Tag: বইমেলা

  • দুই দিন সময় বাড়লো বইমেলার

    দুই দিন সময় বাড়লো বইমেলার

    www.HelloBangla.News – বিনোদন – ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: প্রকাশক ও পাঠকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে বইমেলার সময় ২ দিন বাড়ানো হয়েছে। প্রতিবার বই মেলা চলে ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিন পর্যন্ত। কিন্তু এবার তার ব্যতিক্রম ঘটছ। এবার বইমেলার শেষ হবে ২ মার্চ। এদিকে বছরটি লিপ-ইয়ার হওয়ার কারণে ফেব্রুয়ারি মাসের এক দিন বাড়ছে। স্বাভাবিক কারণে লিপ-ইয়ারের একদিন ও মার্চের দুই দিন মিলে বইমেলর সয় মোট বেড়েছে তিন দিন। বিষয়টি পাঠক ও প্রকাশকদের জন্য আনন্দের।

    আগামী ১ ও ২ মার্চ (শুক্রবার-শনিবার) মেলা অনুষ্ঠিত হবে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব খলিল আহমদ মঙ্গলবার রাতে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বইমেলার সময়সীমা দুদিন বাড়ানোর আবেদনে অনুমোদন দিয়েছেন। তাই বইমেলা আগামী ২ মার্চ পর্যন্ত চলবে।

    বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মুহাম্মদ নুরুল হুদা রাত ৯টার দিকে বইমেলায় ঘোষণা কেন্দ্র থেকেও মেলার সময় বাড়ানোর ঘোষণা দেন।

    তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সদয় সম্মতিক্রমে বইমেলা দুদিন বাড়ানো হয়েছে।’

    এর আগে ১৮ ফেব্রুয়ারি একুশে বইমেলার সময় দুদিন বাড়ানোর জন্য বাংলা একাডেমিতে চিঠি দেয় বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক বিক্রেতা সমিতি।

    চিঠিতে বলা হয়, ‘অমর একুশে বইমেলা শুরু হওয়ার প্রথম তিনদিন মেলাপ্রাঙ্গণের প্রস্তুতি ও বৃষ্টিজনিত সমস্যার কারণে মেলায় অংশ নেওয়া প্রকাশকরা যথাযথভাবে বিক্রি শুরু করতে পারেননি। সে কারণে অনেকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। এখানে ১ ও ২ মার্চ শুক্র এবং শনিবার হওয়ায় দুদিন অমর একুশে বইমেলার সময় বৃদ্ধির অনুরোধ করছি।’

    আশা করা যাচ্ছে শেষ দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটির কারণে বইমেলার পাঠক সামগম প্রচুর হবে।

  • এই বাংলা একাডেমি অনেক আন্দোলন ও সংগ্রামের সাক্ষী: প্রধানমন্ত্রী

    এই বাংলা একাডেমি অনেক আন্দোলন ও সংগ্রামের সাক্ষী: প্রধানমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: এই বাংলা একাডেমি অনেক আন্দোলন ও সংগ্রামের সাক্ষী, বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “বইমেলা আমাদের প্রাণের মেলা। শুধু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যে এসেছি, তা নয়। স্কুলজীবন থেকেই আমরা মেলায় আসি। এই বাংলা একাডেমি অনেক আন্দোলন সংগ্রামের সাক্ষী। যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম, আমি ও আমার বন্ধু বেবী মওদুদ বাংলা একাডেমির লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করতাম।”

    আজ বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধনী ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বইমেলার জায়গাটা অনেক ছোট। প্রচুর মানুষ মেলায় আসতে চায়। আরো বড়ো পরিসরে আয়োজন করার বিষয়টি আমি ভেবে দেখার অনুরোধ জানাবো।”

    তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি যখন আমরা পেলাম, তখন আমি সিদ্ধান্ত নেই— এখানে একটা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট গড়ে তুলব। ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করি। আমার সঙ্গে জাতিসংঘের মহাসচিব কফি আনান ছিলেন। কাজ শুরু করি, ২০০১ এ ক্ষমতায় আসতে পারিনি, তখন খালেদা জিয়া সেই কাজটি বন্ধ করে দিয়েছিল।”

