Tag: কলম্বিয়া

  • পানামাকে ৫-০ গোলে হারিয়ে কোপার সেমিফাইনালে কলম্বিয়া

    পানামাকে ৫-০ গোলে হারিয়ে কোপার সেমিফাইনালে কলম্বিয়া

    www.HelloBangla.News – খেলাধুলা – ৮ জুলাই, ২০২৪: এবার কোপা আমেরিকায় দারুন ছন্দে আছে কলম্বিয়া। প্রতিটি ম্যাচ যখন দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হচ্ছে তখল দেশটি পানামাকে গোলবন্যায় ভাসিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে।

    আজ সোমবার সকালে কোয়ার্টার ফাইনালে ক্যারিবিয়ান দলটির বিপক্ষে ৫-০ গোলের বিশাল জয় পেয়েছে নেস্তর লোরেঞ্জোর শিষ্যরা। এই জয়ে নিজেদের একটি রেকর্ড ছুঁয়েছে তারা। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ বাছাইয়ে আর্জেন্টিনার কাছে হেরেছিল তারা। এরপর আর হারের মুখ দেখেনি দলটি। এবার নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো টানা ২৭ ম্যাচে অপরাজিত থাকার রেকর্ড গড়েছে কলম্বিয়ানরা। এর আগে ১৯৯২ এবং ১৯৯৪ সালের মধ্যবর্তী সময়ে সমান ম্যাচে অপরাজিত ছিল তারা।

    পানামার বিপক্ষে শুরু থেকেই দাপুটে ফুটবল খেলেছে কলম্বিয়া। প্রতিপক্ষের রক্ষণ ছিন্নভিন্ন করেছে অনেকবার। মাত্র অষ্টম মিনিটেই তারা এগিয়ে যায় করদোবার গোলে। এর কয়েক মিনিট পরে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন অধিনায়ক হামেস রদ্রিগেস। একটু পরেই ফের আসরে নামেন তিনি। এবার লুইস দিয়াজকে দিয়ে গোল করান হামেস। দুর্বল রক্ষণ নিয়ে ভুগতে থাকা পানামার বক্সে ঢুকে আলতো চিপে বল জালে পাঠিয়ে দেন দিয়াজ।

    প্রথমার্ধেই ৩-০ গোলে এগিয়ে যাওয়া কলম্বিয়া পরে আরও দুই গোল করে। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য তাদের খেলার গতি কিছুটা কমে আসে। কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে তুলেও নেওয়া হয়। তারপরও স্কোরশিটে আরও দুইজনের নাম যুক্ত হয়। প্রথমে পেনাল্টি থেকে গোল করেন রিচার্ড রিওস। এরপর মিগুয়েল আনহেল বোর্হা তুলে নেন আসরে নিজের প্রথম গোল। পানামার কাছে এত গোলের কোনও জবাব ছিল না। ফলে সহজ জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে কলম্বিয়া।

    সেমিফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ আরেক ম্যাচে ব্রাজিলের টাইব্রেকারে হারানো উরুগুয়ে।

  • কলম্বিয়ার সঙ্গে ড্র করে কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিল

    কলম্বিয়ার সঙ্গে ড্র করে কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিল

    www.HelloBangla.News – খেলাধুলা – ৩ জুলাই, ২০২৪: এক সময় ব্রাজিল ছিল সেরা দলগুলোর মধ্যে অন্যতম। ইউরোপিয়ান ও আফ্রিকান ফুটবলের উত্থানের ফলে ব্রাজিলের একক আধিপত্য পড়তির দিকে। তার পরেও ব্রাজিলের ফুটবল এখনো আকর্ষণীয়। তাদের বিশ্বজুড়ে রয়েছে বিরাট সমর্থক গ্রুপ। যারা গত রাতের খেলায় আবার হতাশায় পড়েছে। কেননা ব্রাজিলের সঙ্গে ১-১ ড্র করে ‘ডি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়েই কোপা আমেরিকার কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছেন কলম্বিয়া। দ্বিতীয় হয়ে শেষ আটে নাম লিখিয়েছে ব্রাজিলও।

    ক্যালিফোর্নিয়ার লেভি’স স্টেডিয়ামে শুরুটা ভালোই ছিল ব্রাজিলের। আগের ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ছন্দে ফেরা ব্রাজিল আজ এগিয়ে যায় ম্যাচের ১২ মিনিটে। ব্রাজিলের হয়ে গোল করেন রাফিনহা। বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে ফ্রি-কিক থেকে চোখ ধাঁধানো গোল করেন বার্সেলোনার এই ফরোয়ার্ড। এতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় হলুদ জার্সিধারীরা।

