Tag: আম

  • বিশেষ পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ আম ডায়াবেটিস রোগীরাও খেতে পারে

    বিশেষ পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ আম ডায়াবেটিস রোগীরাও খেতে পারে

    www.HelloBangla.News – লাইফস্টাইল – ২৩ মে, ২০২৪: আমের মৌসুম শুরু না হলেও আর বাজারে ইতোমধ্যে গাছপাকা রসালো আম ওঠা শুরু হয়েছে। আম সবার প্রিয় একটি ফল। তবে আম যে শুধুমাত্র তার স্বাদের জন্য অনন্য, তা নয়। এই ফলটি বিশেষ পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ।

    তবে আমে প্রাকৃতিকভাবেই চিনির পরিমাণ বেশি। তাই এটি খেলে মানুষের শরীরের স্যুগারের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। এ কারণে অনেকে বলে থাকেন, ডায়াবেটিস রোগীদের আম খাওয়া উচিৎ না। কিন্তু আম কি আসলেই ডায়াবেটিসের মাত্রা বৃদ্ধির কারণ? এক গবেষণাপত্রে দেখা গেছে যে ডায়াবেটিস রোগীদের আম খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া উচিৎ না।

    আমের পুষ্টিগুণ:

    পুষ্টিবিদরা জানিয়েছেন, পাকা আমে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি, শর্করা, আমিষ, ভিটামিন এ, বিটা ক্যারটিন, পটাশিয়াম ইত্যাদি থাকে। তাই, কাঁচা আমের তুলনায় আঁশযুক্ত পাকা আম শরীরের জন্য বেশি ভালো। পাকা আমে পর্যাপ্ত পরিমাণ আঁশ জাতীয় উপাদান পেকটিন থাকে, যা পাকস্থলিতে থাকা খাদ্যকে ভালোভাবে পরিপাক হতে সাহায্য করে।

    এছাড়া, আমের বিশেষ কিছু এনজাইম খাদ্য উপাদানের প্রোটিনকে ভালোভাবে ভেঙে ফেলতে কাজ করে। যা সামগ্রিকভাবে পরিপাক ক্রিয়ায় অবদান রাখে। আমে থাকা ভিটামিন সি, ভিটামিন এ ও অন্যান্য ২৫ ধরনের ক্যারোটেনয়েডস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে, আমে থাকা ভিটামিন এ দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে ও চোখের চারপাশের শুষ্কভাবও দূর করে।

    আমে প্রচুর বিচাক্যরটিন থাকায় এবং ভিটামিন এ , ই থাকায় আমাদের স্কিন খুব ভালো রাখে এবং এটি খেলে চোখের দৃষ্টি শক্তিও ভালো থাকে।

    শুধু তাই নয় ক্যান্সার প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও সহায়ক ভূমিকা পালন করে আম।

    কৃষি তথ্য সার্ভিসের বর্ণনা অনুযায়ী, পাকা আমে যেহেতু কাঁচা আমের তুলনায় শর্করার পরিমাণ বেশি, তাই কাঁচা আম দেহের শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। লিভারের সমস্যায় কাঁচা আম উপকারী। এটি বাইল এসিড নিঃসরণ বাড়ায়। অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়াকে পরিষ্কার করে। দেহে নতুন রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে।

    সবমিলিয়ে, আমে থাকা নানা ধরনের পুষ্টি উপাদানের জন্য এটি উপরে উল্লিখিত বিষয়ের বাইরেও খসখসে চামড়া, চুলপড়া, হজমের সমস্যা দূর করতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। একাধারে অতুলনীয় স্বাদ ও একাধিক পুষ্টিগুণের কারণেই একে ফলের রাজা বলা হয়।

     

    একজন মানুষের দৈনিক কতটুকু আম খাওয়া উচিৎ। এটা নির্ভর করে একজন মানুষের শারীরিক পরিস্থিতি কেমন, তার উপর। এ বিষয়ে পুষ্টিবিদরা জানিয়েছেন একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ অনায়াসেই দৈনিক দু’টো আম খেতে পারেন। ফজলি আমে ভিটামিন এ, পটাশিয়াম, বিটা ক্যারোটিনের পরিমাণ অনেক।

    তবে যারা কিডনি বা ডায়াবেটিসের রোগী, আম খাওয়ার ক্ষেত্রে তাদেরকে সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদরা।

    কিডনি রোগীদের ডাক্তার ও পুষ্টিবদের সাথে পরামর্শ করে আম খাওয়া উচিৎ। কারণ আমে প্রচুর পটাশিয়াম থাকে, যা কিডনির জন্য ক্ষতিকর। এছাড়া, যুক্তরাজ্যে ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস-এর প্রস্তাব অনুযায়ী ১৯ থেকে ৬৪ বছরের পূর্ণবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন ৪০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি প্রয়োজন। যেহেতু এক কাপ আমে প্রায় ৬০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি থাকে, সেহেতু অন্য কোনও জটিলতা না থাকলে একজন সুস্থ মানুষ ওই পরিমাণ আম খেতেই পারেন।

    পুষ্টিবিদরা আরও জানিয়েছে, প্রতি ১০০ গ্রাম আমে ৭৯ থেকে ৮২ গ্রাম ক্যালরি পাওয়া যায়। এছাড়া, একটি আমের ৭৫ থেকে ৮৫ শতাংশ পানি থাকে। তবে মজার বিষয় হলো, আমে কোনও ‘কোলেস্টেরল’ থাকে না। এমনকি এতে ক্ষতিকর লবণও নেই। তারপরও অনেকেই মোটা হয়ে যাওয়ার ভয়ে আম খেতে চান না।

    ডায়াবেটিস রোগী কতটুকু আম খেতে পারবেন?

    অনেকেই বলে থাকেন, ডায়াবেটিস রোগীরা আম খেতে পারবেন না। যদিও এ বিষয়ে গবেষণার ফলাফল এবং চিকিৎসকদের বক্তব্য ভিন্ন কথা বলছে। ২০১৮ সালে প্রকাশিত ‘ম্যাংগো অ্যান্ড ডায়াবেটিস’ শীর্ষক এক গবেষণাপত্রে দেখা গেছে যে ডায়াবেটিস রোগীদের আম খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া উচিৎ না। তবে তাদেরকে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী আম খেতে হবে।

    এই গবেষণায় বলা হয়েছে, যদি সতর্কতার সাথে আম খাওয়া হয়, তাহলে ডায়াবেটিসের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে না। তবে একসাথে অনেকখানি না খেয়ে অল্প আম খাওয়া উচিৎ। যেমন, একজন ডায়াবেটিক রোগী দৈনিক ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম আম খেতে পারেন। অথবা, দিনের ভিন্ন ভিন্ন সময়ে তিনি ৫০ গ্রাম করে তিনবারও আম খেতে পারেন।

    কিন্তু সাধারণত আম খেলে মানুষ একটি বা কয়েক টুকরা আম খায়। তবে যখন আম দিয়ে শরবত বানানো হয়, তখন সেখানে একাধিক আম ব্যবহার করা হয়। শুধু তাই না, সঙ্গে কিছুটা চিনিও দেওয়া হয়। তখন তাতে চিনির মাত্র দ্বিগুণ হয়ে যায়। তাই, আমের শরবত খাওয়ার চেয়ে অল্প পরিমাণ আম খাওয়া ঢের ভালো।

    সুতরাং, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চললে কোনোপ্রকার সমস্যা ছাড়াই ডায়াবেটিস রোগীরা পরিমিত পরিমাণ আম খেতে পারবেন।

    বেশ কয়েক বছর ধরে দেশে বিভিন্ন জাতের আম বাংলাদেশে চাষ হচ্ছে। এখন রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলার পাশাপাশি রংপুর ও দিনাজপুরেও আম ভালো উৎপন্ন হয়। এখন দেশের প্রতিটি অঞ্চলে হাইব্রিট আম চাষ হচ্ছে। তবে এবার আবহাওয়ার কারণে দেশে আমের উৎপাদন কম। আবার বিশ্বের পাঁচটি দেশ বাংলাদেশের আম নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তাই ধারণা করা হচ্ছে এবার আমের ঘাতটি দেখা দিতে পারে।এ কারণে দামও বাড়তে পারে।

    সূত্র: বিবিসি বাংলা

  • ৫ টি দেশে বাংলাদেশের আম নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন: কৃষিমন্ত্রী

    ৫ টি দেশে বাংলাদেশের আম নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন: কৃষিমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – অর্থনীতি – ১৭ মে, ২০২৪: ৫ টি দেশে বাংলাদেশের আম নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, বলে জানিযেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুস শহীদ। তিনি বলেন, “আমরা রাশিয়া, বেলারুশ, চীন, জাপান ও ভারতের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বাংলাদেশের আম নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাই আমরা চেষ্টা করছি বেশি পরিমাণ আম রপ্তানি করার। এজন্য চীনের একটি প্রতিনিধিদল শিগগিরই রাজশাহীর আম দেখতে আসবে। আর এ দলটির সঙ্গে ঠিকমতো কথা বলে আমের সঠিক মূল্য নির্ধারণের জন্য কিছু কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

    আজ শুক্রবার (১৭ মে) দুপুরে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার কুমরপুর গ্রামে আমের বাগান পরিদর্শন ও আমচাষিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ পরামর্শ দেন।

    কৃষিমন্ত্রী বলেন, “রাজশাহীতে আমের ফলন এবার কম হয়েছে, সে কারণে দাম বাড়বে। তাই সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে।আমরা কোনোভাবেই সিন্ডিকেট করতে দেব না।”

    তিনি বলেন, “আমের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে যেন খুব বেশি পার্থক্য না হয় সেই ব্যাপারেও খেয়াল রাখতে হবে।”

    কৃষিমন্ত্রী বলেন, “আম রপ্তানির জন্য ২৫০ থেকে ৩০০ কৃষককে এরই মধ্যে সহায়তা করা হয়েছে। আর আম রপ্তানির জন্য রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম গ্রেডিং শেড ও ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট করা হচ্ছে।”

    আম সংরক্ষণ বিষয়ে তিনি বলেন, “আম পচনশীল পণ্য। তাই মৌসুমে একটা পার্সেন্টেজ আম নষ্ট হবেই। আমরা আম কিছু সময়ের জন্য সংরক্ষণ করতে চাই, অন্যান্য কৃষিজাত পণ্যও সংরক্ষণ করতে চাই। সেজন্য দেশের আটটি বিভাগে আটটি কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ করবো। তবে এর জন্য আরও অপেক্ষা করতে হবে। কারণ এ প্রজেক্টের জন্য অনেক টাকার দরকার। আমরা দেশি-বিদেশি সহযোগিতায় এটা করতে চাই।”

    এর আগে মন্ত্রী সোনাদীঘি গ্রামের কৃষক রাতুলের ফার্মে মাটিবিহীন চারা উৎপাদন, ই-ফারমিং, ভার্মি কম্পোস্ট, বসতবাড়ি বাগান ও কৃষিক্ষেত পরিদর্শন করেন।

    কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন- বিশ্ব ব্যাংকের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মাইকেল জন ওয়েবস্টের, কোকাকোলা বাংলাদেশ লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর জু-উন নাহার চৌধুরী ও রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান বেলাল উদ্দিন সোহেল। এছাড়া কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।