Author: Hello Bangla News

  • ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের প্রতি বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত: প্রধানমন্ত্রী

    ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের প্রতি বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত: প্রধানমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – অর্থনীতি – ১৯ মে, ২০২৪: ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের প্রতি বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত, বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।তিনি বলেন, “আমাদের দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের প্রতি বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত। একসময় এসব ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাই বড় হবে। তারা উপকৃত হবে, দেশ উপকৃত হবে।”

    আজ রবিবার (১৯ মে) সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় এসএমই পণ্যমেলা-২০২৪ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০০৯ সালে সরকার গঠন করে ২০১০ থেকে ২০২১ সালের প্রেক্ষিত পরিকল্পনা করে বাস্তবায়ন করেছি। এরই মধ্যে আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সুপারিশ পেয়েছি। ২০২৬ সাল থেকে আমরা উন্নয়নশীল দেশ হবো।”

    শেখ হাসিনা বলেন, “দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নানান পণ্য উৎপাদন হয়। এগুলো দেশের অভ্যন্তরে বাজারজাত করার সুযোগ তৈরি করতে হবে। নিজের দেশের চাহিদা বাড়ছে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ছে। দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি রপ্তানি করার সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। রপ্তানি বহুমুখী করতে হবে। পাশাপাশি দেশের ভেতরে বাজার সৃষ্টি করতে হবে। পদ্মার ওপারে বিশাল কর্মক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। সেখানে এসএমই উদ্যোক্তারা কাজ করতে পারেন।”

    তিনি বলেন, “আমাদের শিল্পখাতকে পরিবেশবান্ধব করতে চাই। শিল্পখাত একান্তভাবে পরিবেশবান্ধব হওয়া উচিত। যারা যেখানে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবেন অবশ্যই লক্ষ্য রাখবেন, যেন শিল্পের বর্জ্য নদীতে না পড়ে। আমাদের পানি যেন কোনোরকম দূষিত না হয়, সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি রাখার জন্য আমি অনুরোধ জানাচ্ছি।”

    তিনি আরও বলেন, “ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, এবং মহামারি করোনার কারণে সমস্ত কাজ বন্ধ, রপ্তানি বন্ধ, আমদানি বন্ধ সারা বিশ্বের অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি এবং নানারকম সমস্যার সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশেও এ ধাক্কাটা এসে পড়েছে। এর সাথে যুক্ত আছে ফিলিস্তিনে ইহুদিদের যুদ্ধ। বিদেশ থেকে যে পণ্যগুলো আমদানি করতে হয় তার প্রত্যেকটার দাম বেড়েছে। যার একটা প্রভাব আমাদের দেশে পড়ছে। মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা এটাকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছি। এটা শুধু করতে পারব, যখন আমরা নিজস্ব উৎপাদন বাড়াতে পারব।”

    সরকারপ্রধান বলেন, “আমাদের শ্রমিকদের প্রতি সকলের আন্তরিক করতে হবে। আপনি যদি বেশি কাজ চান তাহলে তাদের কর্মপরিবেশ তৈরি করে দিতে হবে। শুধু হুকুম দিলে হয় না. যা হুকুম দিলে অর্জন করতে পারবেন, আপনি ভালবাসা দিলে তারচেয়ে বেশি অর্জন করতে পারবেন। আস্থা-বিশ্বাস অর্জন করে আরও বেশি কাজ আদায় করে নিতে পারবেন। সেদিকে অবশ্য সকলকে দৃষ্টি দিতে হবে। কর্মপরিবেশ সৃষ্টি করা, শ্রমিকদের জীবনমান নিশ্চিত করতে হবে।”

    শেখ হাসিনা বলেন, “১৯৭৪ সালের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সমুদ্রসীমা আইন করে যান। যারা ৭৫ এর পর ক্ষমতায় এসেছিল- জিয়াউর রহমান, এরশাদ, খালেদা জিয়া, আমাদের যে সমুদ্রসীমা অধিকার আছে তা তাদের মুখে কোনোদিনই উচ্চারণ হয়নি। তা শুনি নাই। প্রথমবার এসেই উদ্যোগ নিয়েছিলাম।”

    বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী একাদশ জাতীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) পণ্যমেলার উদ্বোধন ঘোষণা করেন। ৭ দিনব্যাপী এ মেলা চলবে ২৫ মে পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতা ও দর্শনার্থীদের জন্য মেলা উন্মুক্ত থাকবে। শুধু দেশীয় উদ্যোক্তাদের তৈরি করা পণ্য নিয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এসএমই ফাউন্ডেশন মেলার আয়োজন করেছে। এতে ৩৫০টির বেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান অংশ নেবে, যার মধ্যে ৬০ শতাংশ নারী উদ্যোক্তা।

    শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জাকিয়া সুলতানা, বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. মাহবুবুল আলম, এসএমই ফাউন্ডেশনের নতুন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমানসহ অনেকে।

     

    জাতীয় এসএমই উদ্যোক্তা পুরস্কার পেলেন যারা:

    বর্ষসেরা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা স্বপ্না রাণী সেন, মো. শাফাত কাদির, মো. ওয়ালিউল্লাহ ভূঁইয়া, তাসলিমা মিজি, বর্ষসেরা পুরুষ মাঝারি উদ্যোক্তা আশরাফ হোসেন মাসুদ, বর্ষসেরা মাঝারি নারী উদ্যোক্তা সীমা সাহা ও বর্ষসেরা স্টার্ট আপ মদিনা আলী।

  • ভ্যাট বসলে মেট্রোরেলের সুনাম নষ্ট হবে: সেতুমন্ত্রী

    ভ্যাট বসলে মেট্রোরেলের সুনাম নষ্ট হবে: সেতুমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ১৯ মে, ২০২৪: ভ্যাট বসলে মেট্রোরেলের সুনাম নষ্ট হবে, বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।তিনি বলেন, “ভ্যাট বসলে মেট্রোরেলের সুনাম নষ্ট হবে। আমি মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি তুলে ধরেছি। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন।”

    আজ রবিবার (১৯ মে) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ঢাকা মেট্রোরেলের এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    সেতুমন্ত্রী বলেন, “ভারতে মেট্রোরেলে কি ভ্যাট আছে? ভারতে ভ্যাট নেই আমরা কেন করবো? আমি প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি। তিনি বিষয়টি বিবেচনা করবেন।”

    তিনি বলেন, “এই ঢাকা সিটি, যেটি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নে অর্জনে বিশ্বের বিস্ময়। বাংলাদেশের রাজধানী এখন ইকোনমিস্টের পর্যবেক্ষণে মোস্ট আন বিলিভ্যাবল সিটি অব দ্য ওয়ার্ল্ড।”

    বহির্বিশ্বের পরিবহনের সঙ্গে তুলনা করে সেতুমন্ত্রী বলেন, “এই শহরে যে বাসগুলো চলে, এখানে এত গরিব বাস। টিভিতে দেখি আফ্রিকান ছোট ছোট গাড়ি চলে, সেগুলো দেখতে অনেক সুন্দর। অথচ এই শহরের বাসগুলো জরাজীর্ণ।”

    তিনি বলেন, “এই জরাজীর্ণ বাস নিয়ে আমরা মিটিং করে বিআরটিএর সঙ্গে কথা বলেও সমাধান করতে পারিনি। ঢাকার সঙ্গে এসব যায় না। আজ আমাদের বুড়িগঙ্গা শেষ, কর্ণফুলীও শেষ।”

    সেতুমন্ত্রী বলেন, “আমাদের মেট্রোরেল অনেক সুন্দর, শব্দদূষণ নেই। অথচ পিলারগুলো পোস্টার দিয়ে ভরা। অপরিচ্ছন্ন নোংরা। মেট্রোরেল আমাদের সম্পদ। ২০৩০ সালে আমাদের টার্গেট ছিল ৬টি এমআরটি লাইনের যে কাজ শেষ হবে। ১ ও ৫ এর গ্রাউন্ড ম্যাপিং হয়ে গেছে।”

    তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর ব্রেইনে আজ মেট্রোরেল, এলিভ্যাটেড এক্সপ্রেস। এই বাংলাদেশ নিয়ে তার যে বহুমুখী পরিকল্পনা। এই ঢাকা তার অবিচ্ছেদ্য অংশ।”

    তিনি মেয়রের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমাকে সহযোগিতা করুন। যে বাসগুলো চলে, ভীষণ খারাপ লাগে। এত আধুনিক মেট্রোরেল থেকে নেমে যখন গরিব, জীর্ণশীর্ণ বাস দেখতে কেমন লাগে। আমাদের মালিকরা কি লজ্জা পায় না। তারা কি বিদেশে যান না, দেখেন না।”

    সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম আমিনুল্লাহ নূরীর সভাপতিত্বে এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রেজওয়ান আহমেদ তৌফিক, ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন সিদ্দিক, জাপানের রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনোরি, জাইকা বাংলাদেশে প্রতিনিধি ইচিগুচি তোমোহোদি।

  • বিগত ৪ বছর ঢাকায় নানাবিধ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করা হয়েছে: মেয়র তাপস

    বিগত ৪ বছর ঢাকায় নানাবিধ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করা হয়েছে: মেয়র তাপস

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ১৯ মে, ২০২৪: বিগত ৪ বছর ঢাকায় নানাবিধ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। তিনি বলেন, “বিগত চার বছর ধরে ঢাকাকে বিশ্বের বুকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করতে নানাবিধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং তা অব্যাহতভাবে চলমান।”

    আজ রবিবার (১৯ মে) নগর ভবনের মেয়র হানিফ মিলনায়তনে দায়িত্বভার গ্রহণের চার বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন।

    মেয়র তাপস বলেন, “ঢাকাবাসীর ওপর করের বোঝা না চাপিয়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছিলাম। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিগত চার বছরে আমরা কোনো খাতে কর বাড়াইনি। এ সময়ে ২৫টি নতুন খাত সৃষ্টি করা হয়েছে এবং ১৪টি নতুন খাত থেকে আমরা রাজস্ব আদায় শুরু করেছি। করোনাভাইরাস মহামারির মতো বৈশ্বিক সংকটের মাঝেও রাজস্ব আদায়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ইতিহাস সৃষ্টি করে চলেছে, যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

    তিনি বলেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরে করপোরেশনের রাজস্ব আদায় ছিল মাত্র ৫১৩ দশমিক ৯৬ কোটি টাকা, যা ২০২০-২১, ২০২১-২২ ও ২০২২-২৩ অর্থবছরে বেড়ে যথাক্রমে ৭০৩ দশমিক ৩১ কোটি, ৮৭৯ দশমিক ৬৫ কোটি ও এক হাজার ৩১ দশমিক ৯৭ কোটি টাকা হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের এপ্রিল মাস পর্যন্ত যে রাজস্ব আদায় হয়েছে, তা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৫৪ কোটি টাকা বেশি।

    বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সফলতা তুলে ধরে মেয়র তাপস বলেন, “আমরা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে আমূল পরিবর্তন সাধন করেছি। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম আধুনিকায়নে অন্তর্বর্তীকালীন বর্জ্য স্থানান্তরকেন্দ্র অন্যতম একটি অনুষঙ্গ। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর বিগত চার বছরে নতুন ৪১টি অন্তর্বর্তীকালীন বর্জ্য স্থানান্তরকেন্দ্র নির্মাণ করেছি। বাকি ওয়ার্ডগুলোতেও নির্মাণকাজ চলমান।”

    তিনি আরও বলেন, “বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম আধুনিকায়নে চার বছরে নতুন ২৫টি ডাম্প ট্রাক ক্রয়, প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রাথমিক বর্জ্য সংগ্রহকারী নিবন্ধন, পুরোনো পাঁচটি অঞ্চলে চিকিৎসা-বর্জ্য সংগ্রহকারী নিবন্ধন করেছি। নতুন পাঁচটি অঞ্চলে চিকিৎসা-বর্জ্য সংগ্রহকারী নিবন্ধন কার্যক্রম চলমান। সর্বোপরি সূচি অনুযায়ী নিয়মিতভাবে বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ঝাড় দেওয়া ও রাতের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন বর্জ্য স্থানান্তরকেন্দ্র থেকে মাতুয়াইল কেন্দ্রীয় ভাগাড়ে বর্জ্য স্থানান্তর নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন ১৫টি ডাম্প ট্রাক ও ১০টি পে- লোডার কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সামষ্টিকভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে আধুনিকায়ন নিশ্চিত হয়েছে। এতে শহরের সৌন্দর্য যেমন বেড়েছে, তেমনি নগরবাসীকে এখন আর যত্রতত্র উপচেপড়া বর্জ্যের উৎকট গন্ধে পথ চলতে হয় না।”

    চার বছরে ১০ উন্মুক্ত উদ্যান ও ১১টি খেলার মাঠ সংস্কার করা হয়েছে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, “খেলাধুলার জন্য পর্যাপ্ত মাঠ ও গণপরিসর সৃষ্টির লক্ষ্যে আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে খেলার মাঠ বা উদ্যান প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছিলাম। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ১১টি খেলার মাঠ সংস্কার করা হয়েছে। পাঁচটি ওয়ার্ডে নতুন খেলার মাঠ প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি বিগত চার বছরে ১০টি উদ্যান প্রতিষ্ঠা করে তা জনগণের জন্য অবমুক্ত করে দেওয়া হয়েছে এবং চারটি মুক্তাঙ্গন প্রতিষ্ঠার কাজ চলমান।”

    প্রতিটি ওয়ার্ডে সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্র, গণশৌচাগার ও কাঁচাবাজার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে জানিয়ে মেয়র বলেন, “বিগত চার বছরে তিনটি সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্রের সংস্কার সম্পন্ন হয়েছে এবং ছয়টি সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্র সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৫টি ওয়ার্ডে নতুন সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্র নির্মাণাধীন। ৩৩টি ওয়ার্ডে নতুন সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্মজীবী মানুষ বিশেষ করে নারীদের সুবিধার্থে প্রতিটি ওয়ার্ডে ন্যূনতম একটি করে গণশৌচাগার নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। তারই ধারাবাহিকতায় বিগত চার বছরে ৩৬টি গণশৌচাগার নির্মাণ ও সংস্কার করা হয়েছে।”

    তিনি বলেন, “বর্তমানে পাঁচটি নতুন কাঁচাবাজারের নির্মাণকাজ চলমান। চারটি ওয়ার্ডে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুটি কাঁচাবাজারের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ ও সংস্কারকাজ সমাপ্ত হয়েছে এবং দুটি কাঁচাবাজারের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ ও সংস্কার কাজের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

    মেয়র তাপস বলেন, “দায়িত্ব নেওয়ার পর মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম ঢেলে সাজাতে আমরা সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিই। সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে ২০২০ সালের ৬ জুন আমরা বছরব্যাপী সমন্বিত মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম শুরু করি। বর্তমানে সূচি অনুযায়ী সারাবছরই আমরা এ কার্যক্রম পরিচালনা করে চলেছি।”

    মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বেগবান করতে নতুন মশককর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আগে ৪২৪ মশককর্মী এ কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। বর্তমানে এক হাজার ৫০  জন মশককর্মী ও মশক সুপারভাইজার নিয়মিতভাবে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছেন। একইসঙ্গে আমরা প্রয়োজনীয় যান-যন্ত্রপাতিও বাড়িয়েছি।”

    তিনি আরও বলেন, “আমার দায়িত্বভার নেওয়ার পূর্বে ৫৫১টি ফগার মেশিন, ৪৩১টি হস্তচালিত মেশিন ও ১৭টি হুইলব্যারো মেশিন দিয়ে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো। বিগত চার বছরে আমরা নতুন আরও ৫৩৫টি ফগার মেশিন, ৬০০টি হস্তচালিত মেশিন ও ২৯টি হুইলব্যারো মেশিন কিনেছি।”

    ডিএসসিসি মেয়র জানান, “কোনো ওয়ার্ডে সপ্তাহে ১০ জনের বেশি ডেঙ্গুরোগী শনাক্ত হলে সে ওয়ার্ডকে লাল চিহ্নিত এলাকা (রেড জোন) ঘোষণা করে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হয়ে থাকে। করপোরেশনের ১০টি অঞ্চলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।”

    তিনি বলেন, “গত বছরের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত আমরা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় নয় হাজার ৭৬৪ জন ডেঙ্গুরোগী পেয়েছি। তখন সারাদেশে রোগী ছিল ২ লাখ ৭১ হাজার ১৭৫ জন, যা সারাদেশের মোট রোগীর মাত্র ৩ দশমিক ৬০ শতাংশ। ফলে সফলতার সঙ্গে আমরা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছি।”

  • এবার এভারেস্ট জয় করলেন বাবর আলী

    এবার এভারেস্ট জয় করলেন বাবর আলী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ১৯ মে, ২০২৪: বিশ্বের উচ্চতম শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট। এবার আরও একজন বাংলাদেশী এই এভারেস্ট জয় করলেন। দেশের ষষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে বাবর আলী এবার এভারেস্ট চূড়ায় লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়েছেন।আজ রবিবার (১৯ মে) বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছান তিনি।

    বাবর আলীর আগে ২০১৩ সালের ২০ মে এভারেস্ট জয় করেন মুন্সিগঞ্জের খালেদ হোসাইন (সজল খালেদ)। অর্থাৎ দীর্ঘ ১১ বছর বিরতির পর বাংলাদেশি হিসেবে পৃথিবীর উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ জয় করলেন বাবর।

    প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এভারেস্ট জয় করেন মুসা ইব্রাহীম। ২০১০ সালের ২৩ মে এভারেস্টের চূড়ায় ওঠেন তিনি। এরপর ২০১১ সালের ২১ মে মোহাম্মদ আবদুল মুহিত, ২০১২ সালের ১৯ মে নিশাত মজুমদার, ২০১২ সালের ২৬ মে ওয়াসফিয়া নাজরীন এবং ২০১৩ সালের ২০ মে সজল খালেদ এভারেস্টের চূড়ায় পা রাখেন। নিশাত মজুমদার প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে এভারেস্ট জয় করেন।

    জানা যায় বাবর আলী আজ সকাল স্থানীয় সময় সাড়ে ৮টা এবং বাংলাদেশ সময় ৮টা ৪৫ মিনিটে এভারেস্টের উচ্চতম চূড়া ছুঁয়েছেন। ক্ষণিকের জন্য প্রকৃতি মাতা তাকে উচ্চতম চূড়ায় অবস্থান করার সুযোগ দিয়েছেন।

    বাবর আলী এখন ক্যাম্প-৪-এ নামার পথে রয়েছেন। এটা ডেথ জোন বলা চলে। সেখানে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য ছবি পেতে আরও কিছু সময় লাগবে।

    বাবর আলীর লক্ষ্য শুধু এভারেস্ট নয়। তিনি একই সঙ্গে বিশ্বের চতুর্থ উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ লোৎসেও জয় করতে চান। রাবিবর ক্যাম্প-৪-এ নেমে মাঝরাতে আবারও পর্বতারোহণ শুরু করবেন বাবর। সবকিছু ঠিক থাকলে সোমবার (২০ মে) ভোরে লোৎসেও জয় করবেন তিনি।

    ফরহান জামানের দেওয়া তথ্যমতে, এর আগে কোনো বাংলাদেশি লোৎসে পর্বতশৃঙ্গে সামিট করেননি। আবার একই অভিযানে দুটি আট হাজারী শৃঙ্গে চড়েননি। লক্ষ্য পূরণ হলে পর্বতারোহণে বাবর আলী বাংলাদেশের হয়ে ইতিহাসের নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করবেন।

    গত ১ এপ্রিল নেপালের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন বাবর আলী। সেখানে পর্বতারোহণের প্রয়োজনীয় অনুমতি ও নানা সরঞ্জাম কেনার কাজ শেষে কাঠমান্ডু থেকে লুকলার উদ্দেশ্যে রওনা করেন। প্রায় এক সপ্তাহ ট্র্যাকিং শেষে পৌঁছান এভারেস্টের বেসক্যাম্পে। সেখান থেকেই শুরু করেন মূল অভিযান।

    বাবর আলী চট্টগ্রামের বাসিন্দা। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) থেকে এমবিবিএস পাস করেছেন। ৩৩ বছর বয়সী এ যুবক লেখাপড়া শেষে শুরু করেছিলেন চিকিৎসাপেশা। তবে থিতু হননি। চাকরি ছেড়ে দেশ-বিদেশ ঘোরার কর্মযজ্ঞ শুরু করেন।

    এভারেস্ট জয়ের আগে বাবর আলী সারগো রি (৪ হাজার ৯৮৪ মিটার), সুরিয়া পিক (৫ হাজার ১৪৫ মিটার), মাউন্ট ইয়ানাম (৬ হাজার ১১৬ মিটার), মাউন্ট ফাবরাং (৬ হাজার ১৭২ মিটার), মাউন্ট চাউ চাউ কাং নিলডা (৬ হাজার ৩০৩ মিটার), মাউন্ট শিবা (৬ হাজার ১৪২ মিটার), মাউন্ট রামজাক (৬ হাজার ৩১৮ মিটার), মাউন্ট আমা দাবলাম (৬ হাজার ৮১২ মিটার) ও চুলু ইস্ট (৬ হাজার ৫৯ মিটার) পর্বতের চূড়ায় উঠেছেন এ তরুণ।

  • আগের তুলনায় তিন গুন হয়েছে কোটিপতি প্রার্থীর সংখ্যা: টিআইবি

    আগের তুলনায় তিন গুন হয়েছে কোটিপতি প্রার্থীর সংখ্যা: টিআইবি

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ১৯ মে, ২০২৪: আগের তুলনায় তিন গুন হয়েছে কোটিপতি প্রার্থীর সংখ্যা, বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে ২০১৯ সালের তুলনায় এবার উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীদের আয় বেড়েছে ১৪০ শতাংশ, সম্পদ বেড়েছে ২৩১ শতাংশ। এমন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে টিআইবির সংবাদ সম্মেলনে।

    আজ রবিবার (১৯ মে) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) কর্তৃক ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণে এ তথ্য জানায় সংস্থাটি।

    সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, কোথাও কোথাও সংসদ সদস্যদেরও সম্পদ বৃদ্ধিতে পেছনে ফেলেছেন চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানরাও। এবার নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ৭১ শতাংশ প্রার্থীই ব্যবসায়ী বলে জানায় সংস্থাটি।

    টিআইবি তাদের বিশ্লেষণে জনায়, ২৫ শতাংশ প্রার্থীর ঋণ রয়েছে। প্রতি চারজন প্রার্থীর একজন ঋণগ্রস্ত প্রার্থী রয়েছেন। মোট প্রার্থীর মধ্যে ১৩ দশমিক ১৩ শতাংশ প্রার্থী বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত বলেও জানিয়েছে টিআইবি।

    উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থীদের তথ্য বিশ্লেষণে টিআইবি জানায়, দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে পাঁচ বছরে চেয়ারম্যান প্রার্থীর আয় বেড়েছে প্রায় ১১ হাজার শতাংশ। এক্ষেত্রে দেখা যায় অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে সাড়ে ১১ হাজার ও নির্ভরশীলদের সম্পদ বৃদ্ধির হার ১২ হাজার ৪০০ শতাংশ।

    টিআইবি জানায়, দ্বিতীয় ধাপে ১৫৭ উপজেলায় চেয়ারম্যান ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান মিলে মোট প্রার্থী এক হাজার ৮১১ জন। এরমধ্যে চেয়ারম্যান পদে ২৩৫ জন, ভাইস চেয়ারম্যান ১৬৭ জন, নারী ভাইস চেয়ারম্যান ৬০ জনসহ মোট ৪৬২ জন প্রার্থী ঋণগ্রস্ত।

    সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সংসদের মতো উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে একদলীয় প্রভাব রয়েছে। অধিকাংশ প্রার্থী এক দলের।

  • করোনার কোভ্যাক্সিনের টিকায়ও ভয়ঙ্কর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে

    করোনার কোভ্যাক্সিনের টিকায়ও ভয়ঙ্কর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে

    www.HelloBangla.News – প্রযুক্তি – ১৯ মে, ২০২৪: করোনার প্রতিষেধক হিসেবে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির টিকা আবিস্কারের বিষয়টি বিশ্বে সবার মনে স্বস্তি দিয়েছিলো। কিন্তু সম্প্রতি বিভিন্ন টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা জানিয়ে আসছে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা।কিছুদিন আগেই কোভিশিল্ডের টিকায় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা জানা গিয়েছিল। তবে শুধু কোভিশিল্ড নয়। ভয়ঙ্কর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে কোভ্যাক্সিনের টিকায়ও।

    আর বিস্ফোরক এই দাবি করেছেন ভারতের বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। এই টিকা নেওয়া ব্যক্তিদের ওপর এক বছর ধরে পর্যবেক্ষণ চালিয়েছেন তারা। আর তারপরই সামনে এসেছে ভয়ঙ্কর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার তথ্য।

    গত বৃহস্পতিবার (১৬ মে) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোভ্যাক্সিন নিয়েছেন এমন ৩০ শতাংশ রোগীদের মধ্যে টিকার ভয়ঙ্কর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে বলে বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএইচইউ) গবেষকরা দাবি করেছেন। যদিও ওই দাবি নাকচ করে দিয়েছে কোভ্যাক্সিনের প্রস্তুতকারক সংস্থা ভারত বায়োটেক।

    বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএইচইউ) গবেষকদের দাবি, কোভ্যাক্সিন নিয়েছেন এমন ৯২৬ জনের ওপরে এক বছর ধরে পর্যবেক্ষণ চালিয়েছেন তারা। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এই টিকা নেওয়া ব্যক্তিদের প্রতি ৩ জনের মধ্যে একজনের দেহে শ্বাসকষ্ট থেকে শুরু করে চর্মরোগ, স্ট্রোক, গিলান-বারি সিন্ড্রোম ও রক্ত জমাট বাঁধার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

    এর মধ্যে চর্মরোগ হয়েছে ১০.৫ শতাংশ টিকা গ্রহণকারীর। স্নায়ুর সমস্যায় ভুগছেন ৪.৭ শতাংশ রোগী। পেশির সমস্যায় ভুগছেন ৫.৮ শতাংশ রোগী। ১০.২ শতাংশের কিশোর-কিশোরীর দেহে নানাবিধ শারীরিক সমস্যা দেখা গেছে।

    এছাড়া প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সাধারণ ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছেন ৮.৯ শতাংশ। ৪.৬ শতাংশ নারীর দেহে ভ্যাকসিনের প্রভাবে ঋতুস্রাবজনিত নানা সমস্যা দেখা গেছে। ২.৭ শতাংশ নারীর মধ্যে চোখের সমস্যা দেখা গেছে।

    বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা রিপোর্ট বলছে, গবেষণার জন্য বেছে নেওয়া ৯২৬ জনের মধ্যে ৩০ শতাংশ অ্যাডভার্স ইভেন্টস অব স্পেশ্যাল ইন্টারেস্ট-এর (এইএসআই) তালিকায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই বলছেন, শ্বাসযন্ত্রের ওপরের অংশে ভাইরাল সংক্রমণের সমস্যা ছিল। এছাড়াও রক্ত জমাট বাঁধা, অ্যালার্জির সমস্যাও ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।

    এই গবেষণা ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত করা হয়েছে। যাদের ওপর পরীক্ষা করা হয়েছে, তাদের ৬৩৫ জন কিশোর আর ২৯১ জন প্রাপ্তবয়স্ক। কিশোরদের মধ্যে এইএসআই-এর ত্বক সংক্রান্ত সমস্যা, সাধারণ শারীরিক সমস্যা, স্নায়ু সংক্রান্ত সমস্যা দেখা গেছে।

    এছাড়াও প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও স্নায়ু সংক্রান্ত সমস্যা, সাধারণ শারীরিক সমস্যা এইএসআই-এর আওতায় থাকতে দেখা গেছে।

    অন্যদিকে দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত এই গবেষণা সংক্রান্ত খবরে বলা হয়েছে, কিশোরীদের মধ্যেও এইএসআই-এর সমস্যা রয়েছে। সেক্ষেত্রে টাইফয়েডের মতো সমস্যার কথা উঠে এসেছে।

    বলা হচ্ছে, যারা কোভ্যাক্সিনের দুটি ডোজ নিয়েছেন তাদের থেকে এইএসআই-এর প্রভাবে প্রভাবিত হওয়ার অনেক বেশি ঝুঁকি রয়েছে যারা তিনটি ডোজ বা বিবিভি১৫২ (BBV152) এর চারটি ডোজ নিয়েছেন। তাদের ঝুঁকির পরিমাণ ২ গুণ বেশি।

    অবশ্য বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে কোভ্যাক্সিনের প্রস্তুতকারক সংস্থা ভারত বায়োটেক।

  • করোনা থেকে রক্ষায় সিঙ্গাপুরে সবাইকে মাস্ক পরার নির্দেশ

    করোনা থেকে রক্ষায় সিঙ্গাপুরে সবাইকে মাস্ক পরার নির্দেশ

    www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ১৯ মে, ২০২৪: বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আবার করোনা ছড়িয়ে পড়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সিঙ্গাপুরেও নতুন করে ছড়িয়ে পড়ছে কোভিড। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিতে সপ্তাহখানেকের মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ২৬ হাজার মানুষ।

    পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশটিতে সবাইকে মাস্ক পরার পরামর্শ দিয়েছেন সিঙ্গাপুরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী। শনিবার (১৮ মে) রাতে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে।

    জানা গেছে, সিঙ্গাপুরে নতুন করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। গত ৫ মে থেকে ১১ মে পর্যন্ত সময়ের মধ্যে দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২৫ হাজার ৯০০ জনেরও বেশি মানুষ। এমন অবস্থায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওং ইয়ে কুং শনিবার দেশের সবাইকে আবার মাস্ক পরার পরামর্শ দিয়েছেন।

    তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, আগামী ২ থেকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে সিঙ্গাপুরে করোনার সংক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছতে পারে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওং ইয়ে কুং বলেছেন, ‘আমরা সংক্রমণের শুরুর দিকে রয়েছি, এখন এটি ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। এই ভাবে চললে আর ২ থেকে ৪ সপ্তাহের মধ্যেই এটা শীর্ষে পৌঁছাবে। অর্থাৎ জুনের মাঝামাঝি থেকে শেষদিকে।’

    সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ৫ মে থেকে ১১ মে পর্যন্ত সময়ের মধ্যে দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২৫ হাজার ৯০০ জনেরও বেশি মানুষ। এর আগের সপ্তাহে সংক্রমিত হয়েছিলেন ১৩ হাজার ৭০০ জন।

    এই পরিস্থিতিতে চারটি বিষয় খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে সকলকে। প্রথমত, বার বার হাত ধোয়ার মতো সতর্কতা অবলম্বন করা। দ্বিতীয়ত, ভিড় এলাকায় গেলে, বিশেষত সংক্রমিত হওয়ার লক্ষণ থাকলে মাস্ক পরা। তৃতীয়ত, অসুস্থতা থাকলে সামাজিক মেলামেশা বন্ধ রাখা এবং চতুর্থত, করোনাভাইরাস টিকা নেওয়া।

    এদিকে কোভিডে আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগই তাদের বাড়িতে থাকলেও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সংখ্যাও বাড়ছে। এর আগের সপ্তাহে প্রতিদিন যেখানে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ১৮১ জন, সেখানে এবার তা বেড়ে হয়েছে ২৫০। যদিও তাদের মধ্যে আইসিইউতে ভর্তি হয়েছেন মাত্র ৩ জন। গত সপ্তাহে এই সংখ্যা ছিল ২।

    ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সের ব্যক্তি, চিকিৎসাগতভাবে দুর্বল ব্যক্তি এবং বৃদ্ধাশ্রমের বাসিন্দা-সহ যারা গুরুতর রোগের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন তাদের কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের অতিরিক্ত ডোজ গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করেছেন দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ।

  • কিরগিজস্তানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা নিরাপদ আছে: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

    কিরগিজস্তানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা নিরাপদ আছে: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ১৯ মে, ২০২৪: গত ১৭ মে রাতে কিরগিজস্তানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে ছাত্রদের মধ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। ছাত্রদের একটি সংঘাতকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনতা বিদেশি ছাত্রদের বিরুদ্ধে সহিংস হয়ে উঠে।তবে সেই সহিংসতায় এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর গুরুতর আহত বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়া তাসখন্দে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে শিগগির কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেক সফর করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    আজ রবিবার (১৯ মে) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

    বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বিশকেকে ১৭ মে রাতের ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আমরা উজবেকিস্তানে আমাদের দূতাবাসের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। দূতাবাস কিরগিজস্তানের বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও কিরগিজ সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে অব্যাহত যোগাযোগ রাখছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোনো গুরুতর আহত বা প্রাণহানির খবর নেই। দূতাবাস এরই মধ্যে তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে একটি জরুরি যোগাযোগ নম্বর শেয়ার করেছে, যাতে এই বিষয়ে যেকোনো সমস্যার জন্য তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দূতাবাসের মাধ্যমে সরকার শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিরগিজ প্রজাতন্ত্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছে, যার মধ্যে পররাষ্ট্র ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রণালয় রয়েছে। আমরা গভীরভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। আমরা তাসখন্দে নিযুক্ত আমাদের রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সুস্থতা সম্পর্কে জানতে শিগগির বিশকেক সফর করতে বলেছি।

    স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গত ১৩ মে কিরগিজ ও পাকিস্তানি-মিসরি ছাত্রদের মধ্যে মারামারির একটি ভিডিও ভাইরাল হলে স্থানীয় জনতা বিদেশি ছাত্রদের বিরুদ্ধে সহিংস হয়ে উঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, সংঘবদ্ধ জনতা দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে বিদেশি ছাত্রদের পেটাচ্ছে।

    ওই সংঘাতের কারণে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন সেখানকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। তবে দেশটিতে বাংলাদেশের কোনো দূতাবাস নেই। উজবেকিস্তানের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে কিরগিজস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়।

    এদিকে স্থানীয়দের সহিংসতার কারণে উদ্বিগ্ন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা চার্টার্ড ফ্লাইটে দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। যদিও স্থানীয় প্রশাসন বলছে, পরিস্থিতি এখন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। আর এই সহিংসতা ছড়ানোর জন্য জড়িতদের আইনের আওতায় নেওয়া হয়েছে।

    জুনে যদিও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা রয়েছে; নিরাপত্তার স্বার্থে তারা একত্রিত হয়ে চার্টার্ড ফ্লাইটে দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। এ ব্যপারে (দায়িত্বপ্রাপ্ত তাসখন্দ) দূতাবাস তাদের সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা অনলাইনে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।

  • বাংলাদেশে টেকসই উদ্ভাবনে উৎসাহিত করতে চায় ইউএসডিএ

    বাংলাদেশে টেকসই উদ্ভাবনে উৎসাহিত করতে চায় ইউএসডিএ

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ১৮ মে, ২০২৪: টেকসই উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস ঢাকার ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব অ্যাগ্রিকালচার (ইউএসডিএ) । তাছাড়া প্রাণিসম্পদ খাতে দক্ষতা বাড়ানো, জলবায়ু সহিষ্ণুতার প্রচারে বাংলাদেশে নতুন ক্লাইমেট স্মার্ট লাইভস্টক প্রজেক্ট চালু করছে ইউএসডিএ। ফুড ফর প্রোগ্রেস প্রোগ্রামের মাধ্যমে ইউএসডিএ পাঁচ বছরে এ প্রকল্পে ৩৪ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে।

    আজ শনিবার (১৮ মে) ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস এ তথ্য জানায়।

    টেকসই ফলাফল অর্জনের জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে ইউএসডিএ। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে এবং প্রভাবকে প্রশমিত করতে বাংলাদেশকে জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি পদ্ধতি বাস্তবায়নে সহায়তা করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    উদ্ভাবনী এ প্রকল্পটি উল্লেখযোগ্যভাবে গবাদি পশুর উৎপাদন বাড়াবে, বাজারে সুযোগ বাড়াবে এবং নির্ধারিত ১৬টি জেলায় জলবায়ু-স্মার্ট পদ্ধতির বাস্তবায়ন করবে। এর মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত দুই লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি গবাদি পশু চাষি উপকৃত হবেন। প্রকল্পটি বাংলাদেশের জাতীয় জলবায়ু লক্ষ্যের সঙ্গে মিল রেখে উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তির প্রবর্তন, প্রাণী স্বাস্থ্যের উন্নয়ন এবং গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন করবে।

    উৎপাদনকারীদের সর্বশেষ ক্রেতার সঙ্গে সংযোগ করিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে এবং বিনিয়োগের মূলধনে পবেশাধিকার বাড়িয়ে, প্রকল্পটির লক্ষ্য পাঁচ বছরে গবাদি পশুর বিক্রয় ৯৪০ মিলিয়ন ডলার বাড়ানো।

    ইউএসডিএ’র অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যাটাশে সারাহ গিলেস্কি বলেন, উদ্ভাবনী এ প্রকল্পটি চালু করতে পেরে আমরা আনন্দিত। প্রকল্পটি একই সঙ্গে ক্ষুদ্র পরিসরে যারা গবাদি পশু উৎপাদন করেন তাদের উৎপাদন বাড়ানো ও জীবিকা উন্নত করতে সহায়তা করবে, পাশাপাশি মিথেন নির্গমনও কমাবে। এটা আমাদের দেখাবে যে, জলবায়ু পরিবর্তনে অভিযোজন এবং প্রশমন করার বিনিময়ে কৃষি উৎপাদন কমবে না।

    ইউএসডিএ ক্লাইমেট স্মার্ট লাইভস্টক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে এসিডিআই/ভিওসিএ।

  • আলোর দূষণের ফলে মানসিক ব্যাধিও দেখা দেয়

    আলোর দূষণের ফলে মানসিক ব্যাধিও দেখা দেয়

    www.HelloBangla.News – মতামত – ১৮ মে, ২০২৪: বর্তমান গবেষকরা জানিয়েছে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত আলোর মধ্যে জীবন ধারণ মানব দেহে নানা ধরণের সমস্যার সৃষ্টি হয়। আর এটাকেই বলা হচ্ছে আলোর দুষণ।

    আমরা এতদিন শুনে এসেছি বায়ুদূষণ, পানিদূষণ, শব্দদূষণ সহ নানা ধরনের দূষণের কথা।  কিন্তু আলোও যে দূষণ ঘটাতে পারে, তা আমাদের অজানা।

    আলো দূষণ আসলে কী? আর এর কারণে মানুষের ঠিক কী ক্ষতি হয়? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ যদি এখন থেকেই ওইসব কারণের দিকে আলোকপাত করে আলোর দূষণ না কমায়, তবে একসময় তা বায়ুদূষণের মতো জটিল আর বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

    আলোর সঠিক মাত্রা কত?

    আলো দূষণ, ইংরেজিতে একে বলা হয় লাইট পলিউশন। মানুষ এবং প্রাণীজগতের সকল সদস্যের দিনের কর্মযজ্ঞের যে চক্র তাতে দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় শরীরের আলো থেকে দূরে বিশ্রাম দরকার। আবার প্রয়োজনের চেয়ে বেশি মাত্রায় এবং বেশি সময় ধরে জ্বলে থাকা আলো অস্বস্তি আর বিরক্তির পাশাপাশি অন্য সমস্যাও তৈরি করে।

    সহজভাবে বলতে গেলে, কোথাও যদি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মাত্রার আলো থাকে, বা কোথাও যদি অপ্রয়োজনীয় আলো থাকে, তাহলে সেটিকেই আলো দূষণ বলে ব্যাখ্যা করেন বিশষজ্ঞরা।

    মূলত কৃত্রিম আলো জন্যই মানব দেহের ক্ষতি হচ্ছে:

    যত্রতত্র নিয়ম না মেনে সড়ক বাতি স্থাপন, ভবনের ভেতরে ও বাইরের অতিরিক্ত আলোকসজ্জা, সড়কে ছোট-বড় নানা আকারের বিলবোর্ড বসিয়ে তাতে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন সহ নানা কারণে আলো দূষণ হচ্ছে। তবে ঠিক কত মাত্রার আলো হলে তা দূষণের পর্যায়ে পড়বে না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনও মানদণ্ড নেই। কারণ, কোনও স্থানে কতটুকু আলো প্রয়োজন, তা অনেক ধরনের নিয়ামকের ওপর নির্ভর করে। যেমন- স্থানের ধরণ, আয়তন, গুরুত্ব ইত্যাদি।

    তবে বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি)-তে ভবনে কী ধরনের আলো ব্যবহার করা উচিৎ, তা নিয়ে কিছু নির্দেশনা দেওয়া আছে।

    অ্যাডেক্স লাইটিং সিস্টেম লিমিটেড নামক কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারানা আলী বলেন, আলোর ক্ষেত্রে ঘরে কী ধরনের আসবাবপত্র আছে, ঘরটি কোন কাজে ব্যবহার করা হবে, তা আয়তন বা ভবনটি কী দিয়ে তৈরি ইত্যাদি দেখতে হয়। ধরা যাক, কোন অফিসের আয়তন ১০০ বর্গ ফুট, সেক্ষেত্রে সেখানের অভ্যন্তরীণ আলোর মাত্রা আনুমানিক ৭৪ থেকে ২১০ ওয়াটের মাঝে থাকতে হবে। আবার ভবনের বাইরের আলোর ক্ষেত্রে এটি হওয়া উচিৎ ৪৯ থেকে ৯১ ওয়াটের মাঝে।

    ঢাকা শহর কৃত্রিম আলো সবচেয়ে বেশি:

    সর্বশেষ ২০১৬ সালে করা ‘ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস অব আর্টিফিশিয়াল নাইট স্কাই ব্রাইটনেস’ নামে এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বের ৮০ শতাংশ মানুষ আকাশ জুড়ে থাকা কৃত্রিম আলোর নীচে বসবাস করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের ৯৯ শতাংশ মানুষ ওই আলোর জন্য রাতের প্রকৃত চিত্র প্রায় দেখতেই পায় না।

    বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আলো দূষণের ভয়াবহতা কতটা, সে সম্বন্ধে সাম্প্রতিক সময়ে করা বিশদ কোনও গবেষণা খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে ২০০৩ থেকে ২০১৩ সাল, এই ১০ বছরের তথ্য নিয়ে করা ‘নেক্সাস বিটুইন লাইট পলিউশন এ্যান্ড এয়ার টেম্পারেচার: আ স্টাডি অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক গবেষণায় দেখা গেছে, আলো দূষণ বাড়ছে বাংলাদেশে।

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কাজী সাইফুল ইসলামের করা সেই গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০০৩ সালে সমগ্র বাংলাদেশের মাত্র সাত দশমিক এক শতাংশ এলাকায় আলো দূষণ হত। কিন্তু এক দশক পরে আলো দূষণ বেড়ে হয়েছে ২৫ দশমিক চার শতাংশ।

    সেখানে বলা হয়েছে, ২০০৩ সালে শহর এলাকাগুলোতে আলো দূষণ লক্ষ্য করা যেত। কিন্তু ২০১৩ সালে সেই দূষণ শহরতলি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। গবেষণা অনুযায়ী, আলো দূষণের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। ঢাকার পরেই আছে চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট, রাজশাহী, যশোর, রংপুরের নাম।

    আলো দূষণের অন্যতম উৎস বিলবোর্ড?

    ঢাকা সহ সারাদেশের যে আলো দূষণের পেছনে সড়কবাতির পাশাপাশি বিলবোর্ডের প্রত্যক্ষ ভূমিকা আছে বলে মনে করেন বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞরা।

    ওইসব বিলবোর্ড ও সড়কবাতির কারণে প্রচুর সড়ক দুর্ঘটনাও হয় বলে মনে করেন তারা।

    বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়— বুয়েটের অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, “ডেস্ট্রাক্টিভ ড্রাইভিংয়ের অন্যতম কম্পোনেন্ট শহরের যত্রতত্র জুড়ে থাকা বিলবোর্ড।

    বিলবোর্ডের আলো ক্ষণে ক্ষণে পরিবর্তন হয় এবং তাতে বিজ্ঞাপন চলে। এতে ড্রাইভারদের মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটে।”

    “আমাদের বিলবোর্ডগুলোতে এত উচ্চ মানের কেলভিনযুক্ত আলো থাকে যে দিনের বেলায়ও বিলবোর্ডগুলি স্পষ্ট দেখা যায় এবং রাতে তা আরও প্রকট হয়ে চোখে অস্বস্তি তৈরি করে। এগুলা দুর্ঘটনার জন্যও দায়ী,” বলেন নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবিব।

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কাজী সাইফুল ইসলামের বক্তব্যও একই।

    তিনি বলেন, উন্নত যে কোনও দেশে বিলবোর্ডের জন্যও একটা স্ট্যান্ডার্ড লুমেন থাকে, সেই অনুযায়ী তাদেরকে এসব স্থাপন করতে হয়।

    “কিন্তু আমাদের দেশে তো কোনও নিয়ম নেই, আলো দূষণ বিষয়ক সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা নেই। সড়কবাতি বা বিলবোর্ডের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে এখনও কোনও নির্দেশনা নেই।”

    তিনি বলেন, বাইরের যে লাইট, তা তো আকাশের দিকেও যায়, সড়কের দিকেও আসে, সেগুলো কীভাবে বসাতে হবে, বিলবোর্ড কেমন হবে, তা নিয়ে কোনও স্ট্যান্ডার্ড ফিক্স করা নাই।

    “আপনি যদি কোনও বিলবোর্ডের সামনে গিয়ে দাঁড়ান, আপনি দেখবেন যে আপনার চোখ ধাঁধিয়ে যাবে। এমনকি রিকশা করে কোনও বিলবোর্ড ক্রস করলেও আপনার ঠিক এমনই অনুভূত হবে,” তিনি যোগ করেন।

    মানবদেহে অতিরিক্ত আলোর প্রভাব:

    অতিরিক্ত আলো মানুষের শরীরে কী ধরনের প্রভাব ফেলে সেই বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, লাইট পলিউশন নিয়ে আমাদের দেশে কোনও কথা হয় না। কিন্তু এটা যে কি পরিমাণ স্বাস্থ্যহানি ঘটায়, আমাদের ধারণ নাই।

    যেমন, মানুষের দেহে একটা জৈব ঘড়ি আছে, যা সূর্য ওঠা এবং ডোবার সাথে সম্পর্কিত। কিন্তু এই অনাহূত আলোর জন্য ঘড়ির কাজে ব্যাঘাত ঘটে।

    আর মস্তিষ্ক যখন দিন-রাতের পার্থক্য বুঝতে পারে না, তখন নানা ধরনের শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি বিভিন্ন মানসিক ব্যাধিও দেখা দেয়। যেমন: “অতিরিক্ত আলোতে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, প্রেশার বেড়ে যায়, ডায়াবেটিস সহ নানা সমস্যা হয়।”

    কিন্তু চলাফেরা ও নিরাপত্তার জন্য রাস্তাঘাটে আলো থাকবে, সেটাই স্বাভাবিক। তবে তার প্রভাব কোনোভাবে বসতবাড়িতে পড়তে পারবে না। বসবাসের জায়গায় উজ্জ্বল আলো দেয়া যাবে না, তাতে মানুষের ঘুমের সমস্যা হয়। হাসপাতাল এরিয়াতে দেয়া যাবে না, তাতে রোগীদের অসুবিধা না হয়। উজ্জ্বল আলো লাইব্রেরিতেও থাকতে পারবে না। সেজন্যই লাইব্রেরিতে সাধারণত উজ্জ্বল আলো থাকে না। লাইব্রেরির বাতিগুলো এমনভাবে দেওয়া হয়, যা শুধু বইয়ের পাতার ওপরই পড়ে।

    “অতি আলো চোখে পড়লে মানুষ বিরক্ত হয়। সেজন্যই শাস্তি দেয়ার জন্য আসামীকে আলোর মাঝে রাখা হয়, কারণ এটা মারাত্মক যন্ত্রণাদায়ক,”

    আলোতে পাখি সহ বাকীদেরও কষ্ট:

    অনেকেই আছেন, যারা লাইট জ্বেলে ঘুমাতে পারেন না। যদি আলোতে ঘুমাতেও হয়, তাহলে তারা স্লিপিং মাস্ক বা চোখে কোনও কাপড়ের আবরণ দিয়ে ঘুমান। এখন, মানুষের না হয় চোখে আবরণ দেওয়ার উপায় আছে। কিন্তু অন্য প্রাণীদের কি আছে?উত্তর না, নাই।

    শহরাঞ্চলে গাছপালা কমে যাওয়ায় এমনিতেই পাখিদের আবাসস্থলের পরিমাণ কমছে। এর মাঝে এই বিভিন্ন ধরনের আলোর কারণে তাদের জীবনচক্র ব্যাহত হচ্ছে। পিপল ফর এনিম্যাল ওয়েলফেয়ার বা প’ নামক এক প্রাণী কল্যাণ সংগঠনের চেয়ারম্যান রাকিবুল হক এমিল বলেন, “লাইটের জন্য পাখিদের জন্য রাত নামে না।”

    তিনি মনে করেন যে ঢাকায় আগে যে সোডিয়াম লাইট ছিলো, “তা পাখিদের জন্য অনেক সুদিং ছিলো। কিন্তু এখনকার এলইডি লাইটগুলি ওদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক।”

    “আর লাইট থেকে বাঁচতে ওরা যে গাছের পাতায় আড়াল নিবে, গাছ কমে যাওয়ায় সেই উপায়ও নাই এখন, তাই ভবনের কোণায় কোণায় ওদেরকে আশ্রয় নিতে হয়।”

    অতিরিক্ত আলোতে শুধু পাখি না, বিভিন্ন পোকামাকড়ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক সময়ই কোন কোন বিলবোর্ডের নীচে তাকালে দেখা যায় যে বিভিন্নরকম পোকামাকড় মরে পড়ে আছে।

    আলোকদূষণ রোধে করণীয় কী?

    আলো দূষণ থেকে বাঁচার জন্য এই মুহুর্তে ‘লুমেন কন্ট্রোল’ করার বিকল্প নেই।

    স্বাস্থ্য বিষেজ্ঞরা বলেন “লুমেন কন্ট্রোল করার পাশাপাশি রাত ১০ টার পর অপ্রয়োজনীয় বাতি বন্ধ করতে হবে যাতে তা রাতের স্বাভাবিকতা ব্যাহত না করে।”

    সেইসাথে, অবশ্যই সড়ক বাতির ওপর শেড দিতে হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। নয়তো ঐ আলো আকাশের দিকে বিচ্ছুরিত হয়ে প্রাণীদের বিভ্রান্ত করে।

    কিন্তু বিলবোর্ডে যেহেতু শেড দেওয়ার কোনও ব্যবস্থা নেই, সেক্ষেত্রে এগুলো স্থাপনের ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্ক হওয়া বলে মনে করেন তারা। তবে সবচেয়ে বেশি জোর দেন আইনের প্রয়োগের বিষয়টির ওপর।

    কারণ, জাতীয় পরিবেশ নীতি ২০১৮-তে আলো দূষণ সম্বন্ধে স্পষ্ট করে বলা আছে যে “আলোকদূষণ রোধ করিতে হইবে।”

    পরিবেশ অধিদপ্তরের বক্তব্য:

    নীতিমালায় উল্লেখ থাকলেও পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালায় আলো দূষণ নিয়ে কোনও নির্দেশনা নেই। সেজন্য খুব শীঘ্রই বিধিমালা সংশোধন করা হবে বলে জানায় পরিবেশ অধিদপ্তর।

    পরিবেশ অধিদপ্তরের মতে, যত সময় যাচ্ছে, তত বেশি নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ আসছে। পলিসিতে এটি বলা আছে, কিন্তু এর জন্য কোনও বিধিমালা করা হয় নি এখনও। আমায় তো একটা স্ট্যান্ডার্ড সেট করে দিতে হবে যে আপনি এর নীচে বা উপরে যাবেন না। আইন প্রয়োগ করতে হলে আগে আমায় মাপতে হবে যে বেজলাইনের উপরে আছে না কি নীচে আছে।”

    এ বছর অধিদপ্তর সেই বিধিমালা সংশোধন করবে। কিন্তু সংশোধন করতে “সময় লাগবে। কারণ অনেক পলিসি মেকার, এক্সপার্টদের সাথে কথা বলতে হবে।”

    এত বছরেও বিধিমালা না হওয়ার কারণ সম্বন্ধে তিনি বলেন, “এর মাঝে ২০২৩ সালে পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা সংশোধন হয়েছে একবার। এগুলো লম্বা প্রক্রিয়া, করতে সময় লাগে। অনেক কনসাল্টেশন করতে হয়।, এখন আমরা আবার করে কাজ শুরু করবে পরিবেশ অধিদপ্তর।

    বিশ্ব ব্যাংকের পাঁচ বছরমেয়াদী একটি প্রকল্পের আওতায় এটি করা হবে। রাজশাহী শহরের ঝাড়বাতির মতো দেখতে সড়কবাতি নিয়ে পরিবেশবিদদের সমালোচনা দীর্ঘদিনের। কারণ ওই বাতিগুলোয় কোনও শেড নেই এবং বাতিগুলোর ঘনত্বও বেশি। ওই ধরনের প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তরের ভূমিকা রয়েছে বলে অনেকে মনে করেন।

    তবে সব কিছু আইন দিয়ে সমাধান করা যায় না। এই বিষয়ে নাগরিক সচেতনতা জরুরি। তবে আলোর দূষণ আমাদের কাছে একটি নতুন বিষয়। তাই এই নিয়ে যথেষ্ট প্রচার করা প্রয়োজন। পাঠ্যসূচিতেও বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।

    সুত্র: বিবিসি বাংলা