Tag: যুদ্ধবিরতি

  • মধ্যস্থতাকারীদের প্রতি যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে হামাস

    মধ্যস্থতাকারীদের প্রতি যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে হামাস

    www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ১২ আগস্ট, ২০২৪: আগের প্রস্তাবের ভিত্তিতে যুদ্ধবিরতির একটি পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে মধ্যস্থতাকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে হামাস।  গাজার জন্য নতুন করে যুদ্ধবিরতি চুক্তি খোঁজার চেষ্টা চায়না তারা।

    যুক্তরাষ্ট্র, মিসর ও কাতারের প্রস্তাবিত আলোচনার দিন কয়েক আগে এমন আহ্বান এলো হামাসের পক্ষ থেকে। এক প্রতিবেদনে এই খবর আল জাজিরার।

    টেলিগ্রামে এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি বলেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ৩১ মের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করে তারা একটি পরিকল্পনা চায়। বাইডেনের প্রস্তাবের কাঠামো অনুযায়ী ৬ মে কাতার ও মিসর যুদ্ধবিরতি চুক্তির একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করেছিল।

    ৬ মের প্রস্তাবটি হামাস এর আগে মেনে নিয়েছিল। তবে ইসরায়েল তা প্রত্যাখ্যান করে। ওই প্রস্তাব গাজায় ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির পাশাপাশি ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি অনির্দিষ্ট সংখ্যক ফিলিস্তিনিদের মুক্তির নিশ্চয়তা দেয়।

    রবিবার হামাসের ওই বিবৃতিতে বলা হয়, নতুন প্রস্তাবের পরিবর্তে মধ্যস্থতাকারীদের উচিত ইসরায়েলকে ৬ মের প্রস্তাব মেনে নিতে বাধ্য করা। নতুন প্রস্তাব দখলদারদের আগ্রাসনকে আড়াল করবে এবং আমাদের জনগণের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালিয়ে যেতে আরও সময় দেবে।

    জর্দানের রাজধানী আম্মান থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক হামদাহ সালহুত বলেন, ইসরায়েলি মিডিয়াগুলো বলছে, হামাসের এ বিবৃতি যুদ্ধবিরতি আলোচনার পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান।

    তিনি বলেন, তবে হামাসের বিবৃতিতে তা বলা হয়নি। গোষ্ঠীটি কেবলমাত্র মধ্যস্থতাকারীদের মূল প্রস্তাবটি আলোচনায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছে, যাতে তারা রাজি হয়েছিল।

  • মিসর ও কাতারের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সাড়া দিয়েছে ইসরায়েল

    মিসর ও কাতারের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সাড়া দিয়েছে ইসরায়েল

    www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ২৭ এপ্রিল, ২০২৪: ‘গত ১৩ এপ্রিল মিসর ও কাতারের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে (যুদ্ধবিরতির) যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল, তাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সাড়া দিয়েছে ইসরায়েল।’ এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছেন হামাস মুখপাত্র খলিল আল হায়া।

    হামাসের এই মুখপাত্র আজ শনিবার (২৭ এপ্রিল) কাতার থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    গত ৭ অক্টোবর গাজার উত্তরাঞ্চলীয় ইরেজ সীমান্ত দিয়ে ইসরায়েলি ভূখণ্ডে ঢুকে নির্বিচারের গুলি চালিয়ে ১ হাজার ২০০ জন ইসরায়েলি ও অন্যান্য দেশের নাগরিককে হত্যা করে হামাস। সেই সঙ্গে জিম্মি হিসেবে ধরে নিয়ে যায় আরও ২৪০ জনকে।

    এই আক্রমনের জবাবে সেই দিন থেকেই ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)গাজায় অভিযান শুরু করে । গত ছয় মাস ধরে চলমান সেই অভিযানে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গাজা উপত্যকা, নিহত হয়েছেন ৩৪ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি। নিহতদের অধিকাংশই শিশু, নারী ও বেসামরিক লোকজন।

    এর আগে কাতার, মিসর ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতা-দূতিয়ালিতে গত ২৫ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অস্থায়ী বিরতি ঘোষণা করেছিল হামাস-আইডিএফ। সেই বিরতির সময় নিজেদের কব্জায় থাকা জিম্মিদের মধ্যে ১০৮ জন জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছিল হামাস। অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের মধ্যে থেকে ১৫০ জনকে কারাগার থেকে ছেড়ে দিয়েছিল ইসরায়েলও।

