Tag: আন্তর্জাতিক

  • বাইডেন কথা বলবেন শি জিনপিংয়ের সঙ্গে

    বাইডেন কথা বলবেন শি জিনপিংয়ের সঙ্গে

    চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে কথা বলবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। সোমবার (১৩ মার্চ) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাইডেন এ কথা বলেন।

    দ্য হিলের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাইডেন শি জিনপিংয়ের সঙ্গে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা করা উচিত কিনা সে সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের ‘হ্যাঁ-সূচক’ জবাব দিয়েছেন। তবে ঠিক কবে তিনি শি’র সঙ্গে কথা বলবেন সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি।

    সোমবার (১৩ মার্চ) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাইডেন এ কথা বলেন।সোমবার (১৩ মার্চ) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাইডেন এ কথা বলেন।

    এর আগে বাইডেনের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সুলিভান বলেছিলেন, ‘আমরা আশা করছি, প্রেসিডেন্ট বাইডেন ও প্রেসিডেন্ট শি চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের বৈঠকের পরপরই দেখা করবেন।’

    জেক সুলিভান আরো বলেন, ‘আমি আপনাকে কোনো নির্দিষ্ট তারিখ বলতে পারি না, কারণ কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। তবে প্রেসিডেন্ট বাইডেন প্রেসিডেন্ট শির সঙ্গে টেলিফোনে কথোপকথনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। দুই নেতা সর্বশেষ ইন্দোনেশিয়ার বালিতে ২০২২ সালের নভেম্বরে দেখা করেছিলেন।’

    গত মাসে দক্ষিণ ক্যারোলিনার উপকূলে মার্কিন এফ-২২ যুদ্ধবিমান একটি চীনের বেলুনকে গুলি করে ভূপাতিত করে। এরপর ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যায়।

    এ ছাড়া, ইউক্রেনের যুদ্ধের জন্য চীন রাশিয়াকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ করার কথা বিবেচনা করছে বলেও অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে দুই দেশের মধ্যে আরও চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

    গত মাসে দক্ষিণ ক্যারোলিনার উপকূলে মার্কিন এফ-২২ যুদ্ধবিমান একটি চীনের বেলুনকে গুলি করে ভূপাতিত করে।গত মাসে দক্ষিণ ক্যারোলিনার উপকূলে মার্কিন এফ-২২ যুদ্ধবিমান একটি চীনের বেলুনকে গুলি করে ভূপাতিত করে।

    এদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দেখা করতে মস্কো যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। আগামী সপ্তাহে তার সফর হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ অবসানে চীন মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দেওয়ার পর দেশটির প্রেসিডেন্টের সফরের এই পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আসে। রাশিয়ার বার্তা সংস্থা তাস ৩০ জানুয়ারি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পুতিন এই বসন্তে শি জিনপিংকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

    চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দেখা করতে মস্কো যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দেখা করতে মস্কো যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

    এ ছাড়া ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল গত মাসে জানিয়েছে, যুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার না করার বিষয়ে শি জিনপিং পুতিনের সঙ্গে কথা বলবেন। সফরের প্রস্তুতি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং যদিও তারিখ ও সময় এখনও নির্ধারণ করা হয়নি, শির সফর এপ্রিল বা মে মাসের প্রথম দিকে হতে পারে।

    সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করছেন, শি প্রত্যাশিত সময়ের আগেই সফর করবেন। ক্রেমলিন ও চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন গত মাসে চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ইকে মস্কো সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সে সময় শির সম্ভাব্য রাশিয়া সফর সম্পর্কে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

  • যেকোনো সময়ে গ্রেপ্তার হতে পারেন ইমরান খান

    যেকোনো সময়ে গ্রেপ্তার হতে পারেন ইমরান খান

    পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) পার্টির চেয়ারম্যান ইমরান খানকে আজ যেকোনো সময়ে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। একটি সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ বলেছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইমরান খানকে গ্রেপ্তার করতে তাঁর জামান পার্কের বাড়িতে যেতে পারে ইসলামাবাদ পুলিশ।

    এর আগে একজন নারী বিচারককে হুমকি দেওয়ার মামলায় ইমরান খানের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ইসলামাবাদের দায়রা আদালত।

    জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২০ আগস্ট এক সমাবেশে বক্তৃতা দেওয়ার সময় ইমরান খান বিচার বিভাগিয় ম্যাজিস্ট্রেট জেবা চৌধুরী ও পুলিশ কর্মকর্তাদের হুমকি দেন। পরে তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা করা হয়।

    গতকাল ওই মামলার তিন পৃষ্ঠার রায় প্রকাশ করেন সিভিল জজ রানা মুজাহিদ রহিম। একই সঙ্গে তিনি ‘হাজিরায় বারবার অনুপস্থিত’ থাকার কারণ দেখিয়ে ইমরানের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

    জিও নিউজ আরও জানিয়েছে, শুনানিতে অংশ নেওয়ার জন্য বিচারকের সামনে শারীরিরকভাবে উপস্থিত হওয়া থেকে অব্যাহতির অবেদন করেছিলেন ইমরান খান। একই সঙ্গে তিনি ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে আদালতের কার্যক্রমে যোগদানের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন। তবে আদালত তাঁর আবেদন নাকচ করেছেন।

    পাকিস্তানে ক্ষমতাসীন শাহবাজ সরকার ইমরান খানকে কারারুদ্ধ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এর আগে ইমরান খানকে গ্রেপ্তার করতে হেলিকপ্টারে করে লাহোরে গিয়েছিল ইসলামাবাদ পুলিশ। কিন্তু সেবার পুলিশ পিটিআই চেয়ারম্যানকে বাড়িতে না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যায়।

    দ্বিতীয়বারের মতো গ্রেপ্তার অভিযানে যাওয়ার আগে পুলিশ তাই বাড়তি সতর্কতা নিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রটি জিও নিউজকে বলেছে, ইসলামাবাদ পুলিশ ও লাহোর পুলিশের কর্মকর্তারা বৈঠক করেছেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ইসলামাবাদ পুলিশ যাতে কোনো বাধা ছাড়াই ইমরান খানের জামান পার্কের বাড়িতে প্রবেশ করতে পারে, সে ব্যাপারে সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করবে লাহোর পুলিশ।

    ইসলামাবাদ পুলিশ জামান পার্কে যাওয়ার আগে ইমরান খানের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করবে বলেও সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।

    উল্লেখ্য, গত ৫ মার্চ তোশাখানা মামলায় ইমরানকে গ্রেপ্তার করতে লাহোরে তাঁর জামান পার্কের বাড়িতে গিয়েছিল ইসলামাবাদ পুলিশ। তখন পুলিশকে বলা হয়, ইমরান বাড়িতে নেই। ফলে তাঁকে গ্রেপ্তার না করেই ফিরে যায় পুলিশ।

  • ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ

    ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ

    ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে আবারও বিক্ষোভ করেছেন লাখ লাখ ইসরায়েলি নাগরিক। মূলত বিচার ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের জন্য সরকারি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে গত ১০ সপ্তাহ ধরে ভূখণ্ডটিতে এই বিক্ষোভ চলছে। রোববার (১২ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। নেতানিয়াহুর নতুন সরকারের বিচার বিভাগীয় সংস্কার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে শনিবার (১১ মার্চ) এই বিক্ষোভ আয়োজন করা হয় এবং এতে লাখো মানুষ অংশ নেন।

    কয়েক লাখ ইসরায়েলির অংশগ্রহণে হওয়া এই বিক্ষোভকে অনেকে ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ বলে অভিহিত করেছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার আয়োজিত এই বিক্ষোভে হাইফার মতো শহরে রেকর্ড সংখ্যক বিক্ষোভকারী দেখা গেছে। এছাড়া প্রায় ২ লাখ বিক্ষোভকারী এদিন তেল আবিবের রাস্তায় নেমেছিলেন বলে মনে করা হয়।

    নেতানিয়াহু সরকারের বিচার বিভাগীয় সংস্কার পরিকল্পনার সমালোচকরা বলছেন, এই সংস্কার পরিকল্পনা ইসরাইলের গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তবে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকার বলছে, তাদের পরিকল্পিত এই পরিবর্তনই ভোটারদের জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে।

    বিক্ষোভের আয়োজকরা বলেছেন, শনিবার প্রায় ৫ লাখ গণতন্ত্রপন্থি বিক্ষোভকারী ইসরায়েলজুড়ে রাস্তায় নেমেছিল। আর তাই এদিনের বিক্ষোভকে ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজ ‘দেশের ইতিহাসে বৃহত্তম বিক্ষোভ’ বলে অভিহিত করেছে।

    ইসরাইলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বেয়ের শেভাতে বিক্ষোভরত জনতাকে বলেছেন, ইহুদি এই দেশটি ‘তার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সংকটের’ মুখোমুখি হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদের ঢেউ আমাদের আঘাত করছে, আমাদের অর্থনীতি বিপর্যস্ত হচ্ছে, অর্থ দেশ থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। ইরান গতকাল সৌদি আরবের সাথে একটি নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। কিন্তু এই সরকারের একমাত্র চিন্তা হচ্ছে ইসরায়েলি গণতন্ত্রকে চূর্ণ করা।’

    সংবাদমাধ্যম বলছে, ইসরাইলের বিচার ব্যবস্থাকে সংশোধন এবং সুপ্রিম কোর্টকে দুর্বল করার একটি পরিকল্পনা সম্প্রতি উন্মোচন করেছে ইসরাইলের নতুন সরকার। এসব সংস্কার বাস্তবায়ন হলে ইসরাইলের পার্লামেন্টের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের রায়গুলোকে বাতিল করা সহজ হবে।

    তবে সমালোচকরা বলছেন, নেতানিয়াহু সরকারের এই সংস্কার পরিকল্পনা ইসরাইলের বিচারিক স্বাধীনতাকে পঙ্গু করবে, দুর্নীতিকে আরও উৎসাহিত করবে, সংখ্যালঘুদের অধিকার নষ্ট করবে এবং ইসরায়েলের আদালত ব্যবস্থাকে বিশ্বাসযোগ্যতা থেকে বঞ্চিত করবে।

    এছাড়া নতুন এই সংস্কার পরিকল্পনা ইসরাইলের চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স সিস্টেমকে হুমকির মুখে ফেলবে বলেও দাবি করে আসছেন বিক্ষোভকারীরা। মূলত ওই আইন পাস হলে আইনসভা এবং নির্বাহী বিভাগের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা সীমিত হয়ে যাবে। একইসঙ্গে বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তমূলক ক্ষমতা পাবেন পার্লামেন্টের আইন প্রণেতারা।

    সংবাদমাধ্যম বলছে, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকার সংস্কারের জন্য সুপ্রিম কোর্টকে লক্ষ্যবস্তু করার পর জানুয়ারির প্রথম দিক থেকে প্রতি সপ্তাহের শনিবার বিপুল সংখ্যক ইসরায়েলি বিক্ষোভ করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল শনিবার ভূখণ্ডটিতে টানা ১০ম সপ্তাহের মতো বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হলো।

    এদিকে পৃথক প্রতিবেদনে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, নেতানিয়াহু সরকারের এই সংস্কার পরিকল্পনা অনুমোদনের দিকে অগ্রসর হওয়ার সাথে সাথে ইসরায়েলে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ আরও বেড়েছে। আর এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ সংলাপ করার জন্য আবেদন করেছেন।

    শনিবারের বিক্ষোভে তেল আবিবে জড়ো হওয়া হাজারও বিক্ষোভকারীর মধ্যে ছিলেন ৫৮ বছর বয়সী তামির গুয়েতসাব্রি। রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘এটি কোনও বিচারিক সংস্কার নয়। এটি একটি বিপ্লব যা (ইসরায়েলকে) সম্পূর্ণ একনায়কত্বের দিকে নিয়ে যাচ্ছে এবং আমি চাই- আমার বাচ্চাদের জন্য ইসরায়েলে গণতন্ত্র বজায় রাখুক।’

    অবশ্য গত ডিসেম্বরে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী পদে ফিরে আসা বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলছেন, তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যেই রাস্তায় এসব বিক্ষোভ করা হচ্ছে। ইসরায়েলি এই প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে তিনটি দুর্নীতির মামলায় আদালতে বিচারাধীন রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন।

  • চীনের নতুন প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং

    চীনের নতুন প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং

    নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কমিউনিস্ট পার্টির নেতা লি কিয়াংকে (৬৩) বেছে নিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। শনিবার (১১ মার্চ) সকালে বেইজিংয়ে দেশটির পার্লামেন্ট ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসে তিনি নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে লি কিয়াংয়ের মনোনয়ন প্রস্তাব দেন। খবর বিবিসির।

    লি কিয়াং চীনের বৃহত্তম শহর সাংহাইয়ের সাবেক কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান। সে সঙ্গে তিনি শির ঘনিষ্ঠ মিত্র। ২০০৪ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে শির চিফ অব স্টাফ হিসেবে কাজ করেছেন কিয়াং, যখন শি পূর্ব চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের প্রাদেশিক পার্টি সেক্রেটারি ছিলেন।

    এদিকে সিনহুয়া জানিয়েছে, শনিবার লিউ জিনগুওকে ন্যাশনাল কমিশন অব সুপারভিশনের পরিচালকের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। সংস্থাটি সরকারের দুর্নীতি বিরোধী কাজ তদারকি করে। এ ছাড়াও ঝাং জুনকে সুপ্রিম পিপলস কোর্টের প্রেসিডেন্টের প্রার্থী হিসেবে এবং ইং ইয়ংকে প্রকিউরেটর জেনারেলের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।

    সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান

  • শি জিনপিং টানা তৃতীয় মেয়াদে চীনের প্রেসিডেন্ট

    শি জিনপিং টানা তৃতীয় মেয়াদে চীনের প্রেসিডেন্ট

    শি জিনপিং ২০১৮ সালেও সর্বসম্মতিক্রমে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন ।  ওই বছরই তার সরকার কিছু সাংবিধানিক বিধান বাতিল করে। যা তার তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা ছিলো। বিবিসি তাদের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

    বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ ফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে আইনপ্রণেতারা উঠে দাঁড়ান এবং শি’র পক্ষে হাততালি দেন।

    তৃতীয় মেয়াদে চীনের প্রেসিডেন্ট পদে আবারও নির্বাচিত হয়েছেন শি জিনপিং। শুক্রবার চীনা আইনপ্রণেতাদের সর্বসম্মতিক্রমে তিনি নির্বাচত হন। এর মধ্যেদিয়ে আরও পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতায় থাকবেন তিনি।  

    বার্ষিক আইনসভার এ বৈঠকে শি’কে কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে পুনর্নিযুক্ত করা হয়। যার মধ্যদিয়ে তিনি বিশ্বের বৃহত্তম সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান হিসেবে পুনরায় আসীন হলেন। শনিবার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইনে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল ইউক্রেনপন্থীরাই

    নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইনে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল ইউক্রেনপন্থীরাই

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলার মধ্যেই গত বছর সেপ্টেম্বরে একটি গ্যাস পাইপলাইনে বিস্ফোরণ ঘটেছিল – কিন্তু কে বা কারা এ ঘটনা ঘটায় তা এক রহস্য হয়েই ছিল এতদিন। এখন মার্কিন দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস এক রিপোর্টে বলছে – সম্ভবত ইউক্রেন-সমর্থক একটি গ্রুপ ওই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল।

    বাল্টিক সাগরের তলদেশ দিয়ে রাশিয়া থেকে জার্মানিতে গ্যাস নিয়ে যাবার পাইপলাইন নর্ড স্ট্রিম -ওয়ানের ওপর চালানো হয়েছিল ওই আক্রমণটি। সে সময় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল এ ঘটনা। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলার মধ্যেই গত বছর সেপ্টেম্বরে একটি গ্যাস পাইপলাইনে বিস্ফোরণ ঘটেছিল। কিন্তু কে বা কারা এ ঘটনা ঘটায় তা এক রহস্য হয়েই ছিল এতদিন।

    রাশিয়া, ইউক্রেন আর ইউরোপসহ পশ্চিমা বিশ্বের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের তোড়ের মধ্যেই ঠিক কারা এ আক্রমণ চালিয়ে থাকতে পারে, তা নিয়ে শুরু হয়েছিল ব্যাপক জল্পনা। সে সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন একে ‘সাবোটাজ’ বলে অভিহিত করেছিলেন। রাশিয়া এজন্য পশ্চিমা বিশ্বকে – বিশেষ করে ব্রিটেনকে – দোষারোপ করেছিল, তবে ব্রিটেন এ অভিযোগ অস্বীকার করে।

    পোল্যান্ড ও ইউক্রেন সরাসরি রাশিয়াকে ওই বিস্ফোরণের জন্য দায়ী করেছিল, যদিও তারা কোন প্রমাণ দেয়নি। অন্যদিকে নেটো ও পশ্চিমা নেতারা এর নিন্দা করলেও সরাসরি রাশিয়ার বিরুদ্ধে তাদের নিজেদের পাইপলাইনে আক্রমণের অভিযোগ করেন নি।

    এখন মার্কিন নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে এক রিপোর্টে মার্কিন দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, এই নাশকতামূলক আক্রমণ চালিয়েছিল একটি ইউক্রেন-পন্থী গোষ্ঠী। এ রিপোর্ট বেরুনোর পর ইউরোপ ও মার্কিন মিডিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির উপদেষ্টা এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ওই ঘটনার সাথে ইউক্রেনের কোন সম্পর্ক ছিল না।

    অন্যদিকে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এই রিপোর্টটিকে তার ভাষায় “ভুয়া-খবর ছড়ানোর একটি সমন্বিত প্রয়াস” বলে আখ্যায়িত করে বলেন, যারা এই পাইপলাইনে আক্রমণ চালিয়েছে তারা স্পষ্টতঃই দৃষ্টি অন্যদিকে সরাতে চাইছে।

  • ‘ইউক্রেন যুদ্ধে অদৃশ্য হাত’ চীনের মন্তব্যে রাশিয়া বলল, ‘একমত নই’

    ‘ইউক্রেন যুদ্ধে অদৃশ্য হাত’ চীনের মন্তব্যে রাশিয়া বলল, ‘একমত নই’

    চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যের বিষয়ে মঙ্গলবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমরা সম্ভবত আমাদের চীনা কমরেডদের সঙ্গে এখানে একমত হতে পারি না। এটি অবশ্যই কৌতুক বা রসিকতা। আপনি জানেন সেই কৌতুকটি কী। অদৃশ্য হাত নয়, এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাত, এটি ওয়াশিংটনের হাত।’

    এক অদৃশ্য হাত ইউক্রেন যুদ্ধ পরিচালনা করছে বলে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিন গ্যাং মন্তব্য করার পর তা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রাশিয়া। মঙ্গলবার ক্রেমলিন বলেছে, ‘‘ইউক্রেন সংঘাতকে পরিচালনা করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউক্রেন যুদ্ধের নেপথ্যে ‘অদৃশ্য হাত’ রয়েছে বলে যে মন্তব্য করেছেন, তা আসলে ঠাট্টার ছলে করা।’’

    ‘ওয়াশিংটন এই যুদ্ধের অবসান চায় না। ওয়াশিংটন এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য সব কিছু করতে চায় এবং করছে। এটি দৃশ্যমান হাত।’

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা ইউক্রেনকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যবহার করছে বলে বারবার অভিযোগ করেছে মস্কো। তবে মস্কোর এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে কিয়েভ ও পশ্চিমা বিশ্ব। তারা বলছে, রাশিয়ার সাম্রাজ্যবাদী ভূমি দখলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করছে ইউক্রেন।

    চীনা যুদ্ধবিরতির উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে পেসকভ বলেন, বেইজিংয়ের সঙ্গে মস্কোর নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রয়েছে। এমন ‘শক্তিশালী ও গুরুত্বপূর্ণ’ দেশের পক্ষে বৈশ্বিক সমস্যা নিয়ে কথা বলা স্বাভাবিক।

    এর আগে, মঙ্গলবার বেইজিংয়ে বার্ষিক সংসদ অধিবেশনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কিন বলেছিলেন, নির্দিষ্ট সব ভূরাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য ‘অদৃশ্য একটি হাত’ ইউক্রেন সংকটকে ব্যবহার করছে।

    এ সময় তিনি সংঘাত, নিষেধাজ্ঞা কিংবা চাপপ্রয়োগের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে না বলেও মন্তব্য করেন। বেইজিং ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা মাঝেই মঙ্গলবার রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে বেইজিংয়ের অবস্থান ফের পরিষ্কার করেন কিন। তিনি যত দ্রুত সম্ভব শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু এবং নিরাপত্তা নিয়ে সব পক্ষের বৈধ উদ্বেগের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানান।

    সূত্র: রয়টার্স।

  • ইমরানের ভাষণ সম্প্রচার, টিভির লাইসেন্স স্থগিত

    ইমরানের ভাষণ সম্প্রচার, টিভির লাইসেন্স স্থগিত

    ইমরানের ভাষণ সম্প্রচার ইস্যুতে এ পর্যন্ত দুবার এআরওয়াই’র লাইসেন্স স্থগিত করা হলো। এরইমধ্যে পাকিস্তানে ইমরানের ভাষণ সম্প্রচার নিষিদ্ধ করেছে পিইএমআরএ।

    পাকিস্তানের তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রধান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ভাষণ সম্প্রচার করায় দেশটির অন্যতম বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এআরওয়াই’র লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে ।

    পাকিস্তান ইলেকট্রনিক মিডিয়া রেগুলেটরি অথরিটির (পিইএমআরএ) বরাত দিয়ে ডনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
    সংস্থাটি জানায়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ, ঘৃণ্য, অপবাদ এবং অযৌক্তিক বিবৃতি সম্প্রচার করা পাকিস্তানের সংবিধানের ১৯ অনুচ্ছেদের সম্পূর্ণ লঙ্ঘন।

    সরকারি উপহার কেনা ও বেচা সংক্রান্ত তোশাখানা মামলার শুনানিতে আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় রোববার পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে গ্রেপ্তারের জন্য লাহোরের তার বাড়িতে যায় পুলিশ। শেষ পর্যন্ত সেখানে তাকে পাওয়া যায়নি জানিয়ে সেখান চলে আসে পুলিশ। পরে ওই বাড়ি থেকেই নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে ভাষণ দেন ইমরান।

    পিইএমআরএর আদেশে বলা হয়, সব ধরনের স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলে ইমরানের বক্তব্য বা সংবাদিকদের সঙ্গে যেকোনো ধরনের আলাপ রেকর্ড বা লাইভ আকারে সম্প্রচার বা পুনঃপ্রচার করা যাবে না। এ সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে ।

  • ইউক্রেন খুব কঠিন সময় কাটিয়ে উঠেছে : জেলেনস্কি

    ইউক্রেন খুব কঠিন সময় কাটিয়ে উঠেছে : জেলেনস্কি

    ইউক্রেনে রুশ হামলার বছর পূর্ণ হয়েছে। তীব্র শীতের মৌসুমে আক্রমণ শানিত করেছিল রুশ সেনারা। তবে মস্কোর এ আগ্রাসন মোকাবিলা করেই ইউক্রেন টিকে আছে এবং এ কাজে পূর্ব ইউরোপের এই দেশটি ‘খুব কঠিন’ একটি শীতকাল সফলভাবে পারও করেছে। নিজের দৈনিক ভাষণে ভলোদিমির জেলেনস্কি এসব কথা বলেন। খবর এএফপির।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বুধবার ‘খুব কঠিন’ শীত থেকে বেঁচে থাকার জন্য তার দেশের প্রশংসা করেছেন। কারণ গত শীতে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো ও স্থাপনাগুলো রাশিয়ার নিয়মিত হামলার মুখেই ছিল এবং এতে করে লাখ লাখ মানুষ অন্ধকার এবং ঠাণ্ডায় নিমজ্জিত হয়েছিলেন। আর তাই ‘কঠিন’ এই শীত থেকে বেঁচে থাকার জন্য ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তার দেশের প্রশংসা করেছেন। যদিও এই শীতকাল নিয়েই ইউক্রেন নিয়ে আশঙ্কা জেগেছিল সবার মনে।

    এদিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত দোনেৎস্কের বাখমুত শহর থেকে পিছু হটার ইঙ্গিত দিয়েছে ইউক্রেন। কয়েক মাস ধরে বাখমুতে রাশিয়া ও ইউক্রেনীয় সেনাদের মধ্যে তীব্র লড়াই হচ্ছে। তবে গত দুই সপ্তাহে রুশ বাহিনীর হামলার তীব্রতা এতটাই বেড়েছে যে, সেখান থেকে এখন কৌশলগত কারণে পিছু হটার পরিকল্পনা করছেন ইউক্রেনের সেনারা।

    জেলেনস্কি বলেন, ‘আমরা এই শীতকালকে কাটিয়ে উঠতে পেরেছি। এটি খুব কঠিন সময় ছিল এবং প্রতিটি ইউক্রেনীয় এই অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছিলেন। কিন্তু (বারবার রুশ হামলার পরও) আমরা ইউক্রেনকে জ্বালানি এবং তাপ প্রদান করতে সক্ষম হয়েছি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘ইউক্রেনের জ্বালানি ব্যবস্থাপনার ওপর এখনো (রুশ হামলার) হুমকি রয়েছে।’

    প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির উপদেষ্টা আলেক্সান্ডার রোদনেয়ানস্কি বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যদি প্রয়োজন হয় তা হলে ইউক্রেনীয় সেনারা সেখান থেকে সরে যাবেন।

    বাখমুত শহরটি দোনেৎস্কে অবস্থিত। গত বছর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের যে চারটি অঞ্চল অধিগ্রহণ করেন, এর মধ্যে দোনেৎস্ক একটি। বর্তমানে দোনেৎস্কের অর্ধেক অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে রুশ সেনাদের হাতে। পুরো নিয়ন্ত্রণ নিতে হলে তাদের অবশ্যই বাখমুত দখল করতে হবে। এর পর দোনেৎস্কের অন্য শহরগুলোর দখলও নিতে পারবে তারা।

  • ভয়াবহতম ট্রেন দুর্ঘটনা গ্রিসের ইতিহাসে: নিহত বেড়ে ৩৬

    ভয়াবহতম ট্রেন দুর্ঘটনা গ্রিসের ইতিহাসে: নিহত বেড়ে ৩৬

    গ্রিসের উত্তরাঞ্চলীয় শহর লারিসায় মঙ্গলবার রাতে ৩৫০ যাত্রীবাহী ট্রেনের সঙ্গে একটি মালবাহী ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। এতে যাত্রীবাহী ট্রেনটির প্রথম দুটি বগিতে আগুন ধরে পুরোপুরি পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর।
    গ্রিসে দুটি ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩৬ জনে পৌঁছেছে। এ ছাড়াও অনেক মানুষ আহত হয়েছে।
    এ দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকর্মীরা সেখানে সারা রাত উদ্ধার অভিযান চালিয়েছেন। গ্রিসের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এটিকে সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা বলে বর্ণনা করা হচ্ছে।
    গ্রিসের স্থানীয় গণমাধ্যমকে রেলওয়ে ইউনিয়নের প্রধান জানিয়েছেন, কিভাবে এ দুর্ঘটনা ঘটল তা এখনো স্পষ্ট নয়।
    ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি রয়টার্সকে বলেন, ‘১০-১৫ সেকেন্ড ধরে চরম বিশৃঙ্খলা চলেছে। একজন আরেকজনের ওপর গিয়ে পড়ছে, ওপর থেকে তার ঝুলছে, চারিদিকে ভাঙা জানালা, লোকজন চিৎকার করছে।’
    ট্রেন থেকে লাফিয়ে পড়ে জীবন বাঁচিয়েছেন ২৮ বছর বয়সী স্টারজিওস মিনেনিস। তিনি বলেছেন, ‘আমরা একটা বিকট শব্দ শুনতে পাই। ট্রেনের কামরার মধ্যে আমরা গড়াগড়ি খাচ্ছিলাম। তারপর এটি গড়িয়ে একদিকে থামল, তারপর সবার মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হলো। চারদিকে তার ঝুলছে, আগুন। সঙ্গে সঙ্গেই আগুন ধরে গিয়েছিল। আমরা আগুনে পুড়ে যাচ্ছিলাম।’
    ট্রেন থেকে বের হওয়ার জন্য যাত্রীরা জানালার কাচ ভাঙতে হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের জন্য তদন্ত শুরু হয়েছে। কোনো প্রাথমিক ধারণা এখনো পাওয়া যাচ্ছে না। দেড় শতাধিক দমকল কর্মী এবং ৩০টি অ্যাম্বুল্যান্স দুর্ঘটনাস্থলে কাজ করছে।
    আঞ্চলিক গভর্নর কোস্টাস আগোরাস্টস জানিয়েছেন, দুই ট্রেনের মধ্যে এই সংঘর্ষ ছিল বেশ তীব্র। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, এটি এক ভয়ংকর রাত, এই দৃশ্য বর্ণনা করা কঠিন।
    পরিশ্রান্ত এক উদ্ধারকর্মী এএফপিকে বলেছেন, ‘আমি আমার পুরো জীবনে এ রকম ঘটনা দেখিনি। খুবই মর্মান্তিক দৃশ্য। পাঁচ ঘণ্টা পরও আমরা এখানে মরদেহ খুঁজে পাচ্ছি।’
    এ দুর্ঘটনার পর গ্রিসে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিটসোটাকিস দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ রকম দুর্ঘটনা কিভাবে ঘটল, তা খুঁজে বের করা এবং এমন যাতে আর না ঘটে তার ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
    সূত্র : বিবিসি