Category: লিড নিউজ

  • সশস্ত্র বাহিনীর সমরাস্ত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

    সশস্ত্র বাহিনীর সমরাস্ত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ২৪ মার্চ, ২০২৪: মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৪ উদ্‌যাপন উপলক্ষে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে শুরু হয়েছে ৫ দিনব্যাপী সশস্ত্র বাহিনীর সমরাস্ত্র প্রদর্শনী।

    আজ রবিবার (মার্চ ২৪) রাজধানীর তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরের জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে ফিতা কেটে বেলুন উড়িয়ে সমরাস্ত্র সশস্ত্র বাহিনীর এই সমরাস্ত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    এই সময় হেলিকপ্টার থেকে সেনাবাহিনীর প্যারাট্রুপারদের অবতরণ অনুষ্ঠানটিকে আরও উপভোগ্য করে তোলে।

    প্রধানমন্ত্রী তিন বাহিনীর বিভিন্ন স্টল ও প্যাভিলিয়ন ঘুরে দেখেন। তিনি সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সৈন্যদের ব্যবহৃত বিভিন্ন হালকা ও ভারী অস্ত্র প্রত্যক্ষ করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে  সমরাস্ত্র সম্পর্কে ব্রিফ করেন।

    প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্য অতিথিরা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীদের পরিবেশিত একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী তাদের সাথে একটি ফটো সেশনে যোগ দেন।

    আইএসপিআর জানায়, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর এই যৌথ সমরাস্ত্র প্রদর্শনী-২০২৪ আগামী ২৬, ২৭, ২৮, ২৯ ও ৩০ মার্চ প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

    সমরাস্ত্র প্রদর্শনী এলাকায় কোনো প্রকার আগ্নেয়াস্ত্র অথবা বিস্ফোরক জাতীয় দ্রব্য বহন করা যাবে না।

    এর আগে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আবদুল হান্নান।

    অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, সচিব, বিদেশি রাষ্ট্রদূত, ঊর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • আরও ১১৮ জন শহীদ বুদ্ধিজীবীর তালিকা প্রকাশ

    আরও ১১৮ জন শহীদ বুদ্ধিজীবীর তালিকা প্রকাশ

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ২৪ মার্চ, ২০২৪: চতুর্থ ধাপে আরও ১১৮ জন শহীদ বুদ্ধিজীবীর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক আজ রবিবার (২৪ মার্চ) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের এই তালিকা প্রকাশ করেন। এ নিয়ে চার দফায় ৫৬০ জন শহীদ বুদ্ধিজীবীর তালিকা প্রকাশ করলো সরকার।

    তাদের মধ্যে শিক্ষক, রাজনীতিক, সমাজকর্মী, চিকিৎসক, আইনজীবী, চাকরিজীবী, প্রকৌশলী, নাট্যকার, সংগীতশিল্পী এবং সংস্কৃতিকর্মী রয়েছেন।

    প্রথমে ২০২১ সালের ৭ এপ্রিল ১৯১ জন শহীদ বুদ্ধিজীবীর নাম গেজেট আকারে প্রকাশ করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। ২০২২ সালের ২৯ মে দ্বিতীয় তালিকায় ১৪৩ জন এবং সর্বশেষ গত ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করা হয় আরও ১০৮ জন শহীদ বুদ্ধিজীবীর তালিকা।

    চতুর্থ দফার শহীদ বুদ্ধিজীবী তালিকায় ৩ জন সাহিত্যিক, একজন বিজ্ঞানী, একজন চিত্রশিল্পী, ৫৪ জন শিক্ষক, ৪ জন আইনজীবী, ১৩ জন চিকিৎসক, ৩ জন প্রকৌশলী, ৮ জন সরকারি ও বেসরকারি কর্মচারী, ৯ জন রাজনীতিক, ১৩ জন সমাজসেবী রয়েছেন।

    এছাড়া সংস্কৃতিসেবী এবং চলচ্চিত্র, নাটক, সংগীত এবং শিল্পকলার অন্যান্য শাখার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৯ জন ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে শহীদ বুদ্ধিজীবীর তালিকায়।

  • এ সাতটি ফ্লাইওভার জনগণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার: সেতুমন্ত্রী

    এ সাতটি ফ্লাইওভার জনগণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার: সেতুমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ২৪ মার্চ, ২০২৪: এ সাতটি ফ্লাইওভার জনগণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার, বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনে বলেন, “এ সাতটি ফ্লাইওভার দিয়ে যান চলাচল করতে পারবে। ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের জন্য এ সাতটি ফ্লাইওভার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে উপহার। এ প্রকল্প নির্মাণে দেরি হয়েছে। যথাসময়ে শেষ করা সম্ভব হয়নি। এটি বাস্তবায়নে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও ঘটেছে। তারপরও দেরিতে হলেও কাজটি শেষ হওয়ার পথে।”

    আজ রবিবার (২৪ মার্চ) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি গ্রেটার ঢাকা সাসটেইনেবল আরবান ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্টের (বিআরটি, গাজীপুর-এয়ারপোর্ট) সাতটি ফ্লাইওভার যান চলাচলের জন্য উদ্বোধনের পর এ মন্তব্য করেন তিনি।

    সেতুমন্ত্রী বলেন, “আশা করছি এ বছরই এটি দিয়ে বাস চলাচলের ব্যবস্থা করতে পারবো। আমাদের অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজগুলো শেষ হয়ে গেছে। প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৯১ শতাংশ। আমরা আশা করছি ডিসেম্বর নাগাদ বাকি কাজ শেষ হবে। বিআরটি করিডোর দিয়ে বাস চলাচল করতে পারবে।”