    ওই বিরতি শেষ হওয়ার পর গাজায় দ্বিতীয় দফা যুদ্ধবিরতির জন্য কাজ করছিল মধ্যস্থতাকারী তিন দেশ। চলতি বছর রমজান মাস থেকে তা শুরু হওয়ার কথা ছিল; কিন্তু মূলত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর আপত্তির কারণে তা আর হয়নি। ফলে হামাসের কব্জায় থাকা বাকি ১৩২ জন জিম্মির ভাগ্য কী ঘটেছে— এখনও অজানা।

    কাতার এবং মিসরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অবশিষ্ট জিম্মিদের মুক্তির জন্য প্রথম দফা বিরতির পর ২য় বার যুদ্ধবিরতির জন্য একাধিক বার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে হামাস এবং ইসরায়েলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার কাছে। কিন্তু প্রতিটি প্রস্তাবে হামাস স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে এবং এই দাবির কারণে সেসব প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি ইসরায়েল।

    দুই পক্ষের মতানৈক্যের কারণে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসন এবং জিম্মিদের মুক্তির পথ তৈরি করতে বৃহস্পতিবার ইসরায়েল সফরে যায় মিসরের একটি সরকারি প্রতিনিধি দল। এদিকে, ওই দিনই হামাসের কব্জায় থাকা জিম্মিদের মুক্তির জন্য গোষ্ঠীটির প্রতি আহ্বান জানিয়ে চিঠি দেয় যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যসহ ১৭টি দেশ।

    হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতারা গত ১২ বছর ধরে কাতারে রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন। সম্প্রতি কাতার ইঙ্গিত দিয়েছে, যদি গাজায় যুদ্ধবিরতির ক্ষেত্রে হামাসের ভূমিকা ইতিবাচক না হয়— তাহলে কাতার ছাড়তে হবে গোষ্ঠীটির নেতাদের।

    বৃহস্পতিবার ১৭টি দেশের চিঠি প্রসঙ্গে প্রাথমিক এক প্রতিক্রিয়ায় হামাস নেতারা বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক চাপের কাছে তারা মাথা নত করবেন না। তবে কয়ে ঘণ্টা পরই তারা ফের বলেন, ‘ফিলিস্তিনের জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও অধিকারের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ যে কোনো প্রস্তাবকে হামাস স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।’

    মিসরের প্রতিনিধিদলের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ১৩ এপ্রিল পাঠানো প্রস্তাবে ৩৩ জন জিম্মিকে মুক্তি দিতে সম্মতি জানিয়েছে হামাস।

    ফলে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি এবার বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • গাজায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ

    গাজায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ

    www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ২৬ মার্চ, ২০২৪: পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে গাজায় চলছে ইসরায়েলি হামলা। ইসরায়েলের সঙ্গে হামাসের এই যুদ্ধে প্রায় ৩২ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এই প্রেক্ষিতে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাতে পেরেছে।

    ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ভোটদানে বিরত থাকায় নিরাপত্তা পরিষদ সোমবার যুদ্ধবিরতির দাবি সম্বলিত প্রস্তাবটি পাশ করতে পেরেছে। এর আগের একের পর এক প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র ভেটো দেয়ায় নিরাপত্তা পরিষদ কোন প্রস্তাব পাশ করতে পারেনি।

    যুক্তরাষ্ট্র ভোটদানে বিরত থাকায় নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাবটি ১৪ ভোটে পাশ হয়। এতে গাজায় অবিলম্বে স্থায়ী ও টেকসই যুদ্ধবিরতি এবং গত বছরের ৭ অক্টোবর হামাস যেসব ইসরায়েলী জিম্মিকে আটক করেছিল তাদের ছেড়ে দেয়ার দাবি জানানো হয়।

    স্লোভেনিয়া ও সুইজারল্যান্ডসহ নিরাপত্তা পরিষদের আরব ব্লকের বর্তমান সদস্য আলজেরিয়া সফল এই প্রস্তাবের খসড়া তৈরি করে।

    যুক্তরাষ্ট্র এর আগের প্রস্তাবগুলোয় ভেটো দেয়। কিন্তু গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফায় ইসরায়েল অভিযান চালানোর পরিকল্পনা থেকে এখনও সরে না আসায় কার্যত হতাশ যুক্তরাষ্ট্র।

    উল্লেখ্য,গত বছরের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলে আকস্মিক বড়ো ধরনের হামলা চালায়। এরপরই ইসরায়েল গাজায় পাল্টা হামলা শুরু করে যা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

