Tag: অলিম্পিক

  • সেন নদীর বুকে ভিন্নধর্মী প্যারিস অলিম্পিকের উদ্বোধন

    সেন নদীর বুকে ভিন্নধর্মী প্যারিস অলিম্পিকের উদ্বোধন

    www.HelloBangla.News – খেলাধুলা – ২৭ জুলাই, ২০২৪: সত্যিকার অর্থেই অলিম্পিক ইতিহাসে ভিন্নধর্মী এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপহার দিয়েছে ভালোবাসার শহর প্যারিস। শিল্প-সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের রাজধানী খ্যাত এই শহরে আরও একবার জ্বলেছে অলিম্পিকের মশাল। ফলে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের সর্ববৃহৎ এই আসর সর্বোচ্চ তিন বার আয়োজনে লন্ডনের সমকক্ষ এখন প্যারিস।

    আধুনিক অলিম্পিকের যাত্রা ১৮৯৬ সালে। প্রথম অলিম্পিকের পরের আসরই হয়েছিল ফ্রান্সের প্যারিসে। ১৯০০ সালের পর অলিম্পিক আয়োজনে ফ্রান্সকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল দুই যুগ। ১৯২৪ সালের পর তৃতীয় বারের মতো প্যারিসে অলিম্পিক আয়োজন, তাতে এবার অপেক্ষা ঘুচেছে ১০০ বছরের।

    ১০০ বছর পর ভালোবাসার নগরী অলিম্পিক মশালের আলোয় আলোকিত হওয়ার আগে ১০০ বছর বয়সী চার্লস কোস্তেকে হাজির করা হয় হুইল চেয়ারে করেই। ১৯৪৮ অলিম্পিকের সাইক্লিংয়ে সোনাজয়ী ও ফ্রান্সের সবচেয়ে বেশি বয়সী বেঁচে থাকা সোনাজয়ী এই সাইক্লিষ্ট অলিম্পিকের মশাল তুলে দেন জুডোকা টেডি রেনার ও সাবেক স্প্রিন্টার মেরি-হোসে পেরেককে। তারা দুজন মশাল প্রজ্জ্বলন করেন।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতেই দেখা মিলল ফরাসি ফুটবল কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের। মূল অলিম্পিক স্টেডিয়াম স্তাদ দে ফ্রান্স থেকে তিনি অলিম্পিক মশাল নিয়ে দৌড়ে পৌঁছে দেন অন্যদের হাতে। চলতে থাকে মশাল দৌড়।

    আগেই জানানো হয়েছিল, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান কোনো স্টেডিয়াম নয় বরং আয়োজিত হবে প্যারিসের প্রাণকেন্দ্র সেন নদীতে। ৪ ঘণ্টা ব্যাপী অনুষ্ঠানের শুরুটা হয় মশালের ভিডিও দিয়ে। ভিডিওর পর শুরু হয় মার্চপাস্ট। সেন নদীতে ৬ কিলোমিটারের ভাসমান প্যারেডে প্রায় ৭ হাজার অ্যাথলেটকে বহন করেছে ৮৫ টি নৌকা। সবগুলোই নৌকাতেই লাগানো থাকবে ক্যামেরা। যাতে করে নদীর তীরে থাকা দর্শকরা ক্লোজ-আপ ভিউ পেতে পারেন।

    অস্তারলিজ ব্রিজ থেকে শুরু করে লুভরে জাদুঘর, পন্ত দে আর্টস ব্রিজ সহ অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থাপনা পেরিয়ে আইফেল টাওয়ারের কাছে এসে থামে অ্যাথলেটদের প্যারেড।

    নদীর বুকে মার্চপাস্টে বাংলাদেশের পতাকা বহন করেন আর্চার সাগর ইসলাম। এবারের আসরে তিনিসহ অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশের পাঁচ অ্যাথলেট।

    মার্চপাস্টের ফাঁকে ফাঁকেই ফ্রান্সের ঐতিহ্য, বিপ্লব, ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরা হয়। ছিল নাচগানের আয়োজনও। যার শুরুটা করেন পপ গায়িকা লেডি গাগা। এরপর একে একে সুরে মাতোয়ারা করে রাখেন র‍্যাপার রিম কে, মেটাল ব্যান্ড গজিরা ও আয়া নাকামুরা।

    আধার নেমে এলে আরও জমতে থাকে অনুষ্ঠান। মার্চপাস্ট শেষে প্যারিস অলিম্পিক কমিটি প্রধান ও আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি প্রধানের ভাষণের পর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি এমানুয়েল ম্যাক্রো। এরপর আইফেল টাওয়ারে শুরু হয় জমকালো লেজার শো। আলোর জলকানি বারবারই  মুগ্ধতা ছড়িয়েছে। ৩ লাখেরও বেশি দর্শক বৃষ্টি উপেক্ষা করে কেবল তাকিয়ে ছিলেন সেদিকে।

    মশালের আগুন থেকে কলড্রনের আলো জ্বালিয়ে অলিম্পিক শুরুর সংকেত দেন ফ্রান্সের সাবেক স্প্রিন্টার মেরি জোসে পেরেচ ও জুদোকা তেদি রিনার। কলড্রনটি দেখতে উষ্ণ বায়ু বেলুনের মতোই ছিল। ১৭৮৩ সালে প্রথমবারের মতো মানুষ বহনকারী উষ্ণ বায়ু বেলুনকে উড়তে দেখা যায়। যা আবিষ্কার করেন ফ্রান্সের মন্তগলফিয়ার সহোদর।

    অনুষ্ঠানের শেষটা হয় বিখ্যাত মার্কিন গায়িকা সেলিন ডিওনের পারফরম্যান্সের মধ্য দিয়ে। দারুণ এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর কাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া মহাযজ্ঞ।

  • প্যারিস অলিম্পিকের টিকিট নিশ্চিত আর্জেন্টিনার

    প্যারিস অলিম্পিকের টিকিট নিশ্চিত আর্জেন্টিনার

     

    www.HelloBangla.News – খেলাধুলা – ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: হারলে বিদায়, জিতলে প্যারিস অলিম্পিকের টিকিট নিশ্চিত এই ধরণের ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে খেলতে নেমেছিল আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব-২৩ দল। প্রতিপক্ষ ছিল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল।

    অলিম্পিক ফুটবলে টানা দুইবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ২০১৬ ও ২০২০ অলিম্পিকের পর সামনে ছিল তৃতীয় স্বর্ণ পদকের হাতছানি। কিন্তু প্যারিস অলিম্পিকের আঞ্চলিক বাছাইয়ে আর্জেন্টিনা তাদের ১-০ গোলে হারিয়ে সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছে।

    ভেনেজুয়েলায় দক্ষিণ আমেরিকার প্রাক অলিম্পিক টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত দিনে ব্রাজিলের ড্র করলেই হতো। অপর দিকে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার প্রয়োজন ছিল জয়। ৭৮ মিনিটে তাদের জয় সুনিশ্চিত হয়েছে লুসিয়ানো গুন্দোর গোলে। তাতে ২০০৪ ও ২০০৮ সালের পর তৃতীয় স্বর্ণ পদক জয়ের লক্ষ্যে ফ্রান্স যাবে আর্জেন্টিনা। একই অঞ্চল থেকে অন্য টিকিটটি কেটেছে প্যারাগুয়ে। তারা ভেনেজুয়েলাকে ২-০ গোলে হারিয়েছে। তারা অবশ্য আর্জেন্টিনাকে টপকে শীর্ষে থেকে বাছাই টুর্নামেন্ট শেষ করেছে।

    নিয়ম অনুযায়ী বাছাই টুর্নামেন্টে খেলে থাকে অনূর্ধ্ব-২৩ দল। তবে মূল অলিম্পিকে এই নিয়ম শিথিল হয়ে থাকে। সেখানে জাতীয় দল থেকে তিনজন বেশি বয়সী খেলোয়াড় নেওয়ার সুযোগ থাকে। মেসি ২০০৮ সালে আর্জেন্টিনাকে স্বর্ণ জেতাতে ভূমিকা রেখেছেন। ফলে প্যারিস অলিম্পিকে মেসিকে পাওয়ার অপেক্ষায় থাকবে আলবিসেলেস্তরা।

    আর্জেন্টিনার অলিম্পিক এই দলটির কোচ আবার মেসির সাবেক সতীর্থ হাভিয়ের মাসচেরানো। তিনি বলেন, এই দলে আসার জন্য মেসির দরজা সব সময় উন্মুক্ত।’