    এখন থেকে এই ফ্লাইওভারগুলো দিয়ে যান চলাচল করতে পারবে। যার মধ্যে রয়েছে ৩২৩ মিটার এয়ারপোর্ট ফ্লাইওভার (বাম পাশ), ৩২৩ মিটার এয়ারপোর্ট ফ্লাইওভার (ডান পাশ), ১৮০ মিটার জসীমউদ্দীন ফ্লাইওভার, ১৬৫ মিটার ইউ-টার্ন-১ গাজীপুরা ফ্লাইওভার, ১৬৫ মিটার ইউ-টার্ন-২ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ফ্লাইওভার, ২৪০ মিটার ভোগড়া ফ্লাইওভার এবং গাজীপুরের চৌরাস্তায় ৫৬৮ মিটার ফ্লাইওভার।

    এর আগে গত ১৬ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, এ বছরের জুনের মধ্যে বিআরটি প্রকল্প শেষ হবে। এখনই নিচের অংশের আর ভোগান্তি নেই। মাত্র ৪০ মিনিটে গাজীপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত যাতায়াত করা যাবে।

    যানজট কমিয়ে আনতে ‘গ্রেটার ঢাকা সাসটেইনেবল আরবান ট্রান্সপোর্ট’ প্রকল্পের (বিআরটি, গাজীপুর-এয়ারপোর্ট) আওতায় উড়াল সড়ক তৈরি হচ্ছে গাজীপুর থেকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ উত্তরা হাউস বিল্ডিং থেকে টঙ্গী চেরাগ আলী মার্কেট পর্যন্ত এলাকার সড়কের কাজ করছে। বাকিটা হচ্ছে সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের অধীনে। ঢাকার সঙ্গে গাজীপুরের যোগাযোগে মানুষের ভোগান্তি দূর করতে শুরুতে এ প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা ছিল চার বছরের মধ্যে, যদিও তা গড়িয়েছে ১২ বছরে। প্রকল্পের সময় আর অর্থ বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে মানুষের ভোগান্তিও বেড়েছে অনেক।

    ২০১১ সালে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক প্রকল্পের প্রাথমিক সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করে। ২০১২ সালের ১ ডিসেম্বর একনেকে বিআরটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। শুরুতে ব্যয় ধরা হয় ২ হাজার ৩৯ কোটি ৮৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা। কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে। এরপর কয়েক দফা সময় বাড়িয়ে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছিল।

    প্রকল্পের সবশেষ ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ২৬৮ কোটি ৩২ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। শুরুতে প্রকল্পের দৈর্ঘ্য ছিল চান্দনা চৌরাস্তা থেকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত। কিন্তু পরে সময় বাড়িয়ে প্রকল্প ব্যয় বাড়ানো হলেও পথ ছোট করে চান্দনা চৌরাস্তা থেকে কেরানীগঞ্জের পরিবর্তে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত করা হয়।

    বিআরটি প্রকল্পের সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, বিআরটি বাস্তবায়িত হলে ১০০টি আর্টিকুলেটেড বাসের মাধ্যমে প্রতি ঘণ্টায় ২৫ হাজার মানুষ যাতায়াত করবে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানজট অনেকটাই কমে যাবে।

  • আইপিইউ সেক্রেটারির সঙ্গে স্পিকারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

    আইপিইউ সেক্রেটারির সঙ্গে স্পিকারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ২৪ মার্চ, ২০২৪: ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সেক্রেটারি জেনারেল মার্টিন চুংগং-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। শনিবার (২৩ মার্চ) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় স্থানীয় সময় বিকেলে ১৪৮তম আইপিইউ অ্যাসেম্বলি উপলক্ষে আইপিইউ সেক্রেটারি জেনারেলের আমন্ত্রণে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন তিনি।

    এসময় তাঁরা বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত আইপিইউ সম্মেলন, ওয়ার্ল্ড স্পীকার সামিটসহ দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।

    আইপিইউ সেক্রেটারি জেনারেল মার্টিন চুংগং ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপিকে ধারাবাহিকভাবে চতুর্থবারের মত বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পীকার নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান।

    মার্টিন চুংগং এসময় স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত আইপিইউ সম্মেলনের কথা স্মরণ করে ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং  ২০২৫ সালে জেনেভায় অনুষ্ঠিতব্য ওয়ার্ল্ড স্পীকার সম্মেলনের প্রিপারেটরি কমিটিতে সদস্য হিসেবে যোগ দেয়ার জন্য অনুরোধ জানান।

    স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী আইপিইউ সেক্রেটারি জেনারেলকে এ প্রস্তাব প্রদানের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং ওয়ার্ল্ড স্পীকার সম্মেলনের প্রিপারেটরি কমিটিতে সদস্য হিসেবে যোগ দেয়ার ব্যাপারে সম্মতি প্রদান করেন।

    এদিকে শনিবার অপরাহ্নে সম্মেলনের ১ম দিনে বিভিন্ন প্রোগ্রামে বাংলাদেশ সংসদীয় প্রতিনিধি দলের সদস্যবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। এপিএ সংক্রান্ত সভায় আখতারুজ্জামান এমপি ফিলিস্তিন ইস্যুতে বক্তব্য প্রদান করেন।

    এসময় সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী এমপি, শফিকুল ইসলাম এমপি, মাহবুব উর রহমান এমপি, শাহাদারা মান্নান এমপি, নীলুফার আনজুম এমপি, এইচ এম বদিউজ্জামান এমপি, মো. মুজিবুল হক এমপি এবং  আখতারুজ্জামান এমপি উপস্থিত ছিলেন।

  • ইসরায়েলি হামলায় ত্রাণ নিতে আসা ১৯ ফিলিস্তিনি নিহত

    ইসরায়েলি হামলায় ত্রাণ নিতে আসা ১৯ ফিলিস্তিনি নিহত

    www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ২৪ মার্চ, ২০২৪: ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ত্রাণের অপেক্ষায় থাকা ফিলিস্তিনের ভিড়ে আবারও নির্বিচার হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। এতে কমপক্ষে ১৯ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ২৩ জন।

    গতকাল শনিবার (২৩ মার্চ) রাতের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।

    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গাজা শহরের দক্ষিণ-পূর্বে সাহায্যের অপেক্ষায় ভিড় জমায় ফিলিস্তিনের বেসামরিক নাগরিকরা। এ সময় সেই ভিড়ে অতর্কিত গুলি বর্ষণ করে ইসরায়েলি বাহিনী।

    গাজার মিডিয়া অফিস শনিবার এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘হাজার হাজার নাগরিক আল-কুয়েত গোলচত্বরের কাছে আটা ও ত্রাণের ব্যাগগুলোর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় ইসরায়েলি দখলদারিত্ব গণহত্যাটি চালায়। তারা ১৯ জন বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে এবং ২৩ জনকে আহত করেছে।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অভুক্ত লোকদের দিকে তাক করে ইসরায়েলি ট্যাংকগুলো থেকে মেশিনগান দিয়ে গুলি চালানো হয়। ত্রাণের আশায় নিরীহ ফিলিস্তিনিরা এমন এক জায়গায় জড়ো হয়েছিল যা ইসরায়েলের জন্য হুমকি বা ঝুঁকির সৃষ্টি করতো না।

    ঘটনাস্থলের একজন প্রত্যক্ষদর্শী আলা আল-খুদারি আলজাজিরাকে বলেছেন, ইসরায়েলি বাহিনী ভিড়ের ওপর  এমন সময় গুলি চালায়, যখন অনেকের শিশুরা ত্রাণের রুটিতে কামড় বসিয়েছিল। তাৎক্ষণিক অনেককে মারা যায় এবং অন্যরা আহত হন।

    গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বলেছেন, ‘বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ভারী গুলি চালানো হয়েছে। এবং আহতদের নিকটবর্তী আহলি আরব হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ’

    এদিকে ত্রাণের আশায় ভিড় জমানো ফিলিস্তিনের বেসামরিকদের ওপর গুলি চালানোর কথা অস্বীকার করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। মানুষের ওপর গুলি চালানোর প্রতিবেদনগুলোকে ‘ভুল’ বলে দাবি করেছে ইসরায়েল।

    গাজা উপত্যকার অবরুদ্ধ বৃহত্তম হাসপাতালের চারপাশে বহু দিনের ইসরায়েলি অভিযানে ফিলিস্তিনিরা ক্রমাগত বোমাবর্ষণ, গণগ্রেপ্তারের পাশাপাশি রাস্তায় ময়লা, মৃতদেহ ও আবর্জনার ট্যাংক দেখা থেকে কোনো প্রকার নিস্কৃতি মিলছে না।

    হামাসের সাথে যুদ্ধরত ইসরায়েলি বাহিনী সোমবার গাজা নগরীর আল-শিফা হাসপাতাল ও এর আশপাশে অভিযান চালায়। ইসরায়েলি বাহিনী জানায় হামাসের সিনিয়র অপারেটিভরা বিস্তৃত হাসপাতাল কম্পাউন্ডে অবস্থান করছিল।

    ইদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস শনিবার মিশরের গাজা সীমান্ত পরিদর্শন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

  • গণহত্যা, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ২৫ মার্চকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস স্বীকৃতির দাবিতে শিল্পকলার আর্টক্যাম্প

    গণহত্যা, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ২৫ মার্চকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস স্বীকৃতির দাবিতে শিল্পকলার আর্টক্যাম্প

    www.HelloBangla.News – বিনোদন – ২৪ মার্চ, ২০২৪: ২৫ মার্চ জাতীয় গণহত্যা দিবস। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তাদের দোসরদের সহায়তায় ১৯৭১ সালে সংঘটিত হয়েছে অসংখ্য গণহত্যা। গণহত্যার জলন্ত সাক্ষী হয়ে সারাদেশে ছড়িয়ে রয়েছে চার সহস্রাধিক বধ্যভূমি। ২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস স্বীকৃতির লক্ষ্যে বাংলাদেশ নানাভাবে দাবী উপস্থাপন করছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি তারই সমর্থনে এই দিবসটিকে শিল্পের আলোয় সাজিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে তুলে ধরতে বহুবিধ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। গণহত্যা দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজন করেছে সেমিনার, সংলাপ, আর্ট ক্যাম্প, চারুকলা, গণহত্যার পরিবেশ থিয়েটার প্রযোজনার পোস্টার ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

    গতকাল ২৩ মার্চ ২০২৪ দেশের বিশিষ্ট চারুশিল্পীদের অংশগ্রহণে দিনব্যাপী আর্টক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৭১ এ রাজধানীর যেসব স্থানে বর্বর গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে তার মধ্যে রাজারবাগ পুলিশ লাইন, মিরপুর জল্লাদখানা, রায়েরবাজার বধ্যভূমি, রোকেয়া হল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং জগন্নাথ হল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সকাল ১১.০০ টা থেকে একযোগে রাজধানীর এই ৫ টি স্থানে আর্টক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যার উপর ছবি আঁকেন দেশের বরেণ্য ও বিশিষ্ট ও প্রতিশ্রুতিশীল চারুশিল্পীরা। এতে অংশ নেন বরেণ্য শিল্পী হাশেম খান, শিল্পী বীরেন সোম, শিল্পী মলয় বালা, শিল্পী নিসার হোসেন, শিল্পী রোকেয়া সুলতানা, শিল্পী সামিনা নাফিজ, শিল্পী আব্দুল মান্নান, শিল্পী ফরিদা জামান, শিল্পী কামাল পাশা চৌধুরী, শিল্পী মোহাম্মদ ইউনুসসহ ৫০ জন চারুশিল্পী। ছবিগুলো বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে সংরক্ষন সাপেক্ষে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।

    Arts and Crafts ArtCamp - Entertainment - 24 March 2024 (2)_1
    Arts and Crafts ArtCamp – Entertainment – 24 March 2024 (2)_1

    এ বিষয়ে একাডেমির মহাপরিচালক জনাব লিয়াকত আলী লাকী বলেন, “২৫ শে মার্চ ভয়াল রাতে নিরীহ বাঙালির উপর পাক বাহিনীর অতর্কিত আক্রমণ ও গণহত্যার ভয়বহতা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। সংস্কৃতির সব ধরনের মাধ্যমে সেই ইতিহাস তুলে ধরতে হবে। যাতে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম তা উপলব্ধি করতে পারে। আমরা বাঙালি আমরা সাহসী জাতি। আমাদের কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না্। সেই গৌরব আমরা অক্ষুন্ন রাখবো”

    একাডেমির চারুকলা বিভাগের ব্যবস্থাপনায় এই আর্টক্যাম্পে সমন্বয়কারী হিসেবে ছিলেন চারুকলা বিভাগের সৈয়দা মাহবুবা করিম, রেজাউল হাশেম, মোস্তাক আহমেদ, মাহবুবুর রহমান সুজন এবং তৈমুর হান্নান।

     

    ২৫ মার্চ ২০২৪ অনুষ্ঠিত হবে-সংলাপ

    জাতিসংঘ-কর্তৃক ২৫ মার্চকে ‘আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস’ ঘোষণার দাবিতে ‘জাতীয় গণহত্যা দিবস’-এ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির “সংলাপ: গণহত্যার বিশ্ব-রাজনীতি ও বাংলাদেশ গণহত্যা: ভুলে থাকা সাংস্কৃতিক দায়” সংলাপে অংশ নেবেন জাহিদ রেজা নূর, সিনিয়র সাংবাদিক; মাহবুবুল হক, অধ্যাপক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়; চঞ্চল আশরাফ, লেখক ও গবেষক; সিরাজ সালেকীন অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; মাতিয়া বানু শুকু নাট্যকার, চলচ্চিত্র প্রযোজক; নূরুল আলম আতিক, লেখক ও চলচ্চিত্রকার; জাফর আহমদ রাশেদ লেখক, গবেষক, সম্পাদক; নজরুল ইসলাম মিঠু, সিনিয়র সহ-সভাপতি, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন; নজরুল কবির জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক; এন রাশেদ চৌধুরী চলচ্চিত্রকার, চলচ্চিত্র আন্দোলন কর্মী; জ্যোতিকা পাল জ্যোতি অভিনেত্রী; পরিচালক, গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগ, বাশিএ। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন সেলিম মোজাহার অধ্যাপক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা। সংলাপ সভাপতি হিসেবে থাকবেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। স্থান; সেমিনার কক্ষ(লিফট-৬), বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, সেগুনবাগিচা, ঢাকা । সময় বিকাল ৩.৩০ টায়। সংলাপ সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

    এছাড়াও ২৫-৩১ মার্চ ২০২৪ সকাল ১১ টায় অনুষ্ঠিত হবে চারুকলা, পোস্টার ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী।

  • ২৫শে মার্চ রাতে অপারেশন সার্চলাইটের পরিকল্পনা করা হয় ১৮ই মার্চ

    ২৫শে মার্চ রাতে অপারেশন সার্চলাইটের পরিকল্পনা করা হয় ১৮ই মার্চ

    www.HelloBangla.News – মতামত – ২৪ মার্চ, ২০২৪: পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে ঢাকায় যে অভিযানে অর্ধ লক্ষ মানুষের প্রাণহানী হয়েছিল, সেই রাতটিকে স্বাধীন বাংলাদেশে বর্ণনা করা হয় ‘কালরাত্রি’ হিসেবে।

    পাকিস্তানি সেনারা সেই অভিযানের সাংকেতিক নাম বা কোডনেম দিয়েছিল ‘অপারেশন সার্চলাইট’। যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল ১৮ই মার্চ।

    ১৯৭১ সালে মার্চ মাসের সেই সময়টা ছিল রাজনৈতিকভাবে উত্তেজনাপূর্ণ। গণপরিষদের অধিবেশন স্থগিত করায় ঢাকা তখন বিক্ষোভের শহর। ঢাকায় ইতিমধ্যে ওড়ানো হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। এরই মধ্যে ৭ই মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে শেখ মুজিবুর রহমান ভাষণ দিয়েছেন। ডামি রাইফেল নিয়ে ঢাকার রাস্তায় মার্চ করছেন ছাত্র-ছাত্রীরা।

    ঢাকায় তখন চলছে মুজিব-ইয়াহিয়া বৈঠক। আলোচনায় অংশ নিতে জুলফিকার আলী ভুট্টোও রয়েছেন শহরে। সব মিলে খুবই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি। এরকম প্রেক্ষাপটে পরিকল্পনা অপারেশন সার্চলাইটের, যুক্তি ছিল রাজনৈতিক সমঝোতা ‘ব্যর্থ’ হলে সামরিক অভিযান চালিয়ে ‘পাকিস্তান সরকারের কর্তৃত্ব’ প্রতিষ্ঠা করা হবে।

    ‘কালরাত্রির’ সেই ভয়াবহ সেনা অভিযানের পরিকল্পনা কীভাবে হয় তার ধারণা পাওয়া যায় সেসময় ঢাকায় দায়িত্বরত পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের স্মৃতিকথা থেকে।

     

    যেভাবে ‘অপারেশন সার্চলাইটের’ পরিকল্পনা করা হয়েছিল:

    মেজর জেনারেল খাদিম হুসাইন রাজা তখন পূর্ব পাকিস্তানের ১৪তম ডিভিশনের জিওসি ছিলেন। ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে সামরিক অভিযানের অন্যতম পরিকল্পনাকারী তিনি।

    ‘আ স্ট্রেঞ্জার ইন মাই ঔন কান্ট্রি ইস্ট পাকিস্তান, ১৯৬৯-১৯৭১’ শিরোনামের একটি স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ তিনি লিখেছেন, ১৯৭১ সালের ১৭ই মার্চ রাতে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান টেলিফোনে মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী এবং মেজর জেনারেল খাদিম হুসাইন রাজাকে কমান্ড হাউজে ডেকে পাঠান। মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী ছিলেন পূর্ব পাকিস্তান গভর্নরের উপদেষ্টা। দুইজন সেখানে যাওয়ার পর টিক্কা খান তাদের বলেন, শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার আলোচনায় ‘প্রত্যাশিত অগ্রগতি’ হচ্ছে না।

    যে কারণে এখন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ‘মিলিটারি অ্যাকশনে’র জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন। আর সে কারণে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি সামরিক পরিকল্পনা তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছেন। সে অনুযায়ী ১৮ই মার্চ সকাল থেকে ক্যান্টনমেন্টে খাদিম হুসাইন রাজার বাসায় রাও ফরমান আলী এবং তিনি দুইজন মিলে অপারেশন সার্চলাইটের খসড়া তৈরি করেন।

    খাদিম হুসাইন রাজা লিখেছেন, ১৮ই মার্চ সকালে তিনি তাঁর স্ত্রীকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন যাতে তিনি তার বাঙ্গালি এডিসিকে ব্যস্ত রাখেন, এবং তাঁর অফিস থেকে দূরে রাখেন।

    যেন রাও ফরমান আলী সকাল সকাল খাদিম হুসাইন রাজার অফিসে কী করছেন এমন সন্দেহ বাঙ্গালি এডিসির মনে উদয় না হয়। সারা সকাল ধরে জেনারেল রাজা এবং জেনারেল আলী সামরিক অভিযান পরিচালনার খসড়া তৈরি করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তারা দুইজন পরিকল্পনার পরিসর নিয়ে একমত হন, এরপর দুইজনে দুইটি আলাদা পরিকল্পনা লেখেন। ঢাকা অঞ্চলে সামরিক অপারেশনের দায়িত্ব নেন রাও ফরমান আলী, আর বাকি পুরো প্রদেশে অভিযানের দায়িত্ব নেন খাদিম হুসাইন রাজা। রাও ফরমান আলী পরিকল্পনায় তার অংশে একটি মুখবন্ধ লেখেন, এবং কিভাবে ঢাকায় অপারেশন চালানো হবে তা বিস্তারিত লেখেন। ঢাকার বাইরে বাহিনী কী দায়িত্ব, কিভাবে পালন করবে তার বিস্তারিত পরিকল্পনা করেন খাদিম।

    সন্ধ্যায় খসড়া পরিকল্পনা নিয়ে তারা হাজির হন কমান্ড হাউজে। খাদিম হুসাইন রাজা পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন এবং কোন আলোচনা ছাড়াই পরিকল্পনা অনুমোদিত হয়।

    ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন সিদ্দিক সালিক। ‘উইটনেস টু সারেন্ডার’ শিরোনামের একটি বইয়ে তিনি ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নিয়ে লিখেছেন, জেনারেল রাও ফরমান আলী হালকা নীল কাগজের অফিসিয়াল প্যাডের ওপর একটি সাধারণ কাঠ পেন্সিল দিয়ে ওই পরিকল্পনা লিপিবদ্ধ করেছিলেন।

    সিদ্দিক সালিক লিখেছেন, তিনি স্বচক্ষে সেই হাতে লেখা পরিকল্পনার খসড়া দেখেছিলেন। তাতে সামরিক অভিযানের প্রাথমিক উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, ‘শেখ মুজিবের ডিফ্যাক্টো শাসনকে উৎখাত করা এবং সরকারের (পাকিস্তানের) কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।’

    সিদ্দিক সালিক লিখেছেন, ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে পরিকল্পনা ছিল ১৬টি প্যারা সম্বলিত এবং পাঁচ পৃষ্ঠা দীর্ঘ। পরিকল্পনা অনুমোদিত হলেও কবে সামরিক অপারেশন চালানো হবে সেই দিনক্ষণ নির্ধারিত ছিল না।

    খাদিম হুসাইন রাজা তাঁর বইয়ে লিখেছেন, ২৪শে মার্চ দুইটি হেলিকপ্টার নিয়ে রাও ফরমান আলী এবং তিনি নিজে ঢাকার বাইরে অবস্থানরত ব্রিগেড কমান্ডারদের সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হবার নির্দেশনা দিতে রওয়ানা হন।তারা চেয়েছিলেন গোপনীয়তা বজায় রেখে বিভাগীয় কমান্ডারদের সরাসরি নির্দেশনা দেবেন এবং মাঠ পর্যায়ে যদি কোন সমস্যা থাকে সেটি কৌশলে সমাধান করবেন। তারা যশোর, কুমিল্লা, চট্টগ্রামে যান। সিলেট, রংপুর এবং রাজশাহী ক্যান্টনমেন্টে পাঠানো হয় সিনিয়র স্টাফ অফিসারদের।

    অভিযানের জন্য প্রস্তুত হতে বলেও ব্রিগেড কমান্ডারদেরকে জানানো হয়েছিল যে, আঘাত হানার সময় পরে জানানো হবে। সিদ্ধান্ত হয়েছিল সব গ্যারিসনকে একই সঙ্গে এক সময়ে অপারেশনে নামতে হবে।

    পূর্ব পাকিস্তানে সামরিক বাহিনী আটটি স্থায়ী ও অস্থায়ী ক্যান্টনমেন্টে বিন্যস্ত ছিল—ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, সিলেট, যশোর, রাজশাহী, রংপুর, সৈয়দপুর। এর সাথে ২ নম্বর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অবস্থান ছিল ঢাকার কাছে, জয়দেবপুরে।

     

    অপারেশন সার্চলাইট পরিকল্পনা সম্পর্কে খাদিম হুসাইন রাজা তাঁর ‘আ স্ট্রেঞ্জার ইন মাই ঔন কান্ট্রি ইস্ট পাকিস্তান, ১৯৬৯-১৯৭১’ বইয়ে লিখেছেন, পরিকল্পনার মূল দিকগুলো ছিল এরকম:

    * যে কোন ধরণের বিদ্রোহ বা বিরোধিতাকে কঠোরভাবে দমন করা হবে

    * সফল হওয়ার জন্য আকস্মিক চমক এবং চাতুরীর গুরুত্ব আছে। সেনাবাহিনী প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানকেও চাতুরীর আশ্রয় নিয়ে তাদের সাহায্য করার পরামর্শ দিয়েছিল

    * বাঙ্গালি সেনা সদস্য ও পুলিশকে নিরস্ত্র করা হবে। বিশেষ করে পিলখানায় ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসের অস্ত্রাগার, রাজারবাগের রিজার্ভ পুলিশ এবং চট্টগ্রামে কুড়ি হাজার রাইফেলের অস্ত্রভাণ্ডারের নিয়ন্ত্রণ আগেভাগে নিয়ে নেয়া,

    * অপারেশন শুরুর সাথে সাথে সব রকমের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে নতুন করে যাচাই-বাছাই করে যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করা হবে

    * অস্ত্রশস্ত্র এবং অপরাধীদের খোঁজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো ঘিরে ফেলতে হবে, এবং তল্লাশি চালাতে হবে

    * শেখ মুজিবকে জীবিত অবস্থায় ধরতে হবে। এর বাইরে ১৫ জন আওয়ামী লীগ এবং কম্যুনিস্ট পার্টির নেতার বাড়িতে তল্লাশি চালাতে হবে, তাদের কাউকে পাওয়া গেলে গ্রেপ্তার করতে হবে।

    ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দেশের বিভিন্ন ব্যারাকে ঘুরে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ব্যবস্থা তদারকি করলেও, অপারেশন সার্চলাইটে অংশ নেয়ার জন্য সামরিক বাহিনীর কারো কাছেই কোন লিখিত অর্ডার পাঠানো হয়নি।

    সময় জানিয়ে মেজর জেনারেল খাদিম হুসাইনের কাছে লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খানের কাছ থেকে ফোনটি এসেছিল ২৫শে মার্চ সকাল ১১টায়।

    সংক্ষেপে বলা হয়েছিল, “খাদিম, আজ রাতেই।”

    সময় নির্দিষ্ট হয়েছিল রাত ১টা। গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের হিসেবে অবশ্য তখন থাকবে ছাব্বিশে মার্চ। হিসেব করা হয়েছিল, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ততক্ষণে নিরাপদে করাচি পৌঁছে যাবেন।

    আর এদিকে ঢাকায় ‘অপারেশন সার্চলাইট’ পরিচালনা করবে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আর আমাদের জীবনে নেমে আসে বিভিষিকাময় ‘কালরাত্রি’।

    সূত্র: সাইয়েদা আক্তার-বিবিসি বাংলা।

  • এবার ঈদে অঞ্জন’স এর বৈচিত্র্যময় ডিজাইনের পোশাক

    এবার ঈদে অঞ্জন’স এর বৈচিত্র্যময় ডিজাইনের পোশাক

    www.HelloBangla.News – লাইফস্টাইল – ২৪ মার্চ, ২০২৪: ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই উৎসব। আমাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। এই আনন্দের দিনটিকে উৎযাপনের জন্য সারাবছর ধরে সবাই প্রতীক্ষায় থাকে। সবচেয়ে বড় উৎসবের এই দিনটিকে আরও বেশি উৎসব মুখর ও আনন্দময় করতে অঞ্জন’স নিয়ে এসেছে এক্সক্লুসিভ ঈদ কালেকশন । সব বয়সীদের জন্য এই আয়োজন সাজানো হয়েছে ট্রেন্ডি, স্টাইলিশ ও বৈচিত্র্যময় ডিজাইনের পোশাক দিয়ে ।

    এবারের ঈদ কালেকশনে মেয়েদের জন্য রয়েছে শাড়ি, সালোয়ার কামিজ ওড়না, টপস ও বিভিন্ন ধরনের জুয়েলারী, ছেলেদের জন্য রয়েছে পাঞ্জাবি-পাজামা, শার্ট, ফতুয়া, টিশার্ট ও কটি। শিশু-কিশোরদের জন্য রয়েছে পাঞ্জাবি-পাজামা, শার্ট, সালোয়ার কামিজ ও ফ্রক। এবারের ঈদ বসন্তের শেষ এবং গ্রীষ্মের শুরুতে; পোশাক ডিজাইন, রং নির্বাচন ও ফেব্রিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

    It's Eid Anjan's - Lifestyle - 24 March 2024 (2)_1
    It’s Eid Anjan’s – Lifestyle – 24 March 2024 (2)_1

    শাড়ি: রাজশাহী বলাকা সিল্ক, মসলিন, হাফসিল্ক, কটন সিল্ক, লিনেন কটন, টাঙ্গাইল কটন ও ভয়েল কাপড়ে শাড়ি গুলোতে ব্লকপ্রিন্ট, স্ক্রীনপ্রিন্ট ও এম্ব্রয়ডারী করা হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে এক্সক্লুসিভ শাড়ি গুলোতে অলওভার এম্ব্রয়ডারী ও কারচুপি করা হয়েছে।

    সালোয়ার কামিজ ওড়না: কটন, লিনেন কটন, জ্যাকার্ড কটন, রেয়ন কটন, সফট সিল্ক, ডুপিয়ান সহ বিভিন্ন কাপড়ে মেয়েদের সালোয়ার কামিজ, সিঙ্গেল কামিজ ও শট, লং, মিডিয়াম লেন্থের টপস করা হয়েছে। কামিজ ও টপস গুলোতে সমসাময়িক ট্রেন্ড ও প্যাটার্ন বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। স্ক্রীন প্রিন্ট, এম্ব্রয়ডারী ও ডিজিটাল প্রিন্টের আনস্টিচ সালোয়ার কামিজ পাওয়া যাবে এবারের ঈদ আয়োজনে।

    পাঞ্জাবি: সাদা, লাল, মেরুন, কালো, নীল, সবুজ, বাদামি সহ বিভিন্ন রঙের পাঞ্জাবি রয়েছে এবারের ঈদ কালেকশনে। কটন, জ্যাকার্ড কটন, এন্ডি কটন, রেয়ন কটন, ভয়েল সহ বিভিন্ন কাপড়ের পাঞ্জাবিগুলোতে এম্ব্রয়ডারী, কারচুপি, ডিজিটাল প্রিন্ট ও স্ক্রীন প্রিন্ট করা হয়েছে। কলিদার কাট, রেগুলার ফিট ও স্লিম ফিট পাঞ্জাবি দিয়ে সাজানো হয়েছে ছেলেদের ঈদ কালেকশন। পাঞ্জাবি ছাড়াও কাতান, জ্যাকার্ড ডিজাইন ও ভারী কটন কাপড়ের কটি ও কটন কাপড়ে ফুল স্লিভ ও হাফ স্লিভ শাট ও ফতুয়া রয়েছে ঈদ কালেকশনে।

    জুয়েলারী: সিলভার ও বেইজ মেটাল ব্যবহার করে পাথর এবং অন্যান্য বিডস্ এর সমন্বয়ে নিজস্ব ডিজাইনে আধুনিক ও ঐতিহ্যমন্ডিত নকশায় নেকলেস, চোকার, আংটি, কানের দুল, নাকফুল, চুড়ি সহ বিভিন্ন ধরনের গয়না রয়েছে এবারের ঈদ কালেকশনে।

    প্রতিবারের মতো এবারের ঈদ কালেকশনেও একই পরিবারের জন্য রয়েছে একই রঙের একই ডিজাইনে গ্রুপ পোশাক। অঞ্জন’স এর সকল আউটলেট ও অনলাইন স্টোরে (www.anjans.com) ঈদ কালেকশনগুলো পাওয়া যাচ্ছে। প্রয়োজনে ফোন করুন ০১৬৭৭৫৫৮৮৭৭।

  • ডিসি-ইউএনওদের সর্বজনীন পেনশন স্কিম নিয়ে কাজ শুরু করতে নির্দেশনা

    ডিসি-ইউএনওদের সর্বজনীন পেনশন স্কিম নিয়ে কাজ শুরু করতে নির্দেশনা

    www.HelloBangla.News – অর্থনীতি – ২৪ মার্চ, ২০২৪: সরকার সর্বজনীন পেনশন স্কিম নিয়ে কাজ শুরু করতে দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের (ইউএনও) একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়েছে । প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সম্প্রতি এ বিষয়ে পরিপত্র জারি করা হয়েছে।

    এতে বলা হয়, সর্বজনীন পেনশন স্কিম মাঠ পর্যায়ে সুষ্ঠু ও সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিম্নবর্ণিত কার্যক্রম গ্রহণ ও পরিচালনা করতে হবে।

     

    ১। উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম:

    ১.১। সর্বজনীন পেনশন স্কিম সম্পর্কে জনগণকে সম্যকভাবে অবহিত ও আগ্রহী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে সভা-সমাবেশ, র‍্যালি, উদ্বুদ্ধকরণ মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করতে হবে। এ উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রমে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যম কর্মী ও কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করতে হবে।

    ১.২। জেলা ও উপজেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় ‘সর্বজনীন পেনশন স্কিম বাস্তবায়ন অগ্রগতি’ শীর্ষক এজেন্ডা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

    ১.৩। অধিক জনসমাগম হয় এমন স্থান যেমন: হাট-বাজার, গ্রোথ সেন্টার, গ্রামীণ মেলা ইত্যাদি জায়গায় জেলা ও উপজেলা তথ্য অফিসের মাধ্যমে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের বিজ্ঞাপন, জিঙ্গেল, ভিডিও নিয়মিত প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

    ১.৪। সম্ভাব্য টার্গেট জনগোষ্ঠীর মাঝে সর্বজনীন পেনশন স্কিম সংক্রান্ত লিফলেট, বুকলেট, ফ্লায়ার ইত্যাদি বিতরণ করা এবং এ স্কিমের সুফল সম্পর্কে ধারণা প্রদান করতে হবে।

    ১.৫। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়সহ জেলা-উপজেলার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে হেল্পডেস্ক, ফ্রন্টডেস্কের মাধ্যমে আসা সেবা গ্রহীতাদের সর্বজনীন পেনশন স্কিম সম্পর্কে ধারণা ও অংশগ্রহণে উৎসাহিত করতে হবে। এসকল হেল্পডেস্ক, ফ্রন্টডেস্ক থেকে সেবা প্রার্থীদের সর্বজনীন পেনশন স্কিম সম্পর্কিত তথ্যাদি সরবরাহ করতে হবে।

    ১.৬। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে প্রয়োজনে সর্বজনীন পেনশন স্কিম সম্পর্কিত পৃথক ডেস্ক স্থাপন করে সমরূপ কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।

    ১.৭। বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দাপ্তরিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচীতে ‘সর্বজনীন পেনশন স্কিম’ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

    ১.৮। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সকল এনজিওকে এ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে হবে।

    ১.৯। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সকল সরকারি দপ্তরকে এ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে হবে।

    ১.১০। উঠান বৈঠক, তথ্য আপা, কমিউনিটি ক্লিনিক ইত্যাদি মাধ্যমে প্রচারণার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। স্থানীয় ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্কে সর্বজনীন পেনশন স্কিম সম্পর্কে টিভি স্কুল প্রদর্শনের উদ্যোগ গ্রহণ করা। সিনেমা হলগুলোতে শো শুরু হওয়ার পূর্বে এবং মধ্য বিরতিতে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের ভিডিও প্রদর্শনের নির্দেশনা দিতে হবে।

    ১.১১। স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদেরকে সর্বজনীন পেনশন স্কিম সম্পর্কে সচেতন করে তাদের মাধ্যমে অভিভাবকদের উদ্বুদ্ধ করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠান, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, রচনা লিখন প্রতিযোগিতা ইত্যাদির আয়োজন করতে হবে।

    ১.১২। ইমাম/পুরোহিতদের মাধ্যমে মসজিদ/ উপসনালয়ে সর্বজনীন পেনশন স্কিম সম্পর্কে বয়ান/ খুতবা কিংবা আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে হবে।

    ১.১৩। সর্বজনীন পেনশন স্কিম সম্পর্কে জনগণকে সম্যকভাবে অবহিত ও আগ্রহী করার লক্ষ্যে বহুমুখী প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে।

    ১.১৪। এসব নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে স্থানীয়ভাবে প্রযোজ্য অন্যান্য যেকোনো কার্যক্রম গ্রহণ করা যেতে পারে।

     

    ২। নিবন্ধন কার্যক্রম: 

    ২.১। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারগুলোকে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের নিবন্ধনের জন্য উপযুক্ত করে তোলার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সকল ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকেই যেন জনগণ বিভিন্ন স্কিমে নিবন্ধন করতে পারে তার সকল ব্যবস্থা রাখতে হবে।

    ২.২। ডাক বিভাগের ডিজিটাল পোস্ট অফিসের আউটলেটের মাধ্যমে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের নিবন্ধন কার্যক্রমের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

    ২.৩। দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যাংকগুলোর শাখা ফ্রন্ট অফিস হিসেবে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের নিবন্ধন ও অর্থ জমা গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। অর্থ জমা দেয়ার প্রক্রিয়ায় কোন সমস্যার উদ্ভব হলে তা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে; প্রয়োজনে বিষয়টি জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

    ২.৪। নিবন্ধন কার্যক্রম জোরদার করতে প্রয়োজনে সময়ে সময়ে বিশেষ ক্যাম্পেইন ও ভ্রমমাণ বুথের মাধ্যমে নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

    ২.৫। নিবন্ধন সংক্রান্ত যেকোনো জটিলতার উদ্ভব হলে তা জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করতে হবে।

     

    ৩। মনিটরিং কার্যক্রম:

    ৩.১। মাঠ পর্যায়ে এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোথাও কোন সমস্যা পরিলক্ষিত হলে জাতীয় বাস্তবায়ন ও সমন্বয় কমিটির পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।

    ৩.২। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ নিজস্ব সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনায় যথাপদ্ধতিতে সার্বিক মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

    ৩.৩। যথাযথভাবে মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে যথোপযুক্ত ডিজিটাল পরিকাঠামো চালু করাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

  • আন্তর্জাতিকভাবে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণে বাংলাদেশ ভূমিকা রাখছে: প্রধানমন্ত্রী

    আন্তর্জাতিকভাবে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণে বাংলাদেশ ভূমিকা রাখছে: প্রধানমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ২৩ মার্চ, ২০২৪: আন্তর্জাতিকভাবে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণে বাংলাদেশ ভূমিকা রাখছে, বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক পর্যায়েও জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণে বাংলাদেশ তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।”

    আজ শনিবার (২৩ মার্চ) বিশ্ব আবহাওয়া দিবস উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার সদস্যভুক্ত রাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিসবটি পালনা করা হচ্ছে। দিবসটির এবছরের প্রতিপাদ্য,- ‘এ্যাট দ্যা ফ্রন্টলাইন অব ক্লাইমেট এ্যাকশন’।

    বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরে আধুনিক কারিগরি ও প্রযুক্তি সন্নিবেশ করা হয়েছে। দিবসটি পালিত হচ্ছে জেনে সন্তোষ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন,  যথোপযুক্ত, সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছে।”

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলির মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আওয়ামী লীগ সরকার বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে সরকার জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন ব্যবস্থাকে প্রাধান্য দিয়ে ১০০ বছর মেয়াদি বদ্বীপ পরিকল্পনা, পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। পর্যায়ক্রমে এ সকল পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জন ও ২০৪১ সালে একটি উন্নত রাষ্ট্রের মর্যাদা লাভে সক্ষম হবে।”

    তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরে আধুনিক কারিগরি ও প্রযুক্তি সন্নিবেশ করেছে। ফলে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সার্বিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ অন্যান্য চরম আবহাওয়ার বিভিন্ন মেয়াদী পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আগাম পূর্বাভাস প্রদানে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ ও প্রভাব থেকে উত্তরণের জন্য পরিবেশের বিপর্যয় রোধ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহায়ক কৌশল নির্ধারণ, প্রাকৃতিক সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার, জলবায়ুর পরিবর্তনের অভিঘাত সহিষ্ণু বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ বিশ্বের রোল মডেল। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণে বাংলাদেশ তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।”

    শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের সরকার আবহাওয়ার বিদ্যমান পর্যবেক্ষণাগারগুলোর সাথে কৃষি আবহাওয়া পূর্বাভাস সেবার মান উন্নয়নে আরো ৭টি নতুন কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার স্থাপনসহ কৃষি আবহাওয়া বিষয়ক গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করেছে।’ এছাড়াও ৫টি আবহাওয়া ভূপৃষ্ঠ পর্যবেক্ষণাগার, ১৩টি ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। ৩টি স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড রিসিভিং স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কালবৈশাখী ও বজ্রঝড়ের সতর্কবার্তা প্রদানসহ নিরাপদ বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণে জয়দেবপুরে ১টি আধুনিক ডপলার রাডার স্থাপন করা হয়েছে এবং রংপুরে অপর ১টি ডপলার রাডার স্থাপনের কাজ চলমান আছে।”

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আসুন, সকলে মিলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের আজীবন স্বপ্নের উন্নত-সমৃদ্ধ স্মার্ট সোনার বাংলা গড়ে তুলি’। তিনি ‘বিশ্ব আবহাওয়া দিবস-২০২৪’র সার্বিক সফলতা কামনা করেন।”