Tag: ট্রাম্প

  • তথ্য গোপনের অভিযোগে ট্রাম্প দোষী সাব্যস্ত

    তথ্য গোপনের অভিযোগে ট্রাম্প দোষী সাব্যস্ত

    www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ৩১ মে, ২০২৪: ব্যবসায়িক নথিপত্রে তথ্য গোপনের অভিযোগে দায়ের হওয়া এক মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের একটি আদালতে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন।

    এ মামলায় ৩৪টি অভিযোগের সবকটিতেই দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন ট্রাম্প। ম্যানহাটনে ১২ জন বিচারকের একটি প্যানেল ছয় সপ্তাহের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার সর্বসম্মত রায়ে পৌঁছায়।

    আদালত ২০ জনেরও বেশি সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। এর মধ্য স্টর্মি ড্যানিয়েলসও ছিলেন। তার সঙ্গে গড়ে ওঠা সাবেক প্রেসিডেন্টের যৌন সম্পর্ক এ মামলার কেন্দ্রে রয়েছে। ৭৭ বছর বয়সী ট্রাম্প আদালতের রায়কে মর্যাদাহানিকর বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি শেষ পর্যন্ত লড়ার ঘোষণাও দিয়েছেন।

    ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিকে স্টর্মি ড্যানিয়েলসের মুখ বন্ধ রাখতে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে অর্থ দেওয়া হয়। সাবেক এ প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে সেই তথ্য গোপন করার অভিযোগ ওঠে।

    এ মামলায় ১১ জুলাই ট্রাম্পের সাজা ঘোষণা করা হবে। এর কদিন পরই রিপাবলিকানদের জাতীয় সম্মেলন। ওই সম্মেলনে তাকে দল থেকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ার জন্য প্রার্থিতা দেওয়া হবে। দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর আদালতের বাইরে বিশাল পুলিশ উপস্থিতির মধ্যেই ট্রাম্প বলেন, এটি তার জন্য অপমানজনক, এটি দুর্নীতিগ্রস্ত বিতর্কিত বিচারকের কারচুপির বিচার। যখন তিনি কথা বলছিলেন, তখন শত শত লোক জড়ো হন। তাদের ওপর একটি হেলিকপ্টার উড়ছিল।

    মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া নিয়ে শুক্রবার সকালে নিউইয়র্ক সিটির ট্রাম্প টাওয়ারের সামনে সাবেক এ প্রেসিডেন্ট গণমাধ্যমে কথা বলবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

    ম্যানহাটনের সাবেক প্রসিকিউটর ডানকান লেভিন বলেছেন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিস মামলাটি প্রমাণ করতে পেরেছেন যে ডোনাল্ড ট্রাম্প অর্থ দিয়ে তা মিথ্যা তথ্যে ঢেকে দিতে ষড়যন্ত্র করেছিলেন।

    তিনি বলেন তার ক্ষমতা দিয়ে বিচার প্রশাসনকে হেয় করার জন্য সব কিছু করেছেন। “এবং তিনি বিচার পেয়েছেন যা মৌলিকভাবে ন্যায্য। প্রসিকিউশনের জন্য এটা বড় একটি জয়।”

    ডেমোক্র্যাট দলীয় আইন প্রণেতাদের অনেকে সামাজিক মাধ্যমে এক্স-এ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আদালতের রায়ের প্রশংসা করে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তারা বলেছেন ‘ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে’।

    ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাডাম স্কিফ বলেন,“আজ সাধারণ আমেরিকান জনগণ একজন সাবেক প্রেসিডেন্টকে পেয়েছেন যিনি কয়েক ডজন অপরাধ করেছে। বিচার প্রলম্বিত করতে তার সব চেষ্টা সত্ত্বেও ন্যায় বিচার হয়েছে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।”

    ওয়াশিংটনের প্রতিনিধি প্রমিলা জয়পাল বলেছেন “এটি আমেরিকার জবাবদিহিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত”।

    ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহযোগীরা রায়ের সমালোচনা করে বলছেন যে মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

  • ইসরায়েলকে সতর্ক করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

    ইসরায়েলকে সতর্ক করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

    www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ৫ এপ্রিল, ২০২৪: গাজায় যদি শিগগির শান্তি ফিরে না আসে, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে চরম বিপর্যয়ের মধ্যে পড়বে ইসরায়েল, বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে ইসরায়েলকে সতর্ক করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

    তবে ট্রাম্প গাজায় হাজার হাজার বেসামরিক নিহতের ঘটনায় এই প্রথমবারের মতো ইসরায়েলের সমালোচনাও করলেন।

    বৃহস্পতিবার একটি রেডিওতে সাক্ষাৎকার ট্রাম্প বলেন, “ইসরায়েলের সরকারকে আমি খুবই সহজ এবং সংক্ষিপ্ত একটি বার্তা দিতে চাই— দ্রুত যুদ্ধ শেষ করুন, শান্তি ফিরিয়ে আনুন এবং মানুষ হত্যা বন্ধ করুন। তাদেরকে অবশ্যই এটি করতে হবে…কারণ আপনাকে-আমাকে— আমাদের সবাইকে শেষ পর্যন্ত স্বাভাবিক শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ফিরতে হবে। সেটি যত শিগগির হয় ততই ভালো।”

    গত ৭ অক্টোবর গাজার ইরেজ সীমান্ত দিয়ে ইসরায়েলের ভূখণ্ডে ঢুকে অতর্কিত হামলা চালায় ১ হাজার হামাস যোদ্ধা। তারপর সেখানে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে হত্যা করে ১ হাজার ২০০ জন মানুষকে, পাশপাশি জিম্মি হিসেবে ধরে নিয়ে যায় ২৪২ জনকে।

    সেই হামলার পর সেদিন থেকেই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। সেই অভিযানে এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ৩২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি, আহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৭৫ হাজার। সেই সঙ্গে ইসরায়েলি বাহিনীর বোমায় বাস্তুচ্যুত হয়েছেন লাখ লাখ ফিলিস্তিনি।

    আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহল থেকে গত কয়েক মাস ধরে গাজায় যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়ে আসছে; কিন্তু ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাসকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের আগ পর্যন্ত এই যুদ্ধ থামবেনা।

    এদিকে ইসরায়েলি সেনাদের বোমা ও গোলায় প্রতিদিন গাজায় যেসব ভবন ও স্থাপনা ধ্বংস হচ্ছে, নিয়মিত সেসব হামলার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী আইডিএফ।

    বৃহস্পতিবারের সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ আমিও সমর্থন করি, কিন্তু ইসরায়েল যেভাবে এই যুদ্ধ করছে— সেটি আমার পছন্দ নয়।’

    আরেকটি কথা হলো তাদের বোমা হামলার ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ নিয়ে। এসব ভিডিও ফুটেজগুলোতে দেখা যাচ্ছে যে ভবনগুলোতে বোমা হামলা হচ্ছে এবং বিস্ফোরণে সেগুলো ধসে পড়ছে। যারা এসব ফুটেজ দেখছেন, স্বাভাবিকভাবেই তারা মনে করছেন যে হামলার শিকার ভবনগুলোতে লোকজন ছিল, যারা হামলার ফলে নিহত হয়েছেন।’

    ‘এসব ফুটেজ খুবই বর্বর এবং জঘন্য। এসব ভিডিওর কারণে প্রতিদিন আন্তর্জাতিক সমর্থন ব্যাপকভাবে হারাচ্ছে ইসরায়েল। আমি জানি না তারা কেন এসব ভিডিও প্রকাশ করছে।’

    ‘আমরা কথা স্পষ্ট। এই যুদ্ধে ইসরায়েল জিতবে কি না— তা অনিশ্চিত, কিন্তু দীর্ঘদিন যদি এই যুদ্ধ চলে, তাহলে আন্তর্জাতিক জনসমর্থন পুরোপুরি হারাবে ইসরায়েল।’