আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ শাখা ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের যৌথসভা ছিল আজ বুধবার (১৫ মার্চ)। বিকাল ৪টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। মিছিল নিয়ে আসা নেতাকর্মীদের ভিড় এবং তাদের চেয়ার দখল করে থাকা নিয়ে হট্টগোল হয়।
Tag: রাজনীতি
-

বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছিল ২০০৮ সালে : তথ্যমন্ত্রী
আজ মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয়নি। ২০০৮ সালে সর্বশক্তি প্রয়োগ করে তারা নির্বাচন করলেও প্রথমে মাত্র ২৯টি আসন পেয়েছিল। পরে উপ-নির্বাচনে আরো দুটি আসন পায়। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তারা বিশাল জোট গঠন করে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। এ নির্বাচনে তারা প্লেয়ারও হায়ার করেছিল। ওই নির্বাচনে হেভিওয়েট রাজনীতিক ড. কামাল হোসেনকে তারা হায়ার করেছিল। কিন্তু হায়ারে খেলতে গিয়ে তিনি ভালো খেলেননি। এ বিশাল জোট নিয়ে তারা মাত্র ৭টি আসন পেয়েছিল। বিএনপির জনপ্রিয়তা এর থেকেই স্পষ্ট। আমি আশা করব, আগামী নির্বাচনে তারা যেন ৩০টির বেশি আসন পায়।’
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ২০০৮ সালে বেশ কয়েকবার বলেছিলেন নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ৩০টির বেশি আসন পাবে না। ২০০৮ সালে যে নির্বাচন হয়েছিল সেটি অবাধ, নিরপেক্ষ এবং বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন হয়েছিল। কিন্তু সে নির্বাচনে তারাই ৩০টির বেশি আসন পায়নি। খালেদা জিয়ার সেই ভবিষ্যদ্বাণী তার বেলাতেই কার্যকর হয়েছে। এবারের নির্বাচনে মির্জা ফখরুলের ভবিষ্যদ্বাণীও যদি তার বেলাতেই সত্য হয় তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। মির্জা ফখরুল যে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন এ ধরনের অবান্তর কথা বলা সমীচীন নয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘দেশে ভোট হবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে। সুতরাং তারা চাইলেও আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচনে আসতে পারবে না। যেহেতু কমিশনের অধীনে নির্বাচন হবে সেহেতু আশা করব তারা নির্বাচনে অংশ নেবে।’
-

খালেদা জিয়ার মুক্তির আবেদন আইন মন্ত্রণালয়ে
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়াতে ৭ম বারের মতো পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছে। সোমবার তার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ আবেদন করেন। আবেদনে এবারও সাজা মওকুফ ও শর্ত শিথিল করে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নেওয়ার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ আদালত। রায় ঘোষণার পর ওই দিনই খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেওয়া হয়।
খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়াতে ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই আবেদন বিবেচনার জন্য আবেদনটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে। আইনি মতামতের পর এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, খালেদা জিয়ার পরিবারের আবেদনটি আমরা পেয়েছি। এ ব্যাপারে আইনগত মতামত দিয়ে শিগগিরই তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
মূলত আগের শর্ত বহাল রেখে মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে খালেদা জিয়ার। ২০২০ সালে করোনা মহামারি শুরু হলে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত করে দুটি শর্তে ছয় মাসের মুক্তি দেন। ২৫ মার্চ কারাগার থেকে মুক্ত হন তিনি।
প্রথম শর্তটি হলো খালেদা জিয়াকে বাসায় থেকে চিকিৎসা নিতে হবে। দ্বিতীয়ত তিনি বিদেশ যেতে পারবেন না। এর পর পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কয়েক দফায় ছয় মাস করে খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ায় সরকার।
এদিকে খালেদা জিয়ার রাজনীতি করা না করা নিয়ে সরকারের মন্ত্রীদের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। মন্ত্রীদের কেউ কেউ বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনীতি করতে কোনো বাধা নেই। তাদের এমন মন্তব্যে দ্বিমত পোষণ করে সরকারের প্রভাবশালী দুজন মন্ত্রী বলেন, মুক্তির শর্ত অনুযায়ী খালেদা জিয়ার রাজনীতি করার সুযোগ নেই।
