উচ্চ কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোকে জবাবদিহিমূলক প্রতিশ্রুতির আওতায় আনতে হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

High carbon emitting countries must be held accountable Minister of State - National - 29 May 2024
High carbon emitting countries must be held accountable Minister of State - National - 29 May 2024

www.HelloBangla.News – জাতীয় – ২৯ মে, ২০২৪: উচ্চ কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোকে জবাবদিহিমূলক প্রতিশ্রুতির আওতায় আনতে হবে, বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, “পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমাতে উচ্চ কার্বন নিঃসরণকারী উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোকে জবাবদিহিমূলক প্রতিশ্রুতির আওতায় আনতে হবে।  তাছাড়া জলবায়ুর নেতিবাচক পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলা ও ক্ষুদ্র দ্বীপদেশগুলোর উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়াতে হবে।”

আজ বুধবার (২৯ মে) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডার রাজধানী সেন্ট জনসে জাতিসংঘ আয়োজিত ক্ষুদ্র দ্বীপ উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের চতুর্থ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে বক্তৃতায় তিনি এ আহ্বান জানান। সেন্ট জনসের আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব অ্যান্টিগার প্রধান মিলনায়তনে সিডস প্লেনারিতে এই আয়োজন করা হয়।

পররাষ্টমন্ত্রী বলেন, “দুই মেয়াদে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর সংগঠন ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ) সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, সমুদ্রের লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং চরম আবহাওয়ার চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় বিশেষ দৃষ্টি দিচ্ছে।”

সেই লক্ষ্যে আজারবাইজানের বাকুতে আসন্ন বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন কপ২৯ এ ২০২৫ সাল পরবর্তী সময়ে জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং জলবায়ু ঝুঁকির অভিযোজন ক্ষমতা বৃদ্ধির দিকে জাতিসংঘ সদস্যদের মনোযোগী হওয়া জরুরি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্ব সম্পর্কে আন্তর্জাতিক আদালতের (আইসিজে) কাছ থেকে পরামর্শমূলক মতামত চাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নেতৃত্বের কথাও তুলে ধরেন।

আফ্রিকার স্বল্পোন্নত এবং ক্যারিবীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় সিডস দেশগুলোর ক্যাডেটদের জন্য বাংলাদেশ মেরিন অ্যাকাডেমিতে বৃত্তি প্রদানের কথা জানিয়ে সম্মেলনে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, সামুদ্রিক খাতে আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সম্মেলন শেষে দ্য অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা অ্যাজেন্ডা ফর সিডস (আবাস)-প্রতিরোধে সক্ষম উন্নয়নের লক্ষ্যে নবায়নকৃত ঘোষণাপত্রটি চূড়ান্ত হবে।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মোহাম্মদ আবদুল মুহিত, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উত্তর আমেরিকা অণুবিভাগের মহাপরিচালক খন্দকার মাসুদুল আলম ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মীর আকরাম উদ্দীন আহম্মদ দেশের প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন।

জ্যামাইকা এবং ডোমিনিকান রিপাবলিকের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক: 

সিডস সম্মেলনে যোগদানের পাশাপাশি জ্যামাইকা এবং ডোমিনিকান রিপাবলিকের দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। পারস্পারিক সহযোগিতা, মানুষে মানুষে যোগাযোগ, সংস্কৃতি, শিল্প, শিক্ষা, বাণিজ্য এবং পর্যটনে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো আলোচনায় স্থান পায়।

এর আগে নিউইয়র্কে জাতিসংঘে কানাডার স্থায়ী প্রতিনিধি বব রে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও দেখা করেন হাছান মাহমুদ। বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনায় বব রে রোহিঙ্গা সংকট নিরসন নিয়ে কথা বলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে জানান, এই রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরে যাওয়াই একমাত্র সমাধান।

পূর্ববর্তী আইন নিজের গতিতে চলবে: সালমান এফ রহমান
পরবর্তী বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘাত আজ বিশ্বশান্তি বিঘ্নিত করছে: প্রধানমন্ত্রী