    ৭ মিনিটে বাজে ফাউলের জন্য হলুদকার্ড দেখেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। আগের ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে ৮৩ মিনিটে হলুদকার্ড দেখেছিলেন তিনি। কোপা আমেরিকায় দুইবার হলুদকার্ড দেখার কারণে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে পারবেন না ব্রাজিলের এই ফরোয়ার্ড।

    গোল শোধে মরিয়া হয়ে উঠে কলম্বিয়া। একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকে তারা। ব্রাজিলের গোলরক্ষক এলিসন বেকার বেশ কয়েকটি সেভ করেন।

    ম্যাচের ২০ মিনিটে মাঝমাঠে ফ্রি কিক পায় কলম্বিয়া। হ্যামেশ রদ্রিগেজের বাড়ানো বলে গোল করেন ডেভিনসন সানচেজ। তবে লাইনসম্যান অফসাইডের সিদ্ধান্ত দিলে সে গোল বাতিল হয়।

    কিন্তু প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে গোল হজম করেই বসে কোপার ৯ বারের চ্যাম্পিয়নরা। কলম্বিয়ার জন কর্ডোবার অ্যাসিস্টে গোল করেন ড্যানিয়েল মুনোজ। ১-১ সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।

    দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে ব্রাজিল। ৫১ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের বক্সের বাইরে থেকে নেয়া শট ডান পাশে ওপর দিয়ে চলে যায়। দুই মিনিট পর এদের মিলিতাওয়ের চেষ্টা আটকে দেয় কলম্বিয়ার রক্ষণ। ৫৯ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ফ্রি কিকে একটুর জন্য গোল পাননি রাফিনহা। পোস্টের বাঁ পাশ ঘেঁষে বেরিয়ে যায় বল। ৬৯ মিনিটে জেমস রদ্রিগেজের ক্রস থেকে বক্সের মধ্যে জন করডোবা হেড নিয়েছিলেন। এলিসন বেকার দারুণ দক্ষতায় সেই বল গ্লাভসে নিয়ে নেন।৮৩ মিনিটে সবচেয়ে সহজ সুযোগটা মিস করে কলম্বিয়া। লুইস দিয়াসের ক্রস থেকে গোলের সুযোগ পেয়ে ফাঁকা পোস্টে ওপরে মেরে দেন রাফায়েল বোরে। ১-১ সমতায়ই শেষ হয় নির্ধারিত সময়।

    ইনজুরি টাইমের চতুর্থ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছিল ব্রাজিলেরও। বক্সের বাইরে থেকে নেয়া আন্দ্রেস পেরেইরার জোরালো শট লাফিয়ে উঠে কোনোমতে বাঁচান কলম্বিয়ার গোলরক্ষক। ১-১ সমতায় শেষ হয় ম্যাচ।

    জিততে পারলে ‘ডি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে পানামার মুখোমুখি হবে কলম্বিয়া। অপর দিকে গ্রুপে দ্বিতীয় হয়ে ব্রাজিল খেলবে উরুগুয়ের বিপক্ষে।

  • ইসরায়েলে কয়লা রপ্তানি স্থগিতের ঘোষণা কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টের

    ইসরায়েলে কয়লা রপ্তানি স্থগিতের ঘোষণা কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টের

    www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ৯ জুন, ২০২৪: গাজা যুদ্ধের জেরে ইসরায়েলে কয়লা রপ্তানি স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন লাতিন আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রো। গতকাল শনিবার সামাজিক প্ল্যাটফরম এক্সে দেওয়া এক ঘোষণায় তিনি জানান, একসময়ের ঘনিষ্ঠ সামরিক ও বাণিজ্যিক মিত্র ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সম্পর্ক খারাপ হওয়ার ধারাবাহিকতায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলম্বিয়া। বার্তা সংস্থা এপি এক প্রতিবেদনে খবরটি দিয়েছে। এই ঘোষণার মাধ্যমে গাজায় হামলার কারনের ইসরায়েলের প্রতি কলম্বিয়ার উদ্বেগের বিষয়টি জোরলো হয়েছে।