    ইসরায়েলী হামলায় এই পর্যন্ত ৩২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনী নিহত হয়েছে, যার অধিকাংশ নারী ও শিশু

  • হামাসের দেওয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল

    হামাসের দেওয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল

    www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ১৬ মার্চ, ২০২৪: এবার হামাসের দেওয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ইসরায়েল প্রত্যাখ্যান করেছে। বিষয়টিতে বিশ্বের শাস্তিকামী মানুষ দারুণ ভাবে হতাশ হয়েছে। গতকাল শুক্রবারের (১৫ মার্চ) নতুন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রীসভা।

    নতুন প্রস্তাবে যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে অসুস্থ, বৃদ্ধ ও নারী জিম্মিদের মুক্তি দেওয়ার কথা জানিয়েছিল হামাস।

    এর বদলে ইসরায়েলকে ৭০০ থেকে এক হাজার ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার দাবি ছিল তাদের।

    বন্দি মুক্তির যে তালিকা হামাস দিয়েছে তার মধ্যে ইসরায়েলি আদালতে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ১০০ বন্দিও রয়েছেন। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী প্রথম ধাপের পর দ্বিতীয় ধাপে সব জিম্মিকে মুক্তি দেওয়াও ঘোষণা দেয় হামাস। এরপর স্থায়ী যুদ্ধবিরতির তারিখ ঘোষণার দাবি রাখে সংগঠনটি।

    তবে হামাসের এই প্রস্তাবে রাজি হননি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। হামাসের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিয়ে যুদ্ধকালীন মন্ত্রীসভার সঙ্গে বৈঠক করেন নেতানিয়াহু। এই সময় হামাসের নতুন প্রস্তাবকে ‘উদ্ভট’ সমালোচনা করেন তিনি। খবর আল জাজিরা

    এদিকে নেতানিয়াহু দপ্তর জানিয়েছে রাফাহতে হামলা চালানোর পরিকল্পনা অংশ হিসেবে সেখানকার বেসামরিক বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে প্রস্তুত রয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী।

    ইসরায়েলের এই ধরনের অবস্থানের সমালোচনা করে হামাসের সিনিয়র কর্মকর্তা স্বামী আবু জুহরি বলেছেন, নেতানিয়াহু আরও গণহত্যা চালানোর জন্য অজুহাত খুঁজে বেড়াচ্ছেন।

    গত বছরের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলে আক্রমণ চালানোর পর থেকে এই যুদ্ধের সূত্রপাত। এর পর থেকে গাজার অবিরাম আক্রমণ চালিয়ে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ হত্যা করে ইসরায়েলি বাহিনী। এখন গাজায় চলছে দুর্ভিক্ষ। এই অবস্থায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব থেকে ইসরায়েলের সরে যাওয়া মানে গাজায় জনগণ ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েবে।

  • ৪০ দিনের যুদ্ধবিরতি মেনে নেবে হিজবুল্লাহ ও হুথি গোষ্ঠী

    ৪০ দিনের যুদ্ধবিরতি মেনে নেবে হিজবুল্লাহ ও হুথি গোষ্ঠী

    www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র ইসলামী গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ও ইয়েমেনভিত্তিক হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী জানিয়েছে নেতানিয়াহু যদি হামাসের প্রস্তাবিত ৪০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সায় দেয়, তবে ইসরায়েলে হামলা থেকে বিরত থাকবে তারা।

    হিজবুল্লাহর এক নেতা সংবাদমাধ্যমে বলেন, “হামাস যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব অনুমোদন করার সঙ্গে সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলে (লেবাননের) আমাদের সামরিক অপারেশন থামিয়ে দেবো। এর আগের বারের যুদ্ধবিরতির সময়ও আমরা তা করেছিলাম।”

    ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহর হামলায় অন্তত ১২ ইসরায়েলি সেনাসহ অন্তত ১৮ জন ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন।

    গোষ্ঠীটির আরেক জ্যেষ্ঠ নেতা রয়টার্সকে জানান হামাস যদি যুদ্ধবিরতি মেনে নেয়, তাহলে আমরা ইসরায়েলে হামলা বন্ধ করব। তবে যুদ্ধবিরতির সুযোগে আইডিএফ যদি লেবাননে বোমা বর্ষণ অব্যাহত রাখে, তাহলে আমরা সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য।