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “রক্ত দিয়ে আমরা যে ভাষার অধিকার আদায় করেছি সেটা এখন সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে।”

    তিনি আরও বলেন, “আমি ধন্যবাদ জানাই তাকে (খালেদা), বন্ধ করে দিয়েছিলেন, ভালো হয়েছিল। কারণ, দ্বিতীয়বার যখন আমি সরকারে আসি সেটা প্রতিষ্ঠা করি। এখন সারা বিশ্বের বিভিন্ন ভাষা নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। সেটা যেন আরো সমৃদ্ধ হয়, সেটা আমি চাই।”

    শেখ হাসিনা বলেন, “ফেব্রুয়ারি মাস আমাদের ভাষা আন্দোলনের মাস। এ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালির সত্তা জাগ্রত হয়। এই পথ বেয়েই আমরা পেয়েছি আমাদের স্বাধীনতা। আমারা বাঙালি বাংলা ভাষায় কথা বলি, মায়ের ভাষায় কথা বলি। এই অধিকারটাও আমাদের রক্ত দিয়ে অর্জন করতে হয়েছে। বাংলা একাডেমী আমাদের অনেক আন্দোলন সংগ্রামের সূতিকাগার। বইমেলা আমাদের প্রাণের মেলা।”

    বাংলা একাডেমীর সভাপতি সেলিনা হোসেনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন- সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব খলিল আহমদ, বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা, বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সভাপতি মো. আরিফ হোসেন ছোটন।

    বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য এ বছরের পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন-: শামীম আজাদ (কবিতা), ঔপন্যাসিক নুরুদ্দিন জাহাঙ্গীর ও সালমা বাণী (যৌথভাবে কথাসাহিত্যে), জুলফিকার মতিন (প্রবন্ধ/গবেষণা), সালেহা চৌধুরী (অনুবাদ), নাট্যকার মৃত্তিকা চাকমা ও মাসুদ পথিক (যৌথভাবে নাটক), তপঙ্কর চক্রবর্তী (শিশু সাহিত্য), আফরোজা পারভিন এবং আসাদুজ্জামান আসাদ (মুক্তিযুদ্ধের উপর গবেষণা), সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল এবং মো. মজিবুর রহমান (বঙ্গবন্ধুর উপর গবেষণা), পক্ষীবিদ ইনাম আল হক (পরিবেশ/বিজ্ঞান ক্ষেত্র), ইসহাক খান (জীবনী) এবং তপন বাগচী ও সুমন কুমার দাস (যৌথভাবে লোক কাহিনী)।

    বইমেলার উদ্বোধনের আগে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০২৩ বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। বাংলা একাডেমি প্রকাশিত ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংগৃহীত রচনা: দ্বিতীয় খণ্ড’ এবং আরো কয়েকটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন শেখ হাসিনা।

    বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয়েছে মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলার। এবারের বইমেলার প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘পড়ো বই, গড়ো দেশ: বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’।

    বইমেলায় ৬৩৫টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৯৩৭টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাংলা একাডেমি মাঠে ১২০টি প্রতিষ্ঠানকে ১৭৩টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৫১৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৭৬৪টি স্টল বরাদ্দ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি রয়েছে ৩৭টি প্যাভিলিয়ন।

    মেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মাসব্যাপী সেমিনারের পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের জন্য ছবি আঁকা, সংগীত ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা থাকবে।

    এবারও মেলার মূল মঞ্চ বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে। বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও ‘লেখক বলছি’ মঞ্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে থাকছে।

    রমনা কালী মন্দিরের পাশে সাধুসঙ্গ এলাকায় ‘শিশু চত্বর’ স্থাপন করা হয়েছে।

    [প্রতি কর্মদিবসে বইমেলা বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এবং সরকারি ছুটির দিনে সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং দুপুরের খাবার ও নামাজের জন্য এক ঘণ্টা বিরতি থাকবে।

  • বইমেলা উপলক্ষে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে: ডিএমপি কমিশনার

    বইমেলা উপলক্ষে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে: ডিএমপি কমিশনার

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ৩১ জানুয়ারি, ২০২৪: বইমেলা উপলক্ষে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে, বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান। তিনে বলেন, “অমর একুশে বইমেলা বাঙালির বড় ঐতিহ্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল বিকেল ৩টায় বইমেলা উদ্বোধন করবেন। এজন্য মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

    আজ বুধবার (৩১ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অমর একুশে বইমেলা-২০২৪ উপলক্ষে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সম্পর্কে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

    বইমেলাকে কেন্দ্র করে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, “বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আশেপাশে তল্লাশি দল থাকবে, সন্দেহভাজন কিছু দেখলে তারা তল্লাশি করবেন। মূল মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশের আগে প্রতিটি প্রবেশপথে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর থাকবে। এছাড়া, কাউকে সন্দেহ হলে তাকে পৃথক কক্ষে নিয়ে তল্লাশি করা হবে। মেলা প্রাঙ্গণসহ আশেপাশের এলাকার প্রতিটি ইঞ্চি সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণে সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি পর্যাপ্ত সংখ্যক পোশাকধারী সদস্য মোতায়েন থাকবেন। মেলার আশেপাশে মোটরসাইকেল ও গাড়ি টহল থাকবে “

    তিনি আরও বলেন, “সিটিটিসি, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ক্রাইম সিন ভ্যান, সিটি এসবি ও ডগ স্কোয়াড সদস্যরা দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন” ।

    ডিএমপি কমিশনার বলেন, “মেলায় নিশ্ছিদ্র পুলিশি নিরাপত্তার বাইরেও পুলিশের ব্রেস্ট ফিডিং সেন্টার থাকবে, ব্লাড ব্যাংক থাকবে, বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা ও শিশু হারিয়ে গেলে তাকে খুঁজে দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে মেলায়।”

    তিনি আরও বলেন, “মেলায় আইনশৃঙ্খলার জন্য ক্ষতিকর বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন কোনো বই প্রকাশিত হলে পুলিশ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বিভিন্ন সময় বেশ কিছু বইয়ের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে পুলিশ। বইয়ের বিষয়টি বাংলা একাডেমি করে থাকে। তবে এমন কোনো লেখা বা বিষয় যদি পাঠকের নজরে আসে বা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় এবং সেটি নিয়ে যদি কোনো সমালোচনা হয় তখন পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।”

    এবার মেট্রোরেলের জন্য মেলায় দর্শনার্থী বাড়বে বলে মন্তব্য করে হাবিবুর রহমান আরও বলেন, “এবারের মেলায় বিশেষ একটি সুবিধা যুক্ত হয়েছে। মেট্রোরেলের একটি স্টেশন মেলার গাঁ ঘেঁষে। তাই দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধা বাড়বে। এছাড়া সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ইঞ্জিনিয়ার ইন্সটিটিউট গেট খুলে দেওয়া হচ্ছে। এতে দর্শনার্থীদের মেলায় প্রবেশ সহজ হবে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মোট পাঁচটি গেট থাকবে। প্রত্যেকটি গেট থেকেই মেলায় প্রবেশ এবং বের হওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া নারী-পুরুষের জন্য আলাদা গেটের ব্যবস্থা থাকবে।”

    এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, “বই মেলা অসাম্প্রদায়িক আয়োজন। এই আয়োজনকে বিভিন্ন সময় হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে। এখানে নাশকতা ও জঙ্গি তৎপরতার অতীত ঘটনা রয়েছে। এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে মাথায় রেখে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট কোনো হুমকি নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।”

    সংবাদ সম্মেলন শেষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্টলগুলো পরিদর্শন করেন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান।

  • এবারের বইমেলার আঙ্গিকগত পরিবর্তন এসেছে মেট্রোরেলের কারণে

    এবারের বইমেলার আঙ্গিকগত পরিবর্তন এসেছে মেট্রোরেলের কারণে

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ৩০ জানুয়ারি, ২০২৪: এবার অমর একুশে বইমেলার বিন্যাস গতবারের মতো অক্ষুন্ন রাখা গেলেও কিছু আঙ্গিকগত পরিবর্তন আনা হয়েছে । আর এটা হয়েছে মেট্রোরেল স্টেশনের অবস্থানগত কারণে। বইমেলা অনুষ্ঠিত হবে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ এবং ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রায় সাড়ে ১১ লাখ বর্গফুট এলাকাজুড়ে। একাডেমি প্রাঙ্গণে ১২০টি প্রতিষ্ঠানকে ১৭৩টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৫১৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৭৬৪টি ইউনিট, অর্থাৎ মোট ৬৩৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৯৩৭টি ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আর এবার বইমেলার মূল প্রতিপাদ্য ‘পড়ো বই গড়ো দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’।

    আজ মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) অমর একুশে বইমেলা-২০২৪ এর সার্বিক প্রস্তুতি বিষয়ে বাংলা একাডেমির পক্ষ সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা, অমর একুশে গ্রন্থমেলা কমিটির সদস্য সচিব ড. কে এম মুজাহিদুল ইসলামসহ অন্যান্যরা এই সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন।

    এবারের মেলার সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে গ্রন্থমেলা কমিটির সদস্য সচিব ড. কে এম মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, “এবার বইমেলার মূল প্রতিপাদ্য ‘পড়ো বই গড়ো দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’। ১ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৩টায় বইমেলা উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব খলিল আহমদ। স্বাগত বক্তব্য দেবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মুহম্মদ নূরুল হুদা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন একাডেমির সভাপতি সেলিনা হোসেন।”

    মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, “বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০২৩ প্রদান অমর একুশে বইমেলা ২০২৪-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানের পর প্রধানমন্ত্রী বাংলা একাডেমি প্রকাশিত ‘Collected Works of Sheikh Mujibur Rahman : Volume-2’ সহ কয়েকটি নতুন বইয়ের গ্রন্থ-উন্মোচন করবেন এবং বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৩ প্রদান করবেন।”

    গ্রন্থমেলা কমিটির সদস্য সচিব বলেন, “বইমেলা অনুষ্ঠিত হবে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ এবং ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রায় সাড়ে ১১ লাখ বর্গফুট জায়গায়। একাডেমি প্রাঙ্গণে ১২০টি প্রতিষ্ঠানকে ১৭৩টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৫১৫টি প্রতিষ্ঠানকেন৭৬৪টি ইউনিট অর্থাৎ মোট ৬৩৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৯৩৭টি ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মেলায় ৩৭টি (একাডেমি প্রাঙ্গণে ১টি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৩৬টি) প্যাভিলিয়ন থাকবে।”

    এবার বইমেলার বিন্যাস গতবারের মতো অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “কিছু আঙ্গিকগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ করে মেট্রোরেল স্টেশনের অবস্থানগত কারণে গতবারের মেলার বাহির হওয়ার পথ এবার একটু সরিয়ে মন্দির গেটের কাছাকাছি স্থানান্তর করা হয়েছে। এছাড়া টিএসসি, দোয়েল চত্বর, এমআরটি বেসিং প্লান্ট এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন অংশে মোট ৮টি প্রবেশ ও বাহিরপথ থাকবে।”

    তিনি বলেন, “খাবারের স্টলগুলোকে এবার এমনভাবে সুবিন্যস্ত করা হয়েছে যেন এলোমেলোভাবে খাবারের স্টল বইমেলায় আগত পাঠকের মনোযোগ বিঘ্নিত না করে। তাছাড়া নামাজের স্থান, ওয়াশরুমসহ অন্যান্য পরিষেবা অব্যাহত থাকবে।”

    বইমেলার শিশু চত্বরের বিষয়ে তিনি বলেন “গতবছরের মতো এবারো শিশুচত্বর মন্দির গেটে প্রবেশের ঠিক ডানদিকে বড় পরিসরে রাখা হয়েছে। সেখানে শিশুরা অবাধে বিচরণ করতে পারবে এবং তাদের কাঙ্ক্ষিত বই সহজে সংগ্রহ করতে পারবে। এবার লিটল ম্যাগাজিন চত্বর স্থানান্তরিত হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চের কাছাকাছি গাছতলায়। সেখানে প্রায় ১৭০টি লিটলম্যাগকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বইমেলায় বাংলা একাডেমি এবং মেলায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ২৫ শতাংশ কমিশনে বই বিক্রি করবে।”

    মেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্পর্কে তিনি বলেন, “প্রতিদিন বিকেল ৪টায় বইমেলার মূল মঞ্চে সেমিনার এবং সন্ধ্যায় থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বাংলা একাডেমির ৩টি প্যাভিলিয়ন এবং শিশুকিশোর উপযোগী প্রকাশনার বিপণনের জন্য ১টি স্টল থাকবে।”

    মেলার সদস্য সচিব জানান, “প্রতি শুক্র ও শনিবার মেলায় বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ‘শিশুপ্রহর’ থাকবে। এছাড়া অমর একুশে উদযাপনের অংশ হিসেবে শিশুকিশোর চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি এবং সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন থাকছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা থাকবে।”

    সংবাদ সম্মেলনে গ্রন্থমেলা কমিটির সদস্য সচিব ড. কে এম মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, “এবারের বইমেলা অধিবর্ষের বইমেলা। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মেলা অনুষ্ঠিত হবে। ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। তবে রাত ৮টা ৩০ মিনিটের পর নতুন করে কেউ মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবেন না। আর ছুটির দিন বইমেলা চলবে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। তবে ২১ ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের দিন মেলা সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে বলেও জানান তিনি।”

     

    নিরাপত্তার চাদরে মোড়ানো থাকবে বইমেলা ও চারপাশ:

    বাংলা একাডেমি থেকে বলা হয়েছে, বইমেলার প্রবেশ ও বাহিরপথে পর্যাপ্ত সংখ্যক আর্চওয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ পুলিশ, র‍্যাব, আনসার ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার জন্য মেলায় এলাকাজুড়ে তিন শতাধিক ক্লোজসার্কিট ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বইমেলা পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত থাকবে।

    মেলাপ্রাঙ্গণ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় (সময় মেলাপ্রাঙ্গণ ও দোয়েল চত্বর থেকে টিএসসি হয়ে শাহবাগ, মৎস্য ভবন, ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট হয়ে শাহবাগ পর্যন্ত এবং দোয়েল চত্বর থেকে শহীদ মিনার হয়ে টিএসসি, দোয়েল চত্বর থেকে চাঁনখারপুল, টিএসসি থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত) নিরাপত্তার স্বার্থে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকবে। একইসঙ্গে মেলার পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এবং নিয়মিত ধুলা নিবারণের জন্য পানি ছিটানো এবং প্রতিদিন মশক নিধনের সার্বিক ব্যবস্থা থাকবে।

     

    সেরা বইয়ের জন্য প্রকাশককে দেওয়া হবে পুরস্কার:

    অমর একুশে বইমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের ২০২৩ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণগতমান বিচারে সেরা বইয়ের জন্য প্রকাশককে ‘চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার’ দেওয়া হবে। একইসঙ্গে ২০২৩ সালের বইমেলায় প্রকাশিত বইয়ের মধ্য থেকে শৈল্পিক বিচারে সেরা বই প্রকাশের জন্য ৩টি প্রতিষ্ঠানকে ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ দেওয়া হবে।

    এছাড়া ২০২৩ সালে প্রকাশিত শিশুতোষ গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণগত মান বিচারে সর্বাধিক গ্রন্থের জন্য ১টি প্রতিষ্ঠানকে ‘রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার’ দেওয়া হবে।

     

    নান্দনিক স্টলের জন্যও দেওয়া হবে পুরস্কার:

    আয়োজকরা বলছেন, এবছরের মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে স্টলের নান্দনিক সাজসজ্জায় শ্রেষ্ঠ বিবেচিত প্রতিষ্ঠানকে ‘কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ দেওয়া হবে। একইসঙ্গে এবারের গ্রন্থমেলায় বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে নতুন ও পুনর্মুদ্রিত ১০০টি বই থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।