Tag: পদক্ষেপ

  • আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরিতে আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

    আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরিতে আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ১৩ জুলাই, ২০২৪: আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরিতে আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে, বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিবি বলেন, “আমাদের ছেলেমেয়েরা যাতে ট্রেনিং পায় এবং আন্তর্জাতিক মানে যেন আমাদের খেলোয়াড়রা পারদর্শী হয়ে ওঠে সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছি।”

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ শনিবার ( ১৩ জুলাই)  বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে ‘শেখ হাসিনা আন্তঃব্যাংক ফুটবল টুর্নামেন্টের চুড়ান্ত খেলা উপভোগ শেষে পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।

    ফাইনালে ইসলামী ব্যাংক পিএলসি ২-০ গোলের ব্যবধানে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পিএলসিকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হবার গৌরব অর্জন করে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “খেলাধূলার জন্য ট্রেনিং করিয়ে উপযুক্ত করে গড়ে তোলাটা সবথেকে বেশি দরকার। সেজন্য বিকেএসপি আগে ঢাকায় ছিল এখন প্রত্যেক বিভাগে একটা করে করা হচ্ছে। যেখানে সাঁতার, আর্চারি থেকে শুরু করে ভারত্তোলন, ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, গলফ, স্যুটিং, দাবা, অ্যাথলেটিক্স, ভলিবল সবধরনের খেলাধূলার যাতে একটা সুযোগ হয়, ট্রেনিং হয়।”

    তিনি বলেন, “যখনই আমি সরকারে এসেছি তখন থেকেই আমার প্রচেষ্টা বাংলাদেশটা যেন খেলাধূলার ক্ষেত্রে আরো এগিয়ে যায়। ছেলে-মেয়েরা এর প্রতি আরো বেশি মনোযোগী হয়। কারণ, এটি যেমন সকলকে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী করবে পাশপাশি এর মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক মনভাব গড়ে উঠবে এবং নিজেকে আরো উন্নত করার চেতনা জাগ্রত হবে।”

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সেইসাথে খেলাধূলা, লেখাপড়া, সাংস্কৃতিচর্চা প্রভৃতির মধ্যদিয়েই নিজের দেশের যে একটা সংস্কৃতি, নিজের জ্ঞান, মেধা, মননকেও প্রকাশ করার সুযোগ পাবে সবাই। সেজন্যই খেলাধূলার ওপর আমরা অধিক গুরুত্ব দিচ্ছি।”

    সারাদেশে খেলাধূলার বিকাশ ও চর্চায় প্রতিটি উপজেলায় শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রতিষ্ঠার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কেউ যেন বসে না থাকে। আর ছোটবেলা থেকে যদি চর্চা না হয় তাহলে কি করে উঠে আসবে।”

    তিনি এ সময় এদেশে মেয়েদের খেলাধূলায় এক সময় বাধা আসার প্রসঙ্গ টেনে বলেন তাঁর সরকারের উদ্যোগে দেশব্যাপী প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ এবং বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ টুর্মামেন্ট থেকে অনেক খেলোয়াড় উঠে আসছে যারা দেশের গন্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে দেশের জন্য মর্যাদা বয়ে আনছেন। খেলাধূলার মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরার কাজটাও করছে।

    তিনি বলেন, “এই খেলাধূলার মধ্যদিয়ে আমাদের একসময় আমাদের উপযুক্ত খেলোয়াড় গড়ে উঠবে। আমরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের খেলাধূলা করে আন্তর্জাতিক শিরোপাও নিয়ে আসতে পারবো। সেটাই আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে। সেজন্য আমাদের সরকার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।”

    অনুর্ধ্ব ১৯ পর্যায়ে ছেলে মেয়ে উভয় ক্ষেত্রে জাতীয় দল এখন ভাল করছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “আস্তে আস্তে ট্রেনিংয়ের মধ্যদিয়ে যখন উঠে আসবে তখন আমরাও পারবো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমাদের নৈপুণ্য দেখাতে।”

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “খেলাধূলায় জয় পরাজয়টা বড় কথা নয়। আজকে কেউ জয়ী হবে অন্যদিন অন্য কেউ। কিন্তু এরজন্য যে প্রতিযোগিতামুলক মনভাব, খেলাধূলার প্রতি আকর্ষণ এবং অনুরাগ এটাই সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ।”

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বাংলাদেশ আজকে যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে সে ধারা অব্যাহত রেখেই আমরা এগিয়ে যাব। বাংলাদেশ অপ্রতিরোধ্য গতিতে বিশ্ব দরবারে এগিয়ে যাবে এবং উন্নত সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলবো।

    তিনি বাংলাদেশ আয়োজক বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি), বাংলাদেশ সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বিএবি এ ধরনের আরো খেলা এবং নতুন নতুন টুর্নামেন্টের আয়োজন করবে এবং এই খেলাধূলা যাতে সমগ্র বাংলাদেশ ব্যাপী প্রসারিত হয় সে ব্যবস্থা নেবেন। আমরা চাই খেলাধূলাসহ সবদিক থেকে আমাদের দেশ এগিয়ে যাক।

    জাতির পিতার নেতৃত্বে বাংলাদেশের রক্তাক্ত স্বাধীনতা এবং স্বাধীনতার পর মাত্র ৩ বছর ৭ মাসে তাঁর শাসনকালে একটি যুদ্ধবিধ্বস্থ দেশ গড়ে তুলে বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা এনে দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি ক্রীড়াঙ্গণের উন্নয়নেও জাতির পিতার বিভিন্ন পদক্ষেপের উল্লেখ করেন।

    দেশে এবং সমগ্র বিশ্বে ফুটবল অত্যন্ত জনপ্রিয় খেলা উল্লেখ করে জাতির পিতার কন্যা বলেন, “তার দাদা ও বাবা ফুটবল খেলতেন এবং এখন নাতী নাতনীরাও খেলে। তাছাড়া, তার ভাই শেখ কামাল ও শেখ জামাল ফুটবল, ক্রিকেট, হকি সব খেলাতেই পারদর্শী ছিলেন।”

    ক্রীড়ানুরাগী এই প্রধানমন্ত্রী সময় পেলেই চলমান ‘ইউরো’ বা ‘কোপা আমেরিকা’ ফুটবলের খেলা দেখে থাকেন বলেও জানান।

    তার সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে আজকে দেশের অর্থনীতিকে উন্নত করেছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, “দারিদ্রের হার আমরা অর্ধেকেরও বেশি কমিয়ে এনেছি এখন ১৮ দশমিক ৭ ভাগ, অতি দারিদ্রের হার ২৫ ভাগের ওপর থেকে নামিয়ে ৫ দশমিক ৬ ভাগে এনেছি, ইনশাল্লাহ এইটুকুও থাকবে না।”

    তিনি বলেন, “বাংলাদেশে অতি দরিদ্র বলে কোন মানুষ আর থাকবে না। প্রত্যেক ভূমিহীন-গৃহহীনকে বিনামূল্যে ঘর করে দেওয়া হচ্ছে, বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক, বৃত্তি-উপবৃত্তি দেওয়া হচ্ছে, বড় বড় জেলাগুলোতে বিশ^বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে বহুমুখি শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছে সরকার। পাশাপাশি, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করায় সারাদেশ ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবার আওতায় এসেছে। ফলে, বিশে^র সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বাংলাদেশ আজকে এগিয়ে যাচ্ছে।”

    প্রধানমন্ত্রী ফাইনালে বিজয়ী এবং বিজিত ট্রফি এবং পুরস্কারের অর্থের চেক তুলে দেন এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।

    অনুষ্ঠানে দেশের ফুটবলের সার্বিক উন্নয়নের ওপর একটি প্রামান্য চিত্র প্রদর্শিত হয়।

    অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বক্তৃতা করেন। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়শন অব ব্যাংকস  (বিএবি) এর চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার স্বাগত বক্তৃতা করেন।

    পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী নাজমুল হাসান, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।

    এরআগে প্রধানমন্ত্রী ২৭ এপ্রিল উদ্বোধন হওয়া টুর্নামেন্টের এবারের দ্বিতীয় আসরে অংশগ্রহণকারী ৩১টি দলের মার্চ-পাস্ট প্রত্যক্ষ করেন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও উপভোগ করেন।

     

    সূত্র: বাসস

  • বঙ্গবন্ধুর আদর্শে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছি: প্রধানমন্ত্রী

    বঙ্গবন্ধুর আদর্শে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছি: প্রধানমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ১৮ এপ্রিল, ২০২৪: বঙ্গবন্ধুর আদর্শে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছি, বলে জানয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সবসময় বলতেন- আমরা কারো কাছে ভিক্ষা চাইব না, কারণ ভিক্ষুক জাতির ইজ্জত থাকে না। আমরা মান-সম্মান নিয়েই বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে চলতে চাই। সেই আদর্শে আমরা দেশকে এগিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছি।”

    আজ বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে পুরাতন বাণিজ্য মেলা মাঠে প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ ও প্রদর্শনী-২০২৪ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “১৯৯৬ সালে আমি যখন সরকার গঠন করলাম, তখন রিজার্ভ মানিও তেমন ছিল না। এশিয়াতে তখন খাদ্য মন্দা। আমাদের লক্ষ্য ছিল, আমরা কারো কাছে হাত পেতে চলব না। নিজের ফসল নিজে উৎপাদন করব।”

    শেখ হাসিনা বলেন, “পার্লামেন্টে যেদিন ঘোষণা দিলাম বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, তখন বিরোধী দলের নেত্রী খালেদা জিয়া বসা ছিলেন। আর সাইফুর রহমান উঠে দাঁড়িয়ে বলল, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া ভালো না। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলে খাদ্যের সাহায্য পাওয়া যাবে না। তাদের চিন্তাধারা ছিল আমরা প্রতিনিয়ত অন্যজনের কাছে হাত পেতে থাকবো। অন্যের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকব, আর ভিক্ষা চেয়ে খাবার খাব।”

    তিনি আরও বলেন, “২০০১ সালে আমার সরকারের মেয়াদ শেষ হলে যখন ক্ষমতা হস্তান্তর করি, তখন ২৬ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য উদ্বৃত্ত আমরা রেখে গিয়েছিলাম। দুর্ভাগ্যের বিষয়— ২০০৯ সালে যখন আমরা আবার ক্ষমতায় আসি তখন দেখি, ২৬ লাখ মেট্রিক টন উদ্বৃত্ত তো দূরের কথা বরং ৩০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য ঘাটতি ছিল বাংলাদেশে।”

    সরকারপ্রধান বলেন, “আমরা যে পদক্ষেপ নিয়েছিলাম, ২০০১ সালে বিএনপি এসে সেগুলোর ওপর হামলা চালায়। অনেকের পোল্ট্রি ফার্মে বোমা মেরে মুরগি উড়িয়ে দিয়েছে। খামারিদের কাছ থেকে গরু নিয়ে খেয়ে ফেলেছে। পেঁপে থেকে শুরু করে সকল ফলের গাছ কেটে ফেলেছে। আওয়ামী লীগের প্রত্যেক নেতাকর্মীকে তারা এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে। দেশের জন্য এটা কত ক্ষতি হবে সেই চিন্তা তাদের মাথায় ছিল না।”

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “১৯৯৬ সাল থেকে আমরা গবেষণার ওপর গুরুত্ব দিয়েছি। গবেষণা ইনস্টিটিউটগুলো জাতির পিতা করে দিয়ে গেছেন। গবেষণা ছাড়া উন্নত জাত বা অধিক ফলন ফলানো সম্ভব না।”

    প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ ও প্রদর্শনী-২০২৪ অনুষ্ঠানে সভাপতিম্ব করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মো. আব্দুর রহমানের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ ও প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে ১৮ ও ১৯ এপ্রিল দুই দিনব্যাপী পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠ, আগারগাঁওয়ে দুদিনব্যাপী প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া দেশের ৬৪ জেলার ৪৬৬ উপজেলায় এ প্রদর্শনী একযোগে অনুষ্ঠিত হবে।

    এসব প্রদর্শনীতে নিজ নিজ উপজেলা থেকে উন্নত জাতের এবং অধিক উৎপাদনশীল জাতের গবাদিপশু যেমন: গাভি, বাছুর, ষাঁড়, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, মুরগি, হাঁস, দুম্বা, কবুতর, শৌখিন পাখি, পোষা প্রাণী এবং বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হবে।

  • আমরা এ বছর কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছি: হাইওয়ে পুলিশ

    আমরা এ বছর কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছি: হাইওয়ে পুলিশ

    www.HelloBangla.News – জাতীয়  – ৭ এপ্রিল, ২০২৪: আমরা এ বছর কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছি, বলে জানিয়েছেন হাইওয়ে পুলিশ প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. শাহাবুদ্দিন খান। তিনি বলেন, “খোলা ট্রাক, পিকআপভ্যান, পণ্য পরিবহনে অনেক যাত্রী উঠে বসে। এটা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা এ বছর কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছি, যেন কোনো যাত্রী সাধারণ এসব পরিবহনে না ওঠে। আমরাও কিন্তু আইন প্রয়োগে কঠোর থাকব। চালক ও মালিকদেরও আমরা অনুরোধ করব, এসব ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার যেন না করে। এতে আমাদের ঈদযাত্রা নিরাপদ হবে।”

    আজ শনিবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার আলেখারচর ট্র্যাফিক পুলিশ বক্সের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।  এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) আব্দুল মান্নান এবং হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়নের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. খাইরুল আলমসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

    হাইওয়ে পুলিশ প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. শাহাবুদ্দিন খান বলেন, “ঈদের আগে সবাই দু-একদিনের মধ্যেই বাড়িতে ফিরে। আসার সময় কিন্তু এমনটা হয় না। অনেকেই ধীরে ধীরে শহরে ফিরে। এতে করে রাতে সড়ক ফাঁকা থাকে। তাই অনেকে ওভার স্পিডে গাড়ি চালানোর চেষ্টা করেন। ফলে দুর্ঘটনার পরিমাণ কিন্তু ঈদের পরেই বেড়ে যায়।”

    তিনি বলেন, “এ মহাসড়কে ১ হাজার ৪২৭টি সিসি ক্যামেরা রয়েছে। আমরা এখনও উদ্বোধন করতে পারিনি কিন্তু আমরা এর সুবিধা ভোগ করতে পারছি। প্রতিটি হাইওয়ে পুলিশ সদস্যকে ‘বডি ওর্ন ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। এতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়েছে। ”

    হাইওয়ে পুলিশ প্রধান বলেন, “আমাদের জেলার যে সড়কগুলো রয়েছে সেখানে কিশোররা হেলে-দুলে মোটরসাইকেল চালায়। এটা কিন্তু খুবই ভয়ংকর দুর্ঘটনার কারণ। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন সবাইকে অনুরোধ করছি -বিষয়টি যেন খেয়াল রাখার জন্য। তবে মহাসড়কে স্পিড গান ও পুলিশের সার্বক্ষণিক টহল রয়েছে, এমন কিছু হলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাই বলব, আনন্দ নিয়ে যেমন বাড়িতে ফিরেছেন, তেমনি আনন্দ নিয়েই যেন কর্মস্থলে ফিরতে পারেন সবাই সেদিকে খেয়াল রাখবেন। দুর্ঘটনা এড়াতে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি, চালক, মালিক, যাত্রী সবাইকে সচেতন হতে হবে।”

    হাইওয়ে পুলিশ প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. শাহাবুদ্দিন খান মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি, চালক, যাত্রী ও পথচারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের প্রতিবন্ধকতা জানতে চান।

  • দুর্নীতি কমানোর জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

    দুর্নীতি কমানোর জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪: দুর্নীতি কমানোর জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, “ম্যাক্রো লেভেলে যে ধরনের দুর্নীতি হয় সেটা খুবই খারাপ। দুর্নীতির জন্য আমি নিজেও অনেক কাজ করতে পারি না। দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি সুখি হতে পারে না। বর্তমানে যে মাত্রার দুর্নীতি হচ্ছে তা কমানোর জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। দুর্নীতি প্রতিরোধে সবাইকে শপথ গ্রহণ করতে হবে। তবে আগে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতাসহ সামাজিক সুরক্ষা খাতের সুবিধাভোগী নির্বাচনে স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে অনিয়মের যে অভিযোগ ছিল তা এখন অনেক কমে এসেছে।”

    মন্ত্রী আজ তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (বিএফডিসি) ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত “স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করার মাধ্যমে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মান সম্ভব” শীর্ষক এক পাবলিক পার্লামেন্ট বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

    মো. তাজুল ইসলাম এ সময় স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা এবং তাদের কাজের মূল্যায়নের উপরও জোর দেন। তিনি বলেন, “ঢালাওভাবে জনপ্রতিনিধিদের খারাপ বলা উচিত নয় তেমনি অনেক জনপ্রতিনিধি নানা ধরনের ভালো কাজ করছেন তাদের সে ভালো কাজের মূল্যায়নও সমাজে প্রয়োজন। শিক্ষিত তরুণ সমাজের রাজনীতিতে আসার প্রয়োজন রয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, তা না হলে অযোগ্য লোক সমাজকে নেতৃত্ব দিবে।”

    আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় নানা ধরনের দুর্নীতি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সাধারণত দুর্নীতি বলতে আমরা আর্থিক দুর্নীতিটাকেই বেশি বুঝে থাকি কিন্তু নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করাও অনেক বড় দুর্নীতি। স্মার্ট বাংলাদেশ তৈরি করতে গেলে স্মার্ট জনপ্রতিনিধি এবং স্মার্ট জনগণ দুটোই লাগবে। জনপ্রতিনিধি ও জনগণ তাদের নিজেদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলেই দুর্নীতিমুক্ত স্মার্ট বাংলাদেশ তৈরি করা সম্ভব।”

    মন্ত্রী উন্নত বিশ্বের উদাহরণ দিয়ে বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকার ও স্থানীয় সরকার কেউ কারো প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। আইন দ্বারা এই দুই ব্যবস্থার কাজের পরিধি সুনির্দিষ্ট ভাবে ভাগ করা রয়েছে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে স্থানীয় সরকার তাদের নিজেদের কাজ সঠিকভাবে করছে কিনা, তাদের রাজস্ব আয়ের নানা ধরনের উপায় সৃষ্টি করতে পারছে কিনা এবং স্থানীয় মানুষকে তাদের সমস্যার অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাধানের দিকে নিয়ে যেতে পারছে কিনা। স্থানীয় সরকার কিংবা কেন্দ্রীয় সরকার সবাই মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য কাজ করবে।”

    দলীয় প্রতীক ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দলীয় প্রতীক ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোন সমস্যা নেই। দলীয় প্রতীক ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলে অনেক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নির্বাচন করার সুযোগ পাবে। তবে এতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এবং তাদের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে সংঘাত ও সংঘর্ষ তৈরি হতে পারে।”

    স্থানীয় সরকার মন্ত্রী এ সময় অবকাঠামো রাতারাতি তৈরি করা সম্ভব হলেও মানুষের চিন্তা চেতনার জগতে রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব নয় উল্লেখ করে বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমাদের চিন্তা-ভাবনাও স্মার্ট হতে হবে।

    স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণে এই ছায়া সংসদে সরকারি দল হিসেবে বাংলাদেশ ইউনির্ভাসিটি অব বিজনেস এন্ড টেকনোলজি ও বিরোধী দল হিসেবে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকরা অংশগ্রহণ করেন।

    সূত্র: বাসস