    বোগোটায় ইসরায়েলি দূতাবাস বলেছে, মে মাসে পেট্রোর সরকার ইসরায়েলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার পরেও কয়লা রফতানি চালু ছিল। কলম্বিয়া ২০২৩ সালে ইসরায়েলে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ডলারের কয়লা রপ্তানি করেছে, কলম্বিয়া ইসরায়েলের প্রধান কয়লা সরবরাহকারী।

    ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কড়া সমালোচক, কলম্বিয়ার প্রথম বামপন্থী প্রেসিডেন্ট পেট্রো শনিবার এক্স-এ বলেছেন, ‘গাজায় গণহত্যা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত’ ইসরায়েলে কয়লা রপ্তানি স্থগিত থাকবে।

    একটি সরকারী ঘোষণায় বলা হয়েছে, ‘আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) জারি করা অস্থায়ী ব্যবস্থার আদেশ সম্পূণরূপে মেনে না চলা পর্যন্ত’ নিষেধাজ্ঞাগুলো জারি থাকবে।

    মে মাসের শেষের দিকে, দক্ষিণ আফ্রিকার আনা একটি মুলতুবি মামলার অংশ হিসাবে, আইসিজে ইসরায়েলকে দক্ষিণ গাজার রাফাহ শহরে তার আক্রমণ বন্ধ করার নির্দেশ দেয়, পাশাপাশি জিম্মিদের মুক্তি এবং ফিলিস্তিনি ভূখন্ডে মানবিক সাহায্যের ‘নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের বিধান’ মেনে চলার নির্দেশ দেয়।

    কলম্বিয়ান সরকারের ঘোষণায়, কয়লা রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হওয়ার পাঁচ দিন পরে কার্যকর হবে এবং ইতিমধ্যে চালানের জন্য অনুমোদিত পণ্যগুলোকে প্রভাবিত করবে না।

    বোগোটা কয়লার ভূমিকাকে ‘অস্ত্র তৈরি, সৈন্য সংগঠিত করা এবং সামরিক অভিযানের জন্য একটি কৌশলগত সম্পদ’ হিসাবে উল্লেখ করেছে।

    পেট্রো আরও বলেছেন, কলম্বিয়া ইসরায়েলের তৈরি অস্ত্র কেনা বন্ধ করবে, দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর অন্যতম প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী ইসরায়েল।

    তবে কলম্বিয়ার এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদও জানাচ্ছে অনেকেই। সারা বিশ্বের দেশগুলোকে ইসরায়েলে কয়লা ও তেল রপ্তানি বন্ধ করার জন্য উৎসাহিত করা অ্যাডভোকেসি গ্রুপ গ্লোবাল এনার্জি এমবার্গো ফর প্যালেস্টাইন গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে বলেছে যে, কলম্বিয়ার সিদ্ধান্ত ইসরায়েলকে গাজায় তার নীতি পরিবর্তন করার জন্য চাপ দিতে পারে। কারণ, গাজা উপত্যকা এবং পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোর বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পূর্ণ নির্ভর করে আমদানি করা কয়লার ওপর।

    এক বিবৃতিতে গ্রুপটি বলেছে, ‘কলম্বিয়ার পদক্ষেপকে অনুসরণ করার জন্য আমরা জরুরি ভিত্তিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে আহ্বান জানাই, যারা ইসরায়েলের প্রয়োজনের ৯ শতাংশ কয়লা সরবরাহ করে।’

    সূত্র: বাসস

  • কলম্বিয়া ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করছে

    কলম্বিয়া ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করছে

    www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ২ মে, ২০২৪: প্রায় সাত মাস ধরে গাজায় নির্বিচারে হামলা চালিয়ে ইসরায়েল ৩৪ হাজরের বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। এ্রর প্রতিবাদে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে যাচ্ছে কলম্বিয়া।

    গতকাল বুধবার (১ মে) মহান মে দিবস উপলক্ষে দেশটির রাজধানী বোগাতায় কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

    আন্তর্জাতিক শ্রম দিবসে রাজধানী বোগাতায় সমর্থকদের সঙ্গে র‍্যালিতে অংশ নেন পেত্রো। শোভাযাত্রা শেষে প্লাজা দে বলিভারে ভাষণ দেন গুস্তাভো পেত্রো।

    ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কড়া সমালোচনা করে পেত্রো বলেন, গাজায় যা যা হচ্ছে, সেসব দেখার পর কোনো দেশ এ ইস্যুতে নিষ্ক্রিয় থাকতে পারে না। ফিলিস্তিনিদের মৃত্যু মানে মানবতার মৃত্যু। আমরা এই মানবতাকে মরতে দেব না। কলম্বিয়া প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি আজ আপনাদের বলতে চাই, আমরা ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করছি এবং আগামীকালই এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব। এমন কোনো রাষ্ট্রের সঙ্গে আমরা কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখতে পারি না, যে দেশের সরকার গণহত্যার নির্দেশ দেয়। ’

    এসময় আন্তর্জাতিক আদালতের মামলায় দক্ষিণ আফ্রিকার পাশে দাঁড়াতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

    এদিকে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টের এই ভাষণের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এক বিবৃতিকে গুস্তাভো পেত্রোকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ এবং ‘ঘৃণায় পরিপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেছেন।

  • কলম্বিয়ার কোকেন গডমাদারকে নিয়ে হলিউডে ছয় পর্বের সিরিয়াল

    কলম্বিয়ার কোকেন গডমাদারকে নিয়ে হলিউডে ছয় পর্বের সিরিয়াল

    www.HelloBangla.News – বিনোদন – ২৭ জানুয়ারি, ২০২৪: গ্রিজেলডা ব্লাঙ্কো ছিলেন কলম্বিয়ার কোকেন গডমাদার। ১৯৭০ ও ‘৮০র দশকে এই নারীর নাম শুনলে ভয় পেতো মানুষ। কেনন ব্লাঙ্কো নির্দয় মনের মাস্টারমাইন্ড অপরাধী ছিলেন। তার সম্পর্কে বলা হয়, একজন নারী যিনি মানুষকে হত্যা করেছেন, কারণ “তারা তার দিকে যেভাবে তাকাতো সেটি তার পছন্দ ছিলো না।” এই কুখ্যাত মাদক সম্রাজ্ঞীকে নিয়ে হলিউডে নিমিত হচ্ছে ছয় পর্বের ‘গ্রিজেনডা’ সিরিজ তৈরি হচ্ছে। ‘মডার্ন ফ্যামিলি’ সিরিজখ্যাত সোফিয়া ভারগারা এই কুখ্যাত মাদক সম্রাজ্ঞীর চরিত্রে অভিনয় করছেন ‘গ্রিজেলডা’ সিরিজে। অপরাধ বিষয়ক নাটক ‘নারকোস’র নির্মাতা দলই এই সিরিজটি বানাচ্ছে। সিরিজটির পরিচালক এরিক নিউম্যান। সহকারী পরিচালক হচ্ছেন আন্ড্রেজ বেইজ।

    তুমুল অ্যাকশন, ঝুঁকিপূর্ণ নাটকীয় গোলাগুলি আর গ্ল্যামারে ভরপুর ছয় পর্বের এই নেটফ্লিক্স সিরিজ। এতে গ্রিজেলডাকে একজন অত্যন্ত দুর্ধর্ষ অপরাধী হিসেবে চিত্রায়িত করে তার বুদ্ধিমত্তা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা তুলে ধরা হয়েছে।

    কিন্তু কলম্বিয়ার ‘কোকেন গডমাদার’ হিসেবে অভিহিত, নিজের তিনজন স্বামীকে হত্যার সাথে জড়িত এই নারীর জীবনের সত্যিকারের গল্প অবশ্য অনেকের অজানা। অবশ্য গিজেলডা চরিত্রটিকে মানবিক করে তুলা আনা হয়েছে জানিয়েছে নির্মাতারা।

     

    গ্রিজেলডা ব্লাঙ্কো কে

    কলম্বিয়ায় জন্ম নেয়া ব্লাঙ্কো ১১ বছর বয়সেই অপরাধ জগতের সাথে জড়িয়ে পড়ে। ব্লাঙ্কো সে সময় এক ধনী পরিবারের ছেলেকে অপহরণের পর তার পরিবার মুক্তিপণ দিতে অস্বীকার করায় তাকে গুলি করে হত্যা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে । এরপর ২১ বছর বয়সে ১৯৬৪ সালে ব্লাঙ্কো তার তিন সন্তান ও স্বামীকে নিয়ে অবৈধভাবে নিউইয়র্কে অভিবাসী হয়ে যান এবং সেখানে গাঁজা বিক্রি করা শুরু করেন।

    কলম্বিয়াতেই বেড়ে উঠা ভারগারা একজন বলছিলেন, “এটা মনে রাখা খুবই জরুরি যে গ্রিজেলডা ব্লাঙ্কো তার জীবনের শুরুর দিকে কে ছিলেন। একজন অভিবাসী যে সম্পূর্ণ একা তার তিন সন্তানকে লালন-পালন করছিল। তার কিছুই ছিল না, বেঁচে থাকার জন্য তার না ছিল শিক্ষা, না ছিল কোনও হাতিয়ার।”

    সিরিজটির পরিচালক এরিক নিউম্যান বলেছেন, তিনি গ্রিজেলডা ব্লাঙ্কোর এই ‘জটিল চরিত্রকে মানবিক’ করে তুলে আনতে চেয়েছেন।

    সহকারী পরিচালক আন্ড্রেজ বেইজ বলেছেন, “পুরুষের জগতে সে একজন নারী, নিজেকে প্রমাণ করতে সে দশগুণ বেশি পরিশ্রম করেছে এবং নিজের চারপাশে থাকা পুরুষদের ছাড়িয়ে যেতে নিজের বুদ্ধি ও প্রজ্ঞা ব্যবহার করেছে। লোকজন তাকে সম্পূর্ণ বিনাশ করার জন্য পদক্ষেপও নিয়েছে এক সময়।”

     

    ‘ক্ষমতা তাকে দানবে পরিণত করেছে’

    ব্লাঙ্কো ১৯৭০ সালে তার প্রথম স্বামীকে হত্যার নির্দেশ দিয়ে মিয়ামিতে চলে গিয়েছিল। সেখানে তার দ্বিতীয় স্বামী মাদক পাচারকারী আলবার্টো ব্রাভোর সাথে তার দেখা হয়, যে তাকে মাদকের আন্ডারওয়ার্ল্ডের আরও অন্ধকার জগতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়।

     

    ব্লাঙ্কোর সহিংস মনোভাব আর মাদক চোরাচালানে সাহসী দৃষ্টিভঙ্গি ছিল, যা তাকে তরুণীদের কলম্বিয়া থেকে আমেরিকায় ব্রা কিংবা অন্তর্বাসের ভেতরে কোকেন লুকিয়ে উড়ে যেতে সহায়তা করেছে। এর অর্থ এটাই যে অচিরেই পুরো অপরাধ সাম্রাজ্য তার হাতের মুঠোয় চলে যায়। মিয়ামিতে মাদক যুদ্ধ আরও তীব্র হওয়ার পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষগুলো সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিল, যা ব্লাঙ্কোকে আরও বেশি নির্মম করে তোলে। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালে স্বামীকে গুলি করে ব্লাঙ্কো, কারণ তার বিশ্বাস ছিল যে তার স্বামী তার টাকা চুরি করেছে

    এরপর ১৯৮৩ সালে ব্লাঙ্কো তার তৃতীয় স্বামীকে খুন করে মিয়ামি ছেড়ে চলে যায়। সে সময় তার সাথে এই দম্পতির ছেলে মাইকেল করলিওনি ছিল। নির্দয় ও নির্মম আচরণের জন্য ব্লাঙ্কোকে ‘ব্ল্যাক উইডো’ বা ‘কালো বিধবা’ নামেও অভিহিত করা হয়।

    সে সময় ব্লাঙ্কোর সাম্রাজ্য আরও বিস্তৃত হয় এবং ১৯৮০’র দশকের গোড়ার দিকে সে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ও দুর্ধর্ষ মহিলায় পরিনত হয়, যে প্রতি মাসে এক দশমিক পাঁচ টন কোকেন পাচার তদারকি করতো। ভারগারা জানায়, “আমি সত্যিই মনে করি যে যখন গ্রিজেলডা মিয়ামিতে প্রথম যায় তখন তার উদ্দেশ্য ছিল শুধু পরিবারকে দেখাশোনা ও রক্ষা করা। কিন্তু এই অন্ধকার পথে সে হারিয়ে যায় এবং ক্ষমতা ও অর্থ তাকে একজন দানবে পরিণত করে।”

    নিজের সাম্রাজ্য ত্যাগ করতে ১৯৮০’র দশকে প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের দেয়া ১৫ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন ব্লাঙ্কো।

     

    অদক্ষ ব্যক্তিদের উপর নির্ভর করা

    দুই দশক ধরে কঠোরভাবে মিয়ামিতে মাদক সাম্রাজ্য পরিচালনা করলেও নারী হিসেবে ব্লাঙ্কো সম্পূর্ণ সচেতন ছিল যে, মাদক ইন্ডাস্ট্রি একচেটিয়াভাবে উগ্রবাদী পুরুষরাই চালায়, যেখানে তার অবস্থান অনিশ্চিত ছিল। এই যুক্তিতে ব্লাঙ্কো তার ব্যবসা পরিচালনা করতে সেসময় একজন পুরুষকে অনুমতি দেয়–স্থানীয় ডিলাররা তখনই “চুক্তি গ্রহণ করে যখন তা কোনও পুরুষের মুখ থেকে বের হয়।”

    এক হত্যা মামলায় ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পর ব্লাঙ্কো নিজের ব্যবসা নিজেই পরিচালনা করার দায়িত্ব বেছে নেয় এবং নিজের সুবিধার জন্য তার বহিরাগত অবস্থানকে ব্যবহার করে। আনুমানিক এক লাখ ৩৫ হাজার কিউবান ১৯৮০ সালের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে আমেরিকায় অভিবাসী হয় যারা ‘মারিলিটোস’ নামে পরিচিত। এদের অনেকেই আবার ক্রিমিনাল গ্যাং বা অপরাধী চক্র, মাদক পাচার, কন্ট্রাক্ট কিলিং বা চুক্তিতে মানুষ হত্যার মতো অপরাধে আগে থেকেই জড়িত ছিল।

    ব্লাঙ্কো এটাকে পুঁজি করে তাদেরকে নিজের গ্যাংয়ে নিয়োগ করে। হিটম্যান, গোলন্দাজ অর্থাৎ যারা পিস্তল চালাতে পারদর্শী, তাদেরকে নিয়ে ব্লাঙ্কোর দল তৈরি হয়, যারা মোটরসাইকেলে চড়ে গুপ্তহত্যা করতে পরিচিত হয়ে উঠেছিল।

    নেটফ্লিক্সের সিরিজটির সহকারী পরিচালক আন্ড্রেজ বেইজ বলছিলেন, “ব্লাঙ্কো নিজে একজন অভিবাসী বা বহিরাগত এবং তার আশেপাশেও সব বহিরাগতদের নিয়োগ দেয় সে। এরকম ইন্ডাস্ট্রিতে যেখানে বিশ্বাস অর্জন করা খুব কঠিন এবং আরও কঠিন তা ধরে রাখা, ব্লাঙ্কো জানতো যে সে কী করছে।”

     

    তিনি আরও বলেন, “এরা সবাই অদক্ষ ছিল, সমাজের স্বাভাবিক মানের সাথেও এরা যায় না। গ্রিজেলডা এটা জানতো এবং তাদের উপলব্ধি করতে সাহায্য করতো যে তারা তার পরিবারের অংশ।”

    ভারগারা বলেন, “আমি একজন কলম্বিয়ান, একজন মা এবং একজন অভিবাসী। একজন নারী হিসেবে গ্রিজেলডাকে বিবেচনা করা হতো এবং এখন আমি জানি কারণ আমার উচ্চারণের কারণে আমাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয় এবং আমি অন্যদের চাইতে কম সুযোগ পাই।”

     

    একজন নারী কখনও এমন খারাপ হতে পারে না

    ব্লাঙ্কোর অপরাধ সাম্রাজ্য ১৯৮০’র দশকের মাঝের দিকে উন্মোচিত হতে শুরু করে এবং ক্যালিফোর্নিয়ার আরভিনে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার সন্ত্রাসের রাজত্ব হঠাৎ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়।

    কিন্তু কীভাবে দুই দশক ধরে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে ব্লাঙ্কো মিয়ামিকে মাদক নিয়ে খেলার মাঠে রূপান্তরিত করেছিলেন? ব্লাঙ্কো একজন নারী, এটাকেই কারণ বলে দেখিয়েছে ‘গ্রিজেলডা’ সিরিজটি।

    “কারণ সে একজন নারী ছিল। সে যখন চাইতো তখনই অদৃশ্য হয়ে যেতে পারতো। কেউ ভাবতেও পারতো না যে একজন নারী এই আকারের একটি দল পরিচালনা করতে পারে। মানুষ ভাবে একজন নারী কখনও এরকম খারাপ হতে পারে না,” ভারগারা বলছিলেন।

    পুরুষশাসিত মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলো এ ব্যাপারে দৃঢ় ছিল যে একজন নারী কখনও মাদক ব্যবসার পিছনে জড়িত থাকতে পারে না। কেউ কেউ একেবারে এই লাইনেই তদন্তের জন্য জোর দেয়।

    তবে ১৯৭০’র দশকের শুরু থেকে মাঝামাঝি পর্যন্ত ব্লাঙ্কোকে ধরার দায়িত্ব ছিল মিয়ামি পুলিশ বিভাগের একজন নারী গোয়েন্দা বিশ্লেষক জুন হকিন্সের।

    পরিচালক নিউম্যান হকিন্সকে এই গল্পের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মনে করেন।

    “সে গ্রিজেলডার প্রতিরূপ, সে নিজেও একজন লাটিন তরুণী ও সিঙ্গেল মা – যে এমন একটি বিশ্বে কাজ করছে যেখানে নারীদেরকে অবমূল্যায়ন করা হয়। সে এটা দেখাতে চায় যে গ্রিজেলডা যা বেছে নিয়েছে, সেটা তার একমাত্র অপশন বা পথ ছিলো না।”

     

    কী ঘটেছিল গ্রিজেলডা ব্লাঙ্কোর ভাগ্যে?

    এরপর ১৯৮৫ সালের ১৭ই ফেব্রুয়ারি ব্লাঙ্কো তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার হয়। কোকেন উৎপাদন, আমদানি ও বিতরণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয় সে।ব্লাঙ্কোর বিরুদ্ধে আরও তিনটি হত্যার অভিযোগ আনা হয় এবং প্রায় দুই দশক সে কারাগারে কাটায়।

    কারাভোগের সময়ই ব্লাঙ্কোর তিন ছেলেকে হত্যা করা হয়। পরে ২০০৪ সালে মুক্তি পেয়ে ব্লাঙ্কো কলম্বিয়ায় নির্বাসনে যায় এবং সেখানে শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন করে। কয়েক বছর পর ২০১২ সালের তেসরা সেপ্টেম্বর মোটরবাইকে আসা এক ব্যক্তি ৬৯ বছর বয়সী ব্লাঙ্কোকে গুলি করে। ব্লাঙ্কোকে যে স্টাইলে গুপ্তহত্যা করা হয়, তা অবিকল তার রাজত্বে গড়ে তোলা মানুষ হত্যার স্টাইলের মতোই।

     

    নিউম্যান বলেন, “এ হত্যাকাণ্ড তার প্রতি ঘৃণার মাত্রা প্রমাণ করে। সে ২০১২ সালে ছিল একজন নিরীহ মহিলা, নির্জনে একাকী বাস করতো এবং তার চার সন্তানের মধ্যে তিনজনই মারা গিয়েছিল।”

    বেইজ আর বলেন, “সে কোনও কিছু থেকে উঠে আসেনি, সে অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিল, কিন্তু গল্পের একেবারে শেষে এসে এটা এমন একটা ট্রাজেডিতে পরিণত হয় যার পুরোটাই লস।”

    ব্লাঙ্কোর জীবন ও ক্ষমতার আকর্ষনীয় কাহিনী হওয়া সত্ত্বেও ইতিহাসের বইগুলোতে তার উপস্থিতি সেভাবে নেই।

    এমনকি অভিনেত্রি ভারগারা, কলম্বিয়ায় যিনি ‘মাদক যুগে’ বেড়ে উঠেছেন তিনিও বলছেন যে কখনও এই নারী সম্পর্কে শোনেননি। ব্লাঙ্কোর জীবন সম্পর্কে জানার পর তার মনে হয়েছিল যে, এটা “অসম্ভব”, কিন্তু এটা ছিল সত্যি গল্প।

    ভারগারা বলেন, “এই কারণেই আমি গ্রিজেলডার চরিত্রে অভিনয় করতে চেয়েছিলাম। সে একাধারে একজন মা, খলনায়ক, প্রেমিকা এবং খুনিও। সে সবাইকে দেখিয়ে দিয়েছে মানুষ কত জটিল হতে পারে।”

    আশা করা হচ্ছে গ্রিজেনডার চরিত্র নিয়ে ছয় পর্বের এই সিরিজটি বেশ জনপ্রিয় হবে দর্শকদের কাছে।

    সূত্র: বিবিসি বাংলা