তি তৈরি করতে হবে। উপযুক্ত জনশক্তি যাতে তৈরি হয় সেজন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি। যাতে আমাদের যুব সমাজ এগিয়ে আসে। বাংলাদেশকে এই যুবসমাজ এগিয়ে নিতে পারবে। “

সরকারপ্রধান বলেন, “দেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নতি করাই লক্ষ্য বর্তমান সরকারের। সরকারের প্রচেষ্টায় এরইমধ্যে ৫৮ জেলা ভূমিহীন গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।“

পুরস্কার পেয়েছে যেসব প্রতিষ্ঠান:

২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য সর্বোচ্চ বিদেশি মুদ্রা অর্জনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে রিফাত গার্মেন্টস। তৈরি পোশাক (ওভেন) খাতের এই প্রতিষ্ঠানকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রপ্তানি পদক দেওয়া হয়েছে।

তৈরি পোশাকের ওভেন খাত থেকে স্বর্ণপদক পেয়েছে উইন্ডি অ্যাপারেলস, রৌপ্য পদক পেয়েছে অ্যাপারেল গ্যালারি লিমিটেড ও ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে মেসার্স চিটাগাং এশিয়ান অ্যাপারেলস।

তৈরি পোশাকে নিটওয়্যার খাত থেকে স্বর্ণপদক পেয়েছে লিবার্টি নিটওয়্যার লিমিটেড, রৌপ্যপদক পেয়েছে ডিভাইন ইন্টিমেটস লিমিটেড এবং ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে ফ্ল্যামিংগো ফ্যাশনস লিমিটেড।

সুতা খাত থেকে স্বর্ণ পদক পেয়েছে বাদশা টেক্সটাইলস লিমিটেড, রৌপ্য পদক পেয়েছে স্কয়ার টেক্সটাইলস লিমিটেড এবং ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে কামাল ইয়ার্ন লিমিটেড।

টেক্সটাইল ফেব্রিকস খাত থেকে স্বর্ণপদক পেয়েছে নাইস ডেনিম মিলস লিমিটেড, রৌপ্যপদক পেয়েছে হা-মীম ডেনিম লিমিটেড এবং ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে ফোর এইচ ডাইং অ্যান্ড প্রিন্টিং।

হোম ও স্পেশালাইজড টেক্সটাইল খাত থেকে স্বর্ণ পদক পেয়েছে জাবের অ্যান্ড জোবায়ের ফেব্রিকস লিমিটেড, রৌপ্যপদক পেয়েছে মমটেক্স এক্সপো লিমিটেড এবং ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে এসিএস টেক্সটাইলস (বাংলাদেশ) লিমিটেড।

টেরিটাওয়েল খাত থেকে স্বর্ণ পদক পেয়েছে নোমান টেরিটাওয়েল মিলস লিমিটেড এবং রৌপ্য পদক পেয়েছে এসিএস টাওয়েল লিমিটেড।

হিমায়িত পণ্য খাত থেকে স্বর্ণ পদক পেয়েছে ছবি ফিশ প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, রৌপ্যপদক পেয়েছে প্রিয়াম ফিশ এক্সপোর্ট লিমিটেড এবং ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে এমইউসি ফুডস লিমিটেড।

কাঁচাপাট খাত থেকে স্বর্ণপদক পেয়েছে পপুলার জুট এক্সচেঞ্জ লিমিটেড, রৌপ্যপদক পেয়েছে মেসার্স তানফিয়া জুট ট্রেডিং এবং ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে মেসার্স ইন্টারন্যাশনাল জুট ট্রেডার্স।

পাটজাত দ্রব্য থেকে স্বর্ণপদক পেয়েছে জনতা জুট মিলস এবং রৌপ্যপদক পেয়েছে আকিজ জুট মিলস। চামড়াজাত পণ্য থেকে স্বর্ণপদক পেয়েছে পিকার্ড বাংলাদেশ এবং রৌপ্যপদক পেয়েছে এবিসি ফুটওয়্যার।

ফুটওয়্যার থেকে স্বর্ণপদক পেয়েছে বে-ফুটওয়্যার, রৌপ্য পদক পেয়েছে এডিসন ফুটওয়্যার এবং এফবি ফুটওয়্যার পেয়েছে ব্রোঞ্জ পদক।

কৃষিপণ্য থেকে স্বর্ণপদক পেয়েছে ইনডিগো করপোরেশন, রৌপ্যপদক পেয়েছে মনসুর জেনারেল ট্রেডিং এবং ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে সিএসএস ইন্টারন্যাশনাল।

কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ থেকে স্বর্ণপদক পেয়েছে হবিগঞ্জ অ্যাগ্রো, রৌপ্যপদক পেয়েছে প্রাণ অ্যাগ্রো এবং ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে প্রাণ ফুডস লিমিটেড।