খালেদা জিয়া হার্টের সমস্যা, লিভার সিরোসিস ছাড়াও নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। বহু বছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, দাঁত ও চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতা রয়েছে তার। কারাগার থেকে বেরোনোর পর চিকিৎসার জন্য কয়েক দফা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন তিনি। সর্বশেষ ২৭ ফেব্রুয়ারি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে।
-

জনগণই আওয়ামী লীগের শক্তির একমাত্র উৎস : ওবায়দুল কাদের
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগ জনগণের কল্যাণে রাজনীতি করে। জনগণই আওয়ামী লীগের শক্তির একমাত্র উৎস।
রোববার (১২ মার্চ) গণমাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জনগণের ম্যান্ডেট নিয়েই আওয়ামী লীগ সবসময় ক্ষমতায় এসেছে এবং জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশাকে ধারণ করেই রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে। রাষ্ট্রক্ষমতার জন্য আওয়ামী লীগ কখনো জনগণ ব্যতীত অন্য কারো মুখাপেক্ষী হয়নি।’
দেশী-বিদেশী সুপরিকল্পিত ষড়ন্ত্রের মাধ্যমে অসংখ্যবার আওয়ামী লীগের নিশ্চিত বিজয় ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, দেশবাসী ভুলে যায়নি, ক্ষমতা দখলের নীলনকশা বাস্তবায়নে ১৯৯১ সালে জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই’র কাছ থেকে অর্থ সহায়তা নিয়েছিল বলে কয়েক বছর আগে সে দেশের আদালতে সংস্থাটির তৎকালীন প্রধান জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছিল।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনের আগেও বিদেশী প্রভুদের কাছে আমাদের জাতীয় সম্পদ প্রাকৃতিক গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে সূক্ষ্ম কারচুপির মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছিল খালেদা জিয়া। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা দেখি, ক্ষমতা দখলের জন্য কিভাবে বিএনপি নেতারা বিদেশী দূতাবাসগুলোতে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহলে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।
তিনি বলেন, বিদেশী প্রভুদের স্বার্থ রক্ষার মুচলেকা দিয়ে যারা ক্ষমতায় আসে তারা কখনোই জনগণের কল্যাণ করতে পারে না। বিএনপি-জামায়াত অশুভ জোটের দুঃশাসন, দুর্নীতি, লুটপাট, দুর্বৃত্তায়নই তার জ্বলন্ত উদাহরণ।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আদানি গ্রুপের সাথে বিদ্যুৎ ক্রয়ের চুক্তি প্রসঙ্গে হীন রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে মনগড়া ও বানোয়াট মন্তব্য করেছেন। নিরবচ্ছিন্নভাবে জনগণের বিদ্যুৎ সুবিধা প্রাপ্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার আদানির কাছ থেকে একটি লাভজনক চুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ ক্রয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, ভারতের একটি কোম্পানিকে দিয়ে ২ বিলিয়ন ডলার এককালীন বিনিয়োগ করিয়ে, ভারতের অভ্যন্তরে ৬০০ একর জমির উপর বিদ্যুৎ কেন্দ্র বানিয়ে, ভারতের আকাশে কয়লা পুড়িয়ে যে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে, তা সর্বনিম্ন দামে ক্রয় করে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হবে এবং সেই বিদ্যুৎ বাংলাদেশের মানুষ ব্যবহার করবে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, পুরোপুরি বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষা করেই এই চুক্তি হয়েছে। বাংলাদেশের জনগণ এই চুক্তির ফলে লাভবান হয়েছে। যারা বিদ্যুতের বদলে জনগণকে খাম্বা দিয়েছে, বিদ্যুতের দাবি করায় জনগণের উপর গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যা করেছে তাদের মুখে বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতি নিয়ে কথা বলা মানায় না।
তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুটি একটি ডেড ইস্যু। গণতন্ত্রকামী প্রত্যেকটি মানুষমাত্রই জানে, জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত নয় এমন ব্যক্তি দ্বারা এক মুহূর্তের জন্যও রাষ্ট্র পরিচালনা সম্পূর্ণরূপে গণতন্ত্রের অন্তর্নিহিত আদর্শের পরিপন্থী। অনির্বাচিত ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে জনগণ ক্ষমতাহীন হয়ে পড়ে। তাছাড়া দেশের সর্বোচ্চ আদালত কর্তৃক সুস্পষ্টভাবে অবৈধ ও অসাংবিধানিক আখ্যা দেয়া কোনো পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়া অসম্ভব। আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই, বিশ্বব্যাপী প্রচলিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও দেশের সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জনগণই নির্ধারণ করবে কে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি নেতারা মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও তাদের অন্তরে স্বৈরাচারের চেতনা প্রবাহমান। যারা একজন দুর্নীতিবাজ পলাতক খুনি আসামির জন্য দলীয় গঠনতন্ত্রে দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয় তাদের মুখে গণতন্ত্রের কথা মানায় না। কানাডার আদালত কর্তৃক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সন্ত্রাসী সংগঠন বিএনপিই এদেশের গণতন্ত্রের প্রধান অন্তরায়।