    এদিকে গাজায় যুদ্ধবিরতির কার্যকর হলে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির মুখপাত্র মোহাম্মদ আবদুলসালাম সংবাদমাধ্যমে জানান, “গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের প্রতিবাদ এবং ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আমরা লোহিত সাগরে অপারেশন শুরু করেছিলাম। গাজায় ইসরায়েল যতদিন অভিযান চলাবে, ততদিন লোহিত ও এডেন উপসাগরে হামলা অব্যাহত রাখব। তবে যদি সত্যিই গাজায় যুদ্ধবিরতি হয় এবং মানবিক ও ত্রাণ সহায়তার সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়, তাহলে আমরও লোহিত সাগরে আমাদের অপারেশন স্থগিতের ব্যাপারটি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করব।

    হুথিদের হামলায় গত তিন মাসে লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরে বেশ কিছু বাণিজ্যিক ও ট্যাংকার জাহাজ আক্রান্ত হয়েছে । এসব জাহাজের কয়েকটি সাগরে ডুবেও গেছে।

    অপর দিকে চার মাসের বেশি সময় ধরে চলা ইসরায়েলি হামলায় গাজায় প্রায় ৩০ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটেছে। যাদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু।

  • হামাস ও ইসরায়েল এক মাসের যুদ্ধবিরতিতে যাচ্ছে

    হামাস ও ইসরায়েল এক মাসের যুদ্ধবিরতিতে যাচ্ছে

    www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ২৪ জানুয়ারি, ২০২৪: গাজা নিয়স্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাস ও ইসরায়েলি যুদ্ধকালীন মন্ত্রীসভা গাজা উপত্যকায় এক মাসের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলেও স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে উভয়পক্ষের মতপার্থক্য এখনও আছে।

    আর আগ গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ভূখণ্ডে হামাসের হামলার মধ্যে দিয়ে শুরু হওয়া এই যুদ্ধের শুরু থেকে মধ্যস্থতার ভূমিকায় রয়েছে কাতার, যুক্তরাষ্ট্র এবং মিসর। এই তিন দেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামাসের হাতে থাকা ১৩০ জনেরও বেশি জিম্মি ও ইসরায়েলের কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের মুক্তি, গাজায় সহিংসতা স্থগিত করা এবং উপত্যকায় ত্রাণের সরবরাহ আরও বাড়াতে ইসরায়েলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা এবং হামাস— উভয়ই এক মাসের ‍যুদ্ধবিরতিতে যেতে প্রাথমিকভাবে সম্মত হয়েছে।

    কর্মকর্তারা জানান, গত ১ ডিসেম্বর গাজায় মানবিক বিরতি শেষ হওয়ার পর ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যকার যাবতীয় কূটনৈতিক তৎপরতা তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ ছিল। পরে ২৮ মার্চ কাতার ও মিসরের মাধ্যমে ইসরায়েলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা বরাবর একটি প্রস্তাব পাঠায় হামাস। প্রস্তাবে গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা নিজেদের হাতে থাকা সব জিম্মিকে মুক্তি দিতে প্রস্তুত রয়েছে; তবে তার বিনিময়ে ইসরায়েলকে গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা, উপত্যকায় ত্রাণ সামগ্রী প্রবেশ করতে দেওয়ার পাশাপাশি ইসরায়েলের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের ছেড়ে দিতে হবে।

    কিন্তু হামাসের এই প্রস্তাবে সম্মত হয়নি ইসরায়েল। মধ্যস্থতাকারী একটি সূত্র জানিয়েছে, ইসরায়েলের এই অসম্মতির প্রধান কারণ হামাসের এই ‘প্যাকেজ চুক্তি’। যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা এই চুক্তিতে সম্মতি প্রদানের পরিবর্তে এ ইস্যুতে আলোচনা চালিযে যেতে আগ্রহী।

    এদিকে ইসরায়েল অসম্মতি জানানোর পর হামাসও আর এ ইস্যুতে অগ্রসর হয়নি। ‘গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা না করলে জিম্মিদের মুক্তি নয়’— এই অবস্থানে দীর্ঘসময় অনড় ছিল এই গোষ্ঠী।

    তবে পরে কাতার, মিসর এবং ওয়াশিংটনের চাপে এক মাসের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় হামাস। তবে গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে মধ্যস্থতাকারীদের নিশ্চয়তা চাওয়া হয় যে— এই বিরতির পর গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হবে।

    আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, কোনো না কোনোভাবে হামাস সেই নিশ্চয়তা পেয়েছে এবং তার ফলাফল এক মাসের যুদ্ধবিরতিতে এই গোষ্ঠীটির প্রাথমিক সম্মতি। হামাসের মুখপাত্র সামি আবু জুহরি রয়টার্সকে এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘গাজা উপত্যাকায় আগ্রাসন বন্ধ এবং উপত্যকা থেকে দখলদার বাহিনীকে স্থায়ীভাবে প্রত্যাহারের নিশ্চয়তা দেবে— এমন যে কোনো চুক্তি-উদ্যোগ বা প্রস্তাব মেনে নিতে প্রস্তুত।’

    গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ইরেজ সীমান্তে অতর্কিত হামলা চালিয়ে সামরিক-বেসামরিক ইসরায়েলি ও বিদেশি নাগরিকসহ ১ হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষকে হত্যা করে হামাস যোদ্ধারা। সেই সঙ্গে জিম্মি হিসেবে ধরে নিয়ে যায় আরও ২৪০ জন ইসরায়েলি এবং অন্যান্য দেশের নাগরিককে।

    ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর গত ৭৫ বছরের ইতিহাসে সেদিন প্রথম একদিনে এতজন মানুষের হত্যা দেখেছে ইসরায়েল। অভূতপূর্ব সেই হামলার জবাবে সেদিন থেকেই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী এবং তার এক সপ্তাহ পর বিমান বাহিনীর সঙ্গে যোগ দেয় স্থল বাহিনীও।

    ইসরায়েলি বাহিনীর লাগাতার বোমাবর্ষণে গত প্রায় সাড়ে চার মাসে গাজায় নিহত হয়েছেন ২৫ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি, আহত হয়েছেন অন্তত ৬০ হাজার এবং ইসরায়েলি বাহিনীর বোমাবর্ষণে ধসে যাওয়া বিভিন্ন ভবনের ধ্বংস্তূপের নীচে এখন ও চাপা পড়ে আছেন অন্তত কয়েক হাজার মানুষ।

    গত ২৫ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঘোষিত এক মানবিক বিরতির সাত দিনে মোট ১০৮ জন জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে হামাস। বাকি ১৩২ জন এখনও তাদের হাতে আটক রয়েছে।

     

    ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু অবশ্য অবশ্য যুদ্ধের শুরু থেকেই বলে আসছেন যে, হামাসকে সম্পূর্ণ ধ্বসের আগ পর্যন্ত এই অভিযান চলবে, তবে বর্তমানে এই ইস্যুতে বেশ চাপে রয়েছেন তিনি। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক— উভয় দিক থেকেই চাপ বাড়ছে তার ওপর।

    অভ্যন্তরীণ চাপে থাকার প্রধান কারণ— হামাসের হাতে থাকা অবশিষ্ট জিম্মি এবং তার পরিবারের স্বজনরা। নেতানিয়াহু যদিও বলছেন, যে জিম্মিদের মুক্ত করতে গাজায় অভিযান হচ্ছে তবে সেনা অভিযানের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত কোনো জিম্মিকে মুক্ত করা সম্ভব হয়নি। উল্টো ইসরায়েলি বাহিনীর বোমা ও গোলায় নিহত হয়েছেন কয়েকজন আটকে থাকা জিম্মি।

    জিম্মিদের পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা জিম্মিদের ফিরে আসা দাবি জানাচ্ছেন। দাবি আদায়ে দেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করছেন তারা, কিন্তু যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা তাদের সে দাবিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে তাদের অভিযোগ।

    এ পরিস্থিতিতে কয়েক দিন আগে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের অধিবেশনে হামলাও চালিয়েছন জিম্মিদের স্বজনরা।

    এদিকে, ইসরায়েলি বাহিনীর লাগাতার বোমাবর্ষণে প্রতিদিন গাজায় নিহত হচ্ছেন শত শত মানুষ। নিহতের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ২৫ হাজার। বিশ্বের দেশে দেশে ইসরায়েলি অভিযানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ দুই মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ গাজায় বেসামরিকদের হতাহত হ্রাস করার জন্য প্রতিনিয়ত চাপ দিচ্ছে।

    আবার যুদ্ধে যে ইসরায়েলি বাহিনী কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাচ্ছে— এমনও নয়। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত প্রায় চার মাসের যুদ্ধে হামসের মাত্র এক পঞ্চমাংশ যোদ্ধাকে শেষ করতে পেরেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

    এসব মিলিয়ে অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিকভাবে নেতানিয়াহু বেশ চাপে রয়েছেন।

    তবে এই বক্তব্যকে চুড়ান্ত মনে করার কিছু নেই। কারণ বর্তমান পরিস্থিতিতে এই যুদ্ধের ভবিষ্যত অনেকাংশে নির্ভর করছে কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর।