Tag: স্বাধীন রাষ্ট্র

  • স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য ফিলিস্তিনিদের এক হওয়ার আহ্বান ল্যাভরভের

    স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য ফিলিস্তিনিদের এক হওয়ার আহ্বান ল্যাভরভের

    www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ২ মার্চ, ২০২৪: গত ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় চলমান ইসরায়েলি হামলায়  নিহত হয়েছেন ৩০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি এবং আহত হয়েছেন ৭০ হাজারেরও বেশি। এই যুদ্ধ সারা বিশ্বের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে নিজেদের মধ্যকার যাবতীয় বিভেদ ভুলে সব ফিলিস্তিনিকে এক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। শুক্রবার মস্কোতে ফিলিস্তিনের সব দলের একটি রাজনৈতিক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের সময় এ আহ্বান জানান তিনি।

    রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেন, “সন্দেহাতীত ভাবেই এই ঐক্যের প্রধান উদ্দেশ্য হবে গাজায় রক্তপাত বন্ধ করা। বর্তমানে সেখানে যুদ্ধ-সহিংসতা আমরা দেখতে পাচ্ছি, হয়তো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চেষ্টায় কিছুদিনের জন্য তা বন্ধ থাকবে, তারপর আবার ঘটবে এবং বার বার ঘটবে। এই সংঘাত পুরোপুরি বন্ধ হতে পারে কেবলমাত্র স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।’ তিনি বলেন, ‘ কোনো ঘরে যদি একাধিক মতের লোকজন সারাক্ষণ নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বে লিপ্ত থাকে, তাহলে সেই ঘর বা পরিবার কখনও উন্নতি করতে পারে না। দুঃখজনক হলেও সত্য যে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনে সবচেয়ে বড় বাধা এটি।”

    ১৯৪৭ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইস্যুতে আলোচনা শুরু হয়। ১৯৫৩ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর তা আরও জোরালো রূপ নেয়। ১৯৫৭ সালে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্যোগে মধ্যপ্রাচ্যের আল আকসা অঞ্চলে দুই পৃথক রাষ্ট্রের ভৌগলিক সীমানাও নির্দিষ্ট করা হয়। কিন্তু তারপর থেকে এ ইস্যুতে গঠনমূলক আর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।”

    গত কয়েক দশকে ফিলিস্তিনের বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি ও গোষ্ঠীগুলো অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও বৈরীতায় জড়িয়ে পড়ে। সেখানকার একটি পক্ষ দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে এবং অপরপক্ষ ইসরায়েল রাষ্ট্র নির্মূলের পক্ষে অবস্থান নেয়। ফিলিস্তিনে কার্যত দু’টি সরকার ব্যবস্থা ক্রিয়াশীল রয়েছে। পশ্চিম তীরে রয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (ফিলিস্তিনি অথরিটি-পিএ) বা ফাতাহের অধীনে, আর গাজা নিয়ন্ত্রণ করছে হামাস। স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলনরত ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর জোটের নাম প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও) আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জোট।

    শুক্রবারের আলোচনায় ল্যাভরভ বলেন, “ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে একদিকে সেখানকার সাধারণ জনগণের স্বার্থ, লক্ষ্য এমনকি ভাগ্যও অনিশ্চয়তার সুতোয় ঝুলছে। এই দ্বন্দ্বের ফায়দা নিচ্ছে সুযোগ সন্ধানী পক্ষ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যখন স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ব্যাপারটি আলোচনায় নিয়ে আসতে চায়, সে সময় সুযোগ সন্ধানী পক্ষ বলছে যে ফিলিস্তিনের সত্যিকার প্রতিনিধি কেউ নেই।’ তিনি বলেন, ‘স্বাধীন ফিলিস্তিন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে আপনারা যদি পিএলওর ব্যানারে সবাই ঐক্যবদ্ধ হন, তাহলে সুযোগ সন্ধানী পক্ষ আর টালবাহানা করতে পারবে না। আমি আশা করব, আপনারা এ ব্যাপারটিকে গুরুত্ব দেবেন। এক্ষেত্রে আপনাদের সব রকমের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রাশিয়া।”

    এদিকে হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধের অন্যতম মধ্যস্থতাকারী দেশ মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামেহ শুকরি শুক্রবার জানিয়েছে রমজানের আগে গাজায় যুদ্ধবিরতি হতে পারে। এই যুদ্ধের শুরু থেকেই হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে মধ্যস্থতার ভূমিকায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, মিশর ও কাতার।

  • স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে যুক্তরাজ্য

    স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে যুক্তরাজ্য

    www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪: ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের ইতিহাস যেমন দীর্ঘ, তেমনই জটিল ধরণের। কিন্তু সেই সংঘাতের অবসানের লক্ষে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় মধ্যপ্রাচ্যের আরব অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র।

    জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে গাজা উপত্যকায় ৬ সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির জন্য কাজ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও আরব রাষ্ট্রগুলো। এই যুদ্ধবিরতির সময় উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাসের কব্জায় থাকা জিম্মি এবং ইসরায়েলের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের মুক্তি দেওয়া হবে।

    এর পাশাপাশি ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিনের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী শান্তির জন্য স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন বিষয়ক আলোচনা-তৎপরতাও গতিশীল হয়েছে বলে জানা গেছে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত চার মাসেরও বেশি সময় ধরে হামাস-ইসরায়েলের মধ্যে যে যুদ্ধ চলছে, তার শেষ হবে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মধ্যে দিয়ে— এমনটাই চাইছে যুক্তরাষ্ট্র ও আরব বিশ্ব।

    ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি আনুমানিক সময়সীমা সামনের সপ্তাহগুলোতে প্রকাশ করা হবে এবং মার্কিন প্রশাসন স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট।

    গত ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাসের যোদ্ধারা গাজার উত্তরাঞ্চলীয় ইরেজ সীমান্তে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ১ হাজার ২০০ জন মানুষকে হত্যার পাশাপাশি ২৪০ জন ইসরায়েলি ও বিদেশি নাগরিককে ধরে নিয়ে যায়। অভূতপূর্ব সেই হামলার পর সেদিন থেকেই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী

    চার মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান সেই অভিযানের শুরু থেকে এ পর্যন্ত গাজায় নিহতের সংখ্যা পৌঁছেছে ২৮ হাজার ৭০০ জনে, আহত হয়েছেন ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষ। এছাড়া ইসরায়েলি বাহিনীর গোলায় বাড়িঘর হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন আরও লাখ লাখ ফিলিস্তিনি।

    যুক্তরাষ্ট্র, কাতার, ও মিসরের নিরলস চেষ্টায় গত ২৫ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৭ দিনের অস্থায়ী বিরতি চুক্তি হয়েছিল হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে। সেই ৭ দিনে নিজেদের কব্জায় থাকায় জিম্মিদের মধ্যে ১০৮ জনকে মুক্তি দিয়েছিল হামাস। পাল্টায় ইসরায়েলের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের মধ্যে দেড়শর বেশি মানুষকে মুক্তি দিয়েছিল ইসরায়েলও।