তিনি বলেন, বিএনপি মানেই হলো- দুর্নীতি, লুটপাট, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, খুন-ধর্ষণ; সর্বোপরি জনগণের উপর নির্যাতন। আর আওয়ামী লীগের মূল লক্ষ্য দেশের উন্নয়ন- জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার ধারাবাহিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকায় বাংলাদেশের অর্থনীতি মজবুত ভীতের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সকল প্রতিকূলতা জয় করে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে।
সূত্র : বাসস
-

বিএনপিই চিতপটাং হয়ে গেছে সরকারকে নামাতে গিয়ে : তথ্যমন্ত্রী
আজ শনিবার দুপুরের দিকে খাগড়াছড়ি জেলা কৃষক লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘সরকারকে দড়ি ধরে টান দিতে গিয়ে বিএনপি নিজেই চিতপটাং হয়ে গেছে এরপর দড়ি ধরে টান দিলে, দড়ি ছিঁড়ে হামাগুড়ি দিতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পাহাড়-সমতলে আমূল পরিবর্তন হয়েছে উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপির ওই পলাতক নেতা তারেক রহমানের দেশের পরিবর্তন সহ্য হচ্ছে না। খালেদা জিয়ার অন্তর জ্বলে যাচ্ছে আর মির্জা ফখরুল বকবক করছেন।
ড. হাছান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পাহাড়ে-সমতলে আমূল পরিবর্তন হয়েছে। বিশ্বে আয়তনের দিক দিয়ে ৯২তম ও মাথাপিছু সর্বনিম্ন কৃষিজমির দেশ হয়েও আমরা ঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস মোকাবেলা করে পৃথিবীতে ধান উৎপাদনে তৃতীয়, মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে দ্বিতীয়-তৃতীয়তে ওঠানামা, সবজিতে চতুর্থ, আলুতে সপ্তম, আম উৎপাদনে দ্বিতীয়, ইলিশ উৎপাদনে প্রথম। এটি শুধু শেখ হাসিনা এবং শেখ হাসিনার জাদুকরী নেতৃত্বেই সম্ভব হয়েছে।’
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি-বাঙালিদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছেন আর শেখ হাসিনা সেই বিভেদ দূর করে পার্বত্য শান্তিচুক্তি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সম্প্রীতির বন্ধন সৃষ্টি করেছেন। বিচ্ছিন্ন যেসব ঘটনা ঘটে তা শুধু চাঁদাবাজির কারণে।
কৃষক লীগের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কৃষিপ্রীতি তুলে ধরে সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৯ সালে আমরা সরকার গঠনের পর প্রথম মন্ত্রিপরিষদসভার প্রথম সিদ্ধান্ত ছিল কৃষি ও কৃষকের জন্য ভর্তুকি প্রদান। আর জননেত্রী শেখ হাসিনা কৃষক ও কৃষিকে কত ভালোবাসেন, গণভবনে কৃষি উৎপাদনের কথা আপনারা টিভিতে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছেন। গণভবনে মৌমাছির চাষ করে ১০০ কেজি মধু হয়েছে। অন্যান্য শাকসবজি উৎপাদন হচ্ছে, ধানও হচ্ছে। সেখানে অন্য প্রধানমন্ত্রীরাও ছিলেন, খালেদা জিয়াও ছিলেন, তারা কেউ এটি করতে পারেননি।’
‘বঙ্গবন্ধুকন্যা সেই প্রধানমন্ত্রী যিনি রাত ১২টার আগে ঘুমাতে যেতে পারেন না, ফজরের আজানের আগে উঠে তাহাজ্জুতের নামাজ পড়েন, আজানের পর ফজরের নামাজ পড়েন, কোরআন তেলাওয়াত করেন, দেশ পরিচালনা করেন, দল পরিচালনা করেন আবার কিষানি হিসেবেও কাজ করেন’, বলেন হাছান মাহমুদ।
কৃষক লীগ বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষক লীগ বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন, যা সমগ্র দেশে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত সুসংগঠিত। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দেশে ফিরে কৃষক লীগের মাধ্যমে সারা দেশে বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনা করেছেন। সেই সময় থেকে প্রথমে বছরে এক মাস, পরে বছরে তিন মাসব্যাপী এ অভিযান চলে আসছে। আমরা যখন ক্ষমতায় ছিলাম না, তখনো কৃষক লীগ কৃষকের কল্যাণে কাজ করে গেছে।’
এর আগে সকালে খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু চৌধুরী এবং খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরী অপু পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে সম্মেলন উদ্বোধন করেন।
খাগড়াছড়ি জেলা কৃষক লীগের আহ্বায়ক পিন্টু ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ বিশ্বনাথ সরকার বিটু প্রধান বক্তা এবং ভারত প্রত্যাগত শরণার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি, বাসন্তি চাকমা এমপি, কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি আকবর আলী চৌধুরী বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন। আরো বক্তব্য রাখেন কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা, আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট রাবেয়া হকসহ খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগ, কৃষক লীগ ও অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ।
সম্মেলন শেষে পিন্টু আচার্য্যকে সভাপতি এবং খোকন চাকমাকে সাধারণ সম্পাদক করে খাগড়াছড়ি জেলা কৃষক লীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
-

প্রধানমন্ত্রী হাসিনার নেতৃত্বে পৃথিবীকে চমকে দিয়ে বাংলাদেশের নারী সমাজ: তথ্যমন্ত্রী
তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত সারাদেশে নাশকতার ছক এঁকেছে। তাদের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
বুধবার (৮ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবন চত্বরে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগ আয়োজিত ‘আঁধার ভাঙার শপথে আলোক প্রজ্জ্বলন’ কর্মসূচিতে তিনি এ কথা বলেন। তথ্য মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
দেশে নারী উন্নয়ন নিয়ে সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পৃথিবীকে চমকে দিয়ে বাংলাদেশের নারী সমাজ উন্নতি লাভ করেছে। নারী সমাজ সর্বক্ষেত্রে তাদের মেধা, যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখছে। বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশের নারীরা রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের দিক দিয়ে বিশ্বে পঞ্চম, এশিয়া ওশেনিয়া অঞ্চলে দ্বিতীয় আর উপমহাদেশে প্রথম। শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের কারণে এটি হয়েছে। আমাদের নারী পৃথিবীকে পথ দেখাচ্ছে। আমাদের নারীরা এভারেস্ট জয় করেছে, আমাদের নারীরা হিমালয় শৃঙ্গে উঠেছে, মহাসাগর পাড়ি দিচ্ছে।’
দেশ ও নারী দিবসকে সামনে রেখে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মা-বোনসহ সবাইকে সতর্ক দৃষ্টি রাখার অনুরোধ জানাই, বিএনপি-জামায়াত সারাদেশে নাশকতা সৃষ্টি করার ছক এঁকেছে। তার আলামত শুরু হয়ে গেছে। তাদের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। নারীদের বলবো, আপনারা এগিয়ে যান, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যান। আপনাদের হাত ধরে দেশ এগিয়ে যাবে। আমাদের দেশ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছাবে।’
তিনি বলেন, আজকে বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী নারী, বিরোধীদলীয় নেত্রী নারী, সংসদ নেতা নারী, সংসদ উপনেতা নারী, শিক্ষামন্ত্রী নারী। এভাবে নারীর যে ক্ষমতায়ন বাংলাদেশে হয়েছে, পৃথিবীর আর কোনও দেশে গত এক দশকে এভাবে হয়নি।
‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজকে নারীরা সেনাবাহিনীতে শুধু অফিসার পদে নয়, সেনা সদস্য হিসেবেও কাজ করছে, তারা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, ডিসি, এসপি যা ১৪ বছর আগে কেউ ভাবেনি’, বর্ণনা করেন তিনি।
আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘নারী ফুটবল দল পাকিস্তানকে ১২ গোল দিয়েছে, সার্ক শিরোপা জয় করেছে। আমাদের নারী ক্রিকেট দল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, কিন্তু পুরুষ ক্রিকেট দল পারেনি। সাম্প্রতিক সময়ে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় নারীদের ফল ভালো। প্রধানমন্ত্রীর নারীবান্ধব নীতি প্রণয়ন ও নানামুখী কর্মসূচির কারণে এটি সম্ভব হয়েছে।’
যুব মহিলা লীগ সভাপতি ডেইজি সারওয়ারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শারমিন সুলতানা লিলির সঞ্চালনায় সংগঠনের সদস্যরা মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের আগে দেশে নারী উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন।
-

বিচ্ছিন্ন ঘটনা নিয়ে বিএনপি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা খোজে: তথ্যমন্ত্রী
তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘বিএনপি এবং তাদের মিত্ররা পুরো দেশে নানাভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরির পাঁয়তারার মধ্যে আছে। সাম্প্রদায়িক যে উগ্র গোষ্ঠীকে নিয়ে বিএনপি রাজনীতি করে, তারা নানা ধরণের ঘটনা ঘটানো চেষ্টা করে। পঞ্চগড়ের ঘটনাও বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়।’
সচিবালয়ে সাংবাদিকদের দুপুরে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, ‘দেশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে তো বিএনপি। পঞ্চগড়ে যে ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে তাদের বেশির ভাগই ছিল বিএনপির সমর্থক। সেখানে যারা কাদিয়ানিদের জলসাতে হামলা চালিয়েছে তারা কারা সেটা তো পুলিশের খাতায় আছে। তারাই সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে, হামলা চালিয়েছে এবং সে হামলায় দু’জন মৃত্যুবরণ করেছে। মির্জা ফখরুল সাহেব নিজেদের দায়টা এড়ানোর জন্য দুইদিন পরে রোববার বক্তব্য রেখেছেন। আসলে এ ঘটনার জন্য বিএনপি-জামাতের সমর্থকরাই মূলত দায়ী।’
সীতাকুন্ড, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গোলযোগ, ঢাকার সায়েন্সল্যাবে বিস্ফোরণের ঘটনায় বিএনপি মহাসচিব সরকারকে দায়ী করেছেন। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে আমাদের সরকার। তাদের চিকিৎসা, খাদ্য, শিক্ষা সবকিছুই আমাদের সরকার ব্যবস্থা করছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ঘটনাটি তদন্তাধিন, এটি নাশকতা কি না এবং এটি সার্বিকভাবে দেশের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টার অংশ কি না সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘সায়েন্সল্যাব এবং সীতাকুন্ডের ঘটনাগুলো দুর্ঘটনা। মির্জা ফখরুল সাহেবের বক্তব্যে মনে হচ্ছে- কারো চুলায় আগুন লাগল আর ক’দিন পরে বলল যে এ জন্য সরকার দায়ি। বিষয়টা তো তা নয়, এটা দুর্ঘটনা। তবে এই দুর্ঘটনা অবশ্যই অনভিপ্রেত, দু:খজনক। এই দুর্ঘটনার জন্য যারা দায়ি তাদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বদ্ধপরিকর।’
-

মুঠোফোনের আসক্তিতে থেকে কিশোর-তরুণদের রক্ষার আহ্বান: তথ্যমন্ত্রী
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেসিয়াম মাঠে অমর একুশে বই মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ মুঠোফোনের আসক্তি থেকে দেশের কিশোর-তরুণদের রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বই পড়ার অভ্যাসটা কেড়ে নিয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মুঠোফোন। এটা বড় যন্ত্রণা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন তরুণ ও কিশোরদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস নেই।
তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দুর্নীতি ও টাকা পাচারের কারণে শাস্তি হয়েছে। লুটের টাকা বিদেশে পাচার করার কারণে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এফবিআই সাক্ষ্য দিয়ে গেছে।’
তিনি বলেন, ‘আজ সংবাদ সম্মেলন করে সরকারের বিরুদ্ধে একগাদা দুর্নীতির অভিযোগ উপস্থাপন করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব। আমার প্রশ্ন হচ্ছে যারা নিজেদের দুর্নীতির কারণে পর পর বাংলাদেশকে পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন করেছিল তারা কারা ? তারা হচ্ছে বিএনপি।’
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য ও অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা। আরও বক্তব্য দেন অমর একুশে বইমেলা উদ্যাপন পরিষদের আহ্বায়ক ও কাউন্সিলর নিছার উদ্দিন আহমেদ এবং সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী শেখ মো. তৌহিদুল ইসলাম।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে বইমেলা শুরু হয়েছিল। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এ মেলার আয়োজন করে। -

নির্বাচনে সকল দলের অংশগ্রহণ চায় আওয়ামী লীগ
রোববার দুপুরে মিন্টো রোডে সরকারি বাসভবনে আগত দেশি-বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের সমন্বয়ে গঠিত ‘ইলেকশন মনিটরিং ফোরামে’র প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ জানান, “আমরা চাই বিএনপিসহ সমস্ত রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিক এবং জনগণ উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে ভোট দিয়ে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে আগামীর সরকার নির্বাচিত করুক। সরকারের পক্ষ থেকে যদি কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন থাকে সেটি অবশ্যই আমরা করবো।’’