হস্তশিল্পজাত পণ্য খাত থেকে স্বর্ণপদক পেয়েছে কারুপণ্য রংপুর, রৌপ্যপদক পেয়েছে বিডি ক্রিয়েশন এবং ক্ল্যাসিকস হ্যান্ডমেড প্রোডাক্টস পেয়েছে ব্রোঞ্জ পদক।

মেলামাইন খাত থেকে স্বর্ণপদক পেয়েছে ডিউরেবল প্লাস্টিক, প্লাস্টিক পণ্য থেকে স্বর্ণপদক পেয়েছে অলপ্লাস্ট, রৌপ্যপদক পেয়েছে আকিজ বায়াক্স ফিল্মস এবং ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে বঙ্গ প্লাস্টিক ইন্টারন্যাশনাল।

সিরামিকের সামগ্রী খাত থেকে স্বর্ণ পদক পেয়েছে শাইনপুকুর সিরামিকস, রৌপ্য পদক পেয়েছে আর্টিসান সিরামিকস এবং ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে প্রতীক সিরামিকস।

হালকা প্রকৌশল খাত থেকে স্বর্ণপদক পেয়েছে এমঅ্যান্ডইউ সাইকেলস, রৌপ্যপদক পেয়েছে মেঘনা বাংলাদেশ এবং ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে রংপুর মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ।

ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক খাতে স্বর্ণপদক পেয়েছে ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ এবং রৌপ্যপদক পেয়েছে বিআরবি কেব্ল ইন্ডাস্ট্রিজ।

অন্যান্য শিল্পজাত পণ্য খাত থেকে স্বর্ণপদক পেয়েছে মেরিন সেফটি সিস্টেম, রৌপ্যপদক পেয়েছে মেসার্স এশিয়া মেটাল মেরিন সার্ভিস এবং ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে তাসনিম কেব্লস।

ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য খাত থেকে স্বর্ণপদক পেয়েছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যাল, রৌপ্যপদক পেয়েছে ইনসেপটা ফার্মা এবং র স্কয়ার ফার্মা পেয়েছে ব্রোঞ্জ পদক।

কম্পিউটার সফটওয়্যার থেকে স্বর্ণপদক পেয়েছে সার্ভিস ইঞ্জিন লিমিটেড এবং গোল্ডেন হারভেস্ট ইনফোটেক পেয়েছে রৌপ্যপদক।

ইপিজেডভুক্ত শতভাগ বাংলাদেশি মালিকানাধীন তৈরি পোশাক শিল্প (নিট ও ওভেন) থেকে স্বর্ণপদক পেয়েছে ইউনিভার্সেল জিনস, রৌপ্যপদক পেয়েছে প্যাসিফিক জিনস এবং ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে শামা ডেনিমস।

ইপিজেডভুক্ত শতভাগ বাংলাদেশি মালিকানাধীন অন্যান্য পণ্য ও সেবা খাত থেকে স্বর্ণপদক পেয়েছে স্টার প্যাকেজিং অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ, রৌপ্য পদক পেয়েছে পদ্মা স্পিনিং অ্যান্ড কম্পোজিট এবং ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে ফারদিন অ্যাকসেসরিজ।

প্যাকেজিং ও অ্যাকসেসরিজ খাত থেকে স্বর্ণপদক পেয়েছে এমঅ্যান্ডইউ প্যাকেজিং, রৌপ্যপদক পেয়েছে মনট্রিমস লিমিটেড ও ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে মেসার্স ইউনিগ্লোরি পেপার অ্যান্ড প্যাকেজিং।

অন্যান্য প্রাথমিক পণ্য থেকে স্বর্ণপদক পেয়েছে হেয়ার স্টাইল ফ্যাক্টরি, রৌপ্যপদক পেয়েছে রায় ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল এবং ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে ইকো ফ্রেশ ইন্টারন্যাশনাল।

সেবা খাত থেকে স্বর্ণপদক পেয়েছে মেসার্স এক্সপো ফ্রেইট লিমিটেড ও রৌপ্যপদক পেয়েছে মীর টেলিকম লিমিটেড।

নারী উদ্যোক্তা বা রপ্তানিকারকদের জন্য সংরক্ষিত খাত থেকে স্বর্ণপদক পেয়েছে পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস, রৌপ্যপদক পেয়েছে বি-কন নিটওয়্যার ও ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে ইব্রাহিম নিট গার্মেন্টস।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি টিপু মুনশি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাং সেলিম উদ্দিন ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস-চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন, এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম।

পূর্ববর্তী কোটাবিরোধী আন্দোলনকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায় বিএনপি: সেতুমন্ত্রী
পরবর্তী দিনাজপুরে সব ধরনের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী