Tag: সিরিজ জয়

  • ২৭ বছর পর ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতল শ্রীলঙ্কা

    ২৭ বছর পর ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতল শ্রীলঙ্কা

    www.HelloBangla.News – খেলাধুলা – ৮ আগস্ট, ২০২৪: ক্রিকেটে ভারতের আধিপত্য যেন হঠাৎ পতনের দিকে। কিছুদিন আগেই দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতে রোহিতরা। ওয়ানডে বিশ্বকাপ ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেভাবে সুবিধা করতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। অথচ দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত তৃতীয় ওয়ানডেতে ১১০ রানের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জেতে শ্রীলঙ্কা। এই জয়ে ২৭ বছর পর ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতল অভিস্কারা।

    কলম্বোতে টস জিতে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৪৮ রান সংগ্রহ করে শ্রীলঙ্কা। জবাবে খেলতে নেমে ২৬ ওভার ১ বলে ১৩৮ রানে অলআউট হয় শ্রীলঙ্কা। ফলে ২-০ তে সিরিজ জিতল স্বাগতিকরা।

    ২৪৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ঝোড়ো শুরু করেন রোহিত শর্মা। তবে অন্যদিকে ধীর গতির ছিলেন শুবমান গিল। পঞ্চম ওভারের তৃতীয় বলে তিনি যখন আউট হন, ভারত তার আগেই তুলে ফেলে ৩৭ রান। এরপর রোহিতও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি।

    দুই ওপেনারের বিদায়ের পর ভারত উইকেট হারিয়েছে নিয়মিত। টপ অর্ডারে কেউ স্কোর বড় করতে পারেননি, মিডল অর্ডারেও দাঁড়াতে পারেননি কেউ। রোহিতের ২০ বলে ৩৫ রানই হয়ে থেকেছে ভারতের ইনিংসে সর্বোচ্চ স্কোর।

    ভারতের ইনিংসের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন দুনিত ভেল্লালাগে। ২১ বছর বয়সী বাঁহাতি স্পিনার ২৭ রানে নেন ৫ উইকেট।

    এর আগে ব্যাটিংয়ে শ্রীলঙ্কার শুরুটা হয় বেশ ভালো। নিশাঙ্কা ও আভিস্কা ফার্নান্ডোর ওপেনিং জুটিতেই আসে ৮৯ রান। ৬৫ বলে ৪৫ রান করে নিশাঙ্কা ফেরার পর কুশল মেন্ডিসের সঙ্গে আভিস্কার জুটিতে আসে আরও ৮২ রান।

    এরপরই শ্রীলঙ্কা ইনিংসে নামে ধস। ২৮ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়ে বসে তারা। যার শুরুটা হয় আভিস্কার উইকেট দিয়ে। অভিষিক্ত রিয়ান পরাগের বলে সেঞ্চুরি থেকে ৪ রান দূরে এলবিডব্লু হন তিনি। একদিকে কুশল মেন্ডিস  (৮২ বলে ৫৯) অবশ্য টিকে ছিলেন, আরেক মেন্ডিস, কামিন্দুর সঙ্গে শ্রীলঙ্কাকে ২৫০-এর কাছে নিয়ে যান।

  • প্রথম ২ ম্যাচে বাংলাদেশকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে নিলো যুক্তরাষ্ট্র

    প্রথম ২ ম্যাচে বাংলাদেশকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে নিলো যুক্তরাষ্ট্র

    www.HelloBangla.News – খেলাধুলা – ২৪ মে, ২০২৪: প্রথম ম্যাচে খুব ভালো খেলতে পারেনি। হেরে যায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে। ভাবা হয়ছিল দ্বিতীয় ম্যাচে জিতে সমতা ফেরাবে বাংলাদেশ। কিন্তু ২য় ম্যাচে আরও হতাশার ডুবিয়েছে বাংলাদেশ। ব্যাটিং বোলিং দুই বিভাগেই ব্যর্থ। বাংলাদেশকে ৬ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ এক ম্যাচ হাতে রেখেই জিতে নিলো বিশ্বকাপের সহ-আয়োজকরা যুক্তরাষ্ট্র।

    যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেটে এটা ইতিহাস। বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি সিরিজ ছিল এটি। আর প্রথম দেখাতেই টেস্ট খেলুড়ে দলকে হারিয়ে সিরিজ জিতে নিলো দেশটি।

    বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য ছিল ১৪৫ রানের। শুরুতেই সাজঘরে ফেরেন সৌম্য সরকার। দলীয় ১ রানের মাথায় গোল্ডেন ডাকে ফেরেন বাঁহাতি এই ওপেনার।

    তানজিদ হাসান তামিম শুরুটা করেছিলেন ভালো। কিন্তু ১৫ বলে একটি করে চার-ছক্কায় ১৯ করে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত উইকেটে থাকেন অনেকটা সময়। তবে তার ইনিংসটি ঠিক টি-টোয়েন্টির সঙ্গে মানানসই ছিল না।

    ৩৪ বলে ২ চার আর ১ ছক্কায় ৩৬ রান করে তাওহিদ হৃদয়ের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে তিনি হন রানআউটের শিকার। ২১ বলে এক ছক্কায় ২৫ রানের বেশি এগোতে পারেননি হৃদয়ও। ইনসাইডেজে তিনি বোল্ড হন অ্যান্ডারসনের বলে। এর এক ওভার পর অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহও (৪ বলে ৩) বোল্ড হলে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। ১০৬ রানে হারায় ৫ উইকেট।

    আরেক অভিজ্ঞ ব্যাটার সাকিব আল হাসান হাল ধরেন। দল যখন জয় থেকে ২১ রান দূরে, ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ক্যাচ হন জাকের আলি (৫ বলে ৪)। ৪ বলের মধ্যে ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

    ২৩ বলে ৪ বাউন্ডারি আর ১ ছক্কায় ৩০ রান করে আলি খানের বলে ইনসাইডেজে বোল্ড হয়ে যান সাকিবও। অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডার ফেরার পরই সব আশা শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ১৯.৩ ওভারে ১৩৮ রানে গুটিয়ে যায় টাইগাররা।

    যুক্তরাষ্ট্রের আলি খান ২৫ রান দিয়ে নেন তিনটি উইকেট।

    এর আগে ৬ উইকেটে ১৪৪ রান তুলেছিল যুক্তরাষ্ট্র। প্রেইরি ভিউতে ব্যাট করতে নেমে রয়েসয়ে খেলে তারা। কঠিন বল পেলে খেলেছে রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে, আর খারাপ বল পেলেই হাঁকিয়েছে বাউন্ডারি কিংবা ছক্কা।

    মোস্তাফিজুর রহমান, তানজিম হাসান সাকিব ও শরিফুল ইসলামকে দেখেশুনে খেলে উদ্বোধনী জুটিতে ৪৪ রান করেন দুই ওপেনার স্টেভেন টেইলর ও মোনাঙ্ক প্যাটেল। সপ্তম ওভারে বল করতে এসেই জুটি ভাঙেন রিশাদ হোসেন। দুই বলে দুই উইকেট শিকার করেন এই অফস্পিনার।

    ওভারের চতুর্থ বলে রিশাদকে লংঅন অঞ্চলে উড়িয়ে মারেন টেইলর। সেখানে ফিল্ডিং করছিলেন তানজিদ হাসান তামিম। সুযোগ মিস করলেন না তিনি। টেইলরের (২৮ বলে ৩১) সহজ ক্যাচটি মুষ্ঠিবদ্ধ করেন তিনি।

    পরের বল গুডলেন্থের করেন রিশাদ। নতুন ব্যাটার গাউস (১ বলে ০) কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাইরের দিকে বেরিয়ে যাওয়া বলটি ব্যাটে স্পর্শ করিয়ে দেন। সহজ ক্যাচ নেন উইকেটরক্ষক জাকের আলি।

    এরপর তৃতীয় উইকেটে আবার জুটি করেন স্বাগতিক দলের দুই ব্যাটার প্যাটেল ও জোনস। দেখেশুনে খেলে ৫৬ বলে ৬০ রানের জুটি করেন তারা। অবশেষে তাদের সেই জুটি ভাঙেন মোস্তাফিজুর রহমান। বাঁহাতি এই পেসারকে লংঅনে উড়িয়ে মারার চেষ্টা করেন জোনস (৩৪ বলে ৩৫)। বাউন্ডারি লাইন থেকে দ্রুত গতিতে দৌড়ে এসে তাকে সহজ ক্যাচ বানান মাহমুদউল্লাহ।

    এদিন কোরি অ্যান্ডারসনকে সুবিধা করতে দেননি পেসার শরিফুল। ১৯তম ওভারের প্রথম বলে তাকে বোল্ড করে দেন বাঁহাতি পেসার। ১০ বলে ১১ রান করেন অ্যান্ডারসন। এ্কই ওভারের চতুর্থ ফিফটির পথে হাঁটতে থাকা প্যাটেলকেও (৩৮ বলে ৪২) বোল্ড করেন শরিফুল।

    প্রথম টি-টোয়েন্টির দিনের ম্যাচসেরা হারমিত সিংয়ে আজ রানের খাতাই খুলতে দেননি মোস্তাফিজ। তাকে সাকিবের হাতে ক্যাচ বানিয়েছেন তিনি। আর ৭ রানে অপরাজিত ছিলেন নীতিশ কুমার।

    বাংলাদেশের হয়ে দু্টি করে উইকেট শিকার করেন রিশাদ, শরিফুল ও মোস্তাফিজ।

    বাংলাদেশ শুধু সিরিজ হারের লজ্জাই পায়নি, দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি হারের পর আরেকটি লজ্জার রেকর্ডে ঢুকে পড়েছে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে ১০০ ম্যাচ হারের রেকর্ড গড়েছে টাইগাররা।

    ক্রিকেট জগতে নবাগত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সিরিজ হারের পর বাংলাদেশ দল নিয়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে নিউজ মিডিয়া ও সামাজিক যেগাযোগ মাধ্যমে।