Tag: জানাজা

  • প্রেসিডেন্ট রাইসি’র জানাজায় ইমামতি করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি

    প্রেসিডেন্ট রাইসি’র জানাজায় ইমামতি করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি

    www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ২২ মে, ২০২৪: গত রবিবার (১৯ মে) হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি ও তার সফরসঙ্গীরা। আজ বুধবার (২২ মে) তাঁদের জানাজায় অংশ নিয়েছে ১০ লক্ষাধিক জনতা। এ জানাজায় ইমামতি করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা  আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনি।

    আজ বুধবার (২২ মে) সকালে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ে ইব্রাহিম রাইসিসহ দুর্ঘটনায় নিহত আটজনের মরদেহের কফিন নিয়ে আসা হয়। এর আগে মঙ্গলবার, তাবরিজ, কোম এবং তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে কয়েক হাজার মানুষের উপস্থিতিতে তাদের শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠান।

    জানাজায় উপস্থিত ছিলেন ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরো প্রধান ইসমাইল হানিয়া এবং লেবানিজ হিজবুল্লাহ প্রতিরোধের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল শেখ নাইম কাসেমসহ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের অক্ষের নেতারা। এছাড়া বিভিন্ন দেশের নেতা, রাষ্ট্রপতি, রাষ্ট্রদূত এবং আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বরা জানাজায় অংশ নেন।

    এই সময় তেহরান ইউনিভার্সিটি থেকে আজাদি স্কয়ার পর্যন্ত লাখ লাখ জনতার ঢল নামে। এর আগে প্রেসিডেন্ট রাইসি এবং তার সহযোগীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মঙ্গলবার গভীর রাতে তেহরানের ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় একটি শোক অনুষ্ঠানে জনস্রোত নেমেছিল।  খবর প্রেস টিভি।

    গত সোমবার (২০ মে) সকালে ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির আবদুল্লাহিয়ানের নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে। ওই দুজন ছাড়াও পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের গভর্নর মালেক রহমাতি, তাবরিজের জুমার নামাজের খতিব হোজ্জাতোলেস্লাম আল হাশেম এবং আরও কয়েকজন সেই হেলিকপ্টারের আরোহী ছিলেন।

    রাইসির প্রতিকৃতি হাতে নিয়ে হাজার হাজার মানুষ এই নগরীর কেন্দ্রস্থলে এবং তেহরান বিশ্ববিদ্যালয় ও এর আশপাশে জড়ো হয়েছেন।

    রাইসি’র হেলিকপ্টারটি আজারবাইজানের সাথে লাগোয়া সীমান্তে একটি বাঁধ প্রকল্পের উদ্বোধনে অংশ নেওয়ার পর তাবরিজ শহরে যাওয়ার পথে ইরানের উত্তরাঞ্চলে একটি কুয়াশাচ্ছন্ন পাহাড়ে রবিবার বিধ্বস্ত হয়।

    তুরস্ক, রাশিয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় সেখানে ব্যাপক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তাদের খুঁজে বের করা হয়। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সোমবার ভোরে রাইসি’র মৃত্যুর ঘোষণা দেয়।

    রাইসি’র বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর। তিনি সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে খামেনির স্থলাভিষিক্ত হবেন বলে ব্যাপকভাবে আশা করা হয়েছিল।

    রাজধানীতে প্রয়াত এই প্রেসিডেন্টকে ‘সেবার শহীদ’ হিসেবে সম্বোধন করে বিশাল ব্যানার প্রদর্শন করতে দেখা যায়।

  • প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিমের জানাজা অনুষ্ঠিত

    প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিমের জানাজা অনুষ্ঠিত

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ১১ মার্চ, ২০২৪: প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব বীর প্রখ্যাত সাংবাদিক মুক্তিযোদ্ধা ইহসানুল করিমের (হেলাল) জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    গতকাল রবিবার সন্ধ্যা ৮টার দিকে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান । বেশ কিছুদিন ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন।

    ইহসানুল করিম বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক এবং রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    ইহসানুল করিমের বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। তিনি ১৯৪৯ সালে কুষ্টিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি স্ত্রী, এক মেয়ে ও এক ছেলেসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

    আজ সোমবার (১১ মার্চ) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের টেনিস গ্রাউন্ডে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

    এর আগে এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান প্রদর্শন করতে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

    জানাজা নামাজের আগে তার ছেলে আভাস বলেন, আমার বাবা সাংবাদিক পরিবারের একজন সদস্য ছিলেন। তিনি যদি কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকেন আমি তার পক্ষ থেকে ক্ষমা চাচ্ছি। তার কাছে কেউ কিছু পাওয়া থাকলে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ করছি।

    জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, হেলাল ভাইকে আমরা শেষ বিদায় জানাতে এসেছি। আমি জাতীয় প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে তার পরিবারের সবার প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। সবাইকে বলবো হেলাল ভাইয়ের জন্য আপনারা প্রার্থনা করেন। আল্লাহ যেন তাকে বেহেস্ত নসিব করেন। হেলাল ভাই। একজন সাংবাদিক ছিলেন না, তিনি আমাদের কাছে ছিলেন অভিভাবক, বড় ভাই। আমরা নানা সমস্যায় তার কাছে যেতাম, বড় ভাইয়ের মতো, অভিভাবকের মতো আমাদেরকে পরামর্শ দিতেন।

    তিনি বলেন, হেলাল ভাইয়ের অত্যন্ত পছন্দের জায়গা ছিল জাতীয় প্রেসক্লাব। দীর্ঘদিন যাবত তিনি প্রেসক্লাবের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি সপ্তাহে অন্তত একদিন হলেও প্রেসক্লাবে আসতেন।

    জানাজার নামাজ শেষে তাকে ফুলেল শ্রদ্ধা জানায় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠন।

    রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ইহসানুল করিমের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন।

    তিনি ১৯৪৯ সালে কুষ্টিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষাজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা ডিগ্রী লাভ করেন। ১৯৭১ সালে তিনি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে মুক্তি বাহিনীর হয়ে রণাঙ্গনে যুদ্ধে অংশ নেন।

    ইহসানুল করিম ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থায় (বাসস) নিজস্ব প্রতিবেদক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি সংবাদ সংস্থার বিভিন্ন পদে কর্মরত ছিলেন। ১৯৯৭ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি ভারতের নয়া দিল্লিতে বাসস এর ব্যুরো প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা বিবিসি, পিটিআই এবং ভারতের দ্য স্টেটমেন্ট ও ইন্ডিয়া টুডেসহ বিভিন্ন পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন।

    বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক হিসেবে চার বছর দায়িত্ব পালনের পর তিনি ২০১৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অবসর গ্রহণ করেন।

    তিনি বাসস থেকে অবসর গ্রহণের পর একই বছরের ২০মে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের প্রেস সচিব হিসেবে নিয়োগ পান এবং ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালের ১৫ জুন তাকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রেস সচিব হিসেবে প্রথমে এক বছরের জন্য নিয়োগ প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে তার চুক্তির মেয়াদ দুই বার-তিন বছর করে বৃদ্ধি করা